Posted By:
boibd
লক্ষ্যভেদী চন্দ্রগুপ্ত - আবীর রায় Lokkhobhedi Chandragupta by Abir Roy
বই: লক্ষ্যভেদী চন্দ্রগুপ্ত
লেখক: আবীর রায়
প্রকাশক ও মূদ্রক: বিভা পাবলিকেশন
মূল্য: ১৯৯ টাকা।
লেখক আবীর রায় সৃষ্ট তরুণ গোয়েন্দা চরিত্র চন্দ্রকান্ত গুপ্ত ওরফে চন্দ্রগুপ্ত। পেশায় সে পাঠ্যপুস্তক ব্যবসায়ী – পিসেমশাইয়ের দোকানে কর্মরত। বাস, চন্দন বসু নামে এক অধ্যাপকের বাড়ির একতলায় ভাড়াটে হিসেবে। অনুসন্ধিৎসু এই যুবক কিছুটা হলেও খ্যাপাটে গোছের – বেশভূষায় বাহূল্য তার না পসন্দ, এমন কি চুলদাড়িও অধিকাংশ সময়েই অবিন্যস্ত থাকে। কথাবার্তায় প্রায়ই অসংযতভাব ধরা পড়ে। যথেষ্ট বুদ্ধি ধরলেও সময় বিশেষে সে যে চরম অনভিজ্ঞতার পরিচয় দেয়, সেটা লেখক নিজেই স্বীকার করেছেন। আরোও একটা ব্যাপার, চন্দ্রগুপ্ত নিজে মোবাইল ব্যবহার করে না, এ ব্যাপারে বন্ধু চন্দন ওরফে চানুর ওপর সে সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল।
এই বইটিতে চন্দ্রগুপ্তের মোট তিনটি অভিযান উপন্যাসাকারে মুদ্রিত হয়েছে। তবে প্রথমেই বলে রাখি, এর কোনটাই কিন্তু তার আবির্ভাব কাহিনী নয়। তাই নিয়মিত চরিত্রগুলির সঙ্গে তার যোগাযোগের কারণ এবং পিসেমশাই বর্তমান থাকতেও এবং তাঁর ব্যবসায় সে যুক্ত থাকলেও কেন যে সে সম্পূর্ণ অনাত্মীয় এক পরিবারে ভাড়াটে হিসেবে থাকে, শুধুমাত্র এই কাহিনীগুলি পড়ে সেসব তথ্য সম্বন্ধে সম্যক ধারণালাভ করবার কোনোও সম্ভাবনাই নেই।
প্রথম কাহিনী ~ সেনাপতি : চন্দ্রগুপ্ত ও চন্দনকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন অফিসার বিনায়ক পাল চৌধুরী নিজের ড্রাইভারকে দিয়ে ডাকিয়ে পাঠান একটি কেসের ব্যাপারে। ফটোফোবিয়ায় আক্রান্ত বিনায়কবাবুর মুখ থেকে কেসের বিবরণ শুনে দুই তরুনই বিস্ময়াবিভূত হয়ে পড়ে। সেনাবাহিনীর অন্য এক অফিসার বিনায়কবাবুর প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে এক ঘৃণ্য চক্রান্ত করে কোনোও এক অজ্ঞাত ব্যক্তির সাহায্যে তাঁর একমাত্র কন্যাকে নির্মমভাবে হত্যা করায়। ফলে বিনায়কবাবু প্রতিশোধ নিতে চান, মেয়ের সেই খুনীকে তিনি হত্যা করতে চান কিন্তু অবাক কাণ্ড মূল ষড়যন্ত্রকারীকে তিনি মারতে চান না। সেই খুনীর নাম বিনায়কবাবুর জানা থাকলেও তিনি চন্দ্রগুপ্তকে তা বলেন না। প্রকৃতপক্ষে চন্দ্রগুপ্তের উদ্দেশ্যে তিনি একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। এবার চন্দ্রগুপ্ত কি হত্যাকাণ্ড আটকাতে পারবে? কাহিনীটিতে মৃৎশিল্পের এক বিরাট ভূমিকা আছে এবং প্রাসঙ্গিকভাবে উত্তর কলকাতার বিখ্যাত পটুয়াপাড়া কুমোরটুলির অবতারণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুই তরুণের আবাসস্থল বাগবাজারের বিখ্যাত “মায়ের ঘাট”-এর নৈশরূপের কথা।
পর্যালোচকের রেটিং : ৬/১০
দ্বিতীয় কাহিনী ~ রক্তনদী : চন্দ্রগুপ্ত ও চন্দন লাটাগুড়ি ভ্রমণে গিয়ে এক জটিল রহস্যজালে জড়িয়ে পড়ে। একের পর এক দুধের শিশু নিখোঁজ হচ্ছে। পুলিশ কোনোও কিনারা করতে পারছে না। কৌতূহলী চন্দ্রগুপ্ত খোঁজ নিয়ে জানতে পারে বেয়াল্লিশ বছর আগেও না কি এই ধরণের ঘটনা ঘটেছিলো, পরপর সাতটি শিশুকে অপহরণ করে বলি দেওয়া হয়েছিলো তন্ত্রাচারের নামে। এবারেও কি তাই ঘটছে? অপহৃত ছ’টি শিশু ইতিমধ্যেই নিহত। সপ্তম শিশুটিকেও অপহরণ করা হয়েছে। তার মৃত্যুকে কি চন্দ্রগুপ্ত আটকাতে পারবে? পর্বত ও অরণ্যানীর অপরূপ সৌন্দর্যের আড়ালে এই নৃশংস নরমেধ যজ্ঞের হোতা কে? সে কি কোনোও পুরুষ বা নারী? না কি কোনোও বৃহন্নলা? চন্দ্রগুপ্ত-চন্দনের এই রোমহর্ষক অভিযান সম্ভবতঃ এই গ্রন্থের শ্রেষ্ট কাহিনী।
পর্যালোচকের রেটিং : ৯/১০
তৃতীয় কাহিনী ~ পুনশ্চ : অধুনা বাংলাদেশের যশোর থেকে ইন্দিরা গুহ নামে এক ধনী অথচ অপ্রকৃতিস্থ মহিলা কলকাতায় এসে চন্দ্রগুপ্তকে তাঁর বহু বছর আগে হারিয়ে যাওয়া পুত্রের অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিতে চান। মহিলাকে মানসিক ভারসাম্যহীন ভেবে চন্দ্রগুপ্ত প্রথমটায় অতোটা গুরুত্ব না দিলেও সাক্ষাতের অব্যবাহিত পরেই ভাড়াটে খুনীর হাতে মহিলার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সে তদন্ত শুরু করে। ফলতঃ দ্রুত সে শত্রুবাহিনীর নিশানায় চলে আসে এবং নিজের বুদ্ধি ও বাহুবলে শত্রুকে আইনের হাতে তুলে দিতে সক্ষম হয় সে। এবার চন্দনকে নিয়ে চন্দ্রগুপ্ত ছোটে যশোর। সেখানে তদন্ত চালিয়ে চন্দ্রগুপ্ত কি মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারবে? প্রয়াত ইন্দিরা গুহর অপহৃত পুত্র আজও বেঁচে আছে? এই কাহিনীটি শুরুতে যতোটা চমকপ্রদ বলে মনে হয়েছিলো আমার, যতো এগিয়েছি ততোই যেন হতাশ হয়েছি। বিশেষতঃ সমাপ্তিতে লেখক অত্যধিক চমক এবং আবেগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, যা আমার বুদ্ধিতে নিতান্তই আনাবশ্যক বলে মনে হয়েছে। তবে, এ মতামত একান্তই এই পর্যালোচকের ব্যক্তিগত।
পর্যালোচকের রেটিং : ৩.৫/১০
রিভিউটি লিখেছেনঃ Collected
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
পাউডার কৌটো র টেলিস্কোপ - স্বপ্নময় চক্রবর্তী Powder Koutor Telescope || Swapnamoy Chakrabarty
বই - পাউডার কৌটোর টেলিস্কোপ
লেখক - স্বপ্নময় চক্রবর্তী
স্বপ্ন সফল করার তাগিদ, মানুষকে স্বপ্ন দেখার সাহস দেয় ,ইচ্ছাশক্তি বাড়িয়ে তোলে বহুগুণ। দরিদ্র ঘরামি বাড়ির ছেলে নরেন চাঁদ, যার বাবা ঘরামির কাজ করে , আর মা মুড়ি ভেজে বিক্রি করে, একদিন হঠাৎই নয়ন চাঁদের জীবনে প্রবেশ করে শিক্ষক মনিলাল। মূর্খ দরিদ্র গ্রামে যেখানে স্বপ্ন দেখা বিলাসিতা, সেখানে নয়নের চোখে আকাশ এর নেশা লাগিয়ে দেয় মনিলাল মাস্টার । নয়ন যত দেখতে চাই ,যত হারিয়ে যেতে চাই আকাশের বুকে জ্বলতে থাকা গ্রহ নক্ষত্রের ভেতরে, মনিলাল তত নয়নের স্বপ্নের জাল গুলো নিজের হাতে বুনে দেয় তার পাউডার কৌটোর টেলিস্কোপ দিয়ে। নয়নের প্রশ্ন জাগে মনে, একের পর এক প্রশ্ন, মনিলাল সাধ্য মতন চেষ্টা করে তার উত্তর দেওয়ার। এমনি একদিন ছোট্ট নয়নের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে জ্বলজ্বল করে ওঠে মনিলালের চোখ, সে নয়ন কে বলে এর উত্তর আজ অবধি কেউ বের করেনি কিন্তু তুই বের করবি । নয়ন স্বপ্ন দেখে, তবে স্বপ্ন দেখা কি সোজা? সে যত স্বপ্নের দিকে এগোতে যায় জীবন ততই তাকে টেনে ধরতে চাই পেছনে। কিন্তু মনিলাল নয়নের হাত ছাড়েনা।
কি প্রশ্ন করেছিল নয়ন? নয়ন কি পেরেছিল মনিলাল মাস্টার এর না দিতে পারা প্রশ্নের উত্তর বের করতে? কি এমন ঘটেছিল নযনের জীবনে যা তার স্বপ্নের জাল ছিঁড়ে দিতে চেয়েছিল?
সব প্রশ্নের উত্তর আছে এই বইটিতে।
বইটা ভীষণ সুন্দর, আগেও বলেছি কিছু কিছু বই মন্ত্রের মতন যা শুধু পড়ে নিলেই শেষ হয়ে যাইনা। তার রেশ থেকে যায় সারাটা জীবন।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Ananya
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
কালকেতু সমগ্র (খণ্ড ১, ২, ৩) - রূপক সাহা Goyenda Kalketu Samagra by Rupak Saha
বইয়ের নাম - কালকেতু সমগ্র (খণ্ড ১, ২ এবং ৩)
লেখক - রূপক সাহা
আমার রেটিং - ৭/১০
বাংলা সাহিত্যজগতে আর একজন গোয়েন্দার সাথে পরিচিত হলাম। মূলতঃ যিনি নিজেকে পরিচয় দেন "পেশায় সাংবাদিক, নেশায় সত্যান্বেষী", তবে তার মতে এখন আর ফেলুদা-ব্যোমকেশ-কিরীটি এর যুগ নেই, এখনকার গোয়েন্দাগিরি আগের থেকে আলাদা।
সাংবাদিক হিসাবে বহু বিখ্যাত মানুষের সাথে তার পরিচয়। তার শখের গোয়েন্দাগিরির জন্যই তার ডাক পড়ে ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের বিশ্বরেকর্ড করা ব্যাট এবং কপিলদেবের বিশ্বরেকর্ড করা বল খুঁজে দেওয়ার জন্য যা আরেকটু হলেই পাচার হয়ে যাচ্ছিল বিশ্বের কোটিপতি সংগ্রাহকদের কাছে যারা টাকার বিনিময়ে পৃথিবীর সকল অনন্য সংগ্রহ সাজিয়ে রাখতে চান তাদের নিজেদের ড্রেসিংরুমে। একইভাবে ব্রায়ান লারার গ্লাভস বা সৌরভ গাঙ্গুলীর হিরের আংটি খুঁজে দেওয়ার ভার পড়ে গোয়েন্দা কালকেতুর উপর। সবকটি গল্পই খুব সাবলীলভাবে লেখা। এখানেই লেখকের মুন্সিয়ানা। তৃতীয় খণ্ডে এসে দেখতে পাই কালকেতু নন্দী তার সাংবাদিকতার চাকরী ছেড়ে দিয়ে এখন পুরোপুরি গোয়েন্দা এবং শিক্ষক, তিনি নিজের একটি ইনস্টিটিউট খুলেছেন ভাবী গোয়েন্দা গড়ে তুলতে, এবং তৃতীয় খণ্ডে চারটি গল্পের মধ্যে তিনটিতেই সেই ভাবী গোয়েন্দারা তার সহকারী হিসাবে কেস সলভ করতে সাহায্য করে। শেষ গল্পের নাম "গোয়েন্দা হওয়া সহজ নয়", যেখানে কালকেতু গোয়েন্দা হওয়ার মেড ইজি দিয়ে দিয়েছেন, তার ছাত্রছাত্রীদেরকে শেখানোর ছলে পাঠকদেরও শিখিয়েছেন কীভাবে ধাপে ধাপে এগোতে হয় কোনও কেসে।
সবকিছু ভালো, কিন্তু সম্পাদনাটি আরও ভালো হতে পারতো, কারণ, "কিরকেট" নামক গল্পটি প্রথম এবং দ্বিতীয় খণ্ড দুটোতেই আছে, আবার "থিম রহস্য" গল্পটি দ্বিতীয় এবং তৃতীয় খণ্ড দুটোতেই আছে। গল্প দুটিই খুব ভালো কিন্তু একই গল্প দুটি আলাদা আলাদা খণ্ডে রাখার কোনও কারণ আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে ধরতে পারলাম না।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
পাক সার জমিন সাদ বাদ - হুমায়ুন আজাদ Pak Sar Jamin Sad Bad by Humayun Azad
উপন্যাস - পাক সার জমিন সাদ বাদ
ঔপন্যাসিক - হুমায়ুন আজাদ
ঐতিহ্যশালী অখণ্ড ভারতবর্ষ ১৯৪৭ সালে দ্বিখণ্ডিত হয়ে দুটো দেশে ভাগ হয়ে যায়।একটি ভারতবর্ষ ও অন্যটি পাকিস্তান নামে।পাকিস্তানের দুটি অংশ পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নাম নিয়ে। এই পবিত্র নামধারী দুই স্থানের মধ্যে মূলত ভাষাকে কেন্দ্র করে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়।এই মানসিক লড়াইকে কেন্দ্র করেই ১৯৬০ সাল পরবর্তী ঘটনায় এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
আলোচ্য উপন্যাসে উর্দু জাতীয় সংগীত "পাক সার জমিন সাদ বাদ"কে সার্বিকভাবে দেশটির উভয় স্থানে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মূল ঘটনা কেন্দ্র আবর্তিত ও বিবর্তিত হয়েছে। একদিকে কনকলতা (হিন্দু) ও হুজুরের প্রেম কাহিনি অন্যদিকে পাক সার জমিন সাদ বাদ সংগীতকে সার্বজনীন করতে জোর পূর্বক ধর্মের নামে শাসন ব্যাবস্থার প্রয়োগ। যা বর্তমান প্রগতিশীল সমাজে কাছে বিভীষিকাময় অন্ধকার যুগের পরিষ্কার ছবি বলেই মনে হয়। কেননা ধর্মীয় শাসন ব্যাবস্থাকে প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ হয়ে মানুষের উপর নির্বিকার নিপীড়ন কিংবা অবলীলায় গণহত্যার, ব্যাভিচারের ছবি তাও আবার ধর্মের নামে। সর্বশক্তিময় আল্লার নির্দেশ অনুযায়ী ধর্মভীরু মানুষেরা ধর্ম পালন করে।তাই ধর্মীয় মানুষরা আল্লার পথকে প্রসারিত করার জন্য মানব সমাজের বিশেষত অন্য ধর্মের মানুষের উপর এই পরিকল্পনা মাফিক সৃষ্টি করতে পারে না বলে ধারনা।কারন প্রথমেই তারা আল্লার নির্দেশকে অমান্য করে যা ধর্মীয় মত অনুযায়ী গর্হিত অপরাধ।
সাহিত্যের যে কোন প্রকরণেই লেখক তার নিজস্ব জীবন দর্শনকে জানতে কিংবা অজান্তেই ব্যবহার থাকে।সেইসূত্রে বলতে পারি হুমায়ুন আজাদ ও তার ব্যতিক্রম নয়। কেননা এই উপন্যাসে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি বিকৃত মনস্ক এক উদ্ভট যৌন আকাঙ্খায় লিপ্ত হওয়ার লিপ্সা প্রতিনিয়ত চালিয়েছে। মৌলবাদের হিংসাত্মক রূপ হিসাবে ভৈরবপুরকে ওমরপুর,শ্যামসিদ্ধি হবে আলিগঞ্জ হবে এটা স্বাভাবিক কেননা ধ্বংস না করলে শাসক বৃহৎ কিংবা মহৎ হয় না। ধর্মের নামে শাসনকে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে "জামাঈ জিহাদে ইছলাম জিন্দাবাদ " ধ্বনি শাসকে তুষ্ট করে কিন্তু জনমানসকে সেটা করে না কোন দিন করে নি। বর্তমান সময়ে পরিবর্তন করে " উপাধ্যায়" স্টেশনের নাম আর ও অনেক আছে তালিকায়।
কনকলতাকে বিয়ে করে হুজুরের সঙ্গে নিরুদ্দেশ যাত্রা করেছে যাতে করে প্রগতিশীল চেতনাকেই স্বীকার করে বলেই মনে হয়।কনকলতা বলেছে-'হুজুর আমার সুখের শেষ নেই।আমি আমার সুখ প্রকাশ করলাম।'
লেখককে বিকৃত মনস্কতার ইসলাম ধর্মের নিষিদ্ধ বিষয় গুলিতে যে সমস্ত মানুষেরা লিপ্ত থাকবে, পিয়াসী হবে তাদেরকে ঐ ধর্মের মধ্যে পড়ে কি? একই মহিলা সংসর্গে পিতা ও পুত্র লিপ্ত। এটা বাস্তবাতার সাথে মেলে না। সুরাপান বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কিংবা শুকরের মাংস। এগুলিকে সংযুক্ত করে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি না করলে বাস্তবতা ছিল। প্রপার ওয়েতে মেধার যথার্থতা প্রতিষ্ঠিত না করতে পারলে বিপরীত পথ পাড়ি দিয়ে প্রচারের আলোকে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই। লেখক সেই পথই অনুসরণ করছেন-যেটাকে নেতি বাচক বাহবা বলা যেতে পারে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ ড.মুস্তাক আহমেদ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি - মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন Robindronath Ekhane Kawkhono Khete Aashenni by Mohammad Nazim Uddin
বইয়ের নামঃ রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি
লেখকঃমোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
ধরণঃ থ্রিলার
(বইটা প্রথমে পড়তে গেলেই মনে হতে পারে, এইটা আবার কেমন নাম! কিন্তু নামটা বেশ ঘটনার জন্য বেশ যুক্তিযুক্ত এবং পাঠক কে আকর্ষণ করে নামটা।)
কাহিনী সংক্ষেপঃ (সামান্য স্পয়লার আছে)
ঘটনার শুরু সুন্দরপুর নামে একটি মফস্বল এলাকা নিয়ে।হাইওয়ের সাথেই আছে একটা রেস্টুরেন্ট, যার নাম " রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি"..রেস্টুরেন্টের পরতে পরতে রূচিশিলতার ছাপ স্পষ্ট,বোঝায় যায় যে একজন রূচিশীল ব্যক্তি ই রেস্টুরেন্টের নকশা করেছেন ..রেস্টুরেন্টের নাম যেরকম সবাইকে অবাক করে দেয়,এখানকার খাবার ও সবাইকে সেরকম অবাক করে দেয়।অত্যন্ত সুস্বাদু এখানকার খাবার।দূর দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু এখানকার খাবার খেতেই ছুটে আসে।এই রেস্টুরেন্টের মালিক এবং চীফ শেফ হলেন মুশকান জুবেরি নামে এক মহিলা।অসাধারণ সুন্দরী, অসাধারণ তার হাতের রান্না আর তেমনি তীক্ষ্ণ তার বুদ্ধি;এককথায় Beauty with brain যাকে বলে।
এলাকার কারোর সাথেই মুশকান জুবেরির তেমন উঠাবসা নেই,কেউ তার সম্পর্কে কিছুই জানে না।কিন্তু সুন্দরপুরের এমপি এসপি দের সাথে আছে তার অনেক বেশি ঘনিষ্ঠতা আছে,যার কারণে মহিলার বিষয়ে সবার অনেক আগ্রহ থাকলেও কেউ তাকে ঘাটিয়ে সুবিধা করতে পারেনি এখনো।গ্রামে এরকম খবর ও আছে যে মুশকান জুবেরি আসলে এক ডাইনি।
গল্পের আরো কিছু উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো আতর আলী-যে গ্রামে বিবিসি নামে পরিচিত,গ্রামের সবরকম খবর তার কাছে থাকে। ফালু-যে কবর খুড়ে। গ্রামের কোন মানুষ মারা যাওয়ার আগেই নাকি ফালু বুঝতে পারে আর advance কবর খুড়ে রাখে।
অন্যদিকে,অনেক দিন আগে এক যুবক নিখোঁজ হয়ে যায়, যে শেষ বার এসেছিল সুন্দরপুরের "রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেননি" নামক রেস্টুরেন্টে।তারপর থেকেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।এইরকম আরো ৪ টা কেস আছে।আর এই কেসের ইনভেস্টিগেসনের জন্য ই নুরে ছফা নামে এক ইনফেস্টিগেটর আসেন সুন্দরপুরে।নুরে ছফা মনে করেন এই ঘটনার সাথে মুশকান জুবেরির কোন না কোন যোগাযোগ আছে।সেজন্য ই সে খেতে আসে এই রেস্টুরেন্টে।ঘটনা এগিয়ে যেতে থাকে,আস্তে আস্তে জট খুলতে থাকে অনেক রহস্যের।
রমাকান্তকামারঃ গ্রামের বয়ষ্ক একজন মানুষ, যিনি আগে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। কি মনে হয়?নিখোঁজ হওয়া যুবক গুলোর নিখোঁজ হওয়ার সাথে কি আসলেই মুশকান জুবেরির কোন যোগাযোগ আছে?আর থাকলেও বা কিভাবে? এইরকম সাহিত্য প্রেমী,রূচিশীল নারীর সাথে কারো নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার সম্পর্ক থাকা বেমানান লাগে না? তাহলে কি নুরে ছফা ভুল ভাবছেন? আর নুরে ছফা যদি ভুল হয়ে থাকেন, তাহলে নিখোঁজ হওয়া যুবকগুলোর সাথে আসলে কি ঘটেছিল? আপনি আসলে যা ভাবছেন তা কিন্তু অবশ্যই না।

রিভিউটি লিখেছেনঃ সুপ্রিয়া দে সরকার
Posted By:
boibd
এক আশ্চর্য ফেরিওয়ালা - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় Ek Ashcharjo Feriwala by Shirshendu Mukhopadhyay
উপন্যাস এক আশ্চর্য ফেরিওয়ালা
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এখনো লিখে চলেছেন এবং অত্যন্ত সফলভাবে। আশি পেরানো মানুষটি আজও কৈশোরের কাছে এক অনাবিল আনন্দের দরজা খুলে দেন। চারপাশে জটিল প্রতিযোগিতাসর্বস্ব জীবনের মধ্যে থেকেও এক সুন্দর বিশ্বাসের জগৎ ভালোবাসার জগতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও ছোটদের আনন্দময় মুক্তি ঘটে আর অলক্ষ্যে তাদের মধ্যে তিনি সঞ্চারিত করে দেন এই পৃথিবী এই জীবনের প্রতি ভালোবাসা আদর্শবোধের, তিনি পরিচয় করিয়ে দেন এই স্বার্থসর্বস্ব পৃথিবীতেও কিছু নিতান্ত ভালো মানুষের সঙ্গে; চালাকিসর্বস্ব দ্রুতগতির অতি আধুনিক জীবনের মধ্যেও বেঁচে থাকে যে এক ভালো লাগার পৃথিবী, শীর্ষেন্দুর হাত ধরে সেই পৃথিবীতে ক্ষণিক আনন্দ অভিযান ঘটে তাঁর গল্পের পাঠকদের।
সময়ের সরণিতে এক সময়চারী পথিক সুদুর কালপ্রবাহের ওপার থেকে এসে বর্তমান শতকের পৃথিবীতে মাঝে মাঝে ফেরি করে আশ্চর্য কিছু জিনিস। এমন একটা টর্চ। যাতে আলো জ্বলে না, এমন এক লাট্টু যা লেত্তি ছাড়াই সঠিকভাবে চালালে অনন্তকাল ঘুরে চলে, এমন এক বাঁশি যা বাজে না। অথচ অন্তরালে ঘটে চলে কিছু আশ্চর্য ঘটনা। সেই টর্চ আলো জ্বালায় না, কিন্তু সমস্ত অন্ধকার ভেদ করে সুদূরের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলে অথবা অন্ধকারের মধ্যেই দৃশ্যমান করে তোলে অনেক কিছু । সেই লাট্টুর ঘূর্ণনে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন উৎপন্ন হতে থাকে অবিরল। আর সে নিঃশব্দ বাঁশির অশ্রুত তরঙ্গ ক্ষতিকর পতঙ্গদের সরিয়ে দেয় অনেক দূরে। গজপতি একজন ভালোমানুষ বিজ্ঞানী যাকে সাধারণে চিনতে পারে না, তার মর্যাদা দেয় না। বাড়ির ভৃত্য পর্যন্ত অবিরাম ঠকিয়ে চলে যে মানুষটিকে একদিন তিনিই পৃথিবীর দূষণ প্রতিরোধে আশ্চর্যভাবে প্রায় সফল হয়েছিলেন। শুধু ষড়যন্ত্রকারী কিছু মানুষের লোভ আর স্বার্থসিদ্ধির কারণে সে বিজ্ঞান গবেষণা অসময়ে থেমে গেছিল। এই ফেরিওয়ালার তুচ্ছ খেলনাগুলি কোথাও তাঁকে আকর্ষণ করে আর সঠিক মানুষের হাতেই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানের যন্ত্রগুলি যথাযথভাবে কাজ করে। কিন্তু গল্প তো এখানেই থামে না। আধুনিক জটিল জীবনকে কৈশোরের সঙ্গে লেখক পরিচয় করিয়ে দেন। শুধু অনন্ত রূপকথা বলেন না। তাই এখানে আসে কিছু গুন্ডা প্রকৃতির লোক যারা মানুষের মঙ্গলের বদলে অর্থ ক্ষমতা আর আধিপত্য দখল করতে সেইসব যন্ত্র আত্মসাৎ করতে চায়। ভবিষ্যতের বিজ্ঞানকে বর্তমান কালপ্রবাহে নিয়ে এসে ফেলেও এই সুবিধাবাদী লোকদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করতে শুরু হয় সংঘাত। মাঝখানে চলে আসে শ্যাডোর মতো কিছু মধ্যবিত্ত আদর্শবাদী অথচ নিরুপায় মানুষ যাদের অভাব ও অসহায়তাকে ব্যবহার করে কার্যসিদ্ধি করতে চায় এসব নিয়ন্ত্রক মানুষের দল। যদিও শেষ পর্যন্ত শীর্ষেন্দুর গল্পের ধারা মেনে খারাপ মানুষেরা শাস্তি পায়, ভালো মানুষদের কোন ক্ষতি হয় না। আর গল্পের সময়চারী পথিক আশা রেখে যায় আগামী দিনের এমন এক পৃথিবীর যেদিন ভবিষ্যত বিজ্ঞান মানুষকে শুধু বাইরের অগ্রগতির পথে এগিয়ে দেবে না। একই সঙ্গে তার মনের পৃথিবীও অনেকখানি বদলে যাবে। আজকের হিংসা লোভ স্বার্থপরতা ভুলে মানুষ সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠবে।
শীর্ষেন্দুর গল্প তার চেনা পথে চারণ করে। তবু বারবার তার গল্পের কাছে আমাদের এসে বসতে হয়, কেননা এই ছেলেমানুষের আশ্চর্য জগতের মধ্যে তিনি ভালো মানুষ মজার মানুষ এমনকি খারাপ মানুষকেও মিলিয়ে এমন এক পৃথিবীর গল্প বলেন যে পৃথিবীর অনেকটাই চেনা; আবার যে পৃথিবীতে আগামী দিনের বদলে যাওয়া মানুষের বিশ্বের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেই আনন্দময় বিশ্বের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত মনকে ভারী প্রসন্ন করে তোলে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Soma
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
দেবতার চাবি - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Debotar Chabi by Himadri Kishore Dasgupta
দেবতার চাবি
লেখকের নাম — হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
বিষয় — কল্পবিজ্ঞাননির্ভর ছোটগল্প
নুবিয়ান মরুভূমিতে এক ভূতাত্বিক মুথাইয়া শ্রীনিবাসনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক এই গল্প। মিশরীয় সভ্যতার উৎস লগ্নে এই অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল অনেকগুলি পিরামিড। আরো বহু প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে ছিল বনভূমি জল-জঙ্গল বহু প্রাণীর অবস্থান। তারপরে ভূতাত্বিক নিয়মে প্রকৃতির রূপ বদল ঘটেছে। হাজার হাজার বছরের এই পরিবর্তনের ফল আজ সেখানে রুক্ষ মরুপ্রান্তর আর কিছু কাঁটাঝোপ মাত্র। আর এরই মাঝখানে রয়েছে অনেকগুলি পিরামিড, যার জন্য এ অঞ্চলের স্থানীয় নাম মৃতের নগরী। এখানেই ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের চিহ্ন নিয়ে কাজ করতে নমুনা সংগ্রাহক শ্রীনিবাসনের আগমন। কিন্তু যে মৃত ভূমিতে আফ্রিকার কুসংস্কারাচ্ছন্ন স্থানীয় মানুষেরা সহজে আসতে চায় না সেখানে আগত মজুররা কয়েক দিন বাদে রাতারাতি কাজ ছেড়ে চলে যায়। এক রাতে উল্কাপাত এবং পর দিনে খননের সময় সামান্য দুর্ঘটনায় মজুররা ভয় পায়। স্থানীয় ওঝার কাছ থেকে অভিশাপ কাটানোর তাবিজ নিয়ে তারা ফিরে আসবে। ভূতাত্ত্বিককে অতএব একটি দিন মাইল মাইল বিস্তৃত মরুপ্রান্তরে একলা কাটাতে হয়। সেদিন তাঁর আলাপ হয় এমনই এক পিরামিডের কাছে ঘুরে বেড়ানো একলা দীর্ঘদেহী আলখাল্লা পরিহিত মানুষের সঙ্গে, যার নাম টি রেক্স। আলাপচারিতা জমে উঠতে শ্রীনিবাসন আবিষ্কার করেন মানুষটির মহাকাশ সম্পর্কে এমনকি পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতাগুলির সম্পর্কে বিপুল প্রাজ্ঞতা, বিশেষত সেই সভ্যতাগুলি যাদের প্রাচীন কালেই বিপুল উন্নতি আজও মানুষের কাছে বিস্ময়ের কারণ। সেখানেই একটি পিরামিড, যা দেবতার কবর নামে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত, যার ত্রিকোণ চূড়াটি আশ্চর্য স্বচ্ছ, তার রহস্য প্রকাশ পায়। সে মানুষটি খুঁজতে এসেছে একটি বিশেষ বস্তু। ঘটনাচক্রে সেটি পাওয়া যায় শ্রীনিবাসনের কাছে । সংগৃহীত প্রস্তরের মধ্যে অজানা এক পাথরে তৈরি খাঁজকাটা চাবিটি পাওয়ার সূত্রে আগন্তুকের সঙ্গী হয় শ্রীনিবাসন। এরপর সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়। অজানা পিরামিডের স্বচ্ছ চূড়ায় ৫ হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত গোপন বাক্সের সামনে তারা হাজির হয়। যে হিমায়িত বাক্স খোলা যায় ওই দেবতার চাবি দিয়ে। বাক্সের ডালা উন্মোচনের পর সমাধান হয় সেই আশ্চর্য সত্যের যে সত্যের মধ্যে নিহিত রয়েছে মিশরের পিরামিড, ইনকা সভ্যতার প্রযুক্তি, মেক্সিকোর মন্দির স্থাপত্য, মায়া সভ্যতার ক্যালেন্ডার, ভারতবর্ষের মরচে মুক্ত লৌহস্তম্ভের।
মানব সভ্যতার বিবর্তনের পথে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে প্রাচীন এবং উন্নত সভ্যতাগুলির অনেক সৃষ্টির আধুনিকতা আজও পৃথিবীর মানুষের কাছে রহস্যময়। আর সেই রহস্য নিয়ে গড়ে ওঠা কল্পবিজ্ঞান, যেখানে সোনালী ডানার পরীর মতো রূপকথাতুল্য কিছু মানুষ বা মনুষ্য আকৃতির চরিত্র, যারা এক প্রাচীন সভ্যতাকে যথার্থ রূপকথার পর্বে মাঝে মাঝে পৌঁছে দিতে চেয়েছে। সেই দেবতুল্য চরিত্রদের কি সাক্ষাৎ মিললো, শ্রীনিবাসনের সেই অভিজ্ঞতা, মানুষের অনেক প্রাচীন কীর্তিজাত বিস্ময় আর লেখকের কল্পনা এখানে মিলেমিশে একাকার।
এই গল্পের অন্তরালে যে বিশ্বাস অর্থাৎ পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতাগুলির মধ্যে বহির্জগতের অজানা সভ্য চরিত্রদের হস্তক্ষেপ আছে, সে বিশ্বাসেরই পুনরুচ্চারণ এখানে রয়েছে। গল্প বিষয় তাই অভিনব নয়। কিন্তু পাঠ্য হিসেবে চমৎকার। কারণ দুনিয়ার রহস্য নিয়ে রূপকথা গড়তে পাঠক পছন্দ করে। বাইরের পৃথিবীতে তাদের মতো সভ্য জগতের অস্তিত্ব নিয়ে পাঠকের সেই বিশ্বাসেরই প্রতিধ্বনি এখানে মেলে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Nirmalya
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
চিগারু - ত্রিজিৎ কর Chigaru by Trijit Kar
চিগারু - ত্রিজিৎ কর
বিভা প্রকাশনী
মূল্য- ২২২ টাকা
পুরুলিয়ার পঞ্চকোট পাহাড়ের নিচে জঙ্গলে ঘেরা এক রহস্যময় গ্রাম চালসিয়া। এই গাঁয়ে গরুখুটা পরবের পর তিন পক্ষকাল ধরে নামে আন্ধারকাল। কেন এই তিন পক্ষকাল ধরে কেউ রাত জাগে না সেখানে? কি হয় যদি কেউ রাত জাগে সেখানে? এই গাঁয়েই আবার বিশেষ এক পরবে কেন কেটে নেওয়া হয় ছোট ছোট শিশুদের অঙ্গ? কি এই রহস্য?
চিন্দারা কি? কেন সেখানে সবসময় নরকের আগুন জ্বলে? কেন চিগারু তার শিকারকে ডেকে নিয়ে আসে চিন্দারায়? কেন কেউ সেখান থেকে আর ফিরে আসে না?
কলকাতা থেকে ছয় ভাইবোনের একটি দল চালসিয়ায় আসে তাদের পূর্বপুরুষের ভিটে দেখতে। কিন্তু সেখানে নিজেদের অজান্তেই কিভাবে তারা জড়িয়ে পড়ে চিগারুর এই মারণ খেলায়? কি ভয়ংকর পরিণতি অপেক্ষা করে আছে তাদের জন্য? পারবে কি তারা চিগারুর হাত থেকে বেঁচে ফিরে আসতে?
এইসমস্ত প্রশ্নেরই উত্তর মিলবে ত্রিজিৎ করের লেখা এই নতুন রুদ্ধশ্বাস উপন্যাস "চিগারু"র পাতায়। যা আপনাকে চুম্বকের মতো টেনে রাখবে উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।না পড়া থাকলে অবশ্যই এই দুর্দান্ত উপন্যাসটি
রিভিউটি লিখেছেনঃ Saikat
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
বই - চিগারু
লেখক - ত্রিজিত কর
আমার রেটিং - ৮/১০
হরর সাহিত্যের নবীন লেখকদের মধ্যে এই লেখকের লেখা আমার বেশ লাগে। এর আগে এই লেখকের কিছু লেখা পড়েছি, বেশ মুন্সিয়ানার সাথেই লেখেন, সেই প্রত্যাশা নিয়েই পড়লাম এই বইটা, লেখক নিরাশ করেননি। বরং, উনি উনার প্রথাগত লেখার ভঙ্গী থেকে একটু আলাদাভাবেই লিখেছেন, বিভিন্ন চরিত্রের জবানীতে।
স্থান - পুরুলিয়ার চালসিয়া গ্রাম, সেখানের স্থানীয় লোকেদের বিশ্বাস, "গরুখুটা" উৎসবের পর "তিনপক্ষ" রাতে একদমই জাগতে নেই, নইলে, "তিন পক্ষে গাঁও জুড়ি আন্ধার ঘনায় / যে জাগে রাতে উ তার ঘরে যায়!"
শহর থেকে যাওয়া ৪ জন কিশোর, কিশোরী আর তাদের ২ জন দাদা দিদি, মোট ৬ জন হেসেই উড়িয়ে দেয়, এই সাবধানবাণী, তারপরই শুরু হয়, তার আগমন। তার নাম মুখে নিতে নেই, তিনবার যদি কেউ তার নাম নেয়, তবে তার রক্তবমি শুরু হয়, সেই ভয়ে আমিও আর তার নাম নিলাম না, বইয়ের নামেই নাম তার। সে নিমন্ত্রন পাঠায় তার সাথের খেলার জন্য, যে সেই খেলায় জিতবে, সে যা চাইবে তাই পাবে, তবে না জিতলে সে পরিণত হবে "চিবাঙ্গো" তে। তাকে বিনাশ করা কি সম্ভব ? ৬ বুড়ার সাথে তার কি সম্পর্ক ?? ছৌ নাচ, বাদুড়ি, চোল সাম্রাজ্য, বিরবুরু বোঙ্গা, দেবী চকরাসিনি, ভেলগুরু, তাপী বংশ, এদের মধ্যে কি যোগাযোগ, লেখকের মুন্সিয়ানা এখানেই, শেষ অবধি একদমে পড়ে ফেললাম। ভয়ের সাহিত্য যারা পছন্দ করেন, পড়ে দেখতে পারেন, হতাশ হবেন না।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Biswajit
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
ফাঁদ - অনিরুদ্ধ সাউ Fand by Aniruddha Sau
বই – ফাঁদ
লেখক – অনিরুদ্ধ সাউ
প্রকাশক – বিভা পাবলিকেশন
প্রথম প্রকাশকাল – ফেব্রুয়ারি ২০২২
প্রচ্ছদ – কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল
অলংকরণ – তমোজিৎ দেব
পৃষ্ঠা – ২৫০
মুদ্রিত মূল্য – ২২২/-
এই বইয়ের নাম হওয়া উচিত ছিল “পুলিশ যখন খুনি” বা “খুনি পুলিশ” বা “ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ” গোত্রীয় কিছু। কারণ …। থাক কারণগুলো নাহয় পাঠক বই পড়েই জেনে নেবেন। এই বই পড়ার পর ভারতীয় আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থার ওপর ভরসা নষ্ট হতে বাধ্য। সাথে সাথেই চিন্তার জগতে গভীরভাবে যেসব প্রশ্নগুলি গেঁথে যায় তা হল - খুনের মত ভয়ঙ্কর অপরাধ করার পরেও খুনী কি এত সহজে রেহাই পেয়ে যায়? কিংবা রেহাই দেওয়া উচিত? খুনের নেপথ্য কারণ অর্থাৎ মোটিভ যাই হোক না কেন! খুন করে সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক ধামাচাপা দিয়ে স্বাভাবিক জীবন কাটানো কি খুব সহজ কাজ?? অথবা পুলিশ কি আইন ব্যবস্থার ঊর্ধ্বে হয়? অপরাধ করার পরেও কি তাঁদের শাস্তি পাওয়া বাধ্যতামূলক হয় না? ব্যক্তিগত হতাশা বা আক্রোশ বা প্রতিশোধ স্পৃহা কি সবসময় যুক্তিগ্রাহ্য অপরাধ ( justified crime) বলে গণ্য করা হয় বা হলেও কি অপরাধীর শাস্তি মকুব হয়ে অপরাধী সাজামুক্ত থাকেন কিংবা বিচারের প্রয়োজন পড়ে না? এই রকম বহুবিধ প্রশ্নগুলিই বইয়ের গল্পগুলির যুক্তিগ্রাহ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে বাধ্য!! বিগত বছর কয়েক ধরে বাংলা সাহিত্যে রহস্য ও ভৌতিক ঘরানার গল্প উপন্যাসের ভিড়ে পাঠকদের প্রায় নাভিশ্বাস দশা। প্রায় প্রতিটি বইয়ের আগমনের খবরে একটি গালভরা বিজ্ঞপ্তি দেখতে পাওয়া যায় – ‘এই প্রকারের কাহিনী এর পূর্বে পাঠক পড়েন নি’। অতঃপর বই প্রকাশিত হয় এবং সুবিখ্যাত কোনও পাঠক সামাজিক মাধ্যমে ধন্য ধন্য করে একটি পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখে দেন। সাধারণ পাঠক সেই প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বাসী হয়ে বইটি কিনে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে ‘না পড়া প্রকারের’ গল্প-কাহিনী পড়তে গিয়ে অধিকাংশ সময়েই পাঠকের বিজ্ঞপ্তি তথা পাঠ প্রতিক্রিয়া ঠকে গিয়ে দুর্মূল্যের বাজারে কষ্টার্জিত অর্থের জলাঞ্জলী যাওয়ার দুঃখে মুখ -গলা – মন – মস্তিস্ক তেতো হয়ে যায়। এই বইয়ের বেশ কিছু ক্ষেত্রে এই কথাগুলো উপলব্ধি করা যায়।
ভাবনার ফাঁদে পাঠক বই পড়ে জড়িয়ে যাবার আগে বইয়ের বিষয়ে অল্প করে বলে ফেলি। বইয়ের ভূমিকা থেকে রহস্য উপন্যাস ঘরানা সহ বইয়ের বেশ কিছু বিষয় সম্পর্কে লেখক আমাদের জানিয়েছেন। ভূমিকা থেকেই জানা যায় যে এই বইটি সাধারণ ধরণের “অপরাধী কে?” ( হু ডান ইট) ভিত্তিক নয়। বরং গল্পগুলি কি করে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে অর্থাৎ “হাউ ডান ইট” গোত্রীয়। অনিরুদ্ধ সাউ লিখিত বইটি ছোট বড় উপন্যাসিকা মিলিয়ে মোট চারটি গল্পের সমাহারে রচিত।
১. ফাঁদ
২. দেবলীনা কি ভূত হয়ে গেছে ?
৩. দাগ
৪. দাগ -২ (যদিও শেষের দুটি গল্প দুটি মিলিতভাবে একটি উপন্যাস ।)
গল্পগুলির পটভূমিকা রচিত হয়েছে মুর্শিদাবাদে। বাংলা সাহিত্যের রহস্য দুনিয়ায় এই বইয়ের মাধ্যমে আবির্ভূত হয়েছেন বহরমপুর থানার এ.এস.আই, জিশান আলী। যার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও বুদ্ধিদীপ্ত অনুসন্ধিৎসু মন যে শুধু যাবতীয় কেসগুলিকে সমাধানের মুখ দেখায় তাই নয়, তাঁর অভাবনীয় কূটকৌশল আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকেও হার মানিয়ে দেয়। খুনিও সম্ভবত ভাবতে শুরু করে কি করে খুনটা হল ?!?
বইয়ের প্রথম “ফাঁদ” গল্পে পরপর চারজন শিক্ষিত তরুণের মৃত্যুতে সিরিয়াল কিলারের আগমন ভেবে পুলিশ মহল যখন বিপর্যস্ত, তখনই পুলিশ অফিসার পৃথ্বীরাজ সেন তুখোড় বুদ্ধি দিয়ে সেই সমস্যার সমাধান করেন। এই কেসেই তরুণ অফিসার জিশান আলী তাঁর গুরু বলে ভেবে নেওয়া পৃথ্বীরাজকে সহযোগী হিসাবে সাহায্য করেন। কিন্তু রহস্য উন্মোচনে নিজেই যেন নতুন করে এক রহস্যের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন। যা তাঁর গুরুর প্রতি শ্রদ্ধার আসন নাড়িয়ে দিয়ে যায়। গল্পের কিছু জায়গার কাহিনী বিন্যাস বেশ অগোছালো লাগলেও স্বল্প দৈর্ঘ্যের গল্প হিসাবে খারাপ লাগবে না।
দ্বিতীয় গল্প “দেবলীনা কি ভূত হয়ে গেছে?” রহস্য গল্পের নাম এমন অদ্ভুত ও হাস্যকর সাধারণত হয়না। সম্ভবত লেখক ভূতের গল্প লিখতে গিয়ে মোড় বদল করে রহস্য গল্পে পরিণত করেছিলেন। ফলে এক দ্বিধা ধন্দের মধ্যে পুলিশ – খুনিসহ পাঠকও ভাবনার ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন। অত্যন্ত দুর্বল বুনটে লেখা গল্পটি নামকরণের মতই যুগপৎ বিরক্তি ও হাসির উদ্রেক করে।
বিরক্তি এবং খানিক আর্থিক জলাঞ্জলী দেওয়ার দুঃখে কাতর পাঠক পরবর্তী গল্প পড়তে শুরু করলে তৃতীয় “দাগ” গল্পটির জমাট রহস্য শুরুর দিকে বেশ মন কেড়ে নেবে। এই উপন্যাসে বহরমপুর থানায় এক তরুণী তাঁর বাবার রিভলভার হারানোর রিপোর্ট লেখাতে আসেন। রাজনৈতিক নেতার পরিবারের কন্যার নিজের স্বামীকে গুলি করে হত্যা। কলেজ জীবনে ফেলে আসা এক পুরনো প্রেম ও হত্যার ঘটনার পুনরায় লোকচক্ষুতে উন্মোচিত হয়ে যাওয়া। শেষে খুনি কে খুনের কারণ কি সব প্রায় ধোঁয়াশায় ঢেকে গিয়ে গল্প শেষ হয়ে যাওয়া। কৌতূহল জিইয়ে রাখার তাগিদে লেখক প্রচুর প্লট, সাবপ্লট লিখে ফেলেছেন এবং আবারও গল্পটি শেষের দিকে জোলো হয়ে গিয়েছে।
অতঃপর শেষোক্ত গল্প “দাগ – ২”। ভিকটিমের জামায় প্রাপ্ত একটি দাগ। যাকে নিয়ে দু দুটি বড় গল্প লেখা হয়ে যায়, অথচ সেটি পুলিশ মহলের একমাত্র জিশান আলী ছাড়া বাকিদের নজর এড়িয়ে যায়। বা ওই আরকি ঠিকভাবে “ধরা পড়িয়াও পড়িল না ধরা” গোছের কিছু একটা হয়ে বাকি রয়ে যায়। এই গল্পে রহস্যের সাথে সাথে আরও বহুবিধ রসের সমাহার দেখা যাবে। রাজনৈতিক শক্তিতে বলীয়ান দুর্নীতিপরায়ন নেতা, ধনী বনেদী পরিবারের উচ্ছৃঙ্খল কন্যা, অতীত প্রেম, প্রেমে ব্যর্থতা, ভদ্র মুখোশের আড়ালে অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রতিশোধ স্পৃহায় মত্ত কুটিল চেহারা, জটিল ও বিকৃত মানসিকতায় মোড়া মন, সম্পর্কের জটিলতা অসহায়তার সুযোগ নিয়ে নিজেদের কুকীর্তির বলি দেওয়া প্রিয়জন প্রভৃতি। এককথায় পরতে পরতে সামাজিক অবক্ষয় ও লোভ ঘৃণা ঈর্ষা প্রভৃতি মানসিক জটিলতার কাহিনী। কিন্তু সবশেষে বহু ঘটনা দুর্ঘটনার সমাহারে গল্পের সমাপ্তি ঘটে। পাঠক নতুন ভাবনার ফাঁদে পড়ে যান এই ভেবে যে রক্ষকই যদি ভক্ষক হয় তাহলে সমাজে বিশ্বাস ভরসা করার কে রইল?
যাইহোক জিশান ‘সলিউশন’ আলীর আবির্ভাব যথেষ্ট পরিমাণে জমকালো হলেও একজন সুবুদ্ধি সম্পন্ন পাঠকের কতটা ভালোবাসা অর্জন করতে পারবেন সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়। বরং তাঁর কার্যকলাপ তাঁর প্রতি অশ্রদ্ধাই তৈরি করে। ফলত পরবর্তী সময়ে তাঁকে নিয়ে লেখা গল্পও একজন পাঠক হিসাবে পড়ার আগ্রহ আর বোধ করিনা। কারণ কর্তব্য তথা আদর্শহীনতা ও অনৈতিকতার কখনই কোনও যুক্তিগ্রাহ্যতা হয় না। বিশেষ করে একজন পুলিশ অফিসারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও কর্তব্যে অবিচল থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেই তাঁরা চাকরি জীবনের সূত্রপাতে এই বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকেন। দোষে গুণে ভরা মানবিক চরিত্র বলে এড়িয়ে যাওয়াই যায়, কিন্তু তাকে নায়কের আসনে বসানো যায়না। এমনকি সাধারণ মানুষ বলে ভক্তি শ্রদ্ধা করাও অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই বইয়ের লেখা শুধুই পড়া যায়। নাতো তা আত্মস্থ করতে মন চায় নাই তা অনুভব করা যায়। বরং বই সমাপ্তিতে অতৃপ্তি ও অন্ধকারে মন ভারাক্রান্ত হয়। বইয়ের প্রচ্ছদ অত্যন্ত সাধারণ মানের। খুব একটা পৃথক ভাবনার ছোঁয়া না থাকায় তা নজর কাড়ে না। বরং গল্পের অলংকরণ বেশ ভালো লাগে। গল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আঁকা ছবিগুলি পাঠকের গল্প পড়ায় কিছুটা গতি প্রদান করে। নতুন লেখকের বই হিসাবে একবার অন্তত পড়ে দেখাই যায় এই বই।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Sanjhbati
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
ফাঁদ- অনিরুদ্ধ সাউ
চারটি উপন্যাসিকা আছে বইটিতে।
প্রথম গল্প ফাঁদ
বহরমপুরের তিনটি অল্পবয়সী ছেলের মৃত্যুর তদন্তে বেরোলো তারা প্রত্যেকেই জিগোলো বা পুরুষ যৌনকর্মী। শহরের একাকিত্বে ভোগা বড়লোক গৃহবধূদের সঙ্গ দিতে গিয়েই কি তারা বিপদে পড়লো? কিন্তু তাদের এই লাইনে আনছে কে? খোদ মহিলা কমিশনের সেক্রেটারি রত্নাবলী মুখোপাধ্যায়ই জড়িত সেক্স র্যাকেটের সঙ্গে। তাঁর হোটেলেই চলে সমস্ত কিছু। উচ্চবিত্ত পরিবারের মহিলারা একবার এই সার্ভিস নিতে শুরু করলে আর বেরিয়ে আসতে পারে না, কারণ এটা যে একটা বড় ফাঁদ! ডিএসপি পৃথ্বীরাজ সাহা কেসটা টেক ওভার করলেন। সঙ্গে দুজন এসআই অতনু নিয়োগী ও জিসান আলী। কিন্তু তদন্তে যে কেঁচো খুঁড়তে যে কেউটে বেরিয়ে পড়বে তা কে জানতো। কে জানতো ভেতরের লোকেরাই ভুক্তভোগী। শেষটা এমনভাবে হয় মনটা বিষন্ন হয়ে যায়। সম্ভবত এই গল্পটা কোনো অডিয়ো স্টোরি চ্যানেলে আগে শুনেছি। মূলত পুলিশি তদন্তের ওপরই দাঁড়িয়ে গল্পটা। সিরিয়াল কিলিংয়ের ব্রুটালিটি গল্পে নেই বললেই চলে, শুরুটা দারুণভাবে হলেও নৈতিকতার ছকে মেলাতে গিয়েই বোধহয় বাঁধুনিটা আলগা ও অগোছালো হয়ে গিয়েছিল। জিসান আলীর উত্থান এই গল্পেই তবে সে নিজেও এই উত্থানে খুশি নয়, কারণ সে যাকে আদর্শ মানতো... না থাক বাকিটা বলবো না। একটা চমক অবশ্যই আছে শেষে।
দ্বিতীয় গল্প 'দেবলীনা কি ভূত হয়ে গেছে'-
লকডাউনের সময় খবরের কাগজে বেরোনো একটি ঘটনা নিয়ে লেখা। এটা নিয়ে বেশি কথা বলতে চাই না, সোজা কথায় বললে এটা আমার একদম পোষায়নি। নুয়া গোত্রের লেখা হলেও গোত্রটিকে ঠিক ধরতেই পারেননি লেখক এই গল্পে।
তৃতীয় গল্প- দাগ
বছর পঁচিশের এক তরুণী বহরমপুর থানায় এসে জানায় তার বাবার রিভলবার হারিয়ে গেছে, তাই সে একটা ডায়েরি করাতে চায়। ওসি রবীবাবুর জেরায় মেয়েটি সেখান থেকে পালায় কিন্তু তাড়াহুড়োয় তার ব্যাগটা ফেলে যায়। আর সেই সূত্র ধরেই এসআই জিসান আলী তদন্তে নেমে পড়ে। আসলে এক লোক তার স্ত্রী বিপাশাকে খুন করতে গিয়ে নিজেই খুন হয়ে গেছে! আবার আসামী বিপাশাই।উঠে আসে বিপাশার কলেজ জীবন, প্রেম ...। এটা বেশ ইন্টারেস্টিং একটা গল্প। সাবপ্লটগুলো মেন পয়েন্টটাকে বারবার ব্লার করে দেয়, তবুও ভালোই বলবো। শেষটাও মন্দ নয়, তবে লেখক বড্ড বেশিই নিজের কথা চাপিয়ে দিয়েছেন শেষে।
এরপর চতুর্থ গল্প 'দাগ ২'-
তৃতীয় গল্পেরই পরিবর্ধন বলা চলে। সবচেয়ে বড় ও নিঃসন্দেহে এই বইয়ের সেরা কাহিনি। এক এমএলএ-এর উৎশৃঙ্খল মেয়ের মৃত্যুর পর তার বন্ধুও মারা যায়। তবে কী? ভিকটিমের জমায় দু'টো দাগ দেখেই জিসান আলীর সন্দেহ, সেই সূত্র ধরেই আস্তে আস্তে অপরাধীর দিকে এগিয়ে যাওয়া, দারুণ এটা। রক্ষকই ভক্ষক এরকম একটা টিপিক্যাল বার্তা আছে তবে বলার কায়দাটা ভালো এখানে।
আমি আগে লেখকের 'অর্জুন বধের নেপথ্যে' পড়েছি, সেখানে গোপা গোয়েন্দিকে বেশ ভালো লেগেছিল, ভেবেছিলাম এখানেও বুঝি তাঁরই রহস্য কাহিনি, কিন্তু না এখানে দেখলাম জিসান আলীর ক্রমে সলিউশন আলী হয়ে ওঠার রহস্যন্মোচন কাহিনি। যদি কেউ ব্যোমকেশ পড়ার মুড নিয়ে পড়েন তো বলবো এই গল্পগুলো তাৎক্ষণিক আনন্দ পাওয়ার জন্য ঠিক আছে, দীর্ঘমেয়াদি নয়, কারণ এগুলো কাহিনির মধ্যের চিত্তাকর্ষক কিছু ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণ হলেও চরিত্রায়ণের দুর্বলতার জন্য সার্বিকভাবে মনে ছাপ ফেলে না।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Raktim
Posted By:
boibd
শাহজাদির আশিক - হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত Shahjadir Ashik by Himadri Kishore Dasgupta
বই - শাহজাদির আশিক
লেখক - হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত
প্রকাশনা - দে'জ পাবলিশিং
মুল্য - ২৫০ টাকা
তিনটি ভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ের নিরিখে রচিত তিনটি পৃথক উপন্যাস গ্রন্থিত হয়েছে এই বইটিতে।
১. পরমান্ন - চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, তাঁর গুরু বিষ্ণুশর্মা বা কৌটিল্য চানক্য এবং মৌর্য পুত্র বিন্দুসার কে ঘিরে রচিত এই উপন্যাস। চন্দ্রগুপ্তের দ্বিতীয়া স্ত্রী দূর্ধরার পুত্র বিন্দুসারের নামকরণের কল্পনামিশ্রিত ঐতিহাসিক কাহিনী এটি।
২. রক্ত আরতি - দক্ষিণ ভারতের বিজয়নগরে রাজা বিরূপাক্ষ দেবের আমলে সেনাপতি মামুদ গাউসের নেতৃত্বে বাহমনি আক্রমণ, সেই আক্রমণের প্রতিরোধ ও রাজা নরসিংহ দেবের উত্থান কাহিনী সমৃদ্ধ এটি এই বইয়ের দ্বিতীয় উপন্যাস।
৩. শাহজাদির আশিক - মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের জেষ্ঠ্যা কন্যা জেব-উন-নিশা ও তার প্রেমিক লাহোরের শাসনকর্তা আকিল খান রেজা র প্রেম কাহিনী অনুসারে রচিত এই উপন্যাসটির নামেই বইটির নাম।
ব্যক্তিগত মতামত - অন্যতম পছন্দের সাহিত্যিকের ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস গুলি পড়তে ভালই লাগে। কিন্তু ইদানিং দেখছি সাহিত্যিকের কলমের নিব যেন একটু ভোঁতা হয়েছে। ব্যাপারটা কেমন জানেন? বিরিয়ানি খেতে গিয়ে যদি পোলাও খেয়ে সন্তুষ্ট হতে হয়, অনেকটা সেইরকম । এছাড়াও আমার মতো মূর্খ পাঠকের চোখেও অন্ততপক্ষে তিনটি ঐতিহাসিক তথ্য সম্পর্কিত ভূল চোখে পড়েছে যা হিমাদ্রি বাবুর মতো প্রথিতযশা সাহিত্যিকের থেকে আশা করা যায় না । কোথাও মনে হয়েছে গল্পটি জোর করে শেষ করে দেওয়া হল, কোথাও বা জোর করে বাড়ানো হয়েছে গল্পটিকে । আশা করবো মাননীয় সাহিত্যিক আবার স্বমহিমায় ফিরবেন এবং আরো অনেক সুন্দর সুন্দর উপন্যাস আমাদের উপহার দেবেন। ১০ এর মধ্যে বইটিকে ৬ দিলাম আমি।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
রোডেন্ট - দীপাঞ্জনা দাস Roadent by Dipanjana Das
উপন্যাস - রোডেন্ট
লেখিকা - Dipanjana Das
প্রকাশকাল - ২০ শে অগাস্ট, ২০২৩
সংখ্যা - বিভা ভূত ভুতুম উৎসব সংখ্যা, ১৪৩০
জেনার - কল্পবিজ্ঞান থ্রিলার, সাসপেন্স
রিভিউ লিখেছেন - শুভজিৎ -এর কলমে
অনেকদিন পর আবার রিভিউ লিখছি। বরাবরের মতো এবারও স্পয়লার করব না। যেটুকু না বললেই নয়, সেটুকুই বলব।
ছোটোবেলা থেকেই বইতে পড়ে আসছি, প্রাণী হত্যা পাপ কিন্তু সত্যি বলতে কখনও বিষয়টাকে সিরিয়াসলি নেওয়া হয়নি। যখনই মন চেয়েছে, প্রাণীহত্যা করেছি। এই উপন্যাস পড়ার পর সত্যি এটুকু উপলব্ধি করলাম, প্রাণীহত্যা আর কখনও করা উচিত নয়, লেখিকাকে ধন্যবাদ মনের মধ্যে এমন ভয় ধরিয়ে দেওয়ার জন্য........ সেদিক থেকে দেখলে লেখিকা কিছুটা হলেও সফল হয়েছেন তার উদ্দেশ্য পূরণে ...... কেমন ভয় ? সেটা জানতে তো আপনাকে উপন্যাসটি পড়তে হবে আর তার জন্য কিনতে হবে 'বিভা ভূত ভুতুম উৎসব সংখ্যা ১৪৩০'
এবার পরবর্তী পয়েন্ট সম্পর্কে বলি, এই গল্পটি কল্পনাপ্রসূত হলেও কোথাও গিয়ে যেন মনে হচ্ছিল এরকম একটা উপজাতি থাকলে সত্যি খুব ভালো হত। কেমন উপজাতি, থুরি, সেটা বলতে পারব না, সেটার জন্য আপনাকে গল্পটি পড়তে হবে। লেখাটা পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল লেখিকা যেসব তথ্য দিয়ে উপন্যাসটি সাজিয়েছেন সেক্ষেত্রে উনাকে যথেষ্ট রিসার্চ করতে হয়েছে। সেজন্য উনাকে পুনরায় ধন্যবাদ .....
এবার শেষ আর একটা কথা বলব, সমগ্র উপন্যাসটি লিখতে গিয়ে তিনি যে 'ধরণ' টি অবলম্বন করেছেন এটা আমি এই প্রথমবার দেখলাম। এর আগে যদি বলি তাহলে প্রফেসর শঙ্কুতে দেখেছি কিন্তু একটা বিষয় হলফ করে বলতে পারি, লেখার ধরণের দিক থেকে প্রফেসর শঙ্কুর সাথে এই উপন্যাসের সাদৃশ্যের থেকে বৈসাদৃশ্য যথেষ্ট মাত্রায় বেশি।
উপন্যাস মূল গল্প সম্পর্কে তেমন কিছুই বললাম না, আপনারা বইটি কিনুন, পড়ুন তাহলে বুঝবেন, কেন বলিনি।
লেখিকা দীপাঞ্জনা দাস দিদিভাই'কে অনেক অনেকে ধন্যবাদ।
রিভিউটি লিখেছেনঃ শুভজিৎ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
তেরোর ত্রাস - দীপান্বিতা রায় Teror Tras by Dipanhita Roy
review
বই - তেরোর ত্রাস
লেখিকা - দীপান্বিতা রায়
বইটিতে মোট তেরোটি গল্প রয়েছে। গল্পগুলি হল
১. দরজার ওপাশে - শমিত গৌরীপুর গ্রামের শিবনাথ বসু উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলার মাস্টারমশাই হয়ে এসেছে প্রায় ছয় মাস হতে চলল। শমিত এদিকে ভালোমানুষ, গোবেচারা প্রকৃতির তাই ছাত্ররা তাঁকে মানে না মোটেই। ক্লাসে তো তাকে ভয় করেই না এমনকি স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করতেও ছাড়ে না। এই অসুবিধা থেকে বাঁচতে শমিত একদিন শর্টকাট নেয় এবং এসে উপস্থিত হয় একটি দোতলা বাড়ির সামনে, তাঁর কেমন যেন মনে হয় বাড়িটা এত দিন তাঁর অপেক্ষাতেই ছিল। সত্যিই কী বাড়িটা কারোর অপেক্ষাই ছিল?
২. অভিশপ্ত লাঠি - বাড়িটাকে দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন একটা প্রাগৈতিহাসিক জন্তু থাবা গুটিয়ে বসে আছে। উত্তরবঙ্গের এই মফস্বল শহরে ডাক্তার হিসাবে যোগ দেওয়ার পর যাতায়াতের পথে অনেকবার দেখেছে বাড়িটাকে। বাড়ির মালিক শঙ্কর মিত্তির। কয়েকমাস পড়ে আবার মিত্তির বাড়িতে ঢুকলো দিগন্ত। দিগন্ত কে দেখে নটবর এসে তার হাতে একটা মোটা খাম ধরিয়ে দিল। শঙ্কর মিত্তিরের কোন সত্য বন্দি ছিল খামের ভেতর?
৩. বামাপদবাবুর ছবি - বামাপদবাবু মিতব্যায়ী মানুষ। বিয়ে থা করেন নি। আত্মীয় স্বজন পুষ্যি কেউ নেই। সরকারি অফিসে আপার ডিভিশন ক্লার্কের কাজ করেন। মাইনে পত্র যা তাতে একা মানুষের দিব্যি চলে যায়। বামাপদবাবুর একটি অদ্ভুত অভ্যাস আছে। প্রায় প্রতি রবিবার সকালে তিনি পর্ক স্ট্রিটের অকশান হাউস এ যান। তবে নিয়মিত না হলেও নিলামঘর থেকে বামাপদবাবু কিছু জিনিস কিনেছেন। একদিন হঠাৎ চোখে পড়ল একটি ছবি। ব্রাউন রঙের ফ্রেমে বাঁধানো। ছবির গল্পটি তাকে খুব আকৃষ্ট করলো, গল্পটিকে আরো ভালো করে জানার জন্য তিনি ছবিটি কিনে নিলেন। তারপর তিনি জানতে পারলেন ছবিটির সত্য?
৪. আলফ্রেড ভোলেনি - বড়দিনের ছুটির সাথে শনি ও রবিবারের ছুটি মিলিয়ে চারদিনের একটা ছুটি কাটাবে ভেবে তপন ধর্মতলা থেকে হলদিয়ার রাতের শেষ বাসে উঠে পড়ে। কিন্ত ঘটনাচক্রে মাঝপথে বাসের ইঞ্জিন স্টার্ট না হওয়ায় মহিষাদলে নেমে পড়তে হয় সকলকে। মহিষাদলের কাছে গেঁওখালিতে তপনের দূর সম্পর্কের এক পিসির বাড়ি থাকায় তপন রাত টা সেখানে কাটাবে স্থির করে। কিন্ত পিসির বাড়ি যাওয়ার পথে কী অপেক্ষা করছে তপনের জন্য?
৫. বাদামি চোখ - চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর, মামা যতীন গুপ্ত জমি কিনে বাড়ি করেছিলেন মুটুকপুরে। মামা মামি নিঃসন্তান হওয়ায় সেই বাড়ি পান মহিম বাবু। মহিম বাবু খুব মেজাজি প্রকৃতির মানুষ। বাড়ি দেখে মহিমবাবুর চক্ষুস্থির হয়ে যায়। অনন্ত দশ-বারো কাঠা জমির মাঝখানে দোতলা বাড়ি। চারিপাশ আম-জাম-জামরুল থেকে শুরু করে হরেক রকমের গাছে ভর্তি। বাড়ির ঠিক গায়েই একটা মস্ত আমগাছ। তিনি মনে মনে হিসাব করে দেখলেন দুটো টাওয়ার করে অনন্ত বত্রিশটা ফ্ল্যাটের আবাসন তৈরী করা যাবে। হিসাব মতো তিনি কাজ শুরু করে দিলেন। প্রথমেই মস্ত আমগাছটিকে কাটার প্রস্তুতি নিলেন। শেষ পর্যন্ত কী তিনি গাছটিকে কাটতে সক্ষম হয়েছিলেন?
৬. মধ্যরাতের ছায়ামূর্তি -কলকাতার কলেজে পড়ায় সুধন্য সরকার। থাকে জিওলগাছায়। সাধন পরেশ ও পল্টুর সাথে সন্ধ্যার মুড়ি তেলেভাজার সাথে ভূতের গল্প শোনাতে বসে সুধন্য। সুধন্যর বয়স তখন সাত আট। বাড়ি ছিল শেতলপাটা গ্রামে। বাবা ও কাকা দুজনেই শহরে চাকরি করতেন তাই চাষবাস এবং ঘরের কাজকর্ম সবকিছুর দায়িত্ব ছিল ঠাকুমার ওপর। ঠাকুমাকে সকলে খুব ভয় পেত। সুধন্যর কিকিমা কমবয়সে বিয়ে হয়ে এসেছিলেন তিনি একটু বেশিই ভয় পেতেন শাশুড়িকে। বাড়িতে হঠাৎই অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে লাগলো। খাঁচা থেকে হাঁস উধাও হল, বাড়িতে রক্তের ছাপ দেখা গেল। সবাই ধরে নিল বাড়িতে কোনো অশরীরীর আগমন ঘটেছে। সত্যিই কী ঘটেছিল কোনো অশরীরীর আগমন?
৭. ডোডোর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় - ডোডো ওরফে অর্ক সেনগুপ্ত একজন মাউন্টেনিয়ার। পাহাড়ে চড়তে সে ভালোবাসে। তার পাহাড়ে চড়া নিয়ে তার মা খুঁতখুঁতে জেনেও কেন জানি না সে বোঁচাদার এভারেস্ট অভিযানের দলের একজন হতে রাজি হয়ে যায়। কিন্ত মা তার এই অভিযানের ঘোর আপত্তি করলেন। রাগ দেখাবে ভেবে নিজের ঘরে এসে দরাম করে ঘরের দরজা টা বন্ধ করে দিয়ে ঝপাস করে শুয়ে পড়ে সে। অমনি তার কানের কাছে কেউ ফিসফিস করে বলে ওঠে "আহা অত রাগ করছিস কেন? দেখবি সব ঠিক ম্যানেজ হয়ে যাবে।" এটা কী শুধুই ডোডোর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়?
৮. ফ্রেমের বাইরে - একই চ্যানেলে কাজ করার সূত্রে সঞ্জীব আর প্রিয়মের ভালো বন্ধুত্ব হয়েযায়। পৌষ-সংক্রান্তিতে প্রিয়মদের বাড়িতে ধুমধাম করে কালীপুজো হয়। সব আত্মীয়স্বজন এক হয় বাড়িতে। ছবি তোলার প্রতি সঞ্জীবের নেশা আছে তাই প্রিয়ম যখন তাকে তাদের পারিবারিক পুজোতে তার সাথে যেতে বললে সে আর না করেনা। কিন্ত গ্রামের বাড়ির পুজো দেখতে গিয়ে কোন সত্যের সম্মুখীন হয় সঞ্জীব?
৯. হেনরি হাউস - স্ত্রী রূপা এবং মেয়ে রিমির সাথে গরমের ছুটি কাটাতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে অনিমেষ। চারদিন দার্জিলিং দুদিন কার্শিয়াং দুদিন কালিম্পং। দার্জিলিং কার্শিয়াং- এ লজে ঘর মিলেছে কিন্ত কালিম্পং-এ পছন্দের ক্যামেলিয়া লজের ঘর না পাওয়ায় মনটা খারাপ হয়ে যায় অনিমেষের। শেষে ক্যামেলিয়া আগে যে বাংলোটাই সেটা এখনও আছে। শেষমেশ অনিমেষ সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। যাওয়ার পথে মনে এইটু খুঁতখুঁতানি ছিল কিন্ত হেনরি হাউসে পৌচ্ছে তাদের তিনজনের খুব পছন্দ হয়ে যায় জায়গাটি। কিন্তু মনোরম দর্শনীয় হেনরি হাউসের অতীতের গল্পটি জানতে পারবেন অনিমেষ?
১০. অশরীরীর ইঙ্গিত - লন্ডন থেকেই গেস্ট হাউসটা বুক করে ছিল অরিন্দম। অনেক চেষ্টার পর অবশেষে বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা হওয়ায় অরিন্দম আর প্রিয়া কলকাতায় এসেছে। প্রায় এক মাসের জন্য থাকতে হতে পারে তাই ইন্টারনেট ঘেটে অনেক দেখে তারপর তাদের দুজনের পছন্দ হয়েছে গেস্ট হাউসটি। গেস্ট হাউসের মালকিন শিলা মিত্রর ব্যবহার ও তাদের ভালোলাগে। কিন্ত এক দুদিনের মধ্যেই কেমন এক অস্বস্তি হয় প্রিয়ার। তার মনে হয় যেন তাদের দুজন ছাড়াও আরেকজনের উপস্থিতি অনুভব করছে সে। কী হবে শেষ পর্যন্ত?
১১. সেই লোকটা - অনেকদিন ধরে প্ল্যান করা হলেও কিছুতেই তা কাজে লাগানো যাচ্ছিলো না। অবশেষে তিন বন্ধু মৈনাক, প্রতীক, শান্তনু এক সাথে ছুটি পাওয়াই তিন বন্ধু মিলে বেরিয়ে পড়ে, গন্তব্য গাড়োয়াল হিমালয়। প্রথমে নৈনিতাল। সেখান থেকে কৌশানি, তারপর বিনসর চকোরি, শেষে পিথোরাগড়। সেই অনুযায়ী বেরিয়ে পড়া কিন্তু ট্রেনের কামরায় এবং হোটেলে শান্তনু মনে হতে থাকে কে যেন তার পিছু নিয়েছে। শান্তনুর এমন মনোভাবের কারণ কী?
১২. তেরাখোলে এক রাত - দীপক আর রণিত ছোটবেলার বন্ধু। অনেক দিন পর দুজনেই একসাথে কাজে অবসর পেয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়ে। গন্তব্য গোয়া। প্রথমদিন তারা এসে ওঠে মান্ডবী নদীর ধারে গোয়ার রাজধানী প্যানজিম বা পানাজির একটি হোটেলে, পরে সেই হোটেলের মালিক তাদের সন্ধান দেন কুলু নদীর মোহনায় তেরাখোল দুর্গ। সেখানে তাদের আলাপ হয় এক বৃদ্ধের সাথে। কোন গল্প শুনিয়ে ছিলেন বৃদ্ধ তাদের?
১৩. তেরোটার ঘন্টা - নয়নপুরের সঙ্গে সম্পর্ক বলতে ছিল জমিদার রামেন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী মানে দেবলের ঠাকুরদার ঠাকুরদা আমলের এই বাড়িটি। দেবলের মনে হয় বয়সের ভাজে একটা মস্ত জন্তুর মতো অতীতের গন্ধ গায়ে মেখে মাটিতে মুখ গুঁজে বসে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে বাড়িটি। বাড়িটি বিক্রির জন্য দেবল আসে নয়নপুরে কিন্ত বাড়িটি অনেক দিন ধরে দেখাশোনা করেন নগেনদা দেবল কে দেখে চমকে উঠলেন কেন? তার ভয়ের কারণ কী?
নিজস্ব অনুভূতি - গল্পগুলোর মধ্যে যে গল্পগুলো বেশি ভালো লেগেছে বাদামি চোখ, মধ্যরাতের ছায়ামূর্তি,ফ্রেমের বাইরে,হেনরি হাউস, অশরীরীর ইঙ্গিত,তেরোটার ঘন্টা। গল্পগুলি পড়ে ভয়ের রেস না পেলেও পড়তে খারাপ লাগেনি। ঝরঝরে লেখনীর ফলে একটানা পড়ে ফেলতেও অসুবিধা হয়নি।
Posted By:
boibd
ঝিন্দের বন্দী - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় Jhinder Bondi by Sharadindu Bandyopadhyay
Review
Book Name - ঝিন্দের বন্দী
WRITER - শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
PUBLISHER - Penguin Books Ltd
LANGUAGE - BENGALI
TOTAL PAGE - 154
PRICE - 300
মধ্যভারতের ছোট্ট স্বাধীন রাজ্য ঝিন্দ। রাজা ভাস্কর সিংহের মৃত্যুর পর শঙ্কর ও উদিত দুই ছেলের মধ্যে সিংহাসন নিয়ে শুরু হল বিরোধ। অভিষেকের ঠিক আগে শঙ্কর সিং নিখোঁজ হলেন। এদিকে কলকাতার এক বাঙালি ছেলে গৌরীশঙ্কর রায় হুবহু শঙ্কর সিংহের মতোই দেখতে। গোলমাল এড়াতে তাঁকেই শঙ্কর সিং সাজিয়ে সিংহাসনে বসাতে উদ্যত হলেন ঝিন্দের পুরনো কিছু রাজকর্মী। অভিষেক সম্পন্ন, আগে থেকে বিবাহ পর্যন্ত স্থির হয়ে আছে।
কিন্ত সহজে তা মেনে নেবেন কেন উদিত সিং? তিনি তো সবই জানেন। শঙ্কর সিং নিখোঁজ নন, বন্দী করে রাখা হয়েছে তাঁকে। কিন্ত কোথায়? শঙ্কর সিং কি মুক্তি পাবেন? গৌরীশঙ্কর কি লুকিয়ে রাখতে পারবেন তাঁর আসল পরিচয়? তাছাড়া, গৌরীশঙ্করের সঙ্গে এমন চেহারাগত অবিকল সাদৃশ্যই বা কেন থাকবে মধ্যভারতের স্বাধীন রাজ্যের এক রাজকুমারের?
কলকাতার পূর্ব-দক্ষিণে অবস্থিত রায় দেওয়ান জমিদারবাড়ি। রায়-দেওয়ান কালীশঙ্কর রায় প্রায় দেড়শো বছর পূর্বে কলকাতায় আসেন এবং কিনে নেন এই জমিদারী। বিয়ে করে সংসারও পেতেছিলেন, কিন্তু সংসারসুখ বেশিদিন ভোগ করতে পারেননি। অজানা আততায়ীর ছুরিকাঘাতে মারা যান কালীশঙ্কর। গল্পের নায়ক গৌরীশংকর রায়, দাদা শিবশঙ্কর রায় ও বৌদির সাথে বর্তমানে এই বাড়িতে বাস করছেন। নিরুপদ্রবেই কাটছিল তাদের দিন।
হঠাৎ একদিন বাড়িতে এসে হাজির হলেন অদ্ভুত বেশভূষার এক ব্যক্তি, নাম ধনঞ্জয় ক্ষেত্রী। তিনি নাকি ঝিন্দ রাজ্যের রাজার বংশানুক্রমিক পার্শ্বচর। সবচেয়ে অবাক করার মত কথা হল তিনি কালীশঙ্কর এর তৈলচিত্র দেখে তাকে চিনতে পারলেন, আর এরা তার বংশধর শুনে নিজেও হতভম্ব হয়ে গেলেন। এবার সেই অদ্ভুত ব্যক্তি শোনালেন এক আশ্চর্য ঘটনা, আর দিলেন এক অদ্ভুত প্রস্তাব।
গৌরী নাকি দেখতে হুবহু তাদের যুবরাজ শঙ্কর সিংহের মত, যার ক'দিন বাদে অভিষেক। ছোটভাই উদিতের ষড়যন্ত্রে শঙ্করকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এখন তাকে খুঁজে পাওয়া পর্যন্ত গৌরী যেন তার ভূমিকায় অভিনয় করে তাদের সাহায্য করেন। পদে পদে বিপদের ভয় থাকা সত্বেও বরাবর এ্যাডভেঞ্চার প্রিয় গৌরী সাথে সাথে রাজি হয়ে গেল। সেখানে গিয়ে ঘটল আরেক ঘটনা, বলা যায় দু্র্ঘটনা। গৌরী প্রেমে পড়ল শংকরের বাগদত্তা ঝড়োয়ার রাজকুমারী/রাণী কস্তূরীবাঈএর। তারপর..... অবশ্যই পড়তে হবে।
কীভাবে এসব রহস্যের সমাধান হলো, তাই নিয়েই অপূর্ব রোমান্স ও রোমাঞ্চে ভরা এই কাহিনী।
এ-কাহিনীর উৎস বিদেশি। Anthony Hope রচিত The Prisoner of Zenda থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা। তবে পটভূমি ও চরিত্রাবলীকে অসাধারণ মুনশিয়ানায় পুরোপুরি ভারতীয় করে তুলেছেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রত্যেকটি ঘঠনার বর্ণনা, ঝিন্দের, ঝড়োরা রাজ্যের প্রাকৃতিক রূপালঙ্কারের বর্ণনা, এমন কি প্রতি লাইনে লাইনে একটা নতুন নতুন রহস্য সৃষ্টি করে উচ্চমর্যাদায় নিয়ে গেছেন এই উপন্যাসটিকে।
মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়া এই উপন্যাসটি এতো ভালো লেগেছে যা শুধু লিখে প্রকাশ করার মত নয় ।
রিভিউটি লিখেছেনঃ ইন্দ্রিরা
Posted By:
boibd
ভ্রম সমীকরণ - মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী Vrome Somikoron by Mohaiminul Islam
বই: ভ্রম সমীকরণ
লেখক: মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
ঘরানা: সায়েন্স ফিকশন
প্রথম প্রকাশ: ডিসেম্বর ২০২০
পৃষ্ঠা: ৯৬
প্রচ্ছদ: জুলিয়ান
প্রকাশনী: চিরকুট
মুদ্রিত মূল্য: ১৫০ টাকা মাত্র
................................................................................
রাসেল এক স্কুলপড়ুয়া কিশোর ছেলে। কিন্তু আর দশটা ছেলের চেয়ে আলাদা সে। ভীষণ রকম মেধাবী ও তুখোড় বুদ্ধিমান। আইকিউ টেস্টে দেখা গেল, আইনস্টাইন-হাইজেনবার্গ পর্যায়ের বুদ্ধিমত্তা তার। রাসেলের জীবন বদলে গেল সেদিন, যেদিন সে বুঝতে পারল, এই প্রখর বুদ্ধিমত্তা ছাড়াও আরেকটি ক্ষমতা আছে তার, ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতা। ভবিষ্যতে ঘটা ঘটনা আগেভাগে দেখে ফেলে সে মানসপটে। তারপর নিজের মতো করে বদলেও দিতে পারে সেই ঘটনাপ্রবাহ। কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলে দেবার পরিণতি কি মঙ্গলজনক হয়? নাকি ডেকে আনে আরও বড় কোন বিপদ? বড় হবার সাথে সাথে রাসেল আবিষ্কার করতে লাগল, ভবিষ্যৎ বদলাতে গিয়ে কিভাবে সময়ের ফাঁদে পড়ে গেছে সে!
................................................................................
"ভ্রম সমীকরণ" বইটি ৯৬ পেইজের একটি নোভেলা আর বইয়ের প্লট শুরু থেকেই বেশ আকর্ষণীয় বলেই একেবারে এক বসায় শেষ করার মতো।
বইয়ের কেন্দ্রীয় চরিত্র রাসেল আর পুরো প্লট রাসেলকে কেন্দ্র করে তাই আর কোন চরিত্র আলাদাভাবে ফুটে উঠেনি বা ফোকাস পায়নি। শুধু কাহিনীর প্রয়োজনে আসছে আর ঝটপট নিজের কাজ সেরে চলে যাচ্ছে যেন রাসেল বাদে সব চরিত্রই ক্যামিও দিচ্ছে গল্পে।
পুরো বইতে লেখক প্রডিজি, প্রিমোনিশন, ডি এম টি, রেম স্লিপ, দেজা ভ্যু, টাইম প্যারাডক্স, বুটস্ট্র্যাপ প্যারাডক্স,টাইম পারসেপশন, লুসিড ড্রিম, মেমরি রিজেনেরেটর, নিউরোনেটর ইত্যাদি টার্ম খুব সরলভাষায় ব্যখ্যা করে বুঝিয়েছেন।
সাধারণত দেখা যায়,এধরণের বইগুলোর এন্ডিং সন্তোষজনক হয় না। কিন্তু এই ক্ষেত্রে এন্ডিং এবং টুইস্ট পুরো সন্তোষজনক ছিলো। পুরো গল্পে কিছু কিছু জায়গা অসামঞ্জস্যপূর্ণ লাগছিলো সেগুলোও সব খাপে খাপে বসে যায়।
প্রচ্ছদটাও অনেক সুন্দর।
................................................................................
All that we see or seem, is but a dream within a dream- Edgar Allan Poe
রিভিউটি লিখেছেনঃ Uchchhash
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
#review
ভ্রম সমীকরণ
মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী
কি পড়লাম এটা?
গল্প নাকি নন ফিকশন? স্বপ্নের মধ্যে স্বপ্ন, ভ্রম....
গল্পে পরে আসছি। রাসেল খন্দকার। এই একটা চরিত্র এমন ভাবে এঁকেছেন লেখক যেকোনো মেয়ে তার প্রেমে পরতে বাধ্য। বলাই বাহুল্য আমিও... হ্যাঁ, দুর্বল হয়ে পরেছি। উফফ।এত নিখুঁত চরিত্র পৃথিবীর বুকে এমন কারো অস্তিত্ব আছে কি? 😭😭পাগল হয়ে যাওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবে না।
একদিন স্কুলে আই. কিউ টেস্ট হয় রাসেলের। এত বেশি মান আসে যে এক্সট্রিম ভ্যালুর কারণে গবেষকরা সেই পরীক্ষা বাতিল করে।
এরপর জায়গা, স্কুল বদল করে সে অন্য জায়গায় যায়। এরপর তার জীবনে অদ্ভুত ঘটনা ঘটতে থাকে তার ব্যাখ্যা আপনি কেনো বহু গবেষক এ নিয়ে তল পাচ্ছেন না। শেষ পর্যন্ত রাসেল কি পারবে তার নিজের জীবনে ঘটে চলা রহস্য গুলো সমাধান করতে?
প্রিমোনিশন, সাইকোডেলিক ইকুয়েশন, ডিএমটি,রোজহিপ নিউরন, সময় কে লিনিয়র এর বদলে বৃত্তাকার রূপে আলোচনা, মস্তিষ্কের ভিতর টাইম পারসেপশন কি নেই এখানে?
হ্যাঁ বই এর লেখার ভাষা সাবলীল কিন্তু বিষয় জটিল। একবার পড়ে বোঝা সম্ভব নয় পুরোপুরি। আপনার দোষ নয়। মস্তিষ্ক ধরতে পারবেনা।অন্তত আমার তো পারেনি। কয়েক দিন আগে আমি "মায়া শালিক" সিনেমা টি দেখে এই সকল জিনিস জানতে আগ্রহী। কিন্তু একটা বই পড়ার আগে তার ভিতরে ঠিক কি আছে তা সারাংশ দেখে বা কারো মুখে শুনে সম্পূর্ণ ধারণা অসম্ভব। যারা পড়েননি, সাইকোলজি, ফিকশন, নন ফিকশন এ মোড়া এই বই টি সকলের অবশ্য পাঠ্য। পড়ে ফেলুন, আপনার ধারণার ও বাইরে এখানে যা পেতে চলেছেন।
শেষ পৃষ্ঠা পড়ে পা থেকে মাটি সরে গেল... লেখক এটা কি করলেন😭
রিভিউটি লিখেছেনঃ Uchchhash
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
একানড়ে - শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য Ekanore by Sakyajit Bhattacharya
শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যর লেখা "শেষ মৃত পাখী" বইটি গতবছর বাংলা সাহিত্য জগতে বেশ আলোড়ন তৈরি করায় আমিও একটি কিনে ফেলেছিলাম। কিন্তু পড়ার সুযোগ এখনও হয়ে ওঠেনি বইটি হাতে না পাওয়ার কারণে। ভুতের গল্প প্রেমীরা শিগগিরি পড়ে ফেলতে পারেন বইটি। ঝমঝমে বৃষ্টির আলোহীন রাতে পড়ার উপযুক্ত বই।
বই – একানড়ে
লেখক – শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
প্রকাশক – সপ্তর্ষি প্রকাশন
প্রথম প্রকাশ – ১লা ফেব্রুয়ারী, ২০২২
পৃষ্ঠা – ১৩৩
মুদ্রিত মূল্য – ২০০/-
"একানড়ে, কানেকড়ে তেঁতুল পাড়ে, ছড়ে ছড়েএক হাতে তার নুনের ভাঁড়, আরেক হাতে ছুরিকান কেটে, নুন ঘসে বেড়ায় বাড়ি বাড়ি৷ " - সলীল চৌধুরী
বাংলা সাহিত্যে ভূত–প্রেত–শাকচুন্নি–পেত্নীদের আকর্ষণ চিরন্তন। শিশু থেকে বয়স্ক প্রত্যেকের কাছেই ভৌতিক জগতের হাতছানি সমানভাবেই জনপ্রিয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লোককথায় তাই এরা বারংবার ভিন্ন ভিন্ন রূপে ও নামে ঘুরে ফিরে আসতে থাকে। বঙ্গ জীবনে যদিও বাংলার লৌকিক অপদেবতা নিয়ে গল্প লেখায় ভাটা পড়েছিল বেশ কয়েক বছর ধরেই। মাঝে মাঝে কালজয়ী সেই সব ভূতদের প্রসঙ্গে তাই হয়ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শোনা যেত– “সেই সব ভূতগুলো গেল কোথায়?” ভূত প্রসঙ্গে বিখ্যাত ব্যাঙ্গকৌতুক রচয়িতা ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, "যেমন জল জমাইয়া বরফ হয়। অন্ধকার জমিয়া তেমনি ভূত হয়।” বাক্যের ‘অন্ধকার’ শব্দের ব্যবহার আক্ষরিক অর্থে করেননি তিনি। এই শব্দের ভিতর দিয়েই মানব মনের অন্তঃস্থলে জমে থাকা জটিল গভীর নিবিড় অন্ধকারময় মানসিক স্থিতির ইঙ্গিত করেছিলেন। ‘ভূত’ কি শুধুই মৃত অশরীরী অর্থেই ব্যবহৃত একটি শব্দ? মানুষের মনে জমে থাকা অন্ধকার চিন্তা ভাবনাও তো অপদেবতাদেরই লক্ষণ বহন করে।
যদিও ছোটবেলার রূপকথার গল্পে বা বড়বেলার অশরীরীদের গায়ে কাঁটা দেওয়া কাহিনীতে যে সমস্ত ভূত প্রেতদের উল্লেখ পাওয়া যায় তারা লৌকিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জুড়ে থাকে। এই রকম এক লৌকিক ভূত হল “একানড়ে”। ‘একটি নড়ি’ অর্থাৎ কিনা একখানা লাঠি হাতে ঘুরে বেড়ানো ভূত একানড়ের একটা মাত্র পা। একটামাত্র পা সম্বল করেই নড়বড়ে ভাবে সে রাত বিরেতে ঘুরে বেড়াত। লৌকিক কাহিনী অনুযায়ী অবশিষ্ট পা খানি ঝুলিয়ে সে তালগাছের মগডালে বসে থাকে। দুষ্টু ছেলেমেয়ে যারা বড়দের কথা শোনে না, ঠিক সময়ে খাওয়া দাওয়া ঘুম এই সব কাজ করেনা - তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে তালগাছে আটকে রাখে। বেশি দুষ্টুমি করলে তুলে আছাড় মারে। প্রচলিত গ্রাম্য শিশুতোষ ছড়া আছে যা শিশুদের শুনিয়ে রাতে ঘুম পাড়ানো হত –
“যে ছেলেটা কাঁদে, তাকে ঝুলির ভেতর ভরে
গাছের উপর উঠে তুলে আছাড় মারে।”
শাক্যজিৎ ভট্টাচার্যর লেখা “একানড়ে” এমনি এক তালগাছ ও তাকে ঘিরে লোকমুখে প্রচলিত গল্পকথার সাথে জড়িয়ে যাওয়া কিছু মানুষের জীবন নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস। নয় বছরের শিশু টুনু। বাবা মায়ের ফাটল ধরা দাম্পত্যের বলি। আসন্ন বিচ্ছেদের জটিলতায় বাবা-মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তার ঠাই হয় বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে তার মামাবাড়িতে। যে বাড়ির সামনে এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে এক সুবিশাল তালগাছ। গ্রামের মানুষ সেই তালগাছকে এড়িয়ে চলে, কারণ ওখানে নাকি একানড়ে বাস করে। যে রাতের বেলায় ছোট ছোট ছেলেদের ধরে নিয়ে যায়। দিদার কাছে টুনু গল্প শোনে –
‘ওই তালগাছ, ওটার মাথায় থাকে।’ চোখ বড় বড় করে ফিসফিসিয়ে বলছিল দিদা, ‘হাতে একটা বস্তা। বস্তায় করে নুন জমিয়ে রাখে, আর সেখানে ছোট ছোট বাচ্চাদের কান রেখে দেয়। যে বাড়ির জানলা খোলা পায়, তালগাছের মাথা থেকে এক লাফে সেই বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে সট করে। তারপর যেসব ছোট ছেলেরা শুয়ে থাকে, ছুরি দিয়ে এক কোপে তাদের কান কেটে নেয়। একানড়ের বড় বড় দাঁত, ভাঁটার মতো চোখ গোল গোল। রাতে শুনবি, সি সি আওয়াজ করে।’
টুনু ভয়ে দিদার কোলের ভিতর সেঁধিয়ে যায়। মামাবাড়িতে আছে দাদু, দিদা, বিশ্বমামা, মামী ও তাঁদের ছেলে গুবলু, আছে গ্রামের একদল কিশোর ও যুবক যাদের সাথে টুনুর বন্ধুত্ব হয়। কিংবা আদৌ হয়না। খেলার সাথীর খোঁজে হয়ত তাদের সঙ্গী হয় নিঃসঙ্গ মা-বাবা বিচ্ছিন্ন অসহায় টুনু। আর আছে টুনুর বারো বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া ছোটমামা। যার অপেক্ষায় টুনুর দিদা এখনও জানলার ধারে দাঁড়িয়ে রাস্তা দেখেন। জিজ্ঞাসা করলে বলেন “একানড়ে নাকি ধরে নিয়ে গেছে।”
এইসমস্ত ঘিরেই বয়ে চলে টুনুর শৈশব। স্কুল যাওয়ার অনিশ্চয়তা, মাকে দেখতে না পারার বিপন্নতা, বাবাকে মনে পড়ার মনোবেদনা তার শিশু মনের জগতে ধুসরতা মাখানো কল্প জগতের জাল বিস্তার করতে থাকে।
শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য লিখিত বই এর আগে পড়ার সুযোগ হয়নি। বইটি হাতে পেয়ে আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম। প্রথমেই যে বিষয়টি আকৃষ্ট করল তা হল বইয়ের গদ্যশৈলী। বহু বছর পর এক অসাধারণ ভাষার ব্যবহারে গদ্য রচনা পড়ার সুযোগ হল যা ইদানিংকালের বাংলা সাহিত্যে প্রায় বিরল। লেখকের অপূর্ব কাহিনী বিন্যাস, রূপকের সাহায্যে গল্পের অন্তর্নিহিত অর্থ ব্যাখ্যা করা, শব্দচয়ন, বাক্য বিন্যাস এবং সর্বোপরি কাহিনীতে না বলা কথার মাধ্যমে গায়ে কাঁটা দেওয়া হিমশীতল পরিবেশ–পরিস্থিতির মাধ্যমে পাঠক মনে ভয়ের সঞ্চার করার অসাধারণ দক্ষতা মুগ্ধ করে দেয়। গল্পটিকে নিছক ভূতের গল্প বলা যায়না। একটি অসহায় নিঃসঙ্গ শিশুর একাকিত্বের মনস্তত্ব ও গ্রামীণ অন্ধবিশ্বাস মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। পাঠক ভয় পাওয়ার সাথে সাথে টুনুর মতই অসহায়তা অনুভব করেন। লেখার মাধ্যমে যে একটি স্থানের পরিবেশ–পরিস্থিতি, আচার- বিচার, লোকাচার, উৎসব-অনুষ্ঠানকে ফুটিয়ে তোলার অসাধারণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন লেখক। কুর্নিশ জানাতে হয় তার লেখার গভীরতাকে। ছোট ছোট মুহূর্তকেও তিনি অবলীলায় লেখায় ব্যবহার করে তৈরি করেছেন এক রহস্যময় জগতের। সম্ভবত শিশুমনের রহস্যময়তা এই সবের ভিতরেই তৈরি হয়। তন্ত্র মন্ত্র ভূত পিশাচ এসব ছাড়াও বাস্তব পৃথিবীতেই যে অপার্থিব ভৌতিক জগত রয়ে যায় তা লেখক তার লেখার প্রতি ছত্রে ব্যক্ত করেছেন। বাংলা সাহিত্যের জগতে আগামী দিনে এক অসাধারণ মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত লেখকের পদচারনা সূত্রপাত হয়ে গেল তা বলাই বাহুল্য।
ভালো থাকুন সকলে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Sanjhbati
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
ফুসিয়া হাউস - তানজিনা হোসেন Fuscia House by Tanzina Hossain
review
বই: ফুসিয়া হাউস
লেখক: তানজিনা হোসেন
প্রকাশনী: বাতিঘর
সতর্কবার্তা: স্পয়লার সমৃদ্ধ আলোচনা
ঘটনা:
বিখ্যাত শিল্পপতি, আর্ট কালেক্টর মৃত জেরল্ড চৌধুরীর স্ত্রী সোহা চৌধুরী হঠাৎ এক রাতে নিজের পশ, পশ, পশ, পশ, পশ, পশ…… (বইতে শব্দটা ইনফিনিট বার বলা হইছে) অবতার ভুলে গিয়ে উদভ্রান্তের মত আচরণ শুরু করলেন। কর্মচারিরা উপায় না পেয়ে পারিবারিক চিকিৎসক শ্যামল দেবনাথকে খবর দেন। ডাক্তার শ্যামল সোহা চৌধুরীকে তার ক্লিনিকে ভর্তি করেন। কিছুটা সুস্থ হয়েই সোহা ম্যাডাম ঘটা করে জানান দেন জেরল্ড চৌধুরী অ্যাজমা এ্যাটাকে মারা যান নাই, সোহা আর শ্যামল তাকে হ*ত্যা করেন।
তদন্তে নামেন পুলিশ অফিসার লোকমান। সাথে এস আই বাবুল এবং আর্ট সমঝদার রুমি। গল্পে যুক্ত হয় একটা রহস্যময় পোভা চিত্র। কাহিনি এমনভাবে আগাতে থাকে, পুরোটা সময় মনে হতে থাকে এই চিত্রটাই সব নষ্টের গোড়া। কিন্তু শেষে গিয়ে জানা যায় অতীতের এক পাপের বোঝা বইতে না পেরে জেরল্ড সাহেব স্বেচ্ছা মৃত্যুবরণ করেন। সোহা আর শ্যামল শুধু ওনার ইচ্ছাপূরণ করেন।
ঘটনার অন্তরালে:
জেরল্ড চৌধুরী অক্সফোর্ডে পড়াকালীন সময়ে ত্রিমুখী সম্পর্কে জড়িত ছিলেন সোহা আর চন্দ্রিমার সাথে। প্রেমের ফসল হিসেবে চন্দ্রিমা প্রেগনেন্ট হন। চন্দ্রিমা একবার জেরল্ড সাহেবের বাসায় ফুসিয়া ফুল নিয়ে যান। এই ফুল যার বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় তাকে জীবন দিয়ে রক্ষা করতে হয়।
এই আজগুবি কথার পরিপূর্ন সুযোগ নেন পশ সোহা ম্যাডাম। তিনি চন্দ্রিমাকে বলেন প্রেগনেন্সির কথা গোপন করে জেরল্ডের জীবন থেকে চলে যেতে, নাহয় জেরল্ডের সম্মান নষ্ট হয়ে যাবে (নষ্টলোকের আবার সম্মান নষ্ট!)। চন্দ্রিমা গোপনে নেপাল চলে যান।
এর ৩২ বছর পর কোন কারণ ছাড়াই পোর্ট্রেট ছবি কালেক্টর জেরল্ড হঠাৎ পাগলায়া যান ধর্মীয় পোভা চিত্র সংগ্রহের জন্য। সেই ছবি নিয়ে তার বাসায় আসেন চন্দ্রিমার মেয়ে ফুসিয়া। ফুসিয়াকে দেখে জেরল্ড জানতে পারেন সে তার মেয়ে। এটা মানতে না পেরে জেরল্ড মরে যেতে চান।
এই হচ্ছে মোটাদাগে বেসিক প্লটলাইন। লেখিকার লেখনশৈলি দারুণ। টানা পড়ে যাওয়া যায়। পড়ার সময় মিথ, নেপালি আর্টের ইতিহাস আর মিস্ট্রিতে ডুবে ছিলাম। তবে শেষ করার পরে যখন মাথার মধ্যে পুরোটা নাড়াচাড়া করছি, তখন আসলে ভালোলাগার অনুভূতি চলে গেছে।
আর্ট আর যে ২/১টা বৈজ্ঞানিক কথা ছিল সেগুলোর সাথে কাহিনির কোন সম্পর্ক নাই। খুবই সোজাসাপ্টা মিস্ট্রি। তবে সেই সোজাসাপ্টা মিস্ট্রিতেও গোজামিল।
*জেরল্ড চৌধুরী হঠাৎ কেনো রিলিজিয়াস নেপালি পোভা চিত্রের জন্য ক্ষেপে গেলেন? আপাত দৃষ্টিতে নেপালি আর্ট হিস্ট্রি এবং রহস্যকে টেনে আনা ছাড়া আর কোন কারণ পাই নাই।
*চন্দ্রিমা তার মেয়েকে নিয়ে তিব্বতের লোকালয়ের বাইরে নিভৃত জীবনযাপন করতেছিল। সেখান থেকে ফুসিয়া কিভাবে জানতে পারল জেরল্ড চৌধুরী নেপালের কোন এক আর্ট ডিলারের কাছে পোভা চিত্র খুঁজতেছে? সেই আর্ট ডিলার আবার এক্সিডেন্টে (!) মারা গেছে এবং চিত্র নিয়ে কোন আগাম নোটিশ বা যোগাযোগ ছাড়াই ফুসিয়া হাজির! পুরাই এসপিওনাজ কাজ কারবার।
*ফুসিয়া নেপাল থেকে বাংলাদেশ ঘুরে গেল পাসপোর্ট দিয়ে। কিন্তু তার নাকি ন্যাশনাল আইডি কার্ড নাই এজন্য নেপাল পুলিশ তারে ধরতে পারে নাই। আইডি কার্ড ছাড়া পাসপোর্ট বানানোই তো সম্ভব না। আবার পাসপোর্টেই আইডির সব ইনফরমেশন থাকে।
• সবচে বড় গোজামিল জনরায়। বইয়ের সামনে পেছনে সায়েন্স ফিকশন বলা হইছে। কিন্তু হ্যারি পটার যতটা ইয়াং রোমান্টিক জনরায় পরে, এইটা ঠিক ততটাই সায়েন্স ফিকশন।
আরো টুকিটাকি অনেককিছুই খোঁচাইতেছে। চমৎকার লেখনশৈলির জন্য পাঠ অনুভূতি চমৎকার হলেও পাঠ পরবর্তী অনুভূতি হতাশ করে দিছে আমাকে।
Posted By:
boibd
মুখের আড়ালে মুখোশ - সরসিজ সেনগুপ্ত Mukher Arale Mukhush by Sarjit Sengupta
review
বই - মুখের আড়ালে মুখোশ
লেখক - সরসিজ সেনগুপ্ত
প্রকাশক - সোম পাবলিশিং
8697267510, 9874094834
পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হবার দরুণ আত্মপ্রত্যয়ের সঙ্গে বলতে পারি, বাংলা সাহিত্যে মনোরোগ নিয়ে ভালো করে গবেষণা করে লেখা সুপরিচিত কাহিনি বেশি নেই। পাঠকরা সাধারণত বেশ কিছু উপন্যাস এবং গল্পের কথা বলে থাকেন, যেগুলিতে আপাতদৃষ্টিতে মনোরোগীর, বা রোগের বর্ণনা আছে, কিন্তু সেগুলি প্রধানত লেখকের মস্তিষ্কপ্রসূত, কোনও রকম রিসার্চ তাঁরা করেননি, এবং মনোরোগ সম্পর্কে নিজের রোম্যান্টিসিজম এবং মনের মাধুরী মিলিয়ে একটা জগাখিচুড়ি পরিবেশন করেছেন। মনোরোগ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল কেউ হয়ত ভেবেচিন্তে বলবেন, ওমুক বইয়ে ওমুক চরিত্রের মানসিক রোগ ছিল, এবং ওই জায়গায় ওমুক রোগলক্ষণ বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু হিসেব মেলে না। বলা বাহুল্য, আমার বক্তব্য কাহিনি সম্পর্কে, তথ্যভিত্তিক বই বা প্রবন্ধ সম্বন্ধে নয়।
সরসিজ সেনগুপ্তর লেখা "মুখের আড়ালে মুখোশ" বাংলা সাহিত্যের এই ঘাটতিকে পুরণ করার দিকে এক বলিষ্ঠ এবং সফল প্রয়াস। বলা বাহুল্য, কোন মনোরোগ নিয়ে এই কাহিনি আধারিত, এবং কাহিনির বিন্যাস নিয়ে কিছু লেখা উচিত নয়, কারণ কাহিনিটি রহস্যকাহিনি এবং রোমাঞ্চকর - তাই লেখকের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে সে সম্বন্ধে কিছু বলা উচিত নয়। রহস্যোন্মচনের কাজ বইয়ে যাঁরা করেছেন - অর্থাৎ পুলিশ এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মনোবিদ - তাঁদের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।
সুখপাঠ্য লেখা, এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ ডিটেলের দিকে নজর - এই দুইয়েরই সমন্বয় সরসিজর কাহিনিকে করে তুলেছে মনোগ্রাহী। সোম পাবলিশারের প্রকাশনার ডিটেলও ভালো, ফলে সব মিলিয়ে বইটি সব দিক থেকেই পাঠযোগ্য এবং সুপারিশ করার মতো।
রিভিউটি লিখেছেনঃ অনী দেব
Posted By:
boibd
প্রতিশব্দ - অভিজিৎ তরফদার Prati Shabdo by Aovijit Tarofder
Review
নাম _ প্রতিশব্দ
লেখক_ অভিজিৎ তরফদার
বিষয় _ রহস্য গল্প
প্রকাশ _ নবকল্লোল ১৪২৮
লেখক পরিচিতি
অভিজিৎ তরফদারের জন্ম ১২ মার্চ, ১৯৫৯। শিক্ষা বর্তমান মিউনিসি মেডিক্যাল কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এম ডি পাশ করে তিন বছর মী চিকিৎসক হিসাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা। চণ্ডীগড়ের পোরেট ইনস্টিটিউট থেকে নেফ্রোলজিতে ডি এম বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার ফেলোশিপ নিয়ে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে উ শিক্ষাগ্রহণ। বর্তমানে কলকাতার এস এস কে এম (পিজি) হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক। স্কুল-কলেজের ছাত্র অবস্থায় পর-পত্রিকায় লেখালেখি, পত্রিকা প্রকাশ। শরৎ শতবর্ষে প্রবন্ধ ছোটগল্পের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার। পরবর্তী প্রায় দশ বছর সাহিত্যচর্চায় পরা। ১৯৯৩-এ দেশ পত্রিকার প্রথম প্রকাশিত প্রতিভা। পরের বছর ছোটবড় পত্রপত্রিকার পাতা। ১৯ মৌলিক পূর্ণাঙ্গ নাটক রচনার জন্য 'সুন্দর' । মহতি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস পেশা এবং লেখালেখির মধ্য থেকে যেটুকু সময় নিজের জন্য থাকে সেটুকু তোলা থাকে কাছের মানুষদের সঙ্গে কাটানোর জন্য।
Review
তিনজন বড়োলোক বাড়ির যুবক এক সাথে এক দিনে উধাও হয়ে যায় এক পার্ক থেকে। পুলিশি তদন্তে জানা যায় যে তিন জনই নেশা ভাঙ করা বড়োলোকের বখাটে ছেলে।একসাথে পার্কে নেশা করত। এছাড়া আর কোনও সূত্র নেই।তবে ওই পার্কে প্রতি দিন আসা দুই বুড়োর মধ্যে এখন শুধু একজনই আসে। তিন দিন পরেই ওই তিনজন পার্কে ফিরে আসে।পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসে।তবে একটা অবাক মিল ,তিনজনেরই কানের পর্দা ফেটে গেছে। অপরাধী বৃদ্ধ স্বীকারোক্তি দিলেও সৎ বিবেকবান পুলিশ অফিসার তার বিরুদ্ধে কোনও স্টেপ না নিয়ে প্রমাণের অভাবের জন্য তাঁকে মুক্তি দেন।
কিন্তু কেন ? তার জন্যই পড়তে হবে গল্পটা। অপরাধের পিছনে থাকা গল্প বলে এটাই হয়তো উচিত শাস্তি ছিল।
রিভিউটি লিখেছেনঃ অরুপ
Posted By:
boibd
শেষ মৃত পাখি - শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য Sesh Mrito Pakhi (Rahasya Kahini) By Sakyajit Bhattacharya
Review
শেষ মৃত পাখি
সুপ্রকাশ
মূল্য ₹৫২০
শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
পঁয়তাল্লিশ বছর আগে দার্জিলিঙের এক সম্ভাবনাময় কবি, অমিতাভ মিত্র খুন হয়েছিলেন। অভিযোগের তীর ছিল তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু রহস্য-ঔপন্যাসিক অরুণ চৌধুরীর দিকে। কিন্তু নানা পরস্পর বিরোধী প্রমাণে সে অভিযোগ দাঁড়ায়নি।
তনয়া একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক। অমীমাংসিত খুনের কাহিনী নিয়ে ধারাবাহিক লিখছেন পত্রিকায়। অমিতাভ মিত্রের হত্যা-রহস্য নিয়ে লেখার জন্য দার্জিলিঙে এলেন তনয়া। তারপর? তনয়া কি খুঁজে পেলেন এই হত্যারহস্যের সমাধান?
জাপানের হনকাকু ঘরানার থ্রিলার নিয়ে আলোচনা করতে করতে এই উপন্যাসের একটি চরিত্র আরেক চরিত্রকে কথাচ্ছলে বলেন ".... সাহিত্য না থাকলে শুধু শুকনো মগজের খেলা কতক্ষণ ভালো লাগে মানুষের??"
আর ঠিক এই জায়গাতেই"শেষ মৃত পাখি" অন্য সমস্ত থ্রিলার থেকে সম্পূর্ণরূপে আলাদা।
সত্তরের দশকের এক সম্ভাবনাময় কবির হত্যারহস্য নিয়ে তদন্ত করতে উনপঞ্চাশ বছর পর দার্জিলিং এ আসেন এক সাংবাদিক। তনয়ার নিজের ভাষায় তিনি সমাধান খুঁজছেন না, তিনি খুঁজছেন একটি স্টোরি। এবং তার এই স্টোরি খোঁজার সূত্রে তিনি একটি নয় পেয়ে যান দু-দুটো গল্প, দু দুটো আনসলভড মিস্ট্রি। একটি গল্পে রয়েছেন অমিতাভ মিত্র, অরুণ চৌধুরী, ড্যানিয়েল লামা, ধনরাজ গম্বু প্রভৃতি চরিত্র, আর একটি গল্পে রয়েছেন শুদ্ধসত্ত্ব, প্রণবেশ, মাধব রক্ষিত, আনিসুর, বিমলবাবু। এ এক গল্পের মধ্যে আরেক গল্প। একটি গল্পের রহস্য সমাধান আরেকটি গল্প ছাড়া সম্ভব নয়। পড়তে পড়তে কখনো মনে হতে পারে অ্যান্থনি হরওয়িজ এর ম্যাগপাই মার্ডারস পড়ছেন, সেই গল্পের মধ্যে গল্প, কিন্তু বিশ্বাস করুন বইয়ের শেষে বুঝতে পারবেন "শেষ মৃত পাখি" সম্পূর্ন আলাদা এবং ব্যক্তিগত ভাবে ম্যাগপাই মার্ডারস এর থেকে অনেক অনেক ভালো একটি বই। কারণ এই দুই গল্পের মাঝে আছে উত্তাল সত্তর, তার লিটল ম্যাগাজিন, তার বীতশোক ভট্টাচার্য, অমিয়ভূষণ মজুমদার, নিশীথ ভড়, তুষার, এবং তার নকশাল আন্দোলন। সত্তর দশক ছাড়াও এই গল্পের আরেক প্রধান চরিত্র বর্ষার দার্জিলিং, যে দার্জিলিংয়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে লেখক ম্যাজিক রিয়ালিজম এর আশ্রয় নিয়েছেন। পাহাড়ের ধারে সেই কালো ঘোড়া বহুদিন মনে থাকবে।
আর এই গল্পের মিষ্ট্রি বা সাসপেন্স এলিমেন্ট, শেষ দশ পাতা আগেও ধরতে পারবেন না কি হচ্ছে। ওই যে দুটো ইন্টার ডিপেন্ডেনট রহস্য আর তার সাথে থ্রি লেয়ার্ড সমাধান।
৪০০ পাতার একটি থ্রিলার উপন্যাস শেষ কবে বাংলায় বেরিয়েছে আমার মনে নেই, কিন্তু থ্রিল এবং সাহিত্যের এই মিশেল, দু দিনে এই বই শেষ করতে বাধ্য করেছে। এই বছর, এই দশক এবং এই শতকের সেরা থ্রিলার।
রিভিউটি লিখেছনঃ সমীরণ দাস
review
বই - শেষ মৃত পাখি
লেখক - শাক্যজিত ভট্টাচার্য
এই উপন্যাস সম্পর্কে কি বলি... শুধুই মুগ্ধতা... গোগ্রাসে গিলেছি সব টা.. দীর্ঘ 401 পাতার বই.. লেখক শেষ পর্যন্ত টান টান উত্তেজনা ধরে রেখেছেন.. গল্প লেখার ধরণ টাও বেশ সুন্দর.. নেট থেকে টুকে এক গাদা ইনফরমেশন নেই তার বদলে অপরাধের জটিল মনস্তত যা পেঁয়াজ এর খোসার মত প্রতি স্তরে চমক দেবে... বহু বছর আগে হওয়া এক উঠতি কবির মৃত্যু.. তার দায় এসে পড়ে তার এ বন্ধু অরুণ চৌধুরীর উপর... সাংবাদিক তনয়া তার স্টোরি কভার করতে আসেন... সেই নিয়ে গল্প এগোবে.. এছাড়া এ বই নিয়ে যাবে 70's এর লিটল ম্যাগাজিন এর উত্থান... নতুন কবি থেকে হনকাকু.. কবিতার এত গভীর অর্থ এর আগে উপলব্ধি করিনি... খুব মন দিয়ে পড়েছি.. কিছু মিস করছি না তো.... দার্জিলিং, পাহাড়, বর্ষা ভেজা পথ, এফিটাফ.. গরম কফি.. প্রতি মুহূর্তে নস্টালজিক করে তুলবে...সাথে এই জমজমাট থ্রিলার... আমি বহু দিন পর এত ভালো থ্রিলার পড়লাম.. যারা ভালোবাসেন অবশ্যই পড়ুন..
PS :প্রচুর বই পড়ি.. কিন্তু রিভিউ লেখা হয়নি... খুব একটা ভালো পারিনা লিখতে ... আজ মনে হলো.. এ বই অনেকের পড়া উচিত যারা আমার মত থ্রিলার ভালোবাসে...
রিভিউটি লিখেছনঃ মৌসুমী দত্ত
review
বই - শেষ মৃত পাখি
লেখক - শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য
পঁয়তাল্লিশ বছর আগে দার্জিলিঙের এক সম্ভাবনাময় কবি, অমিতাভ মিত্র খুন হয়েছিলেন॥ অভিযোগের তীর ছিল তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধু রহস্য-ঔপন্যাসিক অরুণ চৌধুরীর দিকে ॥ কিন্তু নানা পরস্পর বিরোধী প্রমাণে সে অভিযোগ দাঁড়ায় নি। তনয়া একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ॥ অমীমাংসিত খুনের কাহিনী নিয়ে ধারাবাহিক লিখছেন পত্রিকায় ॥ অমিতাভ মিত্রের হত্যা রহস্য নিয়ে লেখার জন্য দার্জিলিঙে আসে তনয়া।
তনয়া এতবছর আগের সেই রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে খুঁজে পায় আরও অসংখ্য রহস্য।
এক রহস্যের সমাধান করতে করতে রক্তবীজের মতো তৈরি হতে থাকে একের পর একেক নানান রহস্য?? শেষ পর্যন্ত কি হলো জানতে হলে পরতেই হবে এই উপন্যাসটি।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Anamika
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
তুমি আছো আমি আছি - জয়দীপ চক্রবর্তী Tumi Achho Ami Achhi by Joydip Chakrabarty
Review
বই- তুমি আছো আমি আছি
লেখক - জয়দীপ চক্রবর্তী
পৃষ্ঠা- ১৭৫
রেটিং- ৮/ ১০
জয়দীপ চক্রবর্তীর লেখা তুমি আছো আমি আছি উপন্যাসটি পড়তে পড়তে লেখক ও উপন্যাস সম্বন্ধে নতুন করে উৎসাহ জাগে। এই উপন্যাসটি আমার জয়দীপ চক্রবর্তী লেখা প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসটি যদিও রাজদীপ এবং রুসার প্রেমের কাহিনী কিন্তু পড়তে পড়তে কখনো কখনো মনে হয় আমি যেন মূল চরিত্র রাজদীপের মধ্যে ঢুকে যায়। লেখক রাজদীপ এর মধ্য দিয়ে যে জীবন দর্শন তুলে ধরেছেন তা এক কথায় অনবদ্য। রাজদীপ তার মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রেখে যে জীবন সংগ্রামের সামিল হয়েছে তার মধ্যে লেখক বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটি পড়ার পরেও মনেতে তার একটি রেস লেগে আছে ।সকলকে বইটি পড়ার অনুরোধ রইলো, ভালো লাগবে।
review
বইয়ের নাম- তুমি আছো আমি আছি
লেখক - জয়দ্বীপ চক্রবর্তী
এই বইয়ের মধ্যে কবি তুলে ধরেছেন আমাদের জীবনের পরম সত্যকে।
আমরা মানুষরা শুধুমাত্র আনন্দ উপভোগের জন্যই ছুটে যাই। আসলেই আমরা সবাই মৃত।
আমরা কেউ আমাদের মধ্যেকার আসল সত্তাটাকে
খুঁজে পেতে চাইনা, চিনে নিতে চাইনা একথা সত্যই।
এই উপন্যাসেও লেখক তেমনই রাজদ্বীপকে বারবার জীবনের পথে একা করে দিয়েছেন, কেড়ে নিয়েছেন তার পরম ভালোবাসার মানুষগুলোকেও।
তবে সবশেষে তাকে ফিরিয়েও দিয়েছেন তার আসল মানুষকে।
ঈশ্বরের প্রতি রাজদ্বীপের যে সংকচ বা সন্দেহ ছিল তা সবই মিটিয়ে দিয়েছেন।
হাজারো সমস্যার মাঝেও যে কখনো হাল ছাড়া যাবেনা, জীবন যে যুদ্ধের ময়দান সেটাই বুঝিয়ে গেছেন লেখক, তাঁর কলমের আঁচড়ে।
সবটুকু উপন্যাস পড়ে সত্যিই খুব ভালো লাগলো।মনে হচ্ছিল হারিয়ে যাচ্ছি ক্রমশ। জীবন আসলেই বড়ো জটিল তবে নিজের উপর ভরসা রেখে সৎপথে চলতে হবে, তাহলেই আমরা নিজেদের খুঁজে পাবো, জীবনের আসল অর্থ বুঝতে পারবো।❤️
Subscribe to:
Posts (Atom)


%20-%20%E0%A6%B0%E0%A7%82%E0%A6%AA%E0%A6%95%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE.jpg)














%20By%20Sakyajit%20Bhattacharya.jpg)
