AD (728x90)

Book Review

Book Review provides bangla boi reviews.

Comments

3-comments
Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.

LATEST

3-latest-65px
Sorry! The content you were looking for does not exist or changed its url.

Please check if the url is written correctly or try using our search form.

Archive

Featured Video

1-latest-800px-video

Hero Features

feat:Rajarshi Das Bhowmik,Sourov Chocroborti

Featured Courses

6-latest-600px-course

404Something Wrong!

The page you've requested can't be found. Why don't you browse around?

Take me back

Contact form

Developed by ❤️ - Blogger Templates at Piki Templates

About Us

Jobiki Template is Designed Theme for Giving Enhanced look Various Features are available Which is designed in User friendly to handle by Piki Developers. Simple and elegant themes for making it more comfortable

SEARCH

Responsive Ads Here
Get PDF go here PDF Books Contact Us
  • 2793 Pine St

    2793 Pine St

    Nulla facilisi. Cras blandit elit sit amet eros sodales, non accumsan neque mollis. Nullam tempor sapien tellus, sit amet posuere ante porta quis. Nunc semper leo diam, vitae imperdiet mauris suscipit et. Maecenas ut neque lectus. Duis et ipsum nec felis elementum pulvi...

  • 1100 Broderick St

    1100 Broderick St

    Nulla facilisi. Phasellus ac enim elit. Cras at lobortis dui. Nunc consequat erat lacus, a volutpat nisi sodales vitae. Phasellus pharetra at nulla in egestas. Vestibulum sit amet tortor sit amet diam placerat tincidunt sit amet eget lorem. Phasellus ...

  • 868 Turk St

    868 Turk St

    Nulla facilisi. Phasellus ac enim elit. Cras at lobortis dui. Nunc consequat erat lacus, a volutpat nisi sodales vitae. Phasellus pharetra at nulla in egestas. Vestibulum sit amet tortor sit amet diam placerat tincidunt sit amet eget lorem. Phasellus posuere posuere fel...

  • 420 Fell St

    420 Fell St

    Sed at vehicula magna, sed vulputate ipsum. Maecenas fringilla, leo et auctor consequat, lacus nulla iaculis eros, at ultrices erat libero quis ante. Praesent in neque est. Cras quis ultricies nisi, vitae laoreet nisi. Nunc a orci at velit sodales mollis ac ac ipsum. Na...

নাইনটিন নাইনটি আ লাভ স্টোরি - কল্লোল লাহিড়ী Nineteen Ninety A Love Story by Kallol Lahiri

📕নাইনটিন নাইনটি আ লাভ স্টোরি
(নয়ের দশকের স্মৃতি ও একটি সমকামী ভালবাসার পরিণতি)
✍কল্লোল লাহিড়ী 

সম্প্রতি শেষ করলাম সদ্য প্রকাশিত হওয়া সুপ্রকাশ প্রকাশনা র আমার অন্যতম প্রিয় লেখক কল্লোল লাহিড়ী  বাবুর উপন্যাস নাইনটিন নাইনটি আ লাভ স্টোরি ।সীমাহীন মুগ্ধ হয়েছি আলোচ্য উপন্যাসটি পড়ে ।লেখককে কুর্নিশ জানাই এরকম একটি মনোগ্রাহী লেখা পাঠকদের উপহার দেবার জন্য ।কল্লোল লাহিড়ী মানেই একটু ব্যতিক্রমী লেখা ।চেনা ছন্দের বাইরে গিয়ে একটু অন্যরকম প্রেক্ষাপট, একটু অন্য রকম বিষয়, চরিত্রায়ন সবকিছুতেই চেনা ছকের বাইরে থাকে এক অভিনবত্ব এবং নতুনত্বের ছোঁয়া ।আলোচ্য উপন্যাসটিও লেখক তুলে ধরেছেন এক নিত্যনবরূপ মাধুরী দিয়ে ।যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে ।
নব্বই দশকের প্রজন্ম নিয়ে অনেক কথা অনেক গল্প আজও চায়ের আড্ডায় প্রজন্ম প্রতিনিধিদের নস্টালজিক করে তোলে ।তবে নব্বই দশকের প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করার সুনির্দিষ্ট কোন রেখা মনে হয় কোনও আলোচনাতে নেই ।নব্বই দশকের প্রজন্ম বলতে আমরা কাদের বুঝি ?? নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেয়া না আশির দশকে জন্ম ?? নাকি নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে ?? তবে মোটামুটিভাবে বলা যায় বর্তমান সময়ে যাদের বয়স তিরিশের কোটায় তারাই মূলত নব্বই এর দশকের ।নব্বই দশকের প্রজন্মই সম্ভবত প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা সর্বশেষ প্রজন্ম ।জীবনের সর্বস্তরে প্রযুক্তির প্রসারের সবচেয়ে বড় সাক্ষী এই প্রজন্ম ।মাটির কাছাকাছি এবং মাঠ মাটি আর জলের স্পর্শে কাটানো দুরন্ত সেই সময়গুলো কোনও ফ্রেমে আবদ্ধ করা হয়নি ঠিকই কিন্তু মনের ফ্রেমে সেই সময়গুলো আজও এখনো অম্লান ।তখন গুঁটি কয়েক বাড়িতে টেলিভিশন কিন্তু পাড়ার সমবয়সী অসমবয়সীদের মধ্যে যে আবেগ এবং গভীরতা এবং একাত্মভাব দেখা যেত তা আজ আর হাজার চেষ্টা করেও পুনরায় পাওয়া সম্ভব না ।সেই সময়েই তৈরী হওয়া একেক মনের একেক টানাপোড়েন, একেক জটিলতা, প্রেম অপ্রেম, বন্ধুত্ব কিংবা বন্ধুত্বের মধ্যেও পেতে চাওয়া এক নিষিদ্ধ ভালোলাগা এবং ভালোবাসার অবয়ব, ব্রণ মুখে জর্জরিত হলেও আয়নায় নিজেকে শাহরুখ খান ভাবা, মহালয়ার ভোরে সকলে মিলে দূরদর্শনে সংযুক্তা ব্যানার্জিকে দুর্গা রূপে দেখে তাঁকেই প্রণাম করা, ইংরেজি নতুন বর্ষে গ্রিটিংস কার্ড দেবার মধ্যে দিয়েই চলে যেত দিন গুলো ।
কিন্তু দুটো ছেলের মধ্যে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্বের আরও এক ধাপ এগিয়ে দুটো ঠোঁটে নিষিদ্ধ ভালোবাসার এক পূর্ণ আশ্রয় খোঁজা, একটি পুরুষও আকৃষ্ট হয়ে ওঠে তাঁরই এক সহপাঠী পুরুষ বন্ধুটির প্রতি, তবুও মাঝে মাঝে পড়ার ব্যাচে অন্য কোনও মেয়ের প্রতিও সমান ভালোলাগা, সবই দেখেছে নব্বইয়ের দশক ।আর এইসব আখ্যান দিয়েই সাজানো কল্লোল বাবুর আলোচ্য উপন্যাসটি ।
এই উপন্যাসের মূল চরিত্র ফেলে আসা নব্বই দশকের এক টুকরো সময় ।যে সময়েই স্বপ্নে আন্দোলিত হয়েছে তরুণ যুবা যুবতীরা, নিজেকে কখনো কেউ মাধুরী দীক্ষিত তো কেউ কাজল ভেবেছে ।অপর দিকে কেউ ভেবেছে নিজেদের কে সলমান খান । ঘটনার ঘনঘটায় আলোচ্য উপন্যাসের প্রকৃত একটি চরিত্রই হয়ে উঠেছে সেই সময় ।যেখানে  কিংশুক, দিপালী, পচা, বিশু, হুলো আর মন্টু এবং আরও অন্য অনেকে মিলে একটা পাড়া, একটা স্কুল, একটা ভাঙা নদীর ঘাট, একটা ধুঁকতে থাকা সিনেমা হল, একটা লাস্ট বেঞ্চ। তার সাথে এক দঙ্গল ছেলেমেয়ের ভাবভালোবাসা, প্রেম, বন্ধুত্ব, নিষিদ্ধ প্রেম, গোপন ভালোলাগা, আর একটা সময়, দুই শালিখ, নিঃসঙ্গ লেনিন, হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা, চোখের জল,আর একটাই কালপুরুষ এই নিয়েই সাজানো 'নাইনটিন নাইনটি আ লাভ স্টোরি' উপন্যাসটি ।
ব্যাকরণের লিঙ্গ অনুযায়ী কার শরীর মন্টুকে বেশি প্রলুব্ধ করতো তা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা ছিল তার সেই বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই । স্ত্রী লিঙ্গ তাকে টানতো না ।সে কি তবে সমকামী হয়ে উঠেছিল ?? 
কেনই বা তাকে জীবনের একটা সময়ে এসে খুন হতে হলো ?? 
সুইমিং পুলে রক্তে ভেসে যাওয়া শরীরেও তার চোখ দুটি আকাশের দিকে ছিল ।তবে কি সে তখনও কালপুরুষটিকে খুঁজে ছিল ।
অপরদিকে কিংশুক যার উত্তম পুরুষের বক্তব্যেই এই উপন্যাসটি শুরু এবং শেষ তাকে যেভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর কলমের মুন্সিয়ানায় তা সত্যিই স্বার্থক হয়ে উঠেছে ।আসলে সময় এবং অপরিণত বয়স এই দুটি দিকই উপন্যাসটির দুটি স্তম্ভ ।প্রতিনিয়ত মনের মধ্যেকার ওঠাপড়া, নানান উত্তেজনা, শরীরে মননে মস্তিষ্কে নানান রকম দোলাচলে এগিয়ে যাওয়া তো কখনো পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে তৈরী হওয়া নানান উচাটন নানান দ্বিধা নিয়েই এই উপন্যাসের কাহিনী এগিয়ে চলে আপন ধারায় ।সেই সাথে তৎকালীন রাজনৈতিক বিভিন্ন ঘটনা, রাষ্ট্র তথা আন্তর্জাতিক স্তরে নানান রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ কিভাবে এখানকার মানুষকেও প্রভাবিত করেছিল সেই কাহিনীই ব্যক্ত করে জীবনের আলোছায়া মেশানো এই উপন্যাসটিপরিশেষে সকল বইপ্রেমী মানুষদের আলোচ্য উপন্যাসটি পড়ার অনুরোধ জানিয়ে এবং লেখককে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া এখানেই শেষ করছি ।
প্রেম শব্দটি গভীর 
এক গভীর থেকে গভীরতর এক পরশ 
নারী পুরুষে ,নারীতে নারীতে 
পুরুষে পুরুষে 
যুগে যুগে সেই ভালোবাসা আশ্রয় খোঁজে ।
পরিধি বিস্তার করে।
বলতে চায় ভালোবাসাটাই আসল ।প্রেম সমপ্রেম বিষমপ্রেম 
যাই আসুক 
আশ্রয় পাওয়াটাই বড় কথা ।
লিঙ্গ তো বিধিনিষেধের কেবল 
মন তো তা নয় ।
সেখানে শরীর, লিঙ্গ তুচ্ছ হয়ে 
ফুটে ওঠে কেবল দুটি মনের 
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা......
চুম্বন সেখানে প্রথম 
আলোক সম্পাত...

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

থ্রিলার সপ্তক - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ Thriller Soptok by Syed Mustafa Siraj

বই- থ্রিলার সপ্তক
লেখক- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ


লেখকের নাম চেনা হলে বইটা হাতে নেওয়ার সময়ই একটা প্রত্যাশা তৈরী হয়ে যায়। "থ্রিলার সপ্তক" হাতে নেওয়ার সময় আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। সাতটি উপন্যাস রয়েছে বইটিতে, এক এক করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।

১. তদন্ত- নাম শুনে কেন জানি না মনে হয়েছিল পুলিশ কাহিনী হবে, হয়ত ইন্সপেক্টর ব্রহ্মকেও পেলে পেতে পারি। তারপর শুরুর কয়েক পাতা পড়েই বুঝলাম, আর যাই হোক এটা পুলিশ কাহিনী নয়। কিন্তু রহস্যের মধ্য দিয়ে গল্প বেশ তরতর করে এগোচ্ছিল, আমিও মাথা খাটাচ্ছিলাম- কে হতে পারে আসল অপরাধী! তারপর দুম করে হঠাৎ দেখলাম গল্পটা শেষ হয়ে গেছে। আজ্ঞে হ্যাঁ, গল্প শেষ। ক্লাইম্যাক্সের নামে বিচ্ছিরি রকমের ব্যর্থ একটা টুইস্ট আনার চেষ্টা করা হয়েছে যদিও কিন্তু ওই জায়গাতেই গল্পটা পুরো খেলো হয়ে গিয়েছে। ওই টুইস্টকে মেনে নিলে সমগ্র গল্পটির মধ্যে অজস্র খুঁত খুঁজে পাওয়া যাবে।  শেষ দেখে বলতেই হয় একদম বাজে গল্প। 
রেটিং- ০৩/১০ (শুধুমাত্র থ্রিল আর ভাষাগত উপস্থাপনার জন্য)


২. নৃশংস - আগের গল্পের চরম হতাশা থেকে পড়তে শুরু করলাম। খুঁজছি, থ্রিল কোথায়!!! ... থ্রিল কোথায়!!! গল্পটা শেষ হয়ে গেল। এত বড় উপন্যাস আমি মাত্র এক ঘন্টায় শেষ করে ফেললাম, তবুও জিজ্ঞেস করছি থ্রিল কোথায়! অনুভব করলাম রোমাঞ্চ শব্দটাকে আমি বড় সংকীর্ণ অর্থে দেখি। রোমাঞ্চ মানে তো শুধুমাত্র রহস্যের মোড়কে আসা রোমাঞ্চ নয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের রোজনামচার মধ্যেও তো আমরা রোমাঞ্চ অনুভব করতে পারি। উপন্যাসটি শেষ করার পর উপলব্ধি করলাম এতক্ষণ ধরে কী পড়েছি। কী মারাত্মক একটা লেখা পড়লাম। একটা নৃশংস বর্বর খুনিকেও যে ভালোবেসে ফেলা যায় তা এই উপন্যাসটা না পড়লে বোধ করি অনুভব করতে পারতাম না। কিছুদিন আগে অজেয় রায়ের "ডাক্তার কুঠি" পড়েছি, সেখানে বলা রয়েছে- একটা মানুষ নিজে নিজে অপরাধী হয় না, তার অপরাধী হওয়ার পেছনে তার জিন এবং পরিবেশ কাজ করে। এই কথাটাই "নৃশংস"- এর মূল উপজীব্য। সাধুর জীবনের মধ্যে দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন একটা ছেলের অপরাধী হয়ে ওঠার গল্প।  সাধু অত্যন্ত নৃশংস, বাস্তব জীবনে এমন লোককে পেলে ফাঁসিতে চড়াতে ইচ্ছে করবে। কিন্তু উপন্যাসে সাধু যখন চিৎকার করে জিজ্ঞেস করবে - "আমার ফাঁসি হবে না?" বুকটা তখন মোচড় দিয়ে উঠবে, বলতে ইচ্ছে করবে- সাধু তুই পালা...
শেষ লাইনে এসে সাধুর কাতর আবেদন, "ঝুমুরকে বলবেন সাধু কথা রেখেছিল।" মাথার ভেতরটা ঝিমঝিম করে তুলবে, চোখে জল আসবে না কিন্তু বুকের ভেতর একটা হাহাকার হবে- শেষমেশ সাধুর তবে আর সাধু জীবনযাপন করা হল না!
জানি না, রিভিউ লিখতে গিয়ে স্পয়লার দিচ্ছি কিনা। কিন্তু বিশ্বাস করুন, স্পয়লার কেন, কাহিনীখানাও সংক্ষেপে যদি বলে দিই তবুও কিচ্ছু যাবে আসবে না কারণ "নৃশংস" শোনার গল্প নয়, অনুভব করার গল্প। পড়ার পর দুই দিন আর অন্য লেখা পড়তে পারিনি। মাথার মধ্যে শুধু সাধুর কথাই ঘুরেছে। 
আমার কাছে এই গল্প ১০/১০।

৩. না- নিষাদ -  থ্রিলার খুঁজছিলাম। পেলাম থ্রিলার। রহস্য, পুলিশের তাড়া, রোমাঞ্চ- সব মিলিয়ে থ্রিলার যেমন হয় আরকি। কিন্তু থ্রিলারের নাম "না- নিষাদ"? একটু কেমন কেমন লাগছে না? লাগছে কারণ এই থ্রিলার তো শুধু থ্রিলার নয়। পুলিশ নায়ক আর মানুষ নায়ক এখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। নায়কের মনের অলিগলি- দ্বিধাদ্বন্দ্ব, আবেগসহ- সবকিছু লেখক উন্মুক্ত করে দিয়েছেন আমাদের সামনে। নায়কের সঙ্গে তাই আমরা কখনও কর্তব্যবোধের তাড়নায় ছুটে যাই, কখনও আবার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ভুগি। "সাইকো" না থেকেও যে "সাইকোলজিক্যাল" থ্রিলার হতে পারে, এই গল্পটি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। শেষের টুইস্টখানা খানিক অপ্রত্যাশিত ছিল, তাই বুকে মোচড় দিয়ে গেল। 
রেটিং- ০৮/১০

৪. ওয়াগন ব্রেকার - এই উপন্যাসটা পড়ে নিশ্চিত হয়ে গেলাম লেখক এই বইতে থ্রিলারের চিরাচরিত ধারণাকে ভেঙে ফেলার পণ করেছিলেন। তিনটি চরিত্রকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া সামাজিক গল্প, তবুও রোমাঞ্চ অনুভূত হয়, বারবার মনে হয় শেষমেশ কী হবে তাহলে! রোমাঞ্চের পাশাপাশি লেখক মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দিকটিও তুলে ধরেছেন গল্পে। ভীরু হওয়ার অনুশোচনা, বেকারত্বের জ্বালা, বয়স বেড়ে যাওয়ার সত্ত্বেও সঙ্গীহীনতার নিঃশব্দ হাহাকার... সব কিছু মিলিয়ে ওয়াগন ব্রেকার এক সুন্দর উপন্যাস। 
রেটিং- ৮/১০


৫. পেছনের আততায়ী- এটাও একটা মনস্তাত্ত্বিক গল্প। মানুষের মনের গহীনে যা ঘটে চলে সেই নিয়েই গল্প এগিয়েছে, রহস্যও ছিল একটা কিন্তু রোমাঞ্চ তেমনভাবে টের পেলাম না। তাছাড়া আগের গল্পগুলোতে যেমন চরিত্রগুলোর প্রতি ভালোবাসা তৈরী হয়, এখানে সেই জায়গা নেই। অনেক চরিত্র আর পারিপার্শ্বিকের বর্ণনাতে একেকটা চরিত্রের প্রতি টান তৈরী হওয়ার জায়গা রাখেননি লেখক। খারাপ বলব না কিন্তু হঠাৎ করেই যেন শেষ হয়ে গেল আর শেষ হওয়ার পরেও কোনো ছাপ পড়ল না। সব মিলিয়ে মোটামুটি লাগল।
রেটিং - ০৬/১০


রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

অর্ক সমগ্র প্রথম খণ্ড - পল্লব হালদার Arka Samagra by Pallyab Haldar

অর্ক সমগ্র প্রথম খণ্ড  
পল্লব হালদার 

লেখক প্রসঙ্গ:- ডক্টর অর্ক সেনের সঙ্গে আমার পরিচয়টা একটু অন্যরকমভাবে হয়েছিল সানডে সাসপেন্সের দৌলতে। শোনার পর থেকেই আমার প্রিয় হয়ে ওঠে। পল্লব হালদারের লেখার অনুরাগী হয়ে উঠি। লেখক নাইজেরিয়ার লাগোস শহরের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে আমিও লাগোস শহরের বাসিন্দা এবং বঙ্গীয় পরিষদের দাক্ষিনে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ওনাকে চিনি।
লেখককে অনেক ধন্যবাদ এরকম একটি চরিত্র আমাদের মধ্যে আনার জন্য এবং সেটিকে একটি পুরো নতুন প্রকাশনার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। আমি সাইকোলজিকাল বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা খুব পছন্দ করি । তাই যবে থেকে এই বইটা বেরোনোর কথা তখন থেকেই অপেক্ষা করছিলাম। 

ডঃ অর্ক সেন। আশেপাশে দেখতে পাওয়া আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতই একজন তিনি। তবে তার আসল পরিচয়, লেগোসের (নাইজেরিয়া) নামজাদা এক মনোচিকিৎসক তিনি। কথার ছলেই পৌঁছে যান সামনে বসা মানুষের মনের মাঝে। বের করে আনেন আসলটাকে। আপাতদৃষ্টিতে অলৌকিক মনে হওয়া ঘটনার প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজে বের করেন। আর এসবে প্রায়শই তাঁর পাশে থাকেন বন্ধুসম তুহিন, যার কলমের আঁচড়ে লেখা হতে থাকে সে সব ঘটনা।

বইটিতে ছটি গল্প রয়েছে।
১. ভয় 
২. ইল্যুশন 
৩. মনোমোহিনী 
৪. অভিশপ্ত ব্রেসলেট 
৫. সমান্তরাল 
৬. ওসানিন।

কোন গল্প আলোর কোন গল্প অন্ধকারের। গল্প গুলো অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরিয়ে আনার, কিংবা অন্ধকারের থেকে চিরমুক্তি সবই আছে। আলোছায়ার ক্রীড়াঙ্গন প্রতিটি গল্প।

বইটির প্রতিটি গল্পেই উপস্থিত কিছু না কিছু অলৌকিকতা। সবকটি গল্প অবশ্য সমান আকর্ষণীয় লাগেনি আমার। তবে কয়েকটি দারুন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে প্রথম ও শেষ গল্পদুটি ('ভয়' ও 'ওসানিন')। 'সমান্তরাল' গল্পটি পড়তে পড়তে আবার এতটাই জটিলতার মধ্যে ঢুকে যেতে হল, আর একটু হলে একদফা ফিজাক্স বই পড়ে নেওয়ার দরকার পড়ছিল। তবে সব মিলিয়ে বেশ অন্যরকম একটি বই। বেশ একটা ভয় ভয় ব্যাপারও আছে, রহস্য উদঘাটনও আছে। আর সেটাই আবার মনের অতলে ডুবে সমাধানের খোঁজ নিয়ে আসার মাধ্যমে ঘটা। 
বইটির প্রচ্ছদ দারুন, একথা বলব না। তবে বই জুড়ে দারুন কিছু অলংকরণ আছে। 
ব্যাক্তিগত ভাবে লেখককে জানার সুবাদে এটা জানি যে ডাক্তার অর্ক র পরবর্তী সংকলন আগামী বইমেলায় প্রকাশ পাবে।


রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

নয়টি রক্তাক্ত রবিবার - সায়ক আমান Noyti Raktakta Robibar by Sayak Aman

বই:- নয়টি রক্তাক্ত রবিবার
লেখক:- সায়ক আমান
ধরণ:- অলৌকিক গল্প সংকলন
প্রকাশনা:- বিভা পাবলিকেশন
মূল্য:- ২২২ টাকা


"বাংলা সাহিত্যের কিছু রোমাঞ্চকর গল্প দিয়ে সাজানো আমাদের এই বিশেষ নিবেদন সানডে সাসপেন্স..." এই সানডে সাসপেন্সে প্রকাশিত সায়ক আমানের আটটি গল্প ও একটি নভেলা নিয়ে এই সংকলন "নয়টি রক্তাক্ত রবিবার"।
আটটি গল্প যথাক্রমে―
১. রাত তিনটের পর
২. উইন্ডচাইম
৩. রাইম
৪. কুয়ো
৫. পঁচিশ বছর পরে
৬. কাঠের ঘোড়া
৭. শিশুরা অকারনেই কাঁদে
৮. সুর
এবং রয়েছে একটি  অসাধারণ নভেলা " মায়াবৃক্ষ "
হরর, থ্রিলার, ফ্যান্টাসি, অলৌকিকতার মিশেলে তৈরী প্রতিটা গল্প, আর গল্পের শেষের "সায়ক আমানিয়ান" ম্যাজিক...এককথায় দুর্দান্ত। অসম্ভব সুন্দর একটি বই পড়লাম। 
আমি বইটিকে ৯/১০ রেটিং দেব।


রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

হেরুক - সৌমিত্র বিশ্বাস Heruk - Soumitra Biswas

বই: হেরুক
লেখক : সৌমিত্র বিশ্বাস  
প্রকাশক : আনন্দ পাবলিশার্স

বাংলায় তন্ত্রমন্ত্র আর তন্ত্রসাধনার উপর লেখা গল্পের পথিকৃৎ অবশ্যই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাঁর পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পূর্বেও কেউ থাকতে পারেন, তবে পাঠক মহলে সম্ভবতঃ ততটা জনপ্রিয় হয় নি। বিভূতিভূষণ-তারাদাসের পর এই ধারায় একটি উপন্যাস লেখেন সৌমিত্র বিশ্বাস, উনিশ কুড়ি পুজো সংখ্যা ২০০৯-তে। নবীন পাঠকমহলে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল এই থ্রিলারটি। বুদ্ধদেবের পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দুটো ভাগ হয়ে যায়, মহাযান ও হীনযান । এই মহাযান ধর্মাবলম্বীদের এক দেবতা হেরুক। পাহাড়ি শহর কালিম্পঙের পটভূমিকায় লেখা এক টান টান থ্রিলার, রহস্যময় দেবতা হেরুক-কে কেন্দ্র করে।

উনিশ কুড়ি পুজো সংখ্যাটি রেখে দিয়েছিলাম শুধুমাত্র এই উপন্যাসটির জন্য। পরে আনন্দ বই হিসাবে বার করে, কিন্তু অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে যায়। পরে খোঁজ করেও বই আকারে আর পাই নি। আজকে পুরোনো বইয়ের এক স্টলে হঠাৎই বইটি পেয়ে গেলাম। সঙ্গের ছবিটি অবশ্য উনিশ কুড়ি পুজো সংখ্যা থেকে। মূল বইয়ে যথারীতি এই অলংকরণগুলো বাদ গেছে।বাংলায় তন্ত্রমন্ত্র আর তন্ত্রসাধনার উপর লেখা গল্পের পথিকৃৎ অবশ্যই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাঁর পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পূর্বেও কেউ থাকতে পারেন, তবে পাঠক মহলে সম্ভবতঃ ততটা জনপ্রিয় হয় নি। বিভূতিভূষণ-তারাদাসের পর এই ধারায় একটি উপন্যাস লেখেন সৌমিত্র বিশ্বাস, উনিশ কুড়ি পুজো দে সংখ্যা ২০০৯-তে। নবীন পাঠকমহলে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল এই থ্রিলারটি। বুদ্ধদেবের পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দুটো ভাগ হয়ে যায়, মহাযান ও হীনযান । এই মহাযান ধর্মাবলম্বীদের এক দেবতা হেরুক। পাহাড়ি শহর কালিম্পঙের পটভূমিকায় লেখা এক টান টান থ্রিলার, রহস্যময় দেবতা হেরুক-কে কেন্দ্র করে।


রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় Manojder Adbhut Bari by Shirshendu Mukhopadhyay

ব‌ইয়ের নাম - মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি
লেখক - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনা - আনন্দ
প্রথম প্রকাশ - ১৯৭৮
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ - দেবাশীষ দেব

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'অদ্ভুতুড়ে সিরিজ' কিশোর সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। এই সিরিজের প্রতিটি ব‌ই আমার অন্তরের খুব কাছের। ' মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি' ব‌ইটি সেরকমই একটি ব‌ই।
একটি ফটো -  একটি বাংলো-বাড়ির বারান্দার সামনের সিঁড়িতে বসে একটা সুন্দর দেখতে ছেলে। পিছনে পর্দার আড়াল থেকে উঁকি মারা অস্পষ্ট মুখ। ছেলেটির পাশের গ্লাস থেকে বিড়ালের দুধ খাওয়া।
মনোজদের বাড়ি থাকা এই ফটোটা তাদের কার‌ও না হলেও তাদের বাড়িতে আছে অনেক দিন।

হরিণগড়ের রাজা গোবিন্দনারয়ণ। খুবই কৃপণ। মন খারাপ হলে গুপ্ত কুঠুরিতে গিয়ে টাকা গোনে। রানি পুকুর পাড় থেকে শাক তোলে। রাজমাতা ঘুঁটে দেয়। রানি এক গোয়েন্দা নিয়োগ দিয়েছে তাদের হারানো ছেলের সন্ধানে।

একদল ডাকাত কালীপুজো করছে। আজ এক বড়ো ডাকাতি হবে। সব ডাকাতরা হ‌ইহল্লা করছে। এতো ডাকাতের মধ্যেও তাদের মেজো সর্দার আলাদা ভাবে নজর কাড়ে। ঠিক ডাকাত বলে মনে হয় না।

কী, একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন না? ব‌ইটির সমস্ত হাসির এলিমেন্ট সরিয়ে নিলে এক জমজমাট গোয়েন্দা গল্প হয় না? 
এখানেই শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই গুলোর বিশেষত্ব। এই প্লটে ভরপুর হাসির উপকরণ দিয়ে ব‌ইটিকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেন লেখক।

এক‌ই গল্পে অনাবিল হাসি, রহস্য - রোমাঞ্চ, এমনকি পাঠকে দাঁড় করিয়ে দেয় রূঢ় বাস্তবের সামনে। এই ব‌ইতে দেখা যায় কিভাবে শহরের ছেলে গ্রামের ক্রিকেট কোচকে হেয় করে। 
তবে এই ব‌ইয়ের আসল মজা প্রতি মুহূর্তে ঘটে চলা অসংখ্য হাসির ঘটনা, যা বলে শেষ হবে না। বিশেষ করে ভজবাবুর বাজার করা বা আদ্যাসুন্দরীদেবীর পুলিশকে লাঠি দিয়ে পিটানোর দৃশ্য উল্লেখযোগ্য।

দেবাশীষ দেবের প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ ব‌ইটি পড়ার সময় অনেক বেশি উপভোগ্য করে তুলেছে।

ব‌ইটিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেছি। যা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। যার সঙ্গে অন্যরা একমত নাও হতে পারেন। 

রেটিং : ৪/৫

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

টুপি - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় Tupi by Shirshendu Mukhopadhyay

উপন্যাস - টুপি
লেখকের নাম - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় 
পেজ সংখ্যা - ২৫
জনরা - অদ্ভুতুড়ে সিরিজ
মূল্য - ২৬০ টাকা

এই বছর আনন্দমেলা পূজা বার্ষিকী ১৪৩০ এ যখন শুনলাম যে শীর্ষেন্দু বাবুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজ এর উপন্যাস থাকবে না মন খারাপ হয়ে গেছিলো। পড়ে যখন জানতে পারলাম সেটা দেশ ১৪৩০ পূজা বার্ষিকী বার হচ্ছে শুনে মন খুশিতে ভরে গেছিলো।তাই দেশ পূজা বার্ষিকী হাতে পাওয়ার সাথে সাথে উপন্যাস টা পড়া শুরু করে দিলাম।আর পড়ার সাথে সাথে মন খুশিতে ভরে গেলো। হয়তো ওনার আগের লেখার সাথে তুলনা চলে না তবু মন ভালো আর খুশিতে ভরে গেলো।
আর তাই "টুপি" উপন্যাস টি পড়ার সাথে সাথে রিভিউ নিয়ে চলে আসলাম

যারা আমার মতো শীর্ষেন্দু বাবুর এই অদ্ভুতুড়ে সিরিজ এর ভক্ত তারা জানে এই উপন্যাস গুলো তে কিছু মজার চরিত্র আছে যে গুলো এক একটা কালজয়ী।

এই বার উপন্যাস টি নিয়ে একটু আলোচনা করি। উপন্যাস নাম "টুপি" কিন্তু আপনি যদি নাম দিয়ে এর বিষয়বস্তু আন্দাজ করেন তাহলে আমার মতো আপনাকেও পড়ে অবাক হতে হবে। উপন্যাস শুরুতে আমরা দেখতে পাই এক মজার চোর গনাকে। যে ভাগ্যের পাকে পড়ে মাসির বাড়ি থাকে।
মেসো বিজয় মল্লিক মস্ত বড়ো মহাজন। কিন্তু গণাকে দুই চোখে দেখতে পারে না।সেইখান আছে তার দুই মাসির ছেলে বাবলু আর গাবলু যাদের উদ্দেশ্য হলো একটা ভালো চোর হবার জন্য দাদাকে সাহায্য করা।এবং এর জন্য তারা ইন্টারনেট সাহায্য নেই।গনা জীবনে একটাই লক্ষ্য এক নামি চোর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।তার জন্য সে সব কিছু করতে পারে।সেই গনা চুরি করতে যায় এক ভুতুড়ে বাড়ি তে। সেই বাড়ির শেষ মৃত পুরুষ ১৫০ বছর আগে মারা গেছে। তবু সে একটা জিনিষ পাহারা দিচ্ছে ও সেই বাড়ির ত্রি সীমানা কেউ প্রবেশ না করুক সেটার জন্য সব রকম ব্যাবস্থা করে রেখেছে।

অপরদিকে ইগল একজন মানসিক রোগী।তাকে আমরা দেখতে পাই সে একটা মানসিক কেন্দ্রে ভর্তি। আর সেইখান থেকে সে পালিয়ে যায়। সে পাগল হওয়া না তবু তাকে পাগল সাজিয়ে রাখা হয়েছে।একমাত্র একজন তাকে বলেছে সে সম্পুর্ণ সুস্থ। তবু সরকারি নিয়ম এ তাকে ছাড়া সম্বভ না তিনি হলেন ইন্দুমতি।সেই খান থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রথমে একটা মন্দির বা তারপর একটা ক্লাব এ আশ্রয় নেয়। সেখানে সে ইগল রায় বলে নিজেকে জানতে পারে। আর সেইখানে জানতে পারে তার নাম বুলু মজুমদার।
এই খান থেকে উপন্যাস রহস্য সূত্রপাত কে এই বুলু মজুমদার? কি আছে তার অতীত এ? কেনো তাকে পাগলা গারদে রেখে দেওয়া হয়েছে?তাকে মেরে ফেলার জন্য যে ষড়যন্ত্র চলছে সেটাই বা কি? রহস্য ময় টুপি টা কি? আর দ্বিতীয় জগৎ এর রহস্য বা কি? 
গনা আর ইগল কি হলো? ইগল এর জন্য যে ষড়যন্ত্র সেটা কি গনা চোর পারবে তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে? আর সর্বশেষ গনা কি এক নাম করা চোর হতে পারবে?
আর গনা শেষে কি করবে এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা এই অসাধারণ অপূর্ব সুন্দর উপন্যাস "টুপি"

রেটিংঃ আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এইই লেখকের  এই অদ্ভুতুড়ে সিরিজ আমার কি বয়সের ভালোবাসা তাই একটু খামতি থাকলেও ফ্যান হিসেবে তাই আমি ১০ এর মধ্যে ১০ দেবো।

রিভিউটি লিখেছেনঃ বাপনদা
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

দ্য থিফ - ফুমিনরি নাকামুরা ইরাজ উদ্দৌলা দিবাকর The Thief by Fuminori Nakamura

বই: দ্য থিফ
লেখক: ফুমিনরি নাকামুরা
অনুবাদক: ইরাজ উদ্দৌলা দিবাকর
জনরা: ফিলোসফিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার 


আলো ঝলমলে এক শহর টোকিও। কিন্তু এই আলোর আশেপাশেই রয়েছে জমাট বদ্ধ অন্ধকার। আর এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে বিচরণ করে ভাগ্যের কাছে হেরে যাওয়া মানুষরা বা অন্যের ভাগ্য নিয়ে খেলা করা মহাজনরা। তেমনি একজন নিশিমুরা, ভাগ্যের কাছে বারংবার পরাজিত হওয়া এক দক্ষ পকেটমার। টোকিওর ব্যস্ত শহরে চোখের পলকেই উঠিয়ে নেয় অন্যের ম্যানিব্যাগ বা অন্যকিছু। অনেকসময় তো নিজেই বুঝে না কখন অন্যের জিনিস চলে আসে তার পকেটে! জীবনের প্রিয় দুজনকে হারিয়ে যখন জীবন-মৃত্যুর দোটানায় তখন হঠাৎ পরিচয় হয় অজ্ঞাত মা-ছেলের সাথে। ছোট ছেলেটার মধ্যে নিজের অতীত দেখতে পায় নিশিমুরা। বেঁচে থাকার ইচ্ছে যখন মনে আবার জেগে উঠে অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি সামনে এসে দাড়ায়! করতে হবে কিছু গুপ্ত কাজ নয়তো মৃত্যু...

মাস্টারমাইন্ড, থ্রিল-টুইস্ট, সাসপেন্স, একশনে ভরপুর হবে ❝দ্য থিফ❞ প্রথমে এমনটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো এমনটা অনুপস্থিত। আর দশটা সাধারণত পকেটমারের জীবন যেমন হয়ে থাকে নিশিমুরার জবানিতে তেমনটাই দেখানো হয়েছে। তবে লেখকের গল্পবলার ধরন বেশ সহজ। জন্মের পর থেকেই ভাগ্যের সাথে লড়াই করতে থাকে অনেকেই। বেঁচে থাকার সংগ্রামে কেউ বা পা দেয় অন্ধকার জগতে। আর সে অন্ধকার জগতের বাসিন্দাদের জীবন কেমন হয়; ফিলসফি, থ্রিল, ক্রাইম, মিস্ট্রির সংমিশ্রণে বইয়ে সেটাই দেখানো হয়েছে। আগেই বলে রাখি মেইন ফোকাস পেয়েছে বইয়ের সাইকোলজিক্যাল ফিলোসোফি।

অতীত স্মৃতিচারণের সাথে বইয়ের কাহিনী এগিয়ে যায়। বন্ধু ইশিকাওয়া ও প্রেমিকা সায়েকোর কথা ভেবে যখন সময় পার হচ্ছিল তখন মার্কেটে ছোট একটা ছেলের দক্ষতার সাথে জিনিস উঠিয়ে নেওয়া দেখে নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায় নিশিমুরার। ছেলেটা যেন তার মতো হয়ে না ওঠে সেদিকেও নজর দেয়। হঠাৎ করে বেঁচে থাকার ইচ্ছে জেগে উঠে সাথে আবির্ভাব হয় কিজাকির। নিশিমুরা মেইন ক্যারেক্টার হলেও বইয়ে বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে তারমধ্যে ছোট ছেলে আর কিজাকিও ফোকাসে দেখানো হয়েছে। কিজাকির বলা গল্পটা ইন্টারেস্টিং ছিল। গল্পটার জন্যই লাস্টটা প্রেডিক্টেবল। শেষ প্যারায় সমাপ্তি যেভাবে দেখানো হয়েছে, সেরা! তবে বক্সরহস্য রহস্য থেকে গেল।

অনুবাদ সহজ-সাবলীল।

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

তারাভরা আকাশের নীচে - শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় Tara Bhora Akasher Niche by Srijat

গ্রন্থ- তারাভরা আকাশের নীচে 
লেখক - শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় 

        এই ছবিটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত ছবি, নিউইয়র্কে "আর্ট অফ মিউজিয়ামে" শোভা পাচ্ছে ছবিটি। শিল্পী ভ্যান গঘের আঁকা #The_Starry_Night , শিল্পের দিক দিয়ে এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ছবিটি ভীষণ মুল্যবান। দিনের পর দিন চিত্রশিল্প প্রে‌‍মী মানুষ যারা‍ এই মিউজিয়ামে পৌঁছতে পারে‌‍ন, তারা‍ হতবাক হয়ে মুগ্ধ বিশ্ময়ে তাকিয়ে থাকেন। অথচ একদিন এমন ছিল, যখন শিল্পী হিসেবে ভ্যান গঘ প্রশংসা পাননি, তার ছবি কেউ কেনে না তখন। সেই হিসেবে ভ্যান গঘ ছিলেন চিরদুঃখী শিল্পী, যিনি জীবদ্দশায় তার কাজের স্বীকৃতি পাননি। শেষ পর্যন্ত হতাশায় ডুবে আত্মহত্যা করে‌‍ছিলেন।

         1853 সালের এক ডাচ অধ্যুষিত গ্রাম! পাদ্রী থিওডোর এবং তার স্ত্রী কর্নেলিয়ার জীবনে বড়ই দুঃখের সময় চলেছে। গতবছর 29 শে জুলাই তাদের এক পুত্র সন্তান হয়েছিল কিন্তু সে মৃত। আবার এই বছর তাদের সন্তান হতে চলেছে। যথারীতি সেই আগের বছরের একই দিনে অর্থাৎ 29 শে জুলাই, 1853 সালে আরো একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হল। গত বছরের মৃত পুত্রের নামেই তিনি এই পুত্রের নাম রাখলেন- ভিনসেন্ট উইলিয়াম ভ্যান গঘ। দাদার কবর ছিল বাড়ির কাছেই। সেই কবর দেখতে দেখতে বড়ো হতে থাকে শিশু ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ। এরপর আরো সন্তানের জন্ম হয় পাদ্রী থিওডোর এবং কর্নেলিয়ার। কিন্তু ভ্যান গঘ যেন একটু আলাদা রকমের! ছোট ভাই থিও এবং তিন বোনের সঙ্গে খেলাধূলায় তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। এদিক ওদিক ঘুরতে থাকে আর অবাক চোখে লক্ষ্য করতে থাকে প্রকৃতির দিকে। কেউ সেদিন জানত না, যে এই শিশুটিই একদিন পৃথিবী বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হবেন।

       বারো তেরো বছর বয়সে ছবি আঁকা শুরু তার। ষোল বছর বয়সে স্কুল জীবন শেষ হল। এরপরের দিকে তার কাকা তাকে একটি চাকরি দেন। তাকে চলে যেতে হল লন্ডনে। কিন্তু এমন সময় সমস্যা দেখা দিল। লন্ডনে যে বাড়িতে তিনি থাকতেন, সেই বাড়ির মালিকের মেয়ের প্রেমে পড়লেন তিনি। কিন্তু সেটা ব্যর্থ হল। ফলে তীব্র মানসিক আঘাত পেলেন। কাজকর্মে আর তার মন বসল না। ফলে তার চাকরি চলে গেল। শুরু হল তার কঠিন দুঃখময় জীবন। পরের দিকে আবার একটা চাকরি পেলেন। লন্ডনের দরিদ্র ছাত্রদের কাছে বকেয়া আদায়ের ভার পড়ল তার উপর। কিন্তু সেই দুস্থ ছাত্রদের অবস্থা দেখে তিনি নিজেও এতটা দুঃখ পেলেন যে বকেয়া আদায় তার পক্ষে সম্ভব হল না। আবার চাকরি খোয়ালেন তিনি। এরপর তিনি পাদ্রী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। পঁচিশ বছর বয়সে একটি কয়লা খনিতে এলেন পাদ্রী হিসেবে। এখানেও তিনি খনি শ্রমিকদের প্রচন্ড দারিদ্র দেখতে পেলেন। ছবি আঁকতে থাকলেন সেই দারিদ্র্যের। আর নিজের জামাকাপড় পর্যন্ত দান করতে থাকলেন শ্রমিকদের। কিন্তু পাদ্রী গঘের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হলেন কর্তৃপক্ষ। তাই আবার কাজ হারালেন গঘ। এবার বাড়ি ফিরে এলেন তিনি। এরপর একদিন এক ঘটনা ঘটল। নিজের বাবার সঙ্গে প্রচন্ড তর্কে জড়িয়ে পড়লেন গঘ। বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে ক্রিসমাসের দিন বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন। কিন্তু তার হাতে টাকা নেই। সাহায্য চাইলেন ভাই থিওর কাছে। সারাজীবন এই একজনের কাছ থেকেই সহানুভূতি ও সাহায্য পেয়েছিলেন গঘ। তিনি চলে এলেন হাগ শহরে। মন দিয়ে ছবি আঁকবেন ভেবে এখানে এলেন। এখানে এক পতিতার সঙ্গে বাস করতে শুরু করলেন এবং সেই প্রেম এত গভীর হল যে সেই পতিতাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চাইলেন। কিন্তু আপত্তি জানালেন ভাই থিও। শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলো না। 1884 সালে আবার দেশে ফিরে এলেন। এখানে এক ছবি আঁকলেন-- এক দরিদ্র কৃষক পরিবার আলু দিয়ে রাতের খাবার খাচ্ছে। এই ছবিটা পরের দিকে বিখ্যাত হয়েছিল। এবার তার বাবা মারা গেলেন। এবার একেবারে শেষ বারের মত বাড়ি ছাড়লেন। জীবনে আর কখনও তিনি বাড়ি ফেরেননি। ভর্তি হলেন বেলজিয়ামের এক আর্ট একাডেমিতে। কিন্তু বাঁধাধরা জীবন আর ছবি আঁকা তার পছন্দ হলো না। চলে গেলেন প্যারিসে। অনেক শিল্পীর বাস এই শহরে। ছবি আঁকতে থাকলেন সেখানে। কিন্তু অন্যান্য শিল্পীর চক্ষুশূল হয়ে গেলেন। বিভিন্ন মানসিক চাপে জর্জরিত হয়ে অতিরিক্ত মদ খাওয়া শুরু করলেন। দু'বছর পর প্যারিস ছাড়লেন। এলেন আর্লেসে। ততদিনে জাপানী চিত্র শিল্পে তার আগ্রহ বেড়ে গেল। আর্লেসে তখন শীতকাল। এক বরফ ঢাকা সময়ে এলেন আর্লেসে। এক হলুদ রঙের বাড়িতে থাকতে শুরু করলেন। ভীষন পছন্দ হলো এই বাড়িটি। জাপানিদের কাছে হলুদ রঙ বন্ধুত্বের নির্দেশ করেন। এবার বসন্ত এলো আর্লেসে। বহু ছবি আঁকলেন। স্বপ্ন দেখলেন এক নতুন জীবনের। ভাবলেন এমন এক বাসস্থান তৈরি করবেন যেখানে অনেক শিল্পী একসাথে থাকবেন, ছবি আঁকবেন। এক নতুন কলোনি তৈরি হবে, যেটা স্বপ্নের মত সুন্দর! আমন্ত্রণ জানালেন আর এক বিখ্যাত শিল্পী গগ্যাঁ কে। কিন্তু গগ্যাঁ আসতে রাজি হয়নি। শেষে ভাই থিও অর্থ সাহায্য করায় গগ্যাঁ এলেন আর্লেসে। কিন্তু হিতে বিপরীত হলো। গগ্যাঁ পছন্দ করলেন না আর্লেস শহর। পছন্দ হলো না গঘের এই ছন্ন ছাড়া জীবন। এমনিতেই শহরের অনেকেই গঘ কে পছন্দ করতেন না। ধীরে
ধীরে গগ্যাঁর সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। গঘের এক পতিতা মডেল কে পছন্দ করলেন গগ্যাঁ। সেই মডেলও তাকে প্রশ্রয় দিতে থাকল। গঘ তখন তীব্র মানসিক আঘাতে জর্জরিত, রেগে গেলে একেবারে উন্মাদ হয়ে যেতেন। এক ক্রিসমাসের রাতে গগ্যাঁর দিকে মদের গ্লাস ছুঁড়ে মারলেন। গ্লাসটি লাগলো না গগ্যাঁর গায়ে। এতেও থামলেন না গঘ। ক্ষুর নিয়ে তেড়ে গেলেন গগ্যাঁর দিকে। পালিয়ে গেলেন গগ্যাঁ। কিন্তু তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে গঘ রাগের চোটে নিজের একটি কান কেটে ফেললেন। কিন্তু এর ফলে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়লেন। হসপিটালে ভর্তি হতে হলো তাকে। কিন্তু শহরের বিশিষ্ট অনেক ব্যক্তি তাকে আর সহ্য করতে পারলেন না। দাবি করলেন এই পাগলকে তারা শহরে থাকতে দেবেন না। যে শহরকে গঘ এত ভালো বেসেছেন সেই শহর তাকে ছাড়তে বাধ্য করা হলো। তিনি আর সহ্য করতে পারলেন না। মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো তাকে। কখনও তিনি সুস্থ, তখন ছাড়া পেতেন। আবার অসুস্থ হলেই ভর্তি হতে হতো। এখানে একদিন এক খুশির খবর পেলেন। তার একটা ছবি বিক্রি হয়েছে। খুব খুশি হয়েছিলেন তিনি। সারা জীবনে তার এই একটি ছবিই বিক্রি হয়েছিল তার। অভঁরো শহরে এবার এলেন। কিন্তু বিকৃত মস্তিষ্কের কারনেও ছবি আঁকা তার বন্ধ হলো না। অজস্র ছবি আঁকলেন। কিন্তু তীব্র হতাশায় ডুবে গেলেন। 1890 সালের 27 শে জুলাই একদিন মেঠো পথ ধরে ঘুরে বেড়ালেন। তারপর রাতে বিছানায় শুয়ে নিজের বুকে রিভলবার ঠেকিয়ে গুলি চালালেন গঘ। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করলেন। মাত্র সাঁইত্রিশ বছর বয়সে শেষ হয়ে গেল তার জীবন।

        একশো আঠাশ বছর পরেও আজ তার ছবি জগৎ বিখ্যাত। এই শিল্পী জীবিত থাকাকালীন কোন সম্মান বা অর্থ কিছু পাননি। কিন্তু আজ তিনি বহু শিল্পীর প্রেরনা। 

       আনন্দবাজার শারদীয়া সংখ্যা ১৪২৪ পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিল শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস #তারাভরা_আকাশের_নীচে । এই উপন্যাস রচিত হয় ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের জীবনের অংশ এবং কলকাতার এক যুবক ঋত্বিক এই দুই চরি‍ত্রে‌‍র জীবন নিয়ে। শ্রীজাত বন্দোপাধ্যায়ের কবিতার ভক্ত আমি, কিন্তু তার লেখা উপন্যাসের সঙ্গে পরি‍চয় হলো "তারা‍ভরা‍ আকাশের নীচে" র মাধ্যমে। দেখলাম, তার কবিতার মতো উপন্যাসও ভীষণ সুন্দর, সাবলীল। মুগ্ধ হয়ে গেলাম এই উপন্যাস পড়ে। সাধারণত একজন সাধারণ মানের পাঠক হিসেবে দেখেছি, উপন্যাসে কখনো একটি মাত্র চরি‍ত্র সবচেয়ে বেশি গুরু‍ত্বপূর্ণ হয়, কখনো বহু চরি‍ত্র ঘিরে গোটা একটা বড় উপন্যাস তৈরি হয়, বিভিন্ন চরি‍ত্রে‌‍র বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকে। কিন্তু এমন ধরনের উপন্যাস কয়টি আছে, যেখানে দুই চরি‍ত্র বাস করছে পৃথিবীর দুই প্রা‍ন্তে, বাসস্থানের দিক দিয়ে তারা‍ একে অপরে‌‍র থেকে বহুদূরে বাস করে এবং একটি চরি‍ত্রে‌‍র সঙ্গে অন্য চরি‍ত্রে‌‍র বাস্তবে কোনদিন দেখা হয়নি; অথচ উপন্যাসে তারা‍ দুজনেই সমান গুরু‍ত্বপূর্ণ! আমার অল্প মানের পড়াশোনার মধ্যে যে সকল উপন্যাস আমি পড়েছি, তার কোনটির মধ্যেই আমি এই বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাইনি, যা দেখালেন শ্রীজাত বাবু। এই উপন্যাসে এক পর্বে এসেছেন ভ্যান গঘ, তারপর পরে‌‍র পর্বে এসেছে "ঋত্বিক" নামের চরি‍ত্রটি। এইভাবে এক পর্ব এক পর্ব ছেড়ে ছেড়ে ক্রমানুসারে দুই চরি‍ত্রে‌‍র জীবনের ঘটনা নিয়ে সমান্তরাল ভাবে এগিয়েছে গল্প । এইরকম সমান্তরাল ভাবে একটা উপন্যাস এগিয়ে নিয়ে যাবার স্টাইল, এটাও আমি আগে কখনো দেখিনি। 

       উপন্যাসটি শুরু‍ হয়েছে, ভ্যান গঘ বসবাস করছেন আর্লসে, এবং তার আমন্ত্রণ পেয়ে গঁগ্যাঁ চলে এলেন আর্লসে, শীতের রা‍তে ট্রে‌‍ন থেকে নামলেন গঁগ্যাঁ..... এখান থেকে শুরু । 

       অন্যদিকে ঋত্বিক কলকাতার এক যুবক । সে বর্তমানে এক মানসিক রো‍গে আক্রান্ত, চোখের সামনে তার ভেসে উঠছে অলীক জগত। চিরপরি‍চিত মানুষজন হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে পরি‍বর্তে দৃশ্যমান হচ্ছে অন্য এক শহর, অন্য মানুষজন, অলীক এক জগত। এই হ্যালুসিনেশনের মধ্যে বারবার সে নিজেকে আবিস্কার করে ওই "দ্য স্টারি‍ নাইট" ছবিটির মধ্যে। সে যেন ঘুরে‌‍ বেড়াচ্ছে ওই ছবির সাইপ্রা‍স গাছের তলদেশে, বাড়িঘর সংলগ্ন এলাকায় বা গির্জায়। 
ঋত্বিক চাকরি‍ করে‌‍ ভালো কিন্তু সে স্বপ্ন দেখেছিল চিত্রশিল্পী হবার। বাবার আপত্তি সত্ত্বেও ভর্তিও হয়েছিল আর্ট কলেজে, কিন্তু পরে‌‍র দিকে সেই কোর্স সে ছেড়ে দেয়। তারপর অন্য কোর্স কমপ্লিট করে‌‍ পরবর্তীকালে একটা ভালো চাকরিও পায়, কিন্তু তাকে বিষন্নতা গ্রা‍স করে‌‍, যার ফলেই তার হ্যালুসিনেশন হতে থাকে। বিষন্ন হবার মতো তিনটি কারণ এখানে খুঁজে পেলাম---- 

      ১) তার ছবি আঁকার দিকে অতিরি‍ক্ত আগ্রহ তার বাবা মেনে নেননি। তার মা কিছুটা তাকে সমর্থন করতেন। তাদের পাড়ায় থাকতেন "নলিনী বাবু" নামে একজন মানুষ যিনি ছিলেন একটি আর্ট কলেজের গোল্ড মেডেলিস্ট, পাড়ার সবার কাছে তিনি পরি‍চিত "ছবি কাকু" নামে। আর্থিকভাবে তিনি ছিলেন অস্বচ্ছল, কয়েকটি ছেলেকে আঁকা শিখিয়ে যেটুকু রো‍জগার করতেন, তা দিয়েই দিন চালাতেন এই অবিবাহিত মানুষটি। পৈতৃক বাড়িতে ছাদে একটি
মাত্র রু‍ম ছিল তার । কিন্তু তাতে তার কোন ক্ষোভ ছিল না কারো‍ প্রতি। ঋত্বিককে তিনি আঁকতে উৎসাহ দিতেন। আঁকার বই থেকে বিখ্যাত শিল্পীদের আঁকা ছবি দেখাতেন । সেই বই দেখেই ভ্যান গঘের এই ছবিটির প্রতি আকৃষ্ট হয় ঋত্বিক । নলিনী বাবু তাকে শোনান, ভ্যান গঘের নিদারুণ জীবন কাহিনী । "দ্য স্টারি‍ নাইট" দেখিয়ে বলেন, আমি নিজে এই ছবিটি বাস্তবে দেখার সুযোগ পাইনি। তুই বাস্তবে গিয়ে দেখিস, তুই দেখলেই আমার দেখা হবে। কিন্তু একদিন নলিনী বাবু বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে‌‍ন। এরপর ঋত্বিকের মনের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। 

       ২) একটি মেয়ের প্রে‌‍মেও পড়ে ঋত্বিক, কিন্তু মেয়েটি জানায় সে ইতিমধ্যেই অন্য একজনকে পছন্দ করে । হঠাৎ একদিন ঋত্বিক আবিস্কার করে যে তার নিজের ভাই ওই মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আছে। একদিন বাইরে‌‍ এক প্রাচীরে‌‍র গায়ে ওদের দুজন কে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ঋত্বিক । 

     ৩)ঋত্বিক তার এক বন্ধুর বাড়িতে দুজনে একসাথে ছবি আঁকত। সেই বন্ধু তার ছবি চুরি‍ করে‌‍ নিজের নামে এক কম্পিটিশনে পাঠায় এবং ছবিটি পুরস্কার লাভ করে । 

        তারপর বহু দিন পর অন্য এক মেয়ের সাথে ঋত্বিকের বিয়ে হয়। এই স্ত্রী তাকে ভীষণ ভালোবাসে। এই মানসিক সমস্যার সময় তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাকে ফের ছবি আঁকতে বলে। ডাক্তারের পরা‍মর্শ মেনে তাকে নিয়ে যায় নিউইয়র্কের ওই মিউজিয়ামে, তার স্বপ্নের ছবি "স্টারি‍ নাইট" দেখানো‍র জন্য । ছবিটির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ঋত্বিক নিজের আবেগের ভারসাম্য হারি‍য়ে মেঝেতে পড়ে যায়। 

       নিউইয়র্কে এক হোটেলে একাকি অবস্থায় থাকার সময় ভ্যান গঘ আসেন তার সাথে দেখা করতে। অবশ্যই এটা বাস্তব নয়, তার মনের কল্পনা। তাদের দুজনের মধ্যে বেশ কিছু কথাবার্তা হয়। 

        এরপরে‌‍র দিকে দেখতে পাই, তার স্ত্রীর অবর্তমানে সে উঁচু ওই ব্যালকনি থেকে নীচে ঝাঁপ দেয়। তখনো সে দেখতে পায় "দ্য স্টারি‍ নাইট" ছবিটাকে, সে যেন চলে যাচ্ছে ওই ছবিটার ভিতর দিয়ে। এখানেই উপন্যাসটি শেষ। 

       উপন্যাসের এই শেষ পর্বটুকু ব্যক্তিগতভাবে একজন পাঠক হিসেবে আমার ভালো লাগেনি। ভ্যান গঘ জীবনে আত্মহত্যা করে‌‍ছিলেন, এই ঋত্বিকও সেটাই করল। এইভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা না ঘটলেই ভালো হত, বলেই আমার মনে হয়। যদি দেখানো যেত, ঋত্বিক সুস্থ হয়েছে, আবার ছবি আঁকছে, তাহলেই আমি বেশি খুশি হতাম। উপন্যাসের প্রতিটি পর্ব অসাধারন লাগার পর একদম শেষ পর্বটা আমাকে স্থির করে দিল। যাইহোক, এটা আমার ব্যক্তিগত ভালোলাগা, খারা‍পলাগা; এর সাথে বইটিকে তুলনা করছি না। কিন্তু উপন্যাসটি অসাধারন । 

       ভ্যান গঘের জীবনকাহিনী লেখক যা বলেছেন, তাতে আমার জানা তথ্যের সাথে সামান্য একটু আধটু ভিন্নতা পেয়েছি। আমি সাধারণ মানের পাঠক, ভ্যান গঘকে নিয়ে পড়াশোনা বিশেষ বেশি কিছু করি‍নি, হয়ত আমার জানায় অসংগতি থেকে গেছে, যাইহোক উপন্যাস তো "ইতিহাসের বই" নয়, এতে দু একটা বিষয় দ্বিমত থাকলেও কিছু সমস্যা নেই। এত চুলচেরা ইতিহাসের বিচার উপন্যাসে না করলেও চলে। 

       একটি ঐতিহাসিক চরি‍ত্র এবং একটি বাস্তবচরিত্র সমান্তরাল ভাবে উপস্থাপন করে, এই অসম্ভবের মধ্যেও সম্ভবতার সাযুজ্য স্থাপন করে লেখক যে উপন্যাস লিখলেন তা অসাধারন এবং আমি মনে করি‍ যে সকল উপন্যাস আমার মনে গভীর রে‌‍খাপাত করে‌‍ছে, "তারা‍ভরা‍ আকাশের নীচে" সেগুলোর মধ্যে একটি। লেখক শ্রীজাত বাবুকে অশেষ ধন্যবাদ এবং শ্রদ্ধা জানাই।

রিভিউটি লিখেছেনঃ ✍ সৌমেশ পাল
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

পাপ - সৌরভ চক্রবর্তী Paap by Sourov Chocroborti

বই - পাপ
লেখক - সৌরভ চক্রবর্তী
প্রকাশনা - বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন
মুদ্রিত মূল্য - ২৯৯

বইটিতে ৮টি গল্প আছে। প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী। প্রতিটা গল্পের শেষেই টুইস্ট রয়েছে। প্রথম গল্পটা 'পাপ ও পয়স্বিনী'। পুরোই বড়দের উপযোগী। অন্ধকার এক অপরাধের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে গল্পে। 

দ্বিতীয় গল্প 'মামলার শেষে'। পুরো গল্প শেষে টুইস্টটা সত্যিই অবাক করেছে। এক উকিল মামলা লড়ে। কিন্তু শেষে মনে হয় সে নিজেই পাপ করেছে।।

তৃতীয় গল্প 'খেলনাওয়ালা'। এটা ভুডু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে। 

চতূর্থ গল্প 'শৌখিন রাত'। সিরিয়াল কিলারের গল্প। যদিও গল্প শেষ করার পূর্বে পুলিশ কর্মকর্তাকেই অপরাধী মনে হচ্ছিল। 

পঞ্চম গল্প 'রোস্টোড চিকেন'। রোবটের ভুল শোনা ও নির্দেশনার কারণে মুরগীর পরিবর্তে মালকিনের একটি বাচ্চাকেই রোস্ট করে ফেলার কাহিনী।

ষষ্ঠ গল্প 'আস্তিক'। কিছুটা পৌরাণিক ও রহস্য গল্প। 

সপ্তম গল্প 'লাস্যময়ী'। বিশ্বযুদ্ধে গুপ্তচর বৃত্তির পটভূমির উপর লেখা৷ এটাতেও শেষে টুইস্ট আছে। 

অষ্টম গল্প 'সুইসাইড টাওয়ার'। এটা খুব একটা ভাল লাগে নাই। সব মিলিয়ে মোটামোটি লেগেছে বইটি।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Najmush Shakeer
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

মানসাই - প্রতিভা সরকার Mansai by Pratibha Sarkar

ব‌ই - মানসাই
লেখক - প্রতিভা সরকার
প্রকাশনা - ছাপাখানা
মুদ্রিত মূল্য - ৩০০/-


 "বিপ্লবের নাম অমুক-তসুক"-এর ভাবালুতা বা মতবাদের প্রতি মোহ নয়, যেভাবে নিস্পৃহ দৃষ্টিতে দেখা উচিত ১৯৭০-৭৫ সনের যুগসন্ধিক্ষণটিকে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই উপন্যাস। পৌরাণিক কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষে মৃত যোদ্ধাদের শবের স্তূপের মধ্যে, রক্তনদীর ধারায় নিমজ্জিত শশ্মানে  জননী-জায়াদের অন্বেষণের সঙ্গে একসূত্রে মিলে যায় তথাকথিত মুক্তিসূর্যের শাসনামলে হৃত অগণিত প্রাণের রক্তাক্ত শেষ পরিণতি । সবকিছু জেনেও ঘুরে দাঁড়ানো অগণিত মায়েদের আখ্যান। পূর্ববঙ্গের লাল মৌলানা থেকে এই বাংলার 'আলো বৈদ্য', ভাস্কর চক্রবর্তী থেকে হামিদ চৌধুরী - ঐতিহাসিক হোক অনৈতিহাসিক, প্রখর বাস্তবের রুক্ষ জমিনে পা রাখা চরিত্রগুলির সমন্বয়ে এবং একান্ত মানবিক আবেদনে তৎকালীন রাজনীতি,সমাজ এবং সময়কালকে ধারণ করে রাখা মানসাই নদীর মতোই খরস্রোতা কিন্তু প্রাণপ্রদায়িনী এই উপন্যাসে লেখক কোনো আইডিওলজিকে গ্লোরিফাই করার মধ্যে যাননি। যা আদতে ঘটেছিল  তেমনটাই লিখেছেন। একমাত্র অনুযোগ উপন্যাসের নিয়মানুযায়ী অন্তিম অংশটিতে পার্শ্বচরিত্রগুলির পরিণতি হয়তো সামান্য দীর্ঘায়িত করা যেতো।

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

বিশ্বাসঘাতক - নারায়ণ সান্যাল Biswasghatak by Narayan Sanyal

বই - বিশ্বাসঘাতক
লেখক - নারায়ণ সান্যাল
পাঠপ্রতিক্রিয়া - রাহুল 
ব্যাক্তিগত রেটিং - 8.5/10


"নভঃস্পৃশং দীপ্তমনেকবর্ণং
ব্যাত্তাননং দীপ্তবিশালনেত্রম্। 
দৃষ্ট্বা হি ত্বাং প্রব্যথিতান্তরাত্মা 
ধৃতিং ন বিন্দামি শমং চ বিষ্ণো।" -

ঠিক এই শ্লোকটিই নাকি আওড়ে ছিলেন পরমানু বিজ্ঞানের জনক ওপেনহাইমার। সিনেমাটা এসে বইটা পড়তে বাধ্য করলো। সিনেমাটা আসার আগেও আমি বহুবার বহুপাঠকের কাছে শুনেছি, যে নারয়ণ সান্যালের বিশ্বাসঘাতকটা পড়ুন। হাইলি রেকমেন্ড একটি বই ছিলো। অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম পড়ব পড়ব অবশেষে এই শেষ তিনদিনে নানান অবসর সময়ে বইটা শেষ করলাম। 

এক কথাও অসাধারণ বই। পরমানু বলতে সাধারণভাবে ওই ইলেকট্রন প্রোটন আর নিউট্রন এটুকু মাত্র জ্ঞান নিয়ে ভয় হচ্ছিল যে এ বই আদৌ বুঝতে পারব কিনা, কিন্ত সে সংশয় লেখক দূর করেছেন, অত্যন্ত সহজ সাবলীল ভাষায় (কোথাও ছবির সাহায্যে) সমস্ত দূর্বোধ্য বিষয়কে তরলীকরণ করেছেন তিনি। কি এই পরমাণু বিষ্ফোরণ, কীভাবে বিজ্ঞানের মাথায় এলো এই বোমের ধারণা এই সকল প্রশ্ন নিয়েই এই বইয়ের শুরু। লেখক পরমানু বোমার জন্মলগ্ন থেকে আমাদের পরমানু বিষ্ফোরণ পর্যন্ত একটি জার্নি করিয়েছেন। প্রতিটি ধাপে হাত ধরে বুঝিয়েছেন - দেখো, এভাবে রাদ্যার্ফোর্ড পরমানুর বিভাজন ঘটালেন, এভাবে ইলেকট্রন আবিষ্কার হলো, এভাবে নিউট্রন। আমি এতো সুন্দর বাংলায় বিজ্ঞান মূলক লেখা পড়িনি। আমি লেখকের লেখনীকে স্যালুট করছি। তবে এ বই শুধু মাত্র পরমানু বোমার ইতিহাসকাহিনী নয়। তার থেকেও অনেক বেশি কিছু পেয়েছি এই বইয়ে। এই বইয়ের চরিত্ররা, প্রায় ২৪জন নোবেল প্রাপক বিজ্ঞানী উপস্থিত এই বইয়ে। তাদের জীবনের কিছু অংশ তুলে ধরেেছন লেখক। জার্মিনি গেটিজেন ইউনির্ভার্সিটির কথা আমি অদ্ভূত ভাবে গিলেছি যেন। কল্পনা করতে পারছিলাম যে এত মহৎ মানুষরা সকলে মিলে একসাথে কাজ করেছেন। একসাথে আলোচনা করেছেন, একে অপরের সাথে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন সেই যুগেও। 
রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে বিজ্ঞানীরা দেশ ত্যাগ সহ্য করেছেন কিন্ত বিজ্ঞানকে ছাড়েননি। 
প্রথম পরমানু বোমা বানায় আমেরিকা, তাদের প্রকল্পের নাম ছিলো ম্যানহাটন প্রকল্প এই প্রকল্পের শুরুটা বেশ অদ্ভূত। কেন বোমা বানাতে হবে, কারণ তারা ভাবছে যে হিটলার বুঝি জার্মান বিজ্ঞানীদের সাহায্য নিয়ে আগেই বোমা বানিয়ে ফেলবে। কিন্ত হিটলার যে কতটা মূর্খ ছিলো তা জানা যায় আরোও পরে। তাই জার্মানিকে কাগুজে বাঘ বলে তুলনা করেছেন তিনি। এই কাগুজে বাঘের ভয়েই কিন্ত তৈরী হয়েছিলো পারমানবিক বোমা। তা কে করল এই কাজ জানেন, বিশ্ববরেন্য সকল বিজ্ঞানীরা। আমেরিকা প্রথম পারমানবিক বোমা তৈরী করলেও তাতে যুক্ত ছিলেন হাত গোণা কয়েক জন মাত্র আমেরকিান বৈজ্ঞানিক। বেশিরভাগই ছিলেন জার্মান, ইতালিয়ন, বা ফরাসি, ইংল্যাণ্ডের বা বৈজ্ঞানিকরা। ভাবতে অদ্ভূত লাগে যে তারা নিজের দেশ থেকে বিতারিত হয়ে আমেরিকায় গিয়ে আমেরিকার জন্য় বোমা বানালেন। এবং পারমানবিক বোমা বানানোর শ্রেয় পেলেন ওপেনহাইমার (ওপি) তাকে ঘিরেই এই উন্মাদনা। এসবের মধ্যে বিশ্বাসঘাতক কোথায়, তাই না। আসলে বিশ্বাসঘাতকতাটা কি আদৌ বিশ্বাসঘাতকতা এই নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে। ম্যানহাটন প্রকল্পের যে সাফল্যামৃত তা তুলে নিয়ে গিয়ে যদি কোনও ব্যাক্তিকে তৎকালীন রাশিয়ায় পাচার করে দেয়, তাহলে। 
হ্যাঁ এটাই হয়েছিলো। এই কাহিনী সেই ঘটনাকে ঘিরেই। তার কাহিনী বলতে গিয়েই লেখক পরমানুবোমার জন্মবৃত্তান্ত থেকে পরিণতি পর্যন্ত দেখিয়েছেন। আর বলেছেন সেই বিশ্বাসঘাতকের কথায়। 
তবে আমার মতে বিশ্বাসঘাতক তিনি ছিলেন না। তার বদন্য়তাতেই সেই সময় হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বিশ্ব। লেখক নিজে স্বীকার করেছেন যে বিশ্বাসঘাতকের সাহায্যেই রাশিয়া অন্তত দুবছর আগে বানাতে পেরেছে পারমানবিক বোমা। তাই তিনি বিশ্বাসঘাতক এ আমি মানি না। 
এই বইয়ে আমরা তৎকালীন রাশিয়া জার্মানি ও আমেরিকার কথাও পাবো। আর সর্বশেষে পাবো এক করুণ প্রেমকাহিনী। 
এ বই আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এবং সকলকে রেকমণ্ড করবো পড়ার জন্য।

রিভিউটি লিখেছেনঃ রাহুল
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

Book name : বিশ্বাসঘাতক
Author name: নারায়ণ সান্যাল 
বিষয়বস্তুর ব্যাপকতায় নারায়ণ সান্যাল বর্তমানে বাঙলা সাহিত্যে অদ্বিতীয়। মার্কিন সরকারের অতন্দ্র প্রহরা ভেদ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জনৈক বৈজ্ঞানিক একক প্রচেষ্টায় একটি গোপন তথ্য রাশিয়ায় পাচার করেন। মানব-সভ্যতার ইতিহাসে আর্থিক মূল্যমানের দিক থেকে
এটাই নাকি সবচেয়ে বড় জাতের বিশ্বাসঘাতকতা। ‘কী, কেন ; কীভাবে ও কে?’ সেটাই ‘বিশ্বাসঘাতক'-এর মূল | পারমাণবিক বোমা। কে না শুনেছে এই নাম! কিন্তু কি আছে এই বোমাতে? কেনই বা এটা এতটা বিধ্বংসী? যুক্তরাষ্ট্র এটার জন্য এতটা মরিয়া কেন, যুক্তরাষ্ট্র যদিও বা এই বিধ্বংসী বোমা বানাতে সক্ষম হলো কিন্তু রাশিয়া কিভাবে পেল এই বোমা; বোমা বানানোর ফর্মুলা? হু ইজ দ্য ট্রেইটর!? বিশ্বাসঘাতকটা কে?

পুরো বই জুড়েই ওই একটা প্রশ্ন। 'হু ইজ দ্য ট্রেইটর? বিশ্বাসঘাতকটা কে?' এবং ওই বিশ্বাসঘাতককে খুঁজতে, বিশ্বাসঘাতকের প্রকৃতি বুঝতে লেখক আমাদের পরিচয় করান বিশ্ববিশ্রুত সব বৈজ্ঞানিকদের। তাঁদের কর্মকাণ্ড, গবেষণার সাথে। পারমাণবিক বোমা কী? কিভাবে বানিয়েছে এটা। সূচনালগ্ন থেকে পরিণতি পর্যন্ত বিশদ বর্ণনা করেছেন সহজভাবে | তিনি একেবারে গোড়া থেকে শুরু করলেন পরমাণুর ইতিহাস। ওখানে স্থান পেয়েছে পরমাণু নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন পদার্থবিদ, রসায়নবিদদের প্রস্তাবনা, ব্যাখ্যা, থিওরী। গল্পের খাতিরে রাদারফোর্ড তার পরমাণু মডেল নিয়ে এসেছেন, এসেছেন নীলস বোর, চ্যাডউইক, এনরিকো ফের্মি, ওপেনহাইমার, ৎজিলার্ড, কুরি দম্পতি, সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনসহ আরো অনেক প্রথিতযশা বিজ্ঞানী। ধাপে ধাপে আমরা জানতে পেরেছি কে কিভাবে সজ্ঞানে-অজ্ঞানে জড়িয়ে গিয়েছে এই পারমানবিক বোমার সাথে। আমেরিকার ছলচাতুরী আর প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানের আত্মঅহমিকার স্বরুপও দেখতে পেয়েছি আমরা। দেখতে পেয়েছি সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী স্যার অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের প্রেসিডেন্টের প্রতি পারমানবিক বোমা নিয়ে গবেষণা করার অনুরোধের চিঠি। আবার সেই আইনস্টাইনকেই দেখেছি পারমানবিক বোমার ভয়াবহতা অনুধাবন করে সেই বোমা ব্যবহার না করার অনুরোধ নিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রেরিত চিঠি। এই দলে ছিলো ৎজিলার্ডসহ আরো অনেক বিজ্ঞানী। কিন্তু যার পেছনে এত টাকা গেলো সেই পারমানবিক বোমার কাছে এই আইনস্টাইন, ৎজিলার্ড বড় তুচ্ছ। অন্তত তেমনটাই মনে হয়েছিলো হেনরি ট্রুম্যানের কাছে। আর তার ফলস্বরুপ হিরোশিমা আর নাগাসাকির ওপর যে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে এসেছিলো তা দেখতে পেলো সারা বিশ্ববাসী। এই বইতে একটা রুদ্ধশ্বাস এবং সেই সাথে অত্যন্ত করুণ একটা 'প্রেম-কাহিনী' ও পাবেন। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর জনপ্রিয় যেকোনো থ্রিলারকে হার মানিয়ে দিতে প্রস্তুত এই বই।

রিভিউটি লিখেছেনঃ অনন্য ভট্টাচায

তামাঙ - প্রমোদ নাথ Tamang by Promod Nath

তামাঙ
প্রমোদ নাথ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং জেলার চা বাগিচা অঞ্চল, কৃষি অঞ্চল এবং বনবসতি অঞ্চল-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন চা বাগিচা অঞ্চলে তামাঙ জনগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সিকিম, অসম, পূর্ব ভুটান এবং নেপালের বিভিন্ন এলাকায়ও এরা বাস করে। পশ্চিমবঙ্গের ৪০টি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসাবে তামাঙ অন্যতম। যদিও এরা নিজস্বতা বজায় রেখেছে। সামাজিক বিষয়, ধর্মীয় বিষয় এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ে এই সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য বিশেষত্ব অবশ্যই নজরে পড়ে। লোকসংস্কৃতির দৃষ্টিতেও তামাঙ জনজাতির একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। তামাঙ সম্প্রদায় মঙ্গোলীয় বিভাগের চৈনিক ভোট বংশের অন্তর্গত ভোট-বর্মী ভাষা পরিবারের সদস্য বলে গবেষকরা মনে করেন। নেপালের সমস্ত রাজাদের উত্থানের সময়েই তামাঙরা নিজ দেশে পরবাসী হয়। পরবর্তীতে ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ডুয়ার্স-তরাইয়ের এই অঞ্চলে চা বাগিচা পত্তনের প্রথম পর্বেই চা বাগানের কাজের প্রয়োজনে অন্যান্য জনগোষ্ঠীর সাথে তামাঙ সম্প্রদায়ের মানুষদেরও এই অঞ্চলে আগমন ঘটে। নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ হয়ে চা-বাগানের কুলি-মজুর হিসেবে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা তাদের নিজস্ব সমাজ-সংগঠন, ধর্ম, সাংস্কৃতিক চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমানেও।
প্রচারের অন্তরালে থাকা পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে পড়া এই আদিবাসী জনগোষ্ঠী সকলের দৃষ্টির অগোচরেই রয়ে গেছে। কোথাও তাদের নিয়ে সে ভাবে আলোচনা হয়নি। লেখক দীর্ঘদিন ধরে এই সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘুরে-তদের প্রত্যক্ষ করে—তাদের কাছ থেকেই সংগৃহীত করেছেন নানা তথ্য। তাদের ভাষা, ধর্ম, সমাজ-সংগঠন, শিক্ষা, জন্মসংস্কার, বিবাহ, শবদাহ, শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান – নানাবিধ সমস্যা 

তামাঙকে জানতে বইটি পড়তে পারেন।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Collected
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

কবিরাজ - অভীক মুখোপাধ্যায় Kabiraj by Avik Mukhopadhyay

 বইয়ের নাম _ "কবিরাজ"
লেখক_ অভীক মুখোপাধ্যায় 
পাবলিকেশন _ বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন 
প্রথম প্রকাশ _ পয়লা বৈশাখ,১৪২৮
মূল্য_১৩৫ টাকা
বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা _৬২
জনরা_ ভৌতিক, রোমান্টিক , রহস্য কাহিনী


অভীক মুখোপাধ্যায় ঐতিহাসিক বিষয় বস্তু নিয়ে লেখা লেখি করেন। কিন্তু তিনি যে ভৌতিক রোমান্টিক রহস্য গল্প উপন্যাস লিখতে সিদ্ধহস্ত সেটা কবিরাজ পাঠ করে এক কথায় স্বীকার করে নিলাম।বইটা পড়া শুরু করলে শেষ না করে কোনো উপায় নেই যেমন টানটান এর বিষয়বস্তু। তেমন সুন্দর এর কাহিনী। বইটা ইতিহাস এর আশ্রয় নিয়ে দুরন্ত একটা করুন ভূতের উপন্যাস।
বইটা সেই সময়ের সমাজ ও তখনকার দুই ধর্মের দৃষ্টি ভঙ্গি লেখক তুলে ধরেছেন।পাঠক হিসেবে আমার লেখকের সেই সময় এর যে চিত্র লেখক তুলে ধরেছেন সেটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।
তাই বইটা পড়ে নিয়ে চলে এলাম আমার রিভিউ। এটা রিভিউ কম বইটা পড়ে আমার যেটা উপলব্ধি বা মতামত বলছি।

এইবার সংক্ষেপে উপন্যাস টির বিষয় বস্তু নিয়ে আলোচনা করবো। গল্পের নায়ক একজন বেকার যুবক। নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি উপর নির্ভর করে নিজের জীবন যাত্রা চালায়। মাঝে কিছুদিন টিউশান দিয়েছেন কিন্তু টাকা পয়সা ঠিক মতো না পাওয়ার ফলে সেটা ছাড়তে বাধ্য হয়। তারপর তার বন্ধু বাপন এর মারফতে ১৫ হাজার টাকা বিনিময়ে দিল্লি টে একটা সাজানো ইন্টারভিউ এর আড়ালে সবাইকে বাতিল করে একটা চাকরি জোগাড় করে ফেলে।
ও সেই চাকরি সূত্রে একটা বাড়িতে থাকার ব্যাবস্থায় সেই বাড়িতে উঠলে সেইখান থেকে শুরু হয় গল্পের সূত্রপাত।সেইদিন রাত ১১ টার সময় সেইখানে উপস্থিত হলে সেইখানে পরিচয় হয় দুইজন অল্প বয়সী প্রেমিক যুগল এর সাথে।
যাদের মধ্যে প্রথম জন একজন ব্রাহ্মণ হিন্দু সন্তান পণ্ডিত জি ( জয়নারায়ান চতুরবেদী) ও তার স্ত্রী মুসলিম পাঠান হুন্স বানো (নাসিম বানো) তাদের কথা জানতে পেরে তাদের সাথে তাদের অতীত জীবনের কাহিনী জানতে চাইলে। তারা বলে তার যদি সময় হাতে থাকলে তারা বলতে রাজি। কাহিনী নায়ক শুনতে রাজি হলে তারা শুরু করেন তাদের গল্প।
গল্পের মোট ৪ জন প্রধান চরিত্র। উপরে তিনজনের নাম বলেছি আর একজন প্রধান চরিত্র হলো নবাব লিয়াকত আলী জংজং। যেহেতু এটা একটা ভৌতিক রোমান্টিক রহস্য কাহিনী ও একটি ছোটো উপন্যাস তাই কাহিনীর বিষয় বস্তু নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করলাম।বেশি বললে স্পয়লার দেওয়া হবে।
তাদের প্রেম। তাদের একে অপরকে হারানোর কষ্ট। ও মৃত্যুর পর একে অপরকে অপরিসীম ভালোবাসার কাহিনী এটা। ও নিজেদের অধিকার ও নিজেদের সম্পত্তি রক্ষার তাগিদে শতাব্দী অব্দি অপেক্ষা করার কাহিনী।

তাই সকলের কাছে আমার অনুরোধ রইলো আপনারা অভীক মুখোপাধ্যায় এর লেখা "কবিরাজ" বইটি পড়ুন।
আশা করছি আমার মতো আপনাদের খুব ভালো লাগবে।

রেটিং _ গল্পটির পাতায় পাতায় যে যে পরিমাণে ভালোবাসা। সেই বিগত দিনের পটভূমিকায় রহস্য ও ভৌতিক বিবরণ দিয়ে লেখক বইটা লিখেছেন। বইটা পড়া শুরু করলে শেষ না করে কোনো উপায় নেই। তাই আমার রেটিং ১০ এর মধ্যে পারফেক্ট ১০

রিভিউটি লিখেছেনঃ Bapan Da
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

ছায়া ঢাকা মন – সমরেশ বসু Chaya Dhaka Mon by Samaresh Basu

বইয়ের নাম - ছায়া ঢাকা মন
লেখক – সমরেশ বসু
প্রকাশক – দে’জ পাবলিশিং

কলেজ পড়ুয়া তিন বন্ধু - শমিক, নিশীথ এবং তিমির - তৎকালীন শিক্ষা ব্যাবস্থার কঠিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চায়। কিন্তু নিজের পরিবারের লোকজনের কাছে প্রবল ভাবে তিরস্কৃত হয়ে, কটু কথা শুনে ভেঙ্গে পড়ে। তিনজনেই বাড়ি ছেড়ে বেড়িয়ে পড়ে এবং একটি হোটেল রুম ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় তাদের পাড়ার একটি মেয়ে দিপা, যাকে অনেকেই খারাপ মেয়ে ভাবে কারন তাকে সংসার চালানোর জন্য ও নিজের দৈনন্দিন খরচ মেটানোর জন্য এমন কিছু কাজ করতে হয় যেটা আমাদের সমাজ আজও মেনে নেয়না। 
গল্প এগোতে থাকে বিভিন্ন টুকরো টুকরো ঘটনার মধ্যে দিয়ে এবং জীবনে বিহু পরিস্থিতির মুখমুখি হয় তারা। গল্পের মুখ্য চরিত্র শমিকের সাথে পরিচয় হয় সেই হোটেলেই বসবাসকারী একজন ভদ্রমহিলা ডালিয়ার সাথে। ক্রমে ডালিয়া অনেক কিছু শেখায় শমিককে। শমিক তার জীবনে প্রথম ভালবাসার স্বাদও পায় ডালিয়ার থেকেই। যদিও ডালিয়া শমিকের থেকে বয়েসে অনেক বড় তবুও শমিক অনেক স্বপ্ন দেখতে থাকে ডালিয়াকে নিয়ে। 
কিন্তু শেষটায় তাদের সম্পর্ক পরিনতি লাভ করে না এবং শমিক ক্রমে জানতে পারে ডালিয়ার জীবনের করুন কাহিনী এবং তার পরিনতি। 

সব শেষে তিন বন্ধু যে যার বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

গল্পটি যৌবন ও কৈশোরের সন্ধিক্ষণে যারা দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশ্যে লেখা। যদিও বা সেই বয়েসটা আমার পেরিয়েছে তবুও গল্পটি আমার ভালোই লাগলো।


রিভিউটি লিখেছেনঃ Koudhik
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

বোতামঘর - স্মরণজিৎ চক্রবর্তী Botamghar by Smaranjit Chakraborty

উপন্যাস -বোতামঘর
লেখক -স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
প্রথম প্রকাশ - ১৪২৯


এই বছর শারদীয়া আনন্দ বাজার এ পড়লাম লেখক স্মরণ জিৎ এর লেখা বোতাম ঘর উপন্যাসটি। ও পড়ে ঠিক করে ফেললাম একটা রিভিউ লিখবো। আপনারা যারা এই লেখক এর বুক পড়েছেন তারা সকলেই জানেন যে প্রতি বছর উনি একটি দুর্দান্ত প্রেমের উপন্যাস লেখেন। আলোচ্য উপন্যাস টি তার ব্যতিক্রম না।
বই টি শেষ করে উঠে এক অপার ভালোবাসায় মনটি ভরে গেলো। বইটি দুটি পর্ব নিয়ে লেখা। একটি পর্ব ১৯৮৩ সাল এ। ও দ্বিতীয় পর্ব টি ২০২২ সালে। এবার আসা যাক কাহিনী প্রসঙ্গে। গল্পে শুরুতে আমরা দেখতে পাই মুসাফির নামক চরিএ টি কে রে নিজের বাবার দোকানে সেলাই এর কাজ করে ও ছোট্ট ছোট্ট ছিদ্র করে নিপুন হাতে বোতামঘর তৈরি করে। সেখান থেকে ১৯৮৩ সালের পটভূমিতে দেখতে পাই দুটি ভাইকে তারা দুজন লেক এর ধারে বেড়াতে এসেছে। একজন সৌর ও অপরজন জুলু। তাদের লেখক বলেছেন ব্যাটম্যান ও রবিন বলে তারা একে অপরের পাশে সারাজীবন থাকবে।
এর পর দেখা যায় ছয় বছর পরের ঘটনা যেখানে আমাদের উপন্যাস এর দুই নায়ক বড়ো হয়েছে। একজন তখন প্রতিষ্ঠিত ও অপর জন উচ্চ মাধ্যমিক দেবে। আমাদের গল্পের নায়ক এখানে জুলু যে ভালোবাসে ওপালিকা কে কিন্তু ওপালিকা জুলু কে ভালোবাসে না।
সে তখনকার সমেয়ের চেয়ে যথেষ্ট আধুনিকা। যে ভালবাসা বলতে বোঝে শুধু শরীর । শরীর এর ভালোবাসা শেষ টো সেই ছেলের প্রতি তার ভালোবাসা শেষ। এমন এক মেয়ের প্রতি ভালোবেসে সে অবহেলা করে আমাদের গল্পের নায়িকা বেলা কে। যে একজন উড়নচণ্ডী টাইপ এর মেয়ে যে কিট পতঙ্গ ভালোবাসে। ভালোবাসে ছোটো ছোটো মিনি কনস্ট্রাকশন বানাতে আর ভালোবাসে জুলুকে।
অপরদিকে বেলাকে ভালোবাসে এক আশ্চর্য চরিত্র বুচা যে কথা বেশি বলে ও সব সময় হাসিখুশি দিল দরিয়া টাইপের একজন চরিত্র। অপরদিকে সৌর তে সমাজে তে একজন নামজাদা  সব কিছু টে সফল /। পাড়ার সব কিছু টে সবাই তাকে ডেকে।সবাই চাই তার মতো হতে।
এই দেখে তার সাথে গায়ে পড়ে বিবাহের পস্তাব নিয়ে যায় গুন্ডাদা যে একজন প্রকৃত অর্থে সমাজ সেবি হিসাবে পরিচয় দিলে ও একজন ক্রিমিনাল ছাড়া কিছু না।সৌর সম্মতি ছাড়া তার সঙ্গে তার বোনের বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলে।
এই ভাবে গল্প এগিয়ে চলে এবং কিছু পড় আসে নতুন এক চরিত্র লুনাদিদি যে রাশিয়া থেকে আসে তার স্বামী মারা গেছে। ও ছোটো একটি মেয়ে সন্তান। আর আছে কিছু চরিত্র যারা উপন্যাস এর প্রয়োজনে এসেছে।
তাদের মধ্যে আলোজেঠু ।
তে তাদের বাড়িতে আশ্রিত বেলার সাথে খারাপ ব্যবহার করে ও তাকে অন্যায় ভাবে কাছে পেতে চায়।
১৯৮৩ ক্রিকেট পরিবেশে উপন্যাস এ এগিয়ে চলে।
বেলা যেমন দুলুকে ভালোবাসে
তেমন জুলু ওপার প্রতি।
ভালোবাসার এক টানা পরণ
ও নিজের ভালোবাসার মানুষ কে না পাওয়ার কষ্ট।
এখানে একসাথে চারটি চরিত্র পাশাপাশি একে অপরকে ভালোবাসে।
কে তার ভালোবাসার মানুষ কে পায়।
আর কে হারিয়ে ফেলে।
তাছাড়া প্রথম পর্বের শেষে সৌর মারা যায়? কি করে মারা যায় সৌর কেন মারা গেল সৌর কে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো।
আর কেন রবীন ব্যাটম্যান পাশে থাকলো না? কেন জুলু নিজেকে অপরাধী মনে করলো আর কি এমন করলো তে সে নিজেকে অপরাধী ভাবছে।
এইসব জানতে চাইলে আমাদের পড়ে দেখতে হবে এই বছর শারদীয়া আনন্দ বাজার এ প্রকাশিত এক দুর্দান্ত উপন্যাস বোতামঘর।

রেটিং _ আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এই উপন্যাস কে ১০ এর মধ্যে ১০ দেবো।


রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।\

review 
উপন্যাস - বোতামঘর
লেখক - স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
বই - শারদীয়া আনন্দবাজার, ১৪২৯
সংস্করণ - ডিজিটাল সংস্করণ

রিভিউ লিখেছেন - শুভজিৎ বিশ্বাস

স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর উপন্যাস 'বোতামঘর' এ সৌরদা, মুসাফির, জুলু আর বেলা কখন যে বাস্তব চরিত্রের রূপ নিয়েছে তা উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে ধরতেই পারলাম না। এই সমগ্র উপন্যাসটি আমাদের গল্প বলে, আমাদের সেই চেনা গল্প যেখানে উচ্চমাধ্যমিকের গোপন ত্রিকোণ প্রেম, যৌনতা বা বন্ধুত্বের খুনসুটি সবটাই। কখনও কখনও এই সব চরিত্রের মধ্যে ভীড় করে প্রধান চরিত্রের অধিকার পেতে চাই আলোজ্যেঠুর মতো মানুষের, কখনও কখনও গুন্ডাদা, মিঠুদি বা ওপারও প্রয়োজন পড়ে যারা শেষটুকু হয়ত সুন্দর চায়। দরকার পড়ে আরও চরিত্রের যারা গল্প বলে বেঁচে থাকার.... 
সমগ্র উপন্যাসটি দুটি খন্ডে বিভক্ত। প্রথম অংশ যখন গল্পের প্রধান চরিত্র জুলু আর বেলা উচ্চমাধ্যমিকে পড়ে এবং পরবর্তী অংশ তার ঊনচল্লিশ বছর পরে জীবনের শেষ পর্যায়ে..... 
 কখনও কখনও সৌর দের হতে হয় প্রেমের আঁতুড়ঘরে আমিষ খাওয়া মানুষ। আসলে সমাজ যাদের'কে ভগবানের স্থানে বসায় তারা কি সত্যিই ভগবান নাকি তারা রাক্ষস, সেই প্রশ্নের উত্তর এই উপন্যাসে পাওয়া যাবে তবে এটা সত্যি প্রত্যেকটি বোতামের জন্য একটা করে বোতামঘর ধার্য্য থাকে। ভালোবাসার গায়ে ভাগ্যের পরিহাসে সকালের রোদ না পড়লেও বিকেলের রোদ ঠিক পড়বেই।

উপন্যাসটি পড়তে পারেন, এককথায় অসাধারণ। স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর লেখা এই প্রথমবার পড়েই মানুষটার প্রতি যে ভালোবাসার জন্ম হয়েছে তা আগামীর কোনো সংখ্যায় কমবে না, বরং কয়েকশত গুন বেড়ে যাবে।

রক্তের স্মৃতি - স্মরণজিত চক্রবর্তী Rakter Smrity by Smaranjit Chakraborty

উপন্যাস : রক্তের স্মৃতি
লেখক : স্মরণজিত চক্রবর্তী

জলের কি স্মৃতি আছে? সে কি মনে রাখতে পারে মানুষের আচরণ? নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি মানুষের আচরণ? আগামী বিশ্ব এই সুপারওয়াটার ব্যবহার করে কি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নাকি চলে যাবে ডিক্টেটর দের হাতে? এমনই এক সুন্দর রোমহর্ষক বিষয় সুপারওয়াটার নিয়ে গবেষণা করছেন নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী টুয়ান চাও জন্ম ভিয়েতনাম যদিও আর দেশে ফিরতে চান না কারণ দেশ তার বাবাকে মেরে দিয়েছে মিথ্যা অভিযোগে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়? সত্যিই কি অভিযোগ মিথ্যা? 
     গল্পের প্রেক্ষাপট কখনো ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কাল মার্কিন সৈন্যদের সেই দেশে গিয়ে লড়াই মার্কিন যুবদের তিলে তিলে শেষ হয়ে যাওয়া...যুদ্ধ যে কোনো সমস্যার সমাধান করে না বারবার নানা ছত্রে বুঝিয়ে দিয়েছেন লেখক।
     না এ গল্প যুদ্ধের নয়, এ গল্প নিছক প্রেমের কাহিনী ও নয় এ গল্প অদম্যর। তাই গল্প একটু ধীর লয়ে শুরু হলেও ঠিক সময়ে তা গতি নিয়েছে। টুয়ান এর সেই ফর্মুলা চুরি করে নেওয়ার চেষ্টায় একাধিক লোভী মানুষ, অদম্য কি পারবে মানবসভ্যতার এই বিপদ ঠেকাতে? জানতে হলে পড়তে হবে ৩৭ পর্বের এই লোমহর্ষক উপন্যাস।
     গল্প কখনো ভিয়েতনাম ,কখনো সুইজারল্যান্ড, রোমানিয়া হয়ে ফ্রান্সের মাটিতে, অন্য স্মরণজিত উপন্যাসের মতোই আছে চরিত্রের ঘনঘটা, আছে প্রেম আর আছে মিলন।
আগের অদম্যর গল্পগুলো তে আমরা জেনেছি অদম্য কে মানুষ করেছেন Father Francis তিনি আসলে কে? তার আসল পরিচয় কি জানা যাবে? সব বলবো কেনো আপনারা পড়ুন।
    অন্য অদম্য উপন্যাসের থেকে ইহা দৈর্ঘেও বৃহৎ এবং রোমাঞ্চে ও তাই দেরি না করে গোগ্রাসে গিলে ফেলুন এই শারোদপ্রাতে।

রেটিং : ৩.৫/৫

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

ঘুর্ণি - ইন্দ্রনীল স্যান্যাল Ghurni by Indronil Sanyal

উপন্যাস- ঘুর্ণি
লেখক- ইন্দ্রনীল স্যান্যাল


উপন্যাসটি পড়ার সময় পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখার নূন্যতম পরিকল্পনাও মাথায় ছিল না। এমনিতেই সামাজিক উপন্যাস পড়ি না কিন্তু দিদির সাজেশন শুনে হঠাৎ করে পড়তে শুরু করি। পড়তে পড়তে রাত আড়াইটা বেজে যায়, তবুও থামতে পারি না। আমি তো সামাজিক উপন্যাস পড়ছিলাম, রহস্য রোমাঞ্চ গল্প নয়, তাহলে! ঘুর্ণি আমার মাথাটা এমন করেই ঘুরিয়ে দিয়েছিল। কী বলব কী না বলব জানি না। ভীষণভাবে স্পয়লার থাকতে পারে তাই আগে থেকেই সাবধান করে দিলাম। 

      গল্প শুরু হচ্ছে জাগরী আর উজানকে নিয়ে, ওরাই গল্পের মুখ্য চরিত্র। জাগরী ৪৬ আর উজান ৪৫, মধ্যবয়স্ক এই দম্পতি স্ব স্ব ক্ষেত্রে সফল চিকিৎসক। 'স্ব স্ব ক্ষেত্র' বললাম কারণ কাহিনীর দ্বন্দ্ব এই জায়গাতেই। জাগরী আর উজান পরস্পরকে আর ভালোবাসে না, নিত্যদিন ঝগড়া হয়, হয় ইগোর লড়াই। সম্পর্কটা খাতায় কলমে না হলেও অন্তরের খাতায় ভেঙেই গিয়েছে আগেই। তবুও তারা একে অন্যকে ছেড়ে চলে যেতে পারছে না- কারণটা তাদের একমাত্র সন্তান, রোহন। রোহনই একমাত্র কারণ- জাগরী আর উজান অন্তঃত তাই মনে করে। জাগরী ডিভোর্সের কথা তুললে উজান চুপ করে যায়, তেড়ে গিয়ে বলতে পারে না - যা চলে যা। কারণ শুধুই রোহন! উজান আজও আদর করে জুজুবুড়ি বলে ডেকে ফেললে জাগরীর ভেতরটা নরম হয়ে যায়। কারণ তার অজানা। তারা তো পরস্পরকে আর ভালোবাসে না! বন্ধুর উপদেশ মেনে জাগরী পুরী বেড়াতে যেতে যায়, উজানকে ভালোবাসা না সত্ত্বেও সে মনেপ্রাণে চায় সম্পর্কটা ঠিক করে ফেলতে, প্রচন্ড ব্যস্ত উজানও এক কথায় রাজি হয়ে যায়। একসঙ্গে যদিও যাওয়া হয় না তাদের। জাগরী আর রোহন চলে যাওয়ার পর স্মৃতির মন্তাজে উজানের একের পর এক পর মনে পড়ে পুরোনো দিনের কথা। কলেজের প্রথম দিকে আলাপ, তারপর প্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠা। বন্ধুত্ব থেকে ধীরে ধীরে মানুষটাকে অন্যরকম করে পাওয়ার অনুভব তীব্র হয়ে ওঠা। জাগরী মফঃস্বলে মানুষ, উজান মেট্রোপলিটনে। বিপরীত সংস্কৃতি। তবুও আকর্ষণ তীব্র। জাগরী অল্পেতে মাথা গরম করে ফেলে, উজান নিজের ইচ্ছেয় চলতে ভালোবাসে। দু'জনের সঙ্গে দু'জনের মত বিরোধ হয়, তবুও তারা একসঙ্গে থাকে। সম্পর্ক ভেঙে দুমদাম বেরিয়ে যায় না। এম.বি.বি.এস শেষ করে উজান বাইরে পড়তে যাওয়ার আগে দুই বাড়ির লোক বিয়ে দিতে চায়, উজান চায় পড়া শেষ করতে। জাগরী উজানের পাশে দাঁড়ায়, বিশ্বাস রাখে ভালোবাসার ওপর, বিশ্বাস রাখে ভালোবাসার মানুষটার ফেরার ওপর। উজান সত্যিই ফিরে আসে। এখন জাগরী সময় চায়, উজান সময় দেয়। বারো বছর সম্পর্কের পর বিয়ে হয় অবশেষে। বারো বছরে মাত্র একবার শারীরিক সম্পর্ক। মোবাইল ফোনের যুগ না হওয়া সত্ত্বেও ভালোবাসাটা টিকে ছিল দিব্যি। বিয়ের প্রথম দুই বছর বারে বারে সংঘাত লাগে (সরাসরি যদিও ব্যক্ত করা নেই সে কথা), তবুও বিয়ের দুই বছর পর রোহনের জন্মের সময় উজানের প্রতিক্রিয়াটা অসামান্য। উজানের মত একটা চরম কেরিয়ারিস্টিক ছেলেও নিজের সন্তানকে প্রথম দেখে কেঁপে ওঠে। অনুভব করে সে আর জাগরী আলাদা মানুষ, তাদের পছন্দ বা জীবনশৈলী আলাদা। তবুও ভালোবাসার দ্বারা তারা একটাই মানুষ, একটাই ইউনিট আর সেই ইউনিটের প্রোডাক্ট হল তাদের সন্তান।
         ফণীর ঝড়ে বিধস্ত পুরীর কথা শুনে মধ্যবয়স্ক উজান পাগলের মত পুরী পৌঁছাতে চায়, শুধু ছেলের জন্য। বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে ছেলেকে রক্ষা করতে করতে মধ্যবয়স্ক জাগরী অনুভব করে সে উজানের অভাব অনুভব করছে না একটুও।ভালোবাসা মরে গেছে!
          হাসপাতালে বিধ্বস্ত উজানকে পৌঁছাতে দেখে শীতল অভ্যর্থনা জানায় জাগরী, কিন্তু মনের ভেতর বৃষ্টিতে ভেজা উজানকে দেখে জাগরী শিহরিত হয়, কেন কে জানে! উজানও ছেলের জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে তবুও জাগরীর দিকে তাকায় নিস্পলক, কেন কে জানে!
          উজানকে পুলিশ ধরতে আসে। জাগরী আতঙ্কিত হয়, কান্না পায় তার। উজানের মুক্তির জন্য নাওয়া খাওয়া ভুলে বিদেশ বিভূঁতে পাগলের মত ছোটাছুটি করে সে। ভালোবাসা নেই, তবুও করে। জেল থেকে বেরিয়ে টলোমলো পায়ে উজান এসে জড়িয়ে ধরে জাগরীকে। ভালোবাসা নেই। তবুও ওই মানুষটাকেই জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে, ভরসা করতে ইচ্ছে করে। 

           গল্পের দ্বিতীয় দম্পতি চিকিৎসক চৈতী আর আবহবিদ সঞ্জয়। মধ্যবয়স্ক এই আবহবিদের কথা সবাই জানে যে সে তার বউয়ের হাতের মুঠোয় থাকে। লোকটা কি তবে স্ত্রৈণ! শব্দটা নেতিবাচক একটা শব্দ। বুদ্ধিমান সঞ্জয় জানে তার চরম ব্যস্ততার জীবনে এক দমকা শীতল বাতাস তার স্ত্রী চৈতী। নিজের পেশা সামলে যে সমান দক্ষতায় বাড়িটাও সামলে রাখে। এমন বউয়ের কথা শোনাটা কি খুব অন্যায়? চৈতী বোঝে সঞ্জয়ের পেশায় দায়িত্ব, সে অভিযোগ করে না। সে পাশে থাকে। যেটুকু সময় সঞ্জয়কে কাছে পায়, উপভোগ করে। ভালোবাসাকে ধরে রাখে। 

          গল্প শেষ হয় গাড়িতে- বাড়ি ফেরার সময় উজান জাগরীর কাঁধে হাত রাখে, ভরসার হাত। যে হাতটা আজ থেকে বহুবছর আগে মেডিক্যাল কলেজ জীবনের গোড়ার দিকে বাড়িয়ে ধরেছিল।
        উপন্যাসে কোথাও কোনো উপদেশ দেওয়া হয়নি। তবুও গোটা উপন্যাসটাই যেন একটা শিক্ষা। আমরা যেমন ছোট থেকে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চেহারার পরিবর্তন ঘটে, তেমনই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসার চেহারারও।পরিবর্তন ঘটতে থাকে, তাই বলে সে ফুরিয়ে যায় না। আমাদের সেই পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে হয়। পঁচিশ বছর বয়সে এসে আঠারো বছরের উদ্দাম প্রেম যেমন চাইলে পাওয়া যায় না, তেমনই চল্লিশ বছরে এসে পঁচিশ বছরের উষ্ণতাও পাওয়া যায় না। তখন ভালোবাসা আর অভ্যাস দুটো মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। আজকালকার দিনে আমরা বড়ই অধৈর্য্য। ইগোর লড়াই এখন এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কিন্তু আমরা চাইলেই সম্পর্কটাকে ধরে রাখতে পারি। কারণ, যত যাই হয়ে যাক না কেন ওই মানুষটা যেমন করে আপনার পাশে থাকবে তেমন করে পৃথিবীর কেউ থাকবে না। কেউ যদি থাকেও তাহলে শেষমেশ দেখা যাবে তার থাকার মধ্যে আদপে কোনো স্বার্থ রয়েছে। 

        আমি উপন্যাসটা সবাইকে একবার হলেও পড়তে অনুরোধ করব। এই উপন্যাসে রেটিং আর কী দেব। আমার মুগ্ধতাই আমার রেটিং।

বর্ণপরিচয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ বইটি পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।


রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

যে পথে যেতে হবে - ইন্দ্রনীল স্যান্যাল Je Pothe Jete Hobe by Indronil Sanyal

উপন্যাস- যে পথে যেতে হবে
লেখক- ইন্দ্রনীল স্যান্যাল


লেখকের ভয়ঙ্কর ভক্ত হয়ে গিয়েছি। পরপর ওনার বেশ কয়েকটা উপন্যাস পড়ে ফেললাম। গতকাল পড়লাম "যে পথে যেতে হবে"। আবারও একটা দারুণ লেখা।

        গল্পের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে একাধিক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ
বৃদ্ধার খুন হয়ে যাওয়ার ঘটনা। আশ্চর্যজনক ভাবে এই প্রত্যেকটি খুনের দিন সকালে ওই বৃদ্ধ/বৃদ্ধার বাড়িতে উপস্থিতি দেখা যায় ডঃ শালুকের। কেসের তদন্তভার পড়ে দক্ষ পুলিশ অফিসার কৃত্তিবাসের ওপর। এরপর ঘটনা প্রবাহ কোনদিকে যায় তা জানতে হলে উপন্যাসটি অবশ্যই পড়তে হবে। 

     এই উপন্যাসটিকে সাধারণ সামাজিক উপন্যাসের শ্রেণীতেও ফেলা যায় না, আবার থ্রিলারও বলা যায় না পুরোপুরি; বরং দুটোর মিশ্রণ বলাই যুক্তিযুক্ত। তবে মিশ্রণ মানে জগাখিচুড়ি নয় কিন্তু। লেখক দুটো দিকই খুব দক্ষতার সঙ্গে বজায় রেখেছেন সমগ্র উপন্যাস জুড়ে। একদিকে যেমন অপরাধী কে বোঝার জন্য পাঠককে মুখ্য চরিত্রদের সঙ্গে মিলে মাথা খাটাতে হয়, তাদের সঙ্গে অভিযানে নামতে হয়, তেমনই আবার কখনও তাদের সঙ্গে মিলে মিষ্টি ভালোবাসার আবেশেও ডুবে যেতে হয় / ডুবে যায় পাঠক। গল্পটিতে একাধারে বৃদ্ধ বয়সের নিঃসঙ্গতা, মধ্যবিত্ত জীবনের উত্থানপতন ও আধুনিক মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত মানসিক স্বাস্থ্যের মত বিষয়গুলিকে তুলে ধরা হয়েছে।  আবার আমার যে জিনিসটা সব থেকে লেগেছে তা হল লেখার সময় লেখক সর্বক্ষণ মনে রেখেছেন তিনি উপন্যাস লিখতে বসেছেন, উইকিপিডিয়ার পেজ নয়। অনেক নতুন শব্দ উপন্যাসে এসেছে যা সাধারণ মানুষের জানার কথা নয়। সেই জায়গাগুলিতে লেখক যে কোনো চরিত্রের মুখ দিয়ে এক দুই লাইনে বিষয়টি বুঝিয়ে দিয়েছেন। পাতার পর পাতা লম্বা বক্তৃতা দেওয়াননি কোনো চরিত্রকে। 

       খারাপ লাগার জায়গা সেরকম কিছুই নেই। একটা বিষয় একটু কেমন কেমন লেগেছে, তা হল গল্পের নায়ক নায়িকা স্বল্প পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও রাস্তাঘাটে একে অন্যের হাত, কাঁধ ইত্যাদি যেভাবে ধরাধরি করছিল ব্যাপারটা আমার ঠিক বিশ্বাসযোগ্য লাগেনি। আমি নীতি পুলিশ হয়ে কথাটা একদমই বলছি না, আমি বলছি তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। আমি মফস্বলে বেড়ে উঠেছি, এখানে এই ধরণের বিষয় দেখা যায় না বললেই চলে, তাই জিনিসটা চোখে লাগল, মেট্রো সিটিতে কী হয় তা অবশ্য আমার জানা নেই। 

       যাইহোক, পরিশেষে এটাই বলার যে সুখপাঠ্য বলতে যা বুঝি উপন্যাসটি একদমই তাই। যে কেউ নিঃসংকোচে পড়তে পারেন। ভাল লাগবেই আশা করছি।

রেটিং - ৯/১০

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

Feature (Side)

© 2013 Book Review. All rights resevered. Designed by Templateism