কালরাত্রি - ইন্দ্রনীল সান্যাল Kalratri by Indronil Sanyal
কালরাত্রি - লেখক ইন্দ্রনীল সান্যাল
সদ্য শেষ করলাম ইন্দ্রনীল সান্যাল এর কালরাত্রি। আরো আনন্দ অ্যাপ এ ধারাবাহিক হিসেবে প্রকাশিত এই উপন্যাস দীপশিখা বরুণ জুটির দ্বিতীয়/তৃতীয় উপন্যাস।এবারের পুজো সংখ্যা সানন্দা এ প্রকাশিত ময়না তদন্ত উপন্যাস টি এই সিরিজ এর অন্তর্গত। কালরাত্রি আগে প্রকাশিত হলেও একটি সূত্রের কারণে (বরুণ এর একাকী জীবন পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা এলেও নিয়তি ঠাকরুন তাতে বাধা দেন, কেন বাধা দেন সেটা ময়না তদন্ত উপন্যাস এ আন্দাজ পাওয়া যায়) আমার এটি তৃতীয় উপন্যাস মনে হলো। এই জুটির প্রথম আবির্ভাব কর্কটক্রান্তি উপন্যাসে।যেখানে বেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ এর মড়াকাটা ডাক্তার (ফরেনসিক সার্জন) কাজের সূত্রেই জড়িয়ে পড়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া বেশ কিছু দুর্ঘটনার সাথে। এই তদন্তের সরকারি দায়িত্বে ছিলেন বরুণ। মূলত এদের দুজনের দক্ষতাতেই জানা যায় আপাত দৃষ্টিতে এগুলি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হলেও আসলে এরা একই সূত্রে বাঁধা।
কেস মিটে যাওয়ার পর যোগাযোগ না থাকলেও আবার কাজের সুত্রে জুটি বাঁধে বা বলা ভালো পুলিশের উপর মহলের নির্দেশে জুটি বাঁধতে বাধ্য হয় দীপশিখা ও বরুণ।
শাসক দলের ঘনিষ্ট একজন উঠতি ছুটকো নেতা হটাৎ খুন হয়ে যান রাস্তার মাঝে। চাপাতি দিয়ে খুন হয়েছে আর রক্তাক্ত মৃত দেহের পাশে সেই রক্ত দিয়ে রাস্তার ওপর ছয় খানা জিভের (যেমন মা কালীর জিভ বেরিয়ে থাকে) ছবি আঁকা।
এর পর একই ভাবে খুন হন একজন ব্লগার, একটি প্রবাসী ডাক্তার যাদের রক্তাক্ত দেহের পাশে যথাক্রমে পাঁচ ও চার খানা জিভের ছবি আঁকা ছিল। মিডিয়া যথারীতি এটাকে তান্ত্রিক আচারের অঙ্গ কোনো সিরিয়াল কিলিং (জিভ কাণ্ড) আখ্যা দিয়ে পুলিশি অপদার্থতার প্রতিবাদে জনমত গঠন করতে থাকে। এর পর আবার খুন হয়ে যান এক আশ্রমিক সাধু ও এক প্রৌঢ় লেখক। সব কটা খুন ৬ দিনের ব্যবধানে। আর খুনের পদ্ধতি এক ও নিহত ব্যক্তির পাশে রক্তে আঁকা যথাক্রমে তিন ও দুটি জিভের ছবি পাওয়া যায়। ঘটনা গুলো জুড়লে দেখা যাবে শেষ খুন হতে চলেছে কালী পুজোর রাতে। এই কাহিনী তে বরুণ তথ্য সংগ্রহে সাহায্য নেয় বেসরকারি গোয়েন্দা জুটি দেবাশীষ ও শিবনাথ এর। কাহিনী থেকে ক্রমশ জন্য যায় শুধু খুনের ধরন বা পাশে জিভ নয়, আরো একটি সূত্রে বাঁধা এই খুন গুলো। বহু পুরোনো একটি ঘটনার সঙ্গে এই ব্যক্তি রা জড়িত। কাজেই সেই ঘটনা সূত্রের শেষ ব্যক্তি খুন হতে চলেছেন কালী পুজোর রাতে। কি সেই ঘটনা, কিভাবে নিহত ব্যক্তি রা জড়িত, কালী পুজোর রাতের কোনো বিশেষ ভূমিকা আছে কিনা এসব জানতে পড়তেই হবে কালরাত্রি উপন্যাস টি। ইন্দ্রনীল বাবুর এই মেডিক্যাল থ্রিলার টি ও বাকি গুলোর মতোই জমজমাট ও 'পড়তে শুরু করলে না শেষ করে থামা যায় না"।
যদিও উপন্যাস টি এক নিঃশ্বাসে পড়ার পর আমার মনে হয়েছে একটু তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের একজনের সম্পর্কে শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত হলো সেটা পরিষ্কার নয়। শিবনাথ আর দেবাশীষ এর সম্পর্কের মধ্যেও কি লেখক কোনো ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন? হয়তো বা বই হিসেবে বেরোলে এগুলোর জবাব পাওয়া যাবে বা পরবর্তী কোনো লেখায়।
অধীর আগ্রহে লেখকের কলমের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।
রিভিউটি লিখেছেনঃ সংগৃহীত
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Written by boibd
We are Creative Blogger Theme Wavers which provides user friendly, effective and easy to use themes. Each support has free and providing HD support screen casting.
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

0 Comments:
Post a Comment