Posted By:
boibd
আলোর মানুষ - ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় Alor Manush || Tridib Kumar Chattopadhyay
বইয়ের নাম _ "আলোর মানুষ"
লেখক_ ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়
পাবলিকেশন _ পত্রভারতী
প্রথম প্রকাশ _ ডিসেম্বর ২০২২
মূল্য_২৭৫ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা _১৭৬
জনরা - সামাজিক জীবনধর্মী মূলক উপন্যাস
অনেকদিন পর একটা জীবনী ধর্মী লেখা পড়ে মন ছুঁয়ে গেলো। ত্রিদেব বাবুর আলোর মানুষ বইটা এক টানটান ঘটনা বহুল। বইটা নিমাই ( চৈতন্য মহাপ্রভু) জীবন আশ্রিত একটা উপন্যাস।বইটা দুইটি পর্বে বিভক্ত।
প্রথম আর দ্বিতীয় পর্ব।
দুই পর্বে বইটা নিমাই এর জন্ম মুহুর্ত থেকে মৃত্যু রহস্য অব্দি তুলে ধরা হয়েছে। বইটা বাড়তি কথা নেই।যতটা দরকার লেখক ঠিক ততটাই আলোচনা করেছেন।অহেতুক পৃষ্ঠা সংখ্যা আর বাড়তি কথা বলে পাঠক দের এক ঘেঁয়েমী তে পড়ার দিকে খেয়াল রেখেছেন।
এইবার গল্পের বিষয় বস্তু নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করছি। বইটা দুই পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্ব আমরা যখন পড়া শুরু করবো তখন নিমাই এর ছোটো বেলার জীবন যাত্রা জানতে পারবো। প্রথম জীবনে তার দুষ্টুমি তে অতিষ্ঠ হবার পাড়া প্রতিবেশীর নিদারুণ হাহাকার। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও পড়াশোনা না করতে চাওয়া। চুরি করে ফল খাওয়া। বাবার কাছে তিরস্কৃত হয়ে মন খারাপ করে পুকুর পাড়ে বসে থাকা ও সেইখানে প্রথম লক্ষ্মীর সাথে পরিচয় হওয়া তাদের প্রেম এবং বিয়ে করা। সাথে নিজেকে চিনতে পেরে শিক্ষা গ্রহণ করা। ও জ্ঞানের আলোয় পুরো নবদ্বীপ জুড়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া।তার স্ত্রী লক্ষীর মৃত্যু আর সংসার ছেড়ে সন্ন্যাসী জীবন বেছে নেওয়া এটাই প্রথম পর্ব বিষয়বস্তু।
দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় নিমাই এর স্বপ্নের মাধ্যেমে পুরির নীলাচল ঠাকুর এর ডাক। জগন্নাথ ঠাকুর এর ডাকে সাড়া দিয়ে পায়ে হেঁটে তার যাত্রা পথের বিবরণ।পথের মধ্যে তার ভক্তদের নিয়ে পুরীর দিকে পথ চলা এবং সাথে সাথে তার জীবনের বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা আর লীলা লেখক খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। সুলতান হোসেন শাহ সাথে উড়িষ্যা রাজার দ্বন্দ্ব।রামচন্দ্র খান এর সাথে নৌকায় বসে দুই রাজার আলোচনা। নদীর যাত্রাপথে ভক্তদের নিমাই কে উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। উড়িষ্যা পৌঁছালে রাজার নিকট তার ভালোবাসা।রাজার তাকে আপন করে নেওয়া। রাজার এই আপন করে নেওয়া বিভিন্ন সার্থপর লোকদের নিমাই এর প্রতি শত্রু ভাবাপন্ন হওয়া। বৃন্দাবন থেকে কাশী হয়ে পুরো ভারত জুড়ে ধর্মীয় প্রচার বারাণসীতে।
এবং যেহেতু নিমাই এর মৃগী রোগ এর বিবরণ। আর মৃত্যুর পূর্বে জগন্নাথ দর্শন ও সুচলো ইট বাম পায় এর অগ্রভাগ পায়ে ডুকে গিয়ে বিষিয়ে যাওয়া।আর সর্বশেষ প্রধান শত্রু বিদ্যাধর এর ষড়যন্ত্র। আর সর্বশেষ এ নিমাই ( চৈতন্য মহাপ্রভু) অন্তধান বা মৃত্যু এটাই দ্বিতীয় পর্ব বিষয়বস্তু।
বইটা এক কথায় অপূর্ব সুন্দর। তাই সবার কাছে আমার অনুরোধ আপনারা অতি অবশ্যই ত্রিদেব কুমার চট্টোপাধ্যায় লেখা "আলোর মানুষ" পড়বেন।
রেটিং _ গল্পটির পাতায় পাতায় যে যে পরিমাণে রহস্য ইতিহাস ও চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন এর বিবরণ তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও তার মৃত্যুর ব্যাখা ও তার জন্ম থেকে মৃত্যু পুরো জীবন লেখক লিখেছেন। বইটা পড়া শুরু করলে শেষ না করে কোনো উপায় নেই। তাই আমার রেটিং ১০ এর মধ্যে পারফেক্ট ১০
রিভিউটি লিখেছেনঃ বাপন দা
Posted By:
boibd
কুয়াশার ফুল - সায়ক আমন Kuashar Phool by Sayak Aman
কুয়াশার ফুল
সায়ক আমান
"আমরা যা দেখি তা কি সবসময় সত্যি হয়? আমাদের বেঁচে থাকা নাকি আমাদের ভালোবাসা কোন টা অলৌকিক সায়ন বাবু? জীবন হল জন্ম ও মৃত্যু র মাঝে কিছু না ভুলতে চাওয়া গল্প মাত্র।" দুর্দান্ত একটি রোমান্টিক রহস্য উপন্যাস।ভালোবাসা শুধু এখানে নায়ক ও নায়িকা র মধ্যে নয়, ভালোবাসা এক জন্মদাত্রী মা এর সাথে সন্তানের, ভালোবাসা একটি মেয়ের সাথে প্রকৃতির। ভালোবাসা অনন্ত কাল এর যার কোনো অন্ত নেই।
রহস্য পুরো জিগশ পাজল এর মতো ছিল যার সকল টুকরো আপনি শুরু থেকে হাতরাবেন,একদম শেষেই মেলাতে পারবেন, প্রতি পদে পদে টুইস্ট দুরন্ত ভাবে এগিয়েছে আর এই দুরন্ত রহস্যর মাঝে ভালোবাসা এসেছে তীব্র গরম দাবদাহে এক মুঠো শান্তির আশ্রয়স্থলের রূপ ধরে। রহস্যর জায়গা যতবার ছোঁবেন ততবার শুনতে পাবেন আপনার হৃদয়ের ধ্বনি আর ভালোবাসায় প্রবেশ এর সাথে সাথে আপনাকে সে অবশ করে দেবে।আপনার হাতে রেখে যাবে একটি নীল ফুল।
আপনি চাইবেন এ মুহূর্ত স্তব্ধ যদি হতে পারতো! কি অসাধারণ ম্যাজিক করার ক্ষমতা লেখকের, নায়ক নায়িকার মধ্যে স্পর্শ না করে শুধু তাকিয়ে ভালোবাসার এক মূর্ত বিষ্ময়কর মুহুর্তের সাক্ষী থাকবেন আপনি। এবার আমি গল্পের বিষয়বস্তু নিয়ে একটুও কিছু না বলে শুধু মনের অনুভূতি তুলে ধরলাম। বই শেষ এর পর ভালোলাগা মিশ্রিত একটা মন খারাপ মনের মধ্যে ধরা দেবে। আপনার চারিদিকে অন্ধকারে একটা নীল আলো আপনাকে ঘিরে থাকবে। একজন মা তার সন্তান কে বাঁচাতে,তার মঙ্গলে শেষ পর্যন্ত কত দূর যেতে পারেন? চিরকাল ধরে ধর্ম, গোঁড়ামির অন্ধকারে কিছু মানুষ নিভিয়ে দিয়ে এসেছে যে সকল নিরপরাধ, নির্দোষী দের,তাদের সম্মিলিত প্রতিশোধের এক জ্বলন্ত কাহিনী।
আমি চাই আপনারা সবাই পড়ুন বইটি। নিঃসন্দেহে "ভাসান বাড়ি" র যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী এসে পড়ল তবে?
রিভিউটি লিখেছেনঃ Riya
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
বইয়ের নাম - কুয়াশার ফুল
লেখক - সায়ক আমন
ছোট একটি জনপদ যেখানে কিছুদিন অন্তর অন্তর ঘটে যায় কিছু অদ্ভুত ঘটনা, চুরি হয়ে যায় কিছু বাচ্চা,গ্রামের মানুষের সন্দেহ গঙ্গা নামের এক মধ্যবয়সী মহিলা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত,সে নাকি ডাইনি। আবার সেই গ্রামের কিছু খেটে খাওয়া মানুষের কাছে সে সাক্ষাৎ ধন্যন্তরি, সেই গ্রামেরই এক প্রভাবশালী দিলু জেঠুর আমন্ত্রণে সেই গ্রামে এসে পড়ে সায়ন, ছোট বেলা থেকে ডাইনির গল্পঃ পরে বড় হয়েছে সে।
গল্পের পরতে পরতে রহস্যের জট। এর ই মধ্যে সায়ন ও মৌলির প্রেম, কে এই মৌলী, কি তার পরিচয়?? গল্পের শেষ পর্যন্ত না পড়লে জানা যায় না গঙ্গা কি সত্যি ডাইনি, কেনো বা শুধু সেই বাচ্চা চুরি হয় যার বাবা মায়ের কোনো যোগ্যতাই নেই সন্তান পালন করার, শেষ পর্যন্ত গঙ্গার কি পরিনতি হয় তা জানার জন্য শেষ অবধি এক নিশ্বাসে পরে ফেলা যায় এই বই। রোমান্স আর রক্তের এই মেলবন্ধন বেশ প্রশংসা যোগ্য।
সবশেষ বলা যায় এই রোমাঞ্চকর প্রেমের উপন্যাস টি সবার জন্যে অবশ্যপাঠ্য।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
উপন্যাসের - কুয়াশার ফুল
লেখক - সায়ক আমান
মুদ্রিত মূল্য - ₹৩২৫
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২০৭
প্রথম প্রকাশ - বইমেলা, ২০২৩
প্রকাশক - Patra Bharati
রিভিউ লিখেছেন - শুভজিৎ -এর কলমে
মতিপুরে একটার পর একটা চুরি হচ্ছে। না কোনো সম্পত্তি নয় বরং শিশু। সাধারণের ধারণা এটা একাকী থাকা গঙ্গা নামের এক ডাইনির উপদ্রব। আবার অন্যদিকে এই গঙ্গারই গ্রামে বেশ নামডাক আছে বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। সায়নের বাবার বন্ধু জননেতা দিলু জ্যেঠু, ল পাশ ছেলে সায়ন'কে সেই কথা জানায়। কারণ সায়নও ছোটো থেকেই ডাইনির গল্প শুনতে ও পড়তে ভালোবাসে। শেষমেশ সায়ন দিলু জ্যাঠার অনুরোধে মতিপুরে এসে পৌঁছায়। তার কয়েকদিনের মধ্যেই গ্রামের বাচ্চা চুরির সাথে সাথে বাচ্চার বাবা - মা'দের খুন হতে থাকে। আরও ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এদিকে সায়ন, মৌলির প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করে। গোপনে দেখা করে। মৌলি সায়ন'কে প্রতিদিন একটা করে নীলচে ফুল দেয়।
শিশু চুরি ও খুনের ঘটনায় উপন্যাসে সংযোজন ঘটে ইনস্পেক্টর গাঙ্গুলী ও তার সহকারী সঞ্জয়ের। আর সেই সঙ্গে দুজন রির্পোটারের।
কিন্তু উপন্যাসের শেষ না করা পর্যন্ত আপনি একটা করে গিঁট খুলবেন তো অন্য একটা গিঁটে আটকে থাকবেন। অর্থাৎ পুরো টানটান উত্তেজনা। একদিকে রোম্যান্স আর অন্যদিকে আপনি একটা আনকোরা অনুভূতির সম্মুখীন হবেন এটুকু নিশ্চিন্তে বলতে পারি আর যে কথা গুলো বলব না সেগুলো হলো, সেসব শিশু গুলো চুরি হচ্ছিল তাদের শেষ পরিণতি কি হয় ? মৌলি আসলে কে ? এসবের পিছনে কারণ কি ছিল ?
আসলে পুরো উপন্যাসে সায়ক'দা রোম্যান্স আর রক্তের সাথে সাথে যেভাবে ভয়াবহ ভৌগোলিক পরিবেশ সৃষ্টি করে তা সত্যিই আলাদা করে প্রশংসার দাবি রাখে। আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় যেটা সেটা হল 'সায়ক'দা ভূমিকা লেখার কৌশল'। জাস্ট মনমুগ্ধকর।
আর বেশি কিছু বলব না, আমার মনে হয় এই আশ্চর্য প্রেমের রোমাঞ্চকর উপন্যাসটি আপনাকেও পড়ে দেখা উচিত। পড়তে থাকুন, আতঙ্কে থাকুন। ধন্যবাদ।
Posted By:
boibd
নেকড়ে খামার - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Nekre Khamar by Himadrikishore Dasgupta
নেকড়ে খামার
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
ভারত-চীন সীমান্তবর্তী এক জনবিরল পার্বত্য এলাকায় ভাইমার সাহেব একটা পাহাড়ি নেকড়ের দেখাশোনা করার খামার করেছেন। আহত তুষারচিতাদের রক্ষণাবেক্ষণই তাঁর উদ্দেশ্য। প্রাথমিকভাবে গ্রামবাসী ও ভারতীয় আর্মি— উভয়ের সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও ধীরে ধীরে বৈরিতা তৈরি হয়। গ্রামবাসীরা বলেন নেকড়েগুলি আসলে ওয়্যারউলফ বা নেকড়েমানুষ। আর আর্মি সন্দিহান হয়ে ওঠে চীনা সেনাবাহিনীর সাথে ভাইমারের খামারের সম্পর্ক নিয়ে। কেন তিনি চীনা দলের কাছ থেকেই খাবার কেনেন? কোথায় গেল ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে নিহত পাঁচ চীনা সৈন্যের মৃতদেহ? কেন চারটি মুণ্ডহীন মৃতদেহ পাওয়া গেল বনভূমিতে যদিও নেকড়ে মানুষের মাথা খায় না? ঠাসবুননের রহস্যে ঘেরা এই বই। আর শেষ চমকটা অসাধারণ।
রেটিংঃ ব্যক্তিগতভাবে, আমি এই বইকে ১০ এ ৯.৫ দেবো। আমার পড়া সেরা হিমাদ্রিকিশোরের বই এইটি
রিভিউটি লিখেছেনঃ Arpita
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
অপদেবতা - রুমানা বৈশাখী Apodebota by Rumana Baishakhi
বইঃ অপদেবতা
লেখিকাঃ রুমানা বৈশাখী
প্রকাশকঃ বিদ্যাপ্রকাশ
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
ঘরানাঃ অলৌকিক/ হরর
পৃষ্ঠাঃ ১৪৪
অপদেবতা বাংলাদেশের লেখিকা রুমানা বৈশাখীর লেখা বই। উপন্যাস এর নাম এক্ষেত্রে চরিত্রনির্ভর। অপদেবতাই এই উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র, শত-সহস্র বছর ধরে অপদেবতা বাস করছে এক প্রত্যন্ত অঞ্চল, কোনো এক দিগন্তবিস্তৃত হাওড় এর পাড়ের এক অঞ্চল জুড়ে। ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে শেষ অব্দি এক সম্পন্ন পরিবার এর ছাদে যার নিত্য ভোগ এর ব্যাবস্থা। সে ভোগ ও ভয়ানক, আরো ভয়ানক-শীতল-ক্রূর সেই পরিবারের পরিবার এর প্রধান কত্রী আলতাবানু। যার অতীতেও ঘটেগেছে অসম্ভব এক ভয়ানক ঘটনা।
সেই বাড়িতেই আশ্রিতা হয়ে আসে ছাত্রী নুসরত। বলা ভালো কোনো এক পাপের শাস্তি হিসেবে তাকে এনে ফেলা হয় পান্ডববর্জিত বিদ্যুৎবিহীন এই হাওড় এর পারের গ্রামের আলতাবানুর বাড়ি। এই বাড়ি, বাড়ির সদস্যদের কার্যকলাপ আর নুসরাতের ছেড়ে আসা অতীত, আলতাবানুর অতীত, হাওড়ের অতীত এবং বর্তমান সব মিলিয়ে পাকিয়ে ওঠে এক রহস্যময় অতিলৌকিক আখ্যান।
ব্যক্তিগতভাবে আমার মতে এই উপন্যাস অতিপ্রাকৃতিক-মোড়কে ভয়ঙ্কর বাস্তব এক আখ্যান।তথাকথিত কম রূপসী একটি মেয়েকে সমাজে কিভাবে হেনস্থা হতে হয়, কিভাবে প্রতারিত হতে হয় এবং তার জন্য মেয়েটির আপনজনের শীতল ব্যবহার হৃদয়ে কতটা ক্ষরণ ঘটায় তা খুবই বিশ্বাসযোগ্য ভাবে বর্ণিত হয়েছে এখানে। তেমনি অতিপ্রাকৃতিক আবহে এটি একটি প্রেমের উপন্যাস ও বটে। দয়িতার সমস্ত অপূর্ণতা, সমস্ত খামতি মেনে নিয়েও জোর করে তাকে ফিরে যেতে না দেওয়া,নিজে জীবনের সাথে জড়িয়ে নিয়ে তাকে আগলে রাখার গল্পও বলে এই উপন্যাস। আর যেটা না উল্লেখ করলে আসল কথাটাই বলা হয়না। সমস্ত গল্পটা গড়ে উঠেছে পাকে পাকে এক আতঙ্কের আবহে। কি এক ভয়ংকর-ভয়ানক অঘটনের টানে বারে বারে ঘটে গেছে পৈশাচিক ঘটনা, মানুষ হয়ে মনুষ্যত্ব বিসর্জনকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে একাধিকবার। তবে উপন্যাসের শেষ কোনো কালো অন্ধকার হাওড়ের জলে হয়না, বরং এক আলোকিত ভবিষ্যতের দুয়ারে লেখিকা আমাদের পৌঁছে দেন। উপন্যাসটি তথাকথিত হরর জঁর এর হয়েও অনেকটাই আলাদা। সমাজের অনেক অপ্রিয় অথচ বাস্তব সমস্যা উঠে এসেছে, সম্ভব হলে অবশ্যই একবার পড়ে দেখার অনুরোধ করবো।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
অদ্ভুত আধাঁর এক - মনোয়ারুল ইসলাম Advut Adhar Ek by Monowarul Islam
অদ্ভুত আধাঁর এক
মনোয়ারুল ইসলাম
ওপাড় বাংলার বইয়ের ব্যাপারে সবচেয়ে যেটা মন টানে, তা হল বইয়ের বৈচিত্র। একই সাথে একই সময়ে ওখানে এত রকমের বই লেখা হয় যা দেখলে এটা খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে আমাদের এপাড় বাংলার লেখালিখি যে আস্তে আস্তে গড্ডালিকা প্রবাহের দিকে এগোচ্ছে। জঁর সাহিত্যে রহস্য, রোমাঞ্চ, ভূত, ভয়, গোয়েন্দা চিরকালই ছিল, আছে এবং থাকবে। কিন্তু বর্তমান সময়ে রক্ত-মাংস ও তন্ত্র-মন্ত্র যে ভাবে বাজার দখল করছে, সেখানে জঁর এর বাকি শাখাগুলো ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। অজানা অচেনা ভয়ের গল্প, যেমন লাভক্রাফটিয়ান হরর সেরকমই একটি না-ছোঁয়া মাটি। সেই রকমই একটি গল্প 'অদ্ভুত আধাঁর এক'।
একটি গ্রামে এসে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ওঠেন এক সরকারি অফিসার ও তাঁর স্ত্রী। বাড়ির লাগোয়া পুকুরে কোনো মাছ না থাকলে মাঝে মাঝেই কী যেন ঘাই মেরে ওঠে। আর সেই গ্রামের একটি অদ্ভুত বিকলাঙ্গ ছেলে সারা রাত রাস্তা ঘষে ঘষে ঘুরে বেড়ায় সারা গ্রাম। এমনই তার চেহারা যে দেখলে লোকে অজ্ঞান অব্দি হয়ে যায়। কেউ জানে না ছেলেটির আসল বাবা কে বা কী? কারণ তার মানুষ পিতা প্রথম বার তাকে জন্মের পর হাতে নিয়েই ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে বলে ওঠে, ‘এ মানুষের বাচ্চা নয়!’ এবং নিখোঁজ হয়ে যায়। কোন্ রহস্য লুকিয়ে আছে গ্রামের এক কোনার জঙ্গলে, কেন সেখানে কেউ যায় না, কোন্ অপার্থিব সত্ত্বা দানা বেঁধেছে এই গ্রামে?
প্রশ্ন ছিল অনেক কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কিছুই বাকি রয়ে গেল। কামুক প্রতিবেশীনি, একাধিক নিখোঁজ মানুষ, দরমার ফুটোয় অসভ্য চোখ এবং ভয়ংকরের বর্ণনা - সব ক্ষেত্রেই এই বইতে 'এক জোড়া চোখ খোঁজে আর এক জোড়া চোখকে' বইয়ের ছায়া অস্বীকার করার উপায় নেই। বইয়ের শেষে বাকি রয়ে যাওয়া প্রশ্নগুলি যথেষ্ট বিরক্তিকর। কিন্তু লেখার বাঁধুনি এই বইকে হাত থেকে নামিয়ে রাখতে দেয় না। এ বই সফল না হলেও এরকম বৈচিত্রময় লেখা ও সেই লেখা পড়া আজকের দিনে খুবই দরকার। তাই মনে ক্ষোভ থাকলেও ...
রেটিং ৬/১০
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ - জওহরলাল নেহরু Biswa Itihas Prasanga by Jawaharlal Nehru
বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ
জওহরলাল নেহরু
জেলে বসে সময় কাটাতে বাবা চিঠি লিখছেন মেয়েকে। আগেও লিখেছেন। তখন মেয়ে ছিল ছোট। সেই সময় লিখেছিলেন বিশ্ব সৃষ্টি আর মানুষের বিবর্তনের ইতিহাস। আর এবারে, তিনটি কারাগার (নাইনি, বেরিলি, দেরাদুন) থেকে তিন বছর ধরে ১৯৭টি দীর্ঘ পত্র লেখেন। এবারের বিষয় পৃথিবীর ইতিহাস।
সেই চিঠিগুলো একত্রে পুস্তক আকারে প্রকাশ করেন মেয়েটির পিসি। ইংরেজিতে লেখা এই চিঠির সংকলনের নাম দেন GLIMPSES OF WORLD HISTORY. প্রথমে প্রকাশিত হয় এলাহাবাদ থেকে। তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সঙ্গে যুক্ত হয় , জে এফ হোরাবিনের আঁকা নিপুণ ও তাৎপর্যপূর্ণ পঞ্চাশটি মানচিত্র। পরে বাংলায় অনুবাদ হয় ' বিশ্ব-ইতিহাস প্রসঙ্গ' নামে।
মেয়ে, ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী। বাবা, জওহরলাল নেহরু। আর পিসি, বিজয়লক্ষ্মী পন্ডিত। চিঠি লেখার সময়কাল অক্টোবর ১৯৩০ থেকে আগস্ট ১৯৩৩ সাল।
প্রথম চিঠি লিখছেন মেয়ের তেরো বছরের জন্মদিনে। সেন্ট্রাল জেল, নাইনি, ২৬ অক্টোবর ১৯৩০ তারিখে। 'ছেলেবেলা থেকেই তোমার জন্মদিনে তুমি উপহার আর শুভেচ্ছা পেয়ে এসেছ। নাইনির জেল থেকে আমি কেবল তোমায় আন্তরিক শুভেচ্ছাই পাঠাতে পারি। উপহার আর কী পাঠাব তোমায়? কায়েদখানার ভিতর থেকে তোমায় যে উপহার আমি পাঠাব তাকে বন্দী করে এমন সাধ্যি এই চারিদিকের উঁচু প্রাচীরের নেই, কারণ সে উপহার হল আমার মনের জিনিস!'
কেন এইসব ইতিহাস কথা লিখছেন তার কারণ হিসাবে যা বলছেন,' স্কুল-কলেজে আমরা যে ইতিহাস পড়ি তা যৎসামান্য। অন্যদের কথা ঠিক জানি না, তবে আমার নিজের সম্বন্ধে বলতে পারি যে, স্কুলে আমি খুব অল্পই শিখেছি।... অন্যান্য দেশের ইতিহাস খুবই আবছা-রকম শিখেছিলাম। সত্যকার ইতিহাস আমি পড়তে শুরু করি কলেজ থেকে বেরোবার পর।'
আবার জেল থেকে লেখার যুক্তি দিচ্ছেন 'কারা-জীবনের কতগুলি সুবিধা আছে; সেখানে কাজের অবসর পাওয়া যায়, মনকে কিছুটা সমাহিত করিয়া আনা যায়।'
শেষ চিঠিতে লিখছেন , ' আমি তোমাকে দিলাম বিশ্ব-ইতিহাসের একটা খসড়ামাত্র; ইতিহাস এ নয়― যা শুধু আমাদের দীর্ঘ অতীত কাহিনীর দুটো-একটা আভাস। ইতিহাস পড়তে যদি তোমার ভালো লাগে, ইতিহাসের কাহিনীর মধ্যে যে মোহ আছে তার আকর্ষণ যদি অনুভব কর, তবে তখন নিজে থেকেই বহু বই তুমি খুঁজে বার করতে পারবে...'
চিঠিগুলি খুবই সরস ভাবে লেখা। বাবা মেয়ের মিষ্টি-মধুর কথোপকথন যেমন হয়। কোথাও আবার, আমার বাবা সব ঠিক জানে, এমন বিশ্বাস রাখতেও নিষেধ করেছেন। লিখছেন, ' এই চিঠিগুলিতে আমি যা লিখেছি তাকেই কোনো ব্যাপার সম্বদ্ধে চরম এবং অভ্রান্ত তত্ত্ব বলে মনে কোরো না। রাজনীতিবিদের স্বভাব, সমস্ত ব্যাপার সম্বদ্ধেই সে একটু কিছু বলতে চায়, সব সময়েই এমন ভাব দেখায় যেন আসলে যেটুকু সে জানে তার চেয়ে আরো কত বেশিই তার জানা আছে।'
বইটার আর একটা দারুণ দিক, বিশ্ব সাহিত্য থেকে অসংখ্য উদ্ধৃতি, বিভিন্ন কবি ও লেখকের। একদম শেষে লিখছেন, " আর একটি মাত্র কবিতা উদ্ধৃত করে আমি চিঠি শেষ করব। একটি কবিতা বা প্রার্থনা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত:
'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীরআপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরীবসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি,যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতেউচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতেদেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়–যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশিবিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,পৌরুষেরে করে নি শতধা; নিত্য যেথাতুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা–নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ,ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।"'
------------
এই ১০১১ পৃষ্ঠার বৃহৎ বইটা আমার অন্যতম প্রিয় বই।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
রামায়ণ খোলা চোখে - হরপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় Ramayan Khola Chokhe by Hariprasad Mukhopadhyay
বই : রামায়ণ খোলা চোখে
লেখক: হরপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনী: বিংশ শতাব্দী
রেটিং : ৮/১০
রামায়ণ মহাভারত নিয়ে আলোচনামূলক গ্রন্থের সংখ্যা কম নয়। বিভিন্ন দিক থেকে, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে এ দুই মহাকাব্যের। আলোচ্য গ্রন্থে অলৌকিকত্ব, অবতারবাদ সরিয়ে রেখে বাস্তব ইতিহাসের নিরিখে একজন রাজা এবং তাকে ঘিরে ঘটে চলা রাজপরিবারের ভিতরের ও দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলীর চরিত্র বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। মূল চরিত্রদের জীবনের নানা সিদ্ধান্তের ও তাদের কাজের যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন তৎকালীন রাজনীতির মাপকাঠিতে। তাছাড়াও উত্তরকান্ডে রামকথার ভিড়ে অব্যক্ত, মহাকবির ভিন্ন এক চিন্তা-চেতনা-দর্শনের ফল্গুধারা যে বয়ে চলেছে রামায়ণে তারও হদিশ দিয়েছেন। এ বই আসলে সন্ধান দেয় রামায়ণের ভিতরে লুকিয়ে থাকা সমকালীন ইতিহাসের, রাজনৈতিক ঘূর্ণাবর্তের এবং সেই সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কয়েকজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের নানা ওঠাপড়ার, তাদের চিন্তা-চেতনার। এ বই পড়তে গিয়ে তাই প্রশ্ন জাগে বাল্মিকীর মহাকাব্য রচনার সেই দৃষ্টিকোণ কি আজ সময়ের নিয়মে ধূলোর আস্তরণে ঢেকে গিয়ে আমাদের মনে অন্য রঙ ফলায়? ভুমিকাতে লেখক জানিয়ে দেন তাঁর প্রশ্নগুলির বিষয়ে। বইটির বিশেষত্ব হলো শুধুমাত্র বাল্মিকী রামায়ণ নিয়েই আলোচনা আর এই আলোচনায় লেখক বেছে নিয়েছেন হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য কৃত বাল্মিকী রামায়ণের বাংলা গদ্যানুবাদ। ফলে রামায়ণের একেবারে মূল ঘটনার মধ্যেই প্রশ্ন এবং যুক্তিগুলি সীমাবদ্ধ থেকেছে, আঞ্চলিক রামায়ণগুলির অতিরিক্ত কাহিনির জটিলতা ও বিশালতায় পথ হারায়নি। রচনার ভাষা বেশ সরল। অঙ্কের মতো পরপর যুক্তি সাজিয়ে লেখক নিজের বক্তব্য প্রমাণ করেছেন, কিন্তু অতিরিক্ত তথ্যে ভারী করেননি। সব মিলিয়ে বইটি বেশ সুখপাঠ্য এবং সহজপাঠ্য -ও বটে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
চুপি চুপি আসছে - সায়ন্তনী পূততুণ্ড Chupi Chupi Aschhe by Sayantani Putatundu
বই: চুপি চুপি আসছে
লেখিকা : সায়ন্তনী পূততুণ্ড
অধিরাজ অ্যাডাল্ট সিরিজ (২)
বিভা প্রকাশনী
গোয়েন্দা অধিরাজ ও তার সিআইডি টীমের দ্বিতীয় অ্যাডাল্ট সিরিজ এই চুপি চুপি আসছে। প্রথম "সর্বনাশীনী" যেখানে শেষ হইছে ঠিক সেখান থেকেই এই রহস্য কাহিনীর শুরু। ৪০ বছর আগেকার সিরিয়াল কিলীং আবার এত বছর পর শহরের রাতের ঘুম , দিনের আরাম কেড়ে নিলে তদন্তের ভার পরে সর্বনাশীনী কেশের পর সবার পছন্দের এবং ভরসার অফিসার আইজি অধীরাজ ব্যানার্জী র উপর ।। কিন্তু এবারের তদন্ত আরো সাংঘাতিক কারণ খুনি অজানা এবং অত্যন্ত নৃশংস যে কিনা বিভৎস ভাবে হত্যা করে সেই সময়ের প্রত্যেক তদন্তকারী অফিসারকে। আর হত্যার আগে প্রতি পুরুষ অফিসারদের সাংঘাতিক রকমের যৌণ নিগ্রহ করা হয় !! শুধু তাই নয় এই কেসের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে অধিরজ ব্যানার্জী র বস আর মূল অভিযুক্ত একজন প্যাথলজিক্যাল লায়ার যাকে কোর্ট এত বছর পর নির্দোষ ঘোষণা করেছে।
অদ্ভুত দোটানার মধ্যে তদন্ত শুরু হয় আর যত এগিয়ে যায় তত নৃশংস ভাবে আবারও খুন হতে আরম্ভ করে, আর তদন্তকারি অফিসারের বাড়ির দেয়ালে এক,দুই করে সংখ্যা লিখে দেয় বোঝাতে যে এবার অধিরাজর পালা। সিআইডি টীম তার সাথে ফরেনসিক বিভাগের সবাই প্রাণ পণ চেষ্টা করে যায় যাতে ঠিক সময় খুনি কে ধরে অধীরজ কে বাঁচানো যায়। এরা যত চেষ্টা করে খুনি র কাছে পৌঁছানোর সে তত চোখে ধুলো দিয়ে সামনে থেকে পালিয়ে যায় আর অধিরাজ্ এর জীবন প্রদীপ একটু একটু করে নিভে যেতে থাকে।
কিভাবে ধরবে খুনিকে অধীরাজ্? কিভাবে বাঁচবে তার আঘাতের কাছ থেকে? কেনো সে এত নৃশংস? কি মনস্তত্ত্ব জড়িয়ে আছে এর সঙ্গে? নিজের জীবনের কোন যন্ত্রণা কে সমাজ কে ফিরিয়ে দিতে এমন প্রতিশোধ নিচ্ছে খুনি? পুলিশ বিভবের ওপরই কেনো এতো রাগ? পুরুষ হয়ে পুরুষ কে ভালোবাসে এই কি তার অপরাধ? না আরো কিছু সমাজের নোংরা রূপ লুকিয়ে আছে এর মধ্যে?
এ সব প্রশ্নের উত্তর পেতে পড়তেই হবে চুপি চুপি আসছে। থ্রিলার হিসাবে খুব সুন্দর বই। যারা আধিরাজ সিরিজ পড়েছে তাদের জন্য সেরা বই। সর্বনাশীনী র মতোই মন জিততে বাধ্য।
এর সব থেকে সুন্দর অংশ শেষ ভাগ মানে যাকে বলে "ক্লাইম্যাক্স"। পুরো কাহিনী তে শুধু খুনীর ওপর ঘেন্না হবে কিন্তু শেষে এসে সমাজের এক অংশের মানুষদের প্রতি জন্ম নেবে হতাশা আর এখানেই এই কাহিনীর সফলতা।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Dream P
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
রেলমানুষের তদন্ত কথা ১ ও ২ - তুষার সরদার Rail Manuser Tadantakotha 1, 2 by Tushar Sardar
বই - রেলমানুষের তদন্ত কথা ১ এবং ২
লেখক - তুষার সরদার
লেখক ভারতীয় রেলের মুখ্য শ্রমিক ও কর্মচারী কল্যাণ পদাধিকারী হিসেবে সুদীর্ঘ ছাব্বিশ বছর কর্মরত ছিলেন। তিনি অনেক রকম কেস সামলেছেন। তাঁর এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে রোমাঞ্চকর বাইশটি কাহিনী (দুই বই মিলিয়ে) তিনি আমাদের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন। গল্পগুলো পড়তে পড়তে আমার গোয়েন্দাপীঠ লালবাজার বইগুলির কথা মনে পরছিল। তবে এই বইয়ের গল্পগুলো একটু কম জটিল কিন্তু আকর্ষণীয়।
মানুষের মাথায় যে কতরকম জটিল প্রক্রিয়া চলতে থাকে তা বলা কঠিন। অধিকাংশ গল্পই মূলত নারীচরিত্রের বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখা। তবে আমার অন্যতম প্রিয় গল্প হল প্রথম পার্টের একদম শেষ গল্পটি, "পাহাড়ের মতো মানুষ"। আর একটা কথা, গল্পগুলো এমনভাবে লেখা যে সবাই যেন সেখানে উপস্থিত, মানে আমি পড়তে গিয়ে নিজেই লেখকের চরিত্র হয়ে উঠেছি।
বেশ ভালো লাগলো। এরকম অজানা সত্য ঘটনা আরও জানতে পারলে বেশ ভালো লাগবে।
রেটিং দেব না, কারণ সবকটা গল্পই সত্যঘটনা।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
সর্বংসহ কালীগুণীন - সৌমিক দে Sarbangsaha Kaligunin by Soumik Dey
সর্বংসহ কালীগুণীন
(কালীগুণীন সিরিজের পঞ্চম সংকলন)
লেখক: সৌমিক দে
বিভা পাবলিকেশন
এই বইয়ে স্থান পেয়েছে কালীগুণীনের তিনটি (বা দুটি!) অভিজ্ঞতা।
কালীগুণীন ও সর্বনাশের হেঁয়ালিঃ (ফ্ল্যাপ)
পুরাণের সবচেয়ে রহস্যময়, বর্ণময় এক দাপুটে মহারাজ, জলধরের কাছে লুকিয়ে রেখে গেলেন দুইটি মহা সর্বনাশা রহস্য। একটি রাক্ষুসে মালা এবং একখানা পুঁথি। শিখিয়ে দিলেন তাকে লুকানোর অভূতপূর্ব কৌশলবিধি। সেই মহা সর্বনাশা শক্তি যদি হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বর্তমানের উপরে। কালীপদ কি পারবে গুপ্ত হেঁয়ালির মর্মোদ্ধার করে সেই মারণশক্তিকে প্রতিহত করতে?
প্রতিক্রিয়া: এটি দুই খণ্ডের একটি বৃহৎ উপন্যাসের প্রথম খণ্ড।
এই রাক্ষুসে মালা নিয়েই প্রথম খণ্ড সমাপ্ত হয়েছে। এতে ভয়ের মাত্রাও ছিলো প্রচুর। বিশেষ করে অন্য গুণীন বা তান্ত্রিক ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা দেখানো এই গল্পেও রয়েছে। এখণ্ডে কালিগুণীন তন্ত্রের পাশাপাশি ধাঁধাঁ সমাধানেই বেশি মনোযোগী ছিলেন।
এই গল্পে "ব্রাক্ষণ। নাম কালীপদ। মুখুজ্জে। নিবাস রায়দীঘড়া" অংশটুকু নেই।
কালীগুণীন আর ধ্বংসের পুঁথি: (ফ্ল্যাপ)
পরমাশ্চর্য এক পুঁথির থেকে দাঁত, নখ বিস্তার করে উঠে দাঁড়ালো কোন রাক্ষুসে মরণদূত? এক হেঁয়ালির পিছু করতে করতে কালীপদ পৌঁছে গেল মুঙ্গেরের এক অতি রহস্যময় তালুকে। কী রহস্য লুকিয়ে আছে গাঁয়ের আনাচে কানাচে? কেন সেখানে স্থানীয় অধিবাসীরা সন্ধ্যা নামলেই কানফাটানো শব্দে দামামা, খোল, করতাল বাজানো আরম্ভ করে? কোন ঘুম-ভাঙা রাক্ষসের গর্জনকে ধামাচাপা দিতে চায় তারা?
প্রতিক্রিয়া: এটা "কালীগুণীন ও সর্বনাশের হেঁয়ালি"এর পরবর্তী খন্ড। প্রথম খণ্ডে উল্লিখিত "পুঁথি" নিয়েই এই গল্পের কাহিনী বিন্যাস। এই গল্প যতই এগোতে থাকলো,কালিগুণীন যেন ধীরে ধীরে গুণীন থেকে গোয়েন্দা হয়ে উঠতে লাগলেন। তন্ত্র বাদ দিয়ে "মগজাস্ত্র" ব্যবহার করেই যেন পার করে দিলেন। মনে হলো,কোনো পৌরাণিক স্বাদের গোয়েন্দা গল্প।
কালীগুণীন বনাম শাণিয়াড়ির প্রেতঃ (ফ্ল্যাপ)
জমিদার তারাপ্রসন্ন আটকে দিলেন কুটিল কাপালিক ভৈরব এবং তরঙ্গিণীর পৈশাচিক অভিসন্ধি। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই গ্রামে আবির্ভাব ঘটল এক মহা সংহারক অপশক্তির— পানিমূড়া। গোটা গ্রাম শ্মশান হয়ে যাবার উপক্রম। জলে নামলেই মৃত্যু অনিবার্য। কালীগুণীন কি পারবে বাঁচাতে শাণিয়াড়ির জনজীবন?
প্রতিক্রিয়া: প্রথম দুটো(বা একটা!) কাহিনীর হিসেবে এই গল্পের কলেবর এবং ঘটনার স্থানও অনেক ছোট। তবে এই গল্পে দেখা পাওয়া যায় সেই চিরপরিচিত তন্ত্র এবং ধূর্তবুদ্ধির খেল দেখিয়ে কুপোকাত করা কালিগুণীনকে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রথম দুটি কাহিনীতে লেখক কালিগুণীনকে চেনা ছন্দের বাইরে উপস্থাপন করে একটু ভিন্নভাবে কাহিনী বুনেছেন। শেষটায় ফিরেছেন আবার চিরচেনা পথে। ভিন্ন স্বাদের এই কালিগুণীনকে সবার ভালো লাগে কিনা,তাই দেখবার বিষয়।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
ছোট্ট একটি কাঁটা - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Chotto Ekti Kata by Himadri Kishore Dasgupta
ছোট্ট একটি কাঁটা
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
প্রথম প্রকাশ শারদীয়া কিশোর ভারতী ১৪২৫
বিষয় — ইতিহাসভিত্তিক নভেলেট
অষ্টাদশ শতকের ভারতবর্ষ। বিভিন্ন ইউরোপীয় জাতি গোষ্ঠী বাণিজ্যের নামে লুন্ঠনের ক্ষেত্র এই সোনার দেশ এবং সোনার বাংলাও। এর কয়েক বছরের মধ্যে শুরু হবে ২০০ বছরের রাজনৈতিক পর্ব। প্রথমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরিশেষে ইংল্যান্ডেশ্বরী শাসন করবেন । দীর্ঘ কালপর্বে একটা দেশের পরবর্তী রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক ইতিহাস আমূল বদলে যেতে শুরু করবে। কিন্তু প্রত্যেক সূচনারও একটি শুরু থাকে। ইংরেজ রাজত্বের সেই সূচনা হয়েছিল সম্রাট ফারুকশিয়ারের একটি ঐতিহাসিক ফরমানের জোরে। বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষের মধ্যে বাণিজ্যের অধিকার দিয়েছিল সেই ফরমান এবং যার জোরে একটি বিশাল ভূখণ্ডের পরবর্তী ভাগ্যকে বদলে গিয়েছিল। এই কাহিনী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ফরমান পাওয়ার পূর্ববর্তী ঘটনা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চিকিৎসক কর্মচারী হ্যামিল্টন সাহেব যে ফরমান আদায় করেছিলেন এবং কিংবদন্তী এই যে, মরণাপন্ন সম্রাটের জীবন আধুনিক শল্য চিকিৎসা মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার স্বরূপ তিনি অর্জন করেছেন এই মূল্যবান ফরমান। এ গল্পে আছে সেই ফরমান আদায়ের কাহিনী। ফরাসি ওলন্দাজ পর্তুগিজ প্রমুখ এর আগে আসা ইউরোপীয় বণিক গোষ্ঠীর সঙ্গে ইংরেজদের বাণিজ্যিক লড়াইতে প্রথম পর্যায়ে ইংরেজরা পিছিয়ে ছিল। কিন্তু সেখান থেকেই তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি শুরু হয়, ওই ফরমানের জোরে। বাকিটা ইতিহাস। সেই ইতিহাস রচনা হয়েছিল একটি ছোট্ট কাঁটার জোরে। মুঘল সম্রাটদের মধ্যে সিংহাসন নিয়ে যে ঐতিহাসিক বিবাদের পরিচিত ইতিহাস, ঔরঙ্গজেবের পর তা আরো কঠিন অনিশ্চিত আকার নেয়। আর সেই সময় সম্রাট ফারুকশিয়ারের সংকটজনক অবস্থা এবং সেই অসুস্থতাকে কিভাবে ভাগ্যের জোরে সারিয়ে তোলার দায়িত্ব পান ভ্যালেন্টাইন সাহেব এবং আন্তরিক ইচ্ছা শক্তি ও অনুকূল ভাগ্যের জোরে তিনি সাফল্য অর্জন করেন, লেখক সেই কাহিনী বিবৃত করেছেন। কিছুটা ইতিহাস, কিছুটা কিংবদন্তী এবং বাকিটা কল্পনার মিশ্রণ। আর প্রত্যেক গভীর প্রাপ্তির পেছনেই থাকে একটি কোনো না কোনোভাবে গভীর আত্মত্যাগের গল্প। এখানেও এই আত্মত্যাগ ঘটিয়েছেন স্বয়ং হ্যামিল্টন, বড় নিঃশব্দে; কোম্পানির জন্য, জাতির জন্য, দেশের জন্য।
সহজ বাচনিক ভঙ্গিতে লেখা এ কাহিনী। তাঁর অন্যান্য কাহিনীর মতোই ভারী আকর্ষণীয়। কিছুটা রহস্য কিছুটা ইতিহাস মিশে থাকা এই গল্প পাঠককে শেষ অব্দি টেনে রাখে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
কৃষ্ণ পক্ষ - তমোঘ্ন নস্কর Krishnapaksha by Tamoghn Naskar
বইঃ কৃষ্ণ পক্ষ
লেখক - তমোঘ্ন নস্কর
আসলে আমি লেখকের কয়েকটা বই পড়ে রীতিমতো উনার ভক্ত হয়ে গেছি। দেও, বিষহরি, ধুন্ধুমার এগুলো পড়ে খুব ভালো লেগেছে।এখন পড়লাম কৃষ্ণপক্ষ। এটাও আমার কাছে দারুন লেগেছে।এই বইটিতে ১৫ টি গল্প আছে সবগুলোও দারুন, তারমধ্যে আমার কাছে দল,ভাটি, প্রজাপতি, পরি খুব ভালো লেগেছে।তাই আর দেরী না করে পড়ে ফেলুন কৃষ্ণপক্ষ।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Krishna Dhar
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
ভাসানবাড়ি - সায়ক আমান Bhasanbari by Sayak Aman
বইয়ের নাম : ভাসানবাড়ি
লেখক : সায়ক আমান
প্রকাশনী : বিভা পাবলিকেশন
রোজকার ব্যস্ত জীবনে গল্পের বই পড়ার সময় খুব একটা হয়ে ওঠে না। রোজ একটু একটু করে পড়তে পড়তে অবশেষে শেষ করলাম এই গল্পের বইটা। সায়ক আমান - একটি জনপ্রিয় নাম। আমি মিডনাইট হরর স্টেশন এর নিয়মিত শ্রোতা। ওনার লেখা অনেক গল্প শুনেছি কিন্তু এই প্রথম ওনার লেখা আমি পড়লাম।
গল্পের প্রধান দুই চরিত্র - হৈমন্তী এবং অশ্বিনী। হৈমন্তীর ভাসানবাড়িতে যাওয়ার পর একের পর এক রহস্যময় ঘটনা ঘটেছিলো।অশ্বিনী এক রহস্যময় চরিত্র। গল্পের শুরুতে বেশ ভালোই লাগছিলো।মাঝে একটু ঘেটে গেলাম - বিশেষ করে সায়েন্টিফিক ব্যাপার গুলো পড়ে (এতে লেখকের বা লেখার কোনো ত্রুটি নেই - আমার মাথা মোটা তাই বুঝতে পারিনি)। শেষে হৈম এর জন্য কষ্ট হচ্ছিলো। মনটা খারাপ হয়ে গেলো শেষটা পড়ে। তবে বেশ কিছু রহস্যের কিনারা হলো না। যাইহোক বইটি পড়তে ভালোই লাগলো। আপনারা যারা বইটি পড়েন নি তারা পড়েদেখতে পারেন।আশাকরি খারাপ লাগবে না।
রেটিং : কারুকে রেটিং দেওয়ার মতো যোগ্যতা আমার নেই।তাই কোনো রেটিং দিলাম না।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Koushik
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
বইয়ের নাম _ ভাসানবাড়ি
লেখক_সায়ক আমান
পাবলিকেশন _ বিভা পাবলিকেশন
প্রথম প্রকাশ _ জানুয়ারি ২০২০
মূল্য_২৪৪ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা _২২৪
জনরা_ রোমান্টিক থ্রিলার
কিছু কিছু বই আছে যে বই আপনি পাঠ করার পর সেই বইটির রেশ আপনার মধ্যে থেকে যায়।
আপনি সেই বইটির চরিত্র গুলোর সাথে বাস্তব জীবনের মিল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করবেন।এটা তেমন একটা বই যে বইটা পড়ার পর আপনি সাময়িক ভাবে কষ্ট পেতে পারেন। সায়ক আমান একজন বলিষ্ঠ লেখকদের মধ্যে অন্যতম। আমি যেসব লেখকদের লেখা পড়ার জন্য অধীর ভাবে অপেক্ষায় থাকি তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। তার প্রতিটা লেখা মধ্যে একটা জাদু আছে। এই লেখাটি তার ব্যাতিক্রম না
আর উপন্যাস টি শেষ করার পর আর রিভিউ না দিয়ে পারলাম না তাই একটা রিভিউ নিয়ে চলে এলাম।
"তোমারেই যেন ভালোবসিয়াছি,
শত রূপে শত বার...
জনমে জনমে, যুগে যুগে অনির্বার।"
এই একটি লাইন যেনো বইটা ব্যাখ্যা করছে।
আরো একটা লাইন আছে
"চলে গেছো হৈম"?
কিছু কিছু বই আপনাকে প্রচুর কষ্ট দিতে পারে।যদি আপনি সেই কষ্ট টা ফিল করতে পারেন। উপরের যেই লাইন টা বললাম। উপন্যাস টি শেষ হলে এই লাইন অব্দি যখন পৌঁছাবেন ততক্ষন এই উপন্যাস টি আপনার পড়া হয়ে গেছে। আর তখন আপনি জানতে পারবেন যে ভালবাসায় যে কষ্ট থাকে অপেক্ষা থাকে সেটা জীবনের কই জন মানুষ করতে পারে।
এই বার গল্পের বিষয় বস্তু নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করবো। কারণ আমি চাইবো প্রতিটা পাঠক এর প্রতিটা শব্দ প্রতিটা লাইন মন দিয়ে পড়ুক। এই গল্পের প্রধান চরিত্র দুটি হলো হৈমন্তী ঘোষ আর অশ্বিনী।
বিরাজপুর নামে পরিত্যক্ত একটা ২০০ বছরের রহস্যময় বাড়িতে উপস্থিত হয় হেরিটেজ সোসাইটি থেকে বাড়িটার ইতিহাস আর ভূগোল নিয়ে গবেষণা করার জন্য। সেইখানে তার সাথে আলাপ হয় বাড়ির কেয়ারটেকার অশ্বিনী সাথে। শুধু যে বাড়িটার বেপারে জানা না বাড়িটার সব রহস্য উদ্ধার করতে চায় হৈম। সে উপলব্ধি করে কোনো কারণে এই বাড়িতে সময় অদ্ভুত ভাবে থেমে রয়েছে। বইটিতে একদিকে আপনারা রহস্য উপন্যাস এর ফিল পাবেন।
তেমন পাবেন দুর্দান্ত একটা প্রেমের উপন্যাস। হৈম আর অশ্বিনী প্রেম এর পাশাপাশি তাদের অতীত লেখক দুর্দান্ত ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। চিরন্তন প্রেমের উপন্যাস হিসাবে বইটা আপনি আপনার উইশ লিস্ট এ রাখতে পারবেন। হৈম যে উদ্দেশ্য নিয়ে বিরাজপুর এ আসে ও আসতে আসতে যখন কাহিনী এগিয়ে চলে তখন বইটির চমক আপনাকে আশ্চর্য করবে। সাথে আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে। এই বইটির অপর চরিত্র অশ্বিনী কে নিয়ে বেশি আলোচনা করলাম না। করলে স্পয়লার দেওয়া হবে। শুধু এটা বলতে পারি। অপেক্ষা অনন্তকাল অপেক্ষা করে সে আর শেষে ...... ?
এই বইটা কারো কারো একদম ভালো না লাগতে পারে। আবার কারো মনে হতে পারে এটাই তার পড়া শ্রেষ্ঠ প্রেমের উপন্যাস। তাই সবার কাছে আমার অনুরোধ রইলো আপনার অতি অবশ্যই এই উপন্যাসটি পড়ে দেখবেন আমি আপনাদের বলছি পাঠক হিসেবে এতো ভালো বই থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন না।
রেটিং _ গল্পের পাতায় পাতায় লেখক আপনাদের ভাবতে বাধ্য করবে। ও গল্পের প্রতি অধ্যায় এ ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন। সত্যি বলতে কি এইই গল্পের কোনো রেটিং হয় না। শুধু গল্পের শেষে এ আপনাদের মন খারাপ হতে বাধ্য। ওহ শেষে বলি ভালবাসার মানুষ কে জীবন থেকে হারিয়ে যেতে দিতে নেই। আর হারিয়ে ফেলার যে কষ্ট সেটা অশ্বিনী মনে হয় সব চেয়ে ভালো জানে।
আমার রেটিং পারফেক্ট ১০ এর মধ্যে ১০ অবাক হবেন না গল্পটি পড়লে আমার সাথে আপনারা সহমত পোষণ করবেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই উপন্যাসটি আপনাকে প্রচুর কষ্ট দিতে পারে। তাই বইটা পড়ার পর আপনার কিছুদিনের জন্য অন্য বই পড়তে ইচ্ছা হারিয়ে যেতে পারে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Bapan Da
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
সত্যি সাবিত্রী - সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় Sotti Sabitri by Sabitri Chatterjee
সত্যি সাবিত্রী
সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়
নির্মাণ--লীনা গঙ্গোপাধ্যায়
এই গ্রন্থে বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের অন্যতমা স্মরণীয় অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জীবন কাহিনী মূলত গল্পের আঙ্গিকে তুলে ধরা হয়েছে। সাবুর ছোটোবেলার দেশ বাংলাদেশের স্মৃতি তার জীবন কাহিনীর পরতে পরতে এসেছে।এসেছে দেশ ছেড়ে আসার দুঃখ বেদনার কথা। দেশের মাঠ-ঘাট, পুকুর, নদী অর্থাৎ প্রকৃতির কথা বারে বারে এসেছে।পরবর্তিকালে কলকাতায় অসময়ে তার আত্মীয়-স্বজনেরা মুখ ফিরিয়ে নেয় আর সময়ে সেই আত্মীয়রাই এসে ভিড় করেছিলেন।তার পরিবারের কথা আছে।তারা নয় বোন ছিলেন এবং সব থেকে ছোটো ছিলেন সাবিত্রী।তার দিদিরা সবসময় তাকে আগলে রেখেছেন। ছোটো থেকেই ডানপিটে মেয়ে ছিলেন।
সাবু ছোটোবেলা থেকেই সিনেমা দেখতে খুব পছন্দ করতেন, সেইসূত্রেই কাননদেবীকে তিনি তার স্বপ্নের নায়িকা মনে করতেন। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম তাকে নাটকের দলে নিয়ে আসেন।তার জীবনটা আস্তে আস্তে বদলে যেতে থাকে।তার স্বপ্নের জগত বাস্তবের জগতে পরিনত হতে থাকে।
সাবুর জীবনে প্রেম-ভালোবাসার স্থানে দুটি মানুষের কথা বারেবারে এসেছে। একজন হলেন উত্তম কুমার আর আরেকজন হলেন অবাঙালী সর্বেন্দ্র।দুজনেই ছিলেন বিবাহিত।এদের কাছ থেকে প্রেম-ভালোবাসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি আঘাত বেদনাও পেয়েছেন।তাদের আঁকরে ধরে থাকার কথাও এসেছে।তার জীবনে মানসিক ঘাত-প্রতিঘাত আর তার সাথে একাকিত্বের যন্ত্রণা আছে।তবে জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেও তিনি সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকতেন।তবে তিনি সারাজীবন অবিবাহিত থেকে গেছেন।
কিছু জিনিস এই বইয়ে নেই,যার আমি ব্যক্তিগতভাবে অভাববোধ করেছি,তা হল, এক-যেহেতু তিনি অভিনেত্রী হিসাবে জনপ্রিয় তাই বিভিন্ন বাংলা ছবি সম্পর্কিত ঘটনা,তার সাথে অনান্য অভিনেতা-অভিনেত্রীদের (উত্তম কুমার ছাড়া) কথা তেমন নেই। দুই -কোনো সাল তারিখের উল্লেখ বইয়েতে নেই।এগুলি থাকলে হইতো বইটি আরও সমৃদ্ধ হত।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
আরশিনগর - সাদাত হোসেন Arshinagar by Sadat Hossain
বইয়ের নাম:- আরশিনগর
লেখক:- সাদাত হোসেন
পৃষ্ঠা সংখ্যা- ২৭১
মূল্য- ৪৫০ টাকা
এই উপন্যাসে লেখক বলেছেন যে জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হল 'সময়'। একটা মানুষের জীবন পাল্টে যাওয়াটা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। যেমন মজিবর মিয়া, যে ছিল লতু হাওলাদারের জমিতে খেটে খাওয়া একজন চাষী।ট্রলার কেনার পর তার জীবন বদলাতে শুরু করলো। একটা সময় সে হয়ে উঠলো গ্রামের চর্চিত মানুষগুলোর মধ্যে একজন। তার যত উন্নতি ঘটলো শত্রুও বাড়তে থাকলো।
অন্যদিকে মা হারা আরশি, ধীরে ধীরে তার বাবা আর ঠাকুমার আদরে, যত্নে বেড়ে উঠতে লাগলো।
তারও কিছু বছর পর মজিবর মিয়া বিয়ে করলো। সেই সৎ মা লাইলি শুরুতে আরশির সাথে ভালো ব্যবহার করলেও যখন সে নিজে মা হলো , সে আর আরশিকে সহ্য করতে পারতো না, অত্যাচার করতো। এরপর একদিন মজিবর মিয়ার উপর আঘাত নেমে এলো। ফলে সে পঙ্গু হয়ে পড়লো। এর মাঝেই তার মা আম্বরি বেগম মারা গেলেন। আরশি হয়ে উঠলো একেবারে একা। তাকে সবসময় সহ্য করতে হতো লাইলীর মার, গালাগাল, অত্যাচার।
এরপর আরশিকেও হত্যা করার চেষ্টা হয়। তবে নিয়তি তাকে বাঁচিয়ে দেয়। এরপর ইমাম সাহেব মারফত আরশি পৌঁছায় ঢাকায় রুবিনার কাছে।এই রুবিনাই আরশি কে জীবনদান করেছিল অনেক ছোটবেলায়। তাই তার কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করে ইমাম সাহেব তাকে ওখানে রেখে আসেন। এরপর দিন যায় আর তার জীবনে আসে এক মোড়। আশীষ হল শুকরঞ্জন ডাক্তারের ছেলে, তারই স্ত্রী মিলি তখন পুত্র শোকে প্রায় পাগল। তখনই ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে তারা আরশি কে নিয়ে আসেন নিজেদের কাছে। এরপর আরশি কে পাঠানো হয় হোস্টেলে।
এর মাধ্যমেই কবি বুঝিয়েছেন যে মানুষের জীবনে থাকে অসংখ্য ছোট বড়ো অধ্যায়। সময়ই হল সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। সময়ই মানুষকে শূন্য থেকে পূর্ণ করার ক্ষমতা রাখে।আর সময়ের ক্রমাগত আঘাতে আরশি ও হয়ে ওঠে কঠিন। এরপর তার জীবনে অনেক বদল আসে। একদিন সে ফিরে তার গ্রাম যযাতিপুরে। সেদিনই তার কোলে তার বাবার শেষ নিশ্বাস পরে। এরপর এক বৃষ্টিস্নাত দিনে তার মা- বাবার কবরকে পিছনে ফেলে আরশি এগিয়ে যেতে থাকে তার জীবনের পথে।
তবে এই এগিয়ে যাওয়া, যতটা বেশি এগিয়ে যাওয়া তার চেয়েও বেশি পিছিয়ে যাওয়া। আমরা জন্ম থেকে যে এতগুলো বছর পার করি, এত লড়াই করি, সেসবই শুধুমাত্র মৃত্যুর অপেক্ষায়। প্রাণীজগতে সকলের জন্মই হয় মৃত্যুতে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায়। আসলেই এই জগৎ হল উল্টো জগৎ... আরশিনগর।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
ময়ূরাক্ষী - হুমায়ূন আহমেদ Moyurakkhi By Humayun Ahmed
ময়ূরাক্ষী
হুমায়ূন আহমেদ
ময়ূরাক্ষী হল হুমায়ূন আহমেদের লেখা হিমু সিরিজের প্রথম বই। এটি একটি ছোট উপন্যাস। হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই, তিনি অতি পরিচিত একজন জনপ্রিয় সাহিত্যিক। উপন্যাসটি "এ্যাই ছেলে এ্যাই" লাইনটি দিয়ে খুব আকস্মিকভাবে শুরু হয়। উপন্যাসটির মুখ্য চরিত্র হিমালয়, ওরফে হিমু। লেখক হিমুর শৈশব থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে হিমু চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন। কাহিনী অতীত, বর্তমান বিভিন্ন সময় স্রোতে ভেসেছে। হিমু চরিত্রটি খুব অসাধারণ, তার চিন্তা ভাবনা, দৃষ্টিভঙ্গি আর পাঁচটা মানুষের মত নয়। তার কথাবার্তায় একদিকে যেমন রয়েছে দার্শনিকতা তেমনি রয়েছে অদ্ভুত রসিকতার রেশ। সে খামখেয়ালি, উদাসীন, লোককে বিভ্রান্ত করতে সে ভালবাসে। তারই সাথে তার আছে কিছু বিশেষ ক্ষমতা, তার বলা কিছু কথা কাকতালীয় ভাবে মিলে যায়। আর তার আছে এক নদী, ময়ূরাক্ষী; সেই নদী তীরে রয়েছে তার এক জগৎ, এক প্রশস্ত শান্তির ঠাঁই। কেউ তাকে অদ্ভুত চোখে দেখে, কেউ তাকে পাগল মনে করে; কিন্তু সকলেই তার প্রতি এক অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করে। হিমু তার বাবার ইচ্ছে অনুযায়ী মহাপুরুষ হতে চায়, নির্লিপ্ত থাকতে চায়। সে তার বাবার দেওয়া উপদেশগুলো মেনে চলতে চায়। উপন্যাসটি হিমুকে ঘিরে আবর্তিত হলেও বাকি চরিত্ররা যেমন হিমুর ফুপু, ফুফা, বাদল, রিনকি, মজিদ, হিমুর বাবা, মামা, রূপা, মীরা প্রমুখ হিমু চরিত্রটিকে ভালোভাবে তুলে ধরেছে। উপন্যাসটি হিমুর জীবনের অনেকগুলো কাহিনী নিয়ে নির্মিত। এই কাহিনীর মাধ্যমে আমরা হিমুর সাথে সাথে অন্য চরিত্রগুলো সম্পর্কে জানতে পারি। এরকমই এক কাহিনী পাঠকদের কাছে হিমুর মা এর মৃত্যু রহস্য তুলে ধরে। এই গল্প জুড়ে রয়েছে ময়ূরাক্ষীর কথা, কিভাবে তা হিমুর সঙ্গে জড়িত তা জানতে হলে পড়তে হবে এই ছোট উপন্যাসটি।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
রহস্যময় শিব - সুব্রত সান্যাল Rahassamoy Shib by Subrata Sanyal
বই: রহস্যময় শিব
লেখক: সুব্রত সান্যাল
প্রকাশক: নিউ ভারত সাহিত্য কুটির
পৃষ্ঠা: ১৭৪
কলেজ স্ট্রীটের লাইব্রেরিত আমার পছন্দের জনরা শুনে বুকশপের মালিক এই বইটি বের করে দিয়েছিলো। ২০ সেকেন্ডে চোখ বুলিয়েই বুঝেছিলাম এই বইটা গতানুগতিক ধারার বাইরের হতে পারে। ১৭৬ পৃষ্ঠার একটা বই ৪০০ রুপিজ শুনে একটু দমে গিয়েছিলাম। কিন্তু দোকানদার দাদা ভরসা দিয়েছিলেন যে সবকিছু দাম দিয়ে মাপা ঠিক না। ধন্যবাদ দাদা আপনার অসাধারন একটা সাজেশনের জন্য।
সাধারনত ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষজন আমরা খুবই আবেগপ্রবন। গল্পের গরু গাছে চরলে আমাদের তেমন সমস্যা নাই। কিন্তু সেখানে যদি দেব-দেবতা থাকে তাহলে গাছে কেনো আকাশে উড়লেও আমরা নমো নমো করে মাটিতে একটা ঢিপ দিয়ে দেই। সেখানে মহাদেব শিবকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করার সহজসাধ্য ঘটনা নয়।
শিব যার নামের অর্থ সুন্দর। সে কখনো ভয়ংকর আবার পরক্ষণে সে সুন্দর। কখনো সে শ্মশানবাসী আবার সে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘরকন্না করছে। কখনো সে নৃত্যকলায় পারদর্শী আবার কখনো যুদ্ধবিদ্যা, ভেষজবিদ্যা, তন্ত্রবিদ্যা, বা চার বেদের স্রষ্টা। তাকে বুঝার সাধ্য আছে কার? যেখানে ব্রক্ষ্মা বিষ্ণু তার আদি-অন্ত পেতে ব্যার্থ সেখানে সাধারন মানুষের কি সামর্থ্য তাকে বুঝতে পারার। সে ধ্বংশের দেবতা কিন্তু সে শান্ত সোম্য আর ভক্তের পরম কাছের ভোলানাথ।
একজন দেবতার এত বৈচিত্র আর সনাতন সাহিত্যে পাওয়া যায়না। ধর্মীয় ভক্তিবাদের বাইরে থেকে যদি দেখা যায়, বেদ পুর্ববর্তী সময়ের এক যুদ্ধবাজ নেতা থেকে কখনোবা একজন আদিবাসী শ্যামনের ছায়ায় তাকে খুজে পাওয়া যায়। বৈদিক যুগের আর্যদের ধর্মে যেখানে দ্রাবিড়দের প্রবেশাধিকার ছিলোনা সেখানে একজন অবৈদিক ধীরে ধীরে রুদ্র রুপে বেদে প্রবেশ করে সেই ভয়ঙ্কর রুপের রুদ্রের থেকে ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন শান্ত শিষ্ট শিব। পৌরাণিক যুগে যখন বৈদিক দেবতাদের যখন ধীরে ধীরে অবলুপ্তি ঘটছে তখনো শিব আপন মহিমায় ব্রক্ষ্মা-বিষ্ণুর সমকক্ষ থেকে আরো উপরে উঠে মহাদেব হয়ে উঠলেন। কখনো দারুবনে, কখনো দক্ষযজ্ঞে, আবার কখনো হলাহল পানে, কখনোবা ভক্তের আর্তিতে নিরাকার থেকে আকার ধারন করে যমের সাথে সংঘাত করা বা কখনো গঙ্গা/নেত্রা নদী প্রবাহিত করা। কোথায় নেই তিনি? মনশা, চন্ডী, সতী, পার্বতী, গণেশ, কার্তিক, দুর্গা, কালী সবকিছুর সাথে জড়িত থেকেও তিনি নির্বিকার ধ্যানে বসা মহেশ্বর। তিনি সবকিছুতে আছেন আবার তিনি সবকিছুর বাইরে। এক ভীষণ রহস্যময় চরিত্র মহাদেব শিব।
শিব এক মহাপ্লাবন । দিনে দিনে সে যে পথে চলেছে সেই পথের অন্যান্য দেবতারা ধীরে ধীরে তার মাঝে বিলীন হয়ে গিয়েছে। কত শত লৌকিক দেবতা ধীরে ধীরে শিবনামে বা তার পুত্র/কন্যা হয়ে এখনো পূজা পাচ্ছে তার ইয়ত্তা নাই। কিন্তু শিব নির্বিকার, কখনো তিনি ভোলানাথ ব কখনো রুদ্র, কখনো তিনি ঈশান, সদ্যোজাত, বামদেব বা অঘোর আবার তিনিই নটরাজ। একই অঙ্গে কতো যে রুপ তার কোন শেষ নাই।
ভক্তের ভগবান তিনি যাকে সামান্য জল ফুলে সন্তুষ্ট করা যায়। যাবত ধর্মীয় জ্ঞান বেদ, তন্ত্র, আগম, নিগম, চিকিৎসাশাস্ত্র, নৃত্যকলা, কৃষিবিদ্যা, যোগ কোথায় নেই তিনি। সনাতন ধর্ম নিয়ে কথা বলতে গেলে শিব নাম ব্যাতীত কখনো শেষ করা যাবেনা। কত শত তত্ত্বের মাঝে কোথায় যে তিনি কীভাবে আছেন আমরা সাধারন মানুষ তার কতটুকুই বা বুঝতে সক্ষম?
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
মৃত রাজা জাগো - সৈকত মুখোপাধ্যায় Mrito Raja Jago by Saikat Mukhopadhyay
মৃত রাজা জাগো
সৈকত মুখোপাধ্যায়
তিনটি নভেলেটের সংকলন।
মুনিয়ার আংটি চিতলভাসা গ্রামের গল্প। শেষ পর্যন্ত ফরেস্ট গার্ড মুক্তিনাথ ছেত্রীর পরিবারে কিভাবে পারিবারিক মিলন হল, সঙ্গে চলে আসে কিছু অতি বাস্তব সমস্যা । জঙ্গলের চোরাকারবার সন্ত্রাসবাদ দেশপ্রেম সবকিছু মিলেমিশে যায়। প্রান্তিক বা গ্রামীণ পরিবারগুলির ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অল্প বয়সে থেকে নিজের দেশ ও দেশের সম্পদকে বাঁচাতে শেখে, রক্ষা করতে শেখে দেশের স্বাধীনতা এবং অবশ্যই দেশের ক্ষতিকারক মানুষগুলি বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস ও বুদ্ধি দিয়ে চরিত্রগুলি বড় আপন হয়ে যায়।
দ্বিতীয় গল্প মৃত রাজা জাগো যেখানে মধ্যপ্রদেশের নারিয়া উপজাতির মানুষদের মধ্যে প্রচলিত এক কিংবদন্তীর কথা। যে কিংবদন্তীকে আশ্রয় করে নারিয়ারা সমাজের মধ্যে আজও সভ্যতার ষড়যন্ত্রে কোণঠাসা হতে হতে আত্মরক্ষা করে এবং বিশ্বাস করে একদিন তাদের রাজা ফিরে আসবেন। তারই মধ্যে তাদের জীবন বদলাবে। শেষ পর্যন্ত গবেষকের সন্ধানী দৃষ্টিতে সে কিংবদন্তী কিভাবে সত্য হয়ে ওঠে এবং মিশরের মমীর শরীরের সুরক্ষা থেকেও আধুনিকতম এক মমি যা এই আদিবাসী প্রান্তিক মানুষগুলির অর্জিত জ্ঞান গবেষককে বিস্মিত করে বিস্ময়ের অবশ্য আরো বড় যে সেই মমি দেহে একদিন প্রাণ ফিরে আসে মমি সুরক্ষিত হয় সকলের চোখের সামনে অথচ কেউ তাকে আবিষ্কার করতে পারে না। গল্প শেষের এই চমকটি গল্পের সব থেকে বড় সম্পদ আর এ গল্প শেষ পর্যন্ত এদেশের প্রাচীনতম ভূমিপুত্র পা দের প্রতি গভীর মানবিক সমর্থন তৈরি করে।
দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো নীল চ্যাটার্জির গল্প। এ গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এমন এক অমৃত পাতা যার রস যথার্থই সর্ব রোগহর। অতীত ভারতের কোনো প্রাচীন পুঁথি সেই পাতার সন্ধান দেয়।। আর সন্ধান দেয় সেই পাতার উৎসের কিছু আশ্চর্য ছবির। ঘটনাচক্রে ডুয়ার্সের অরণ্যে এই টুকরো টুকরো কোলাজগুলি জোড়া লেগে ধাঁধার সমাধান হয়। আগামী দিনে সেই অমৃত পাতা যথার্থই মানুষের উপকারে ফিরে আসবে কিনা জানা নেই। জানা নেই সভ্যতার লোভ আরো অনেক কিছুর মতোই মানুষের চিকিৎসার ইতিহাসে মোর ঘোরানো এই অতীত সম্পদকে ভবিষ্যৎ সুরক্ষা দিতে পারবে কিনা। কিন্তু উপস্থিত এক কিশোর এরই জোরে সুস্থ হয়ে ওঠে। আর নতুন করে প্রমাণ হয় প্রকৃতির রহস্যময় ইতিহাসের সবটা বা অনেকটাই আজও মানুষের অজানিত।
তিনটি কাহিনী মানুষের অরণ্য প্রেম, ভূমিকেন্দ্রিক জীবনে সরল অথচ গভীর বোধকে সম্মান করা, এবং মানব সভ্যতা সুস্থ বিকাশের পথে বাধা স্বরূপ যারা তাদের বিরুদ্ধে সাহসী লড়াইয়ের ছবি তুলে আনে। তাই একদিকে রোমাঞ্চকর কাহিনী হিসেবে অন্যদিকে মানবিক শিক্ষার উৎস হিসেবে গল্পগুলি ছোট বড় সবারই খুব পছন্দের হবে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Dhraba Mandol
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
বই- মৃত রাজা জাগো
লেখক - সৈকত মুখোপাধ্যায়
জঙ্গলের পটভূমিকায় লেখা বইটিতে তিনটি গল্প রয়েছে
🌿১.মৃত রাজা জাগো - বিখ্যাত নৃতত্ত্ববিদ প্রফেসর বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি ফিল্ড ওয়ার্ক অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছিল। মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে বসবাসকারী নারিয়া উপজাতিদের বিশ্বাস তাদের শেষ রাজার মৃতদেহ নাকি কোথাও মমি করে লুকিয়ে রাখা আছে। তিরিশ বছর আগে প্রফেসর বিশ্বজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক চেষ্টা করেও সেই মমি উদ্ধার করতে পারেননি। অনেক বছর পরে তাঁর তরুণ ছাত্র মৃন্ময় আবার ফিরে য়ায় মধ্যপ্রদেশের জঙ্গলে, মৃত রাজার খোঁজে। তারপর? মৃন্ময় কী পারবে তাঁর স্যারের অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে? মৃত রাজা কী আবার জেগে উঠবে?
🌿২.দীঘলবাড়ির দুরন্ত দিনগুলো - ধনেশ পাখির ওপর একটি প্রজেক্ট বানাতে ডুয়ার্সের দীঘলবাড়ির জঙ্গলে আসে ওয়াইল্ড - লাইফ ফটোগ্রাফার নীল চ্যাটার্জি। সেখানে তাঁর আলাপ হয় ডক্টর সব্যসাচী মিত্রের সাথে, যিনি আদিবাসীদের ঔষধি লতাগুল্মের গুণাগুণ খুঁজে বেড়ান। দীঘলবাড়ির জঙ্গলে ডক্টর মিত্র খুঁজছিলেন অমৃতপাতার গাছ। সে এমন এক পাতা যার রস পেটে গেলে সব রোগ সেরে যায়। হেঁয়ালিতে মোড়া সেই অমৃতপাতার ঠিকিনা কী খুঁজে পেল নীল চ্যাটার্জী?
🌿৩.মুনিয়ার আংটি - সামতা ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কে ঢোকার জন্য চিতলভাসা গ্রামের ভেতর দিয়েই যেতে হয়। গ্রামের বাসিন্দা ফরেস্ট গাইড মুক্তিনাথ ছেত্রী এই জঙ্গলের জন্তুজানোয়ার, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, সাপখোপ এমনকী গাছপালাগুলোকে নিজের হাতের তালুর মতো চিনতো, সেই মুক্তিনাথ ছেত্রী একদিন জঙ্গলে হারিয়ে গেল। মুক্তিনাথ ছেত্রীর ছোট্ট মেয়ে মুনিয়ার মাঝে মাঝেই বাবার সেই বাঘ তাড়ানোর আংটি টার কথা মনে পরে। তাঁর মা বলেছে, স্বর্গ থেকে উড়ে আসে যে হাঁসেরা তারাই একদিন ঠোঁটে করে বাবার আংটি ফেরত নিয়ে আসবে। কিন্ত যেদিন তাঁর দাদা মোহনও অদ্ভুতভাবে জঙ্গলে হারিয়ে গেল, সেদিন দাদাকে খুঁজতে গিয়ে সেই রূপকথার জগৎ থেকে মুনিয়া আছড়ে পড়ল ভয়ঙ্কর এক ষড়যন্ত্রের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত মুনিয়া খুঁজে পেল তার দাদাকে? খুঁজে পেল হাঁসের ঠোঁটের আংটি?
তিনটি গল্পই খুব ভালো লাগলো পড়তে। প্রত্যেকটি গল্পেই প্রকৃতিকে খুব সুন্দর করে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রকৃতির সাথে মিশে আছে রহস্য, মানবিকতা।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Rupa
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
চিড়িয়াখানা - চঞ্চলকুমার ঘোষ Chiriakhana by Chanchal Kumar Ghosh
চিড়িয়াখানা
চঞ্চলকুমার ঘোষ
পারুল প্রকাশনী
আলিপুর চিড়িয়াখানায় আমরা কে না গেছি। ছোটবেলায় বার বার যাওয়ার বায়না, মনখারাপ, আনন্দ, জন্তুর আশ্চর্য ঘটনার স্মৃতি - হয়ত আজও আমাদের মনে অমলিন। বড়ো হয়ে আর তেমন যাওয়া হয়ে ওঠেনা হয়তো, কিন্তু খবরে চিড়িয়াখানা সংক্রান্ত কিছু পড়লে বা শুনলে আজও একটা অন্যরকম অনভূতি হয়। নতুন কোনো প্রাণী এলে, পুরনো কেউ মারা পড়লে সে সব খবর ছাপা হয় ঠিকই, কিন্তু চিড়িয়াখনার প্রতিদিনের ছোটো ছোটো সুখদুঃখের কথা কেউ আমাদের বলে না। নতুন প্রাণী এলে মন্ত্রমসাই নামকরণ করে বক্তৃতা দেন, পুরনো কেউ মারা পড়লে ডিরেক্টর শোক প্রকাশ করেন - ব্যাস এটুকুই আমরা শুনে আবার নিজেদের জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। জানতে পারিনা ছোটো ছোটো মানুষের প্রাণীদের সাথী একাত্ম হয়ে যাওয়া নানারঙের মুহুর্ত গুলো। সেইসব আবেগঘন কিছু মুহূর্তকে তুলে ধরার এটি এক সুন্দর প্রয়াস। সাথে সাথে প্রাণীদের সম্পর্কিত কিছু তথ্য গল্পের মতো করে তুলে ধরেছেন লেখক। সব কিছু ছাপিয়ে ফুটে উঠেছে ভালোবাসা, প্রাণীদের ওপর মানুষের, মানুষের ওপর প্রাণীদের। কিন্তু বড় তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল, এটাই দুঃখ। আরো ঘটনা আরো তথ্য থাকলে ভালো লাগতো।
না তথ্যের বা তত্ত্বের জন্য না, ভালোবাসার অন্যরকম স্বাদ পেতে, এই বই সকলের পড়া উচিত। চিড়িয়াখানার চত্বরে কীভাবে আমাদের মত স্বার্থপর হোমো সেপিয়েন্স রা পুরো অন্যরকম হয়ে যায়, ছোটো ছোটো ভালোবাসার ভিত্তিতে চিড়িয়াখানা কীভাবে বেঁচে থাকে, সেটা জানাটা খুবই জরুরী।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Ayan
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
গান্ধর্বী - বাণী বসু Gandharbi by Bani Basu
গান্ধর্বী
বাণী বসু
উপন্যাস
নিরলস সাধনা অপালার শিল্পী জীবনের বৈশিষ্ট্য। শেষ পর্যন্ত সংগীত শিল্পী অপালার কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে গেলেও সে সুরলোককে শ্রুতির পরিবর্তে দৃষ্টিতে ধরার জন্য চিত্রের সাহায্যে নিয়েছে। উত্তর কলকাতার রক্ষণশীল মধ্যবিত্ত পরিবার তার জন্ম, শৈশবে পিতৃহীন, অসহায় মা দাদার সঙ্গে বিপত্নীক নিঃসন্তান জেঠুর ওপর নির্ভর করে বেড়ে ওঠা। প্রাচীনপন্থী অভিভাবকরা সেখানে ছেলেদের সুরক্ষিত চাকরি আর মেয়েদের সুরক্ষিত সংসার করাকে জীবনে পরমপ্রাপ্তি বলে ভাবে। অতএব অপালার দ্রুত সুপাত্রের সন্ধান তারা করেন। ঈশ্বরদত্ত প্রতিভা অবহেলিত হয়। অপালা তাই ভাঙ্গা হারমোনিয়াম ধার করা তানপুরা শ্বশুরবাড়ির সন্ধ্যার জলখাবার বানানো সন্ধ্যা আরতি সন্তানদের সঙ্গে দূরত্বপূর্ণ সম্পর্ক আর বহু বাধার মাঝে দিন কাটাতে কাটাতেও সুরের ওপর অধিকার ছাড়তে পারে না। সংগীত ছাড়া আর সব কিছুর প্রতি তার এক ধরনের শিথিল ভালোবাসা রয়েছে। কিন্তু সুর রয়েছে তার রক্তে মিশে। অপালার সহ শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে আপনাকে বিকশিত করে চলে, আর অপালার অসাধারণ শিল্পীসুলভ সাধনা কোনো মর্যাদা পায় না। জীবনভর সংগীত আর সংসারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলার দড়ি খেলায় ক্রমশ ক্লান্ত অপালা শুধু মুক্তির পথ খুঁজে চলে। আপন সন্তানদের মধ্যেও নিজের সাংগীতিক উত্তরাধিকারকে সে সঞ্চার করে দিতে সক্ষম হয় না। তার সন্তানেরা মাটির মাকে চায় শিল্পী মাকে নয়। তাই অপালার আকাশকে নিরেট করে ভরে রাখে সংসারের সামাজিকতা। সকাল সন্ধ্যা কোথাও তার হৃদয়ের বেদনার মুক্তির অবকাশ ছিল না। তার মতো সংবেদনশীল শিল্পীর এতো এক রকম মৃত্যুই। জাগতিক মৃত্যুতে তার মতো শিল্পীর সত্যিকারের মুক্তি ঘটে। বিশ্বসংসার হয়তো তার মূল্য কোনো একদিন বোঝে। কিন্তু তখন বড় দেরি হয়ে যায়। অতি সাধারণ পরিবেশে জন্ম নেওয়া যে কোনও সৃজনশীল শিল্পীর, বিশেষত তিনি যদি একজন নারী হন, তাহলে তাঁর ভবিতব্য বোধহয় এমনই।
রিভিউটি লিখেছেনঃ bubu
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
ফাঁদ - রূপক সাহা Faand by Rupok Saha
ফাঁদ
রূপক সাহা
দীপ প্রকাশন
মুদ্রিত মূল্য -300
রূপক সাহার লেখা এই প্রথমবার পড়লাম। একেবারে টানটান থ্রিলার উপন্যাস। গল্পের বিষয় বস্তু না ভেঙেই বলছি উপন্যাসের পরতে পরতে মেশানো আছে রহস্য ও জটিলতা। কখনও সে জটিলতা মানব মনের আবার কখনো ঘটনাপ্রবাহের। এই ভাবেই এগিয়েছে গল্প । থ্রিলার উপন্যাসের ঢঙে একেবারে শেষে গিয়েই রহস্যের পর্দা উন্মোচিত হলেও বইটি শেষ করার তথা সত্য জানার আগ্রহে একটুকু ভাটা পড়েনি। রহস্য প্রেমীদের কাছে এ এক উজ্জ্বল মনি। যারা পড়েন নি তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলুন।
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
review
ফাঁদ -Rupak saha
পুরুলিয়ার গভীর রাতে অস্ত্র বর্ষণ। পরবর্তী দিনের সংবাদ পত্রের প্রথম heading এ সারা বাংলা হয়েছিল আলোড়িত।এই ঘটনা কেই আশ্রয় করে রূপক সাহা নির্মাণ করেছেন এই উপন্যাস। "ফাঁদ"! পূরুলিয়া য় নির্বাণ আশ্রমে দলাদলি! মহা সংকটে প্রতিষ্ঠান তার ওপর বিষ ফোঁড়া হিসেবে উপস্থিত বহিরাগত মানুষেরা. আশ্রমের আচার্য সত্যানন্দ বুঝে উঠতে পারছিলেন না এই বিপদ থেকে মুক্তি মিলবে কেমন করে? আশ্রমের নিরাপত্তার জন্যেই বা কি করবেন তিনি? আশ্রমের মূল মন্ত্র সম্ভোগ থেকে সমাধি তাতে আকৃষ্ট হয়ে প্রচুর ভক্ত আসেন এখানে. তাঁদেরই একজন আশ্বাস দিলেন আচার্য্কে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পেলে বুলগেরিয়া থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এনে দিতে পারবেন তিনি. আশ্রমের নিরাপত্তার কথা ভেবে রাজী হলেন আচার্য প্রভু. নির্ধারিত রাতে সেই আগ্নেয়াস্ত্র বিমান থেকে ফেলেও দেওয়া হল আশ্রমের চৌহদ্দির মধ্যে. কিন্তু সামান্য ভুলে বাক্স বোঝাই সেই অস্ত্র গিয়ে পড়ল কাছাকাছি দুটি গ্রামে. মিডিয়া শুরু করল হইচই! তারপর? আশ্রম এর কি হল আশ্রমিক রা কি বেঁচে গেলেন? আচার্য ই বা কোথায়? এর সাথে রয়েছে এক যুবক আর যুবতীর প্রেম আর রয়েছে বিশ্বাসঘতকতার কাহিনী। ব্যাস্ততার মাঝে এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলার মতো thriller কাহিনী পড়তে হলে ভালই লাগবে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Samiran Das
Posted By:
boibd
হায়রোগ্লিফের দেশে - অনির্বাণ ঘোষ Hieroglyph Er Deshe by
হায়রোগ্লিফের দেশে
লেখক - অনির্বাণ ঘোষ
প্রকাশক - বুক ফার্ম
"শিক্ষিত" শব্দটির ধড়ে মাথাস্বরূপ একটা "স্ব" বসিয়ে দিলে, সেই পূর্ণাঙ্গ দেহস্বরূপ শিক্ষা যে কতই না রোমাঞ্চের জন্ম দিতে পারে, তা হয়তো অজানাই থেকে যেত গল্পপাঠের অভ্যাসে আসক্ত না হলে। অবশ্য এই আত্মোপলব্ধির কারণও আছে যথেষ্ট। স্কুলে পড়াকালীন ইতিহাস বিষয়টি তার অগুন্তি ঐতিহাসিক ঘটনা, নীরস সাল-তারিখ, আর অজস্র চরিত্র এবং তাদের ঘটনাবলী নিয়ে এমন এক ভীতিপ্রদভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল যে তার সাথে সখ্য গড়ে ওঠা তো দূরের কথা, সে বই দেখলেই বিতৃষ্ণার ভাব হত।
যদিও সেটা আমারই ব্যর্থতা, তাতে কোন সন্দেহ নেই। তবে সেই ব্যর্থতাকে কাটিয়ে উঠে ইতিহাসের অন্দরমহলে উঁকি দেওয়ার কৌতূহলও ছিল যথেষ্ট। সেই কৌতূহলের আগুনে অনেকটা ঘিয়ের কাজ করেছে এই বইটি।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা অনেকের কাছেই বিস্ময়। কিন্তু মিশরীয় সভ্যতা মানে শুধুই পিরামিড নয়, শুধুই কিছু বিস্ময়কর ধর্মীয় বিশ্বাস আর মন্দিরের ইতিহাস নয়। খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ হাজারেরও বেশি সময় আগে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার বৈজ্ঞানিক উন্নতি, স্থাপত্য, চিন্তাধারা, উত্থান পতন অথবা মানসিকতার পরিচয় পেলে অবাক হতে হয়। আবার সুদূর কলকাতার সাথেও যে মিশরের সূক্ষ্ম যোগাযোগ রয়ে গেছে কোথাও, মিশরের অজস্র মনিমানিক্য ছড়িয়ে আছে কলকাতার বুকেও, এমনকি ডাক্তারের প্রেসক্রিপশনেও, সে তথ্যও বেশ অভিনব।
গল্পের মূল কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে মেডিক্যাল কলেজের দুই পড়ুয়ার মাধ্যমে, যাদের কাছে ইজিপ্টের রহস্যাবৃত ইতিহাসের দরজা খুলে দিয়েছে ভবেশদা নামে এক বইয়ের দোকানের মালিক। তারই জবানিতে একের পর এক গল্প স্রোতের মত বয়ে চলে। ইতিহাস সমৃদ্ধ তথ্য, অথচ অতিরিক্ত তথ্যের ভারে পাঠককে পর্যুদস্ত করে ফেলেননি লেখক। বিশেষত, লেখার সাথে দেওয়া ছবিগুলো বিশেষভাবে আগ্রহ জাগিয়ে তোলে।
যদিও, এই বই সেভাবে ইতিহাস বিশেষজ্ঞ বা গবেষকদের জন্য নয়। তবে মিশর সম্পর্কে প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করতে চাইলে, বইটি অবশ্যই সুখপাঠ্য।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Sharbari
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
পালটা হাওয়া - স্মরঞ্জিৎ চক্রবর্তী Paltahawa by Smaranjit Chakraborty
উপন্যাস - পাল্টা হাওয়া
লেখক - স্মরঞ্জিৎ চক্রবর্তী
শহর কলকাতার এক ঝাঁক তরুণ-তরুণীর জীবনের গল্প এই উপন্যাস। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রীপ, তিথি, মন থেকে সমাজসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাওয়া মৌনিকা, পশুপ্রেমী আয়ান, ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বিদেশযাত্রার অপেক্ষায় থাকা শাক্য, রীপের বাড়ির চাকর বাটু, চিত্রশিল্পী রাই এবং আরও অনেক চরিত্র ও তাদের সাথেই জড়িয়ে থাকা সম্পর্কগুলোর বিন্যাস এই উপন্যাস।
মূলত দক্ষিণ কলকাতার পটভূমিতে লেখা এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে সেই অঞ্চলের অলি গলি। সকালের রবীন্দ্র সরোবর থেকে বিকেলে পাড়ার রোলের দোকানে আড্ডা - পাতায় পাতায় নকশা এঁকেছে।
রীপ আর মৌনিকার সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে ঢুকতে চায় স্বার্থপর তিথি, মৌনিকা তার কাজের মধ্যেই ভালোলাগা খুঁজে নেয়। আকাশে এরোপ্লেনের ঝলক দেখে বাটু পায় বেঁচে থাকার আশ্বাস, আবার তখনই অ্যাথলিট পুষ্পল মাথায় অজস্র দায়িত্ব আর চিন্তা নিয়ে আরেকবার হেরে যায় তার জীবনের রেসে। মা-বাবার সম্পর্কের টানাপোড়েনে জীবনকে ভালোবাসতে ভুলে যায় পুলু, তার পাশে থাকে অহনা, একরাশ প্রত্যাশাহীন ভালোবাসা নিয়ে। অফিস কেরানীর মেধাবী সন্তান হোক বা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির ম্যানেজার, সফটওয়্যার ফার্মের লোকেশন হেড হোক বা সুদূর গ্রামের সেলাই করে পেট চালানো মেয়ে, রাস্তায় ধূপ বিক্রি করা বয়স্কা মহিলা থেকে শুরু করে বনেদী বাড়ির আদরের ছেলে - জীবনের জালে আবদ্ধ একদন মানুষের রোজনামচা তুলে ধরেছেন লেখক অত্যন্ত সুদক্ষ হাত এ। প্রচুর চরিত্রের ভিড় এও গল্পের খেই হারিয়ে যায়না একবারও। এখানেই লেখকের মুন্সিয়ানা।
সব মিলিয়ে এক বছরের কিছু বেশি সময়ের ছবি ফুটে উঠেছে উপন্যাসে, সময়ের সাথে পাল্টেছে হাওয়া। যে যার মতো করে পুরোনোকে পিছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়াতে চায়, খুঁজে নিতে চায় জীবনের মানে। এই উপন্যাস হতাশার মধ্যেও জীবনের জয়গান।
রিভিউটি লিখেছেনঃ sampad das
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
অসুর - আনন্দ নীলকণ্ঠন, অভীক মুখোপাধ্যায় Asur by Anand Neelakantan, Avik Mukhopadhyay
অসুর ( রাবণ কাহিনী )
লেখক: আনন্দ নীলকণ্ঠন
ভাষান্তর: অভীক মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনা: পত্র ভারতী
মুল্য: ৩৯৯/-
আমরা সকলেই জানি রামায়ণের কাহিনী। কিন্তু কতটা জানি রাবণের কথা..! জানা খানিক মুশকিল ও, কারণ সেভাবে তো ব্যক্ত করেননি মহাবলী রাবণকে.. আসলে পরাজিত বা বিলুপ্ত পক্ষের কথা কেউই বলেননা যে... কোনো এক সময় দেবকুলের রথের চাকায় সম্পূর্নভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিলো সুবিশাল অসুর সাম্রাজ্যের.. সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আগুনপাখি রাবণের জন্ম। তিনি নিজে বিশ্বাস করেছিলেন ও তার সেই প্রত্যয়ী মনোভাব সমগ্র তার অসুর অনুচরদের মধ্যেও বিশ্বাস এনে দিয়েছিল এক উজ্জ্বল আগামীর, যেখানে তারাই সর্বক্ষেত্রে জয়ী হবেন.. ধীরে ধীরে প্রায় সব জয়ই আসতে থাকে ও সম্পুর্ন প্রভুত্ব বিস্তার হতে থাকে অসুরকুলের অনুকূলে লৌহমানব রাবণের সুযোগ্য নেতৃত্বে..
এরপর রামের আগমনের পর কিভাবে বদলে গেলো অসুরকুলের জীবন বা কোন খাতে অগ্রসর হয়, সেসবের এক সুন্দর আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে.. বলাই বাহুল্য, অসাধারণ ডিটেইলিং বইটির ও একটি ওয়েল রিসার্চড্ নথি বললেও অত্যুক্তি হবে না কোনোভাবেই..
সমগ্র পৃথিবীর ইতিহাসকে এক মহীয়ান অসুর রাজাধিরাজ কিভাবে বদলে দিয়েছিলেন, তা জানতে হলে পড়তে হবেই এই একটু আলাদা ধরনের বইটি...
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
রাক্ষুসে নেকড়ে - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Rakkhuse Nekre by Himadrikishore Dasgupta,
বইয়ের নাম - রাক্ষুসে নেকড়ে
বইয়ের লেখক - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
প্রকাশনীর নাম - পত্রভারতী
মূল্য - ২০০ টাকা
"রাক্ষুসে নেকড়ে" হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের লেখা দুটি উপন্যাসের সংকলন। উপন্যাস দুটি হল মাদাগাস্কারের রাক্ষুসে গাছ এবং নেকড়ে খামার। প্রচ্ছদ এঁকেছেন রঞ্জন দত্ত। বইটির মলাটে দুটি সাদা রঙের নেকড়েকে তাদের তীক্ষ্ণ দাঁত বের করে বরফের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য দেখে গা ছমছম করতেই পারে। মাদাগাস্কারের রাক্ষুসে গাছ: ক্রিপ্টোজুলজিস্ট হেরম্যান ও সুদীপ্ত রওনা দেন মাদাগাস্কারের উদ্দেশ্যে। তাদের লক্ষ্য এমন একটি গাছের সন্ধান পাওয়া যেই গাছ মানুষখেকো। এই গবেষণায় তাদের সঙ্গী হন তরুনী ডক্টরেট আনা রবার্ট। এই মানুষখেকো গাছকে আবার সাক্ষাৎ দেবতা রূপে পূজা করে মকোডো উপজাতির মানুষ। নিজেদের প্রানের ঝুঁকি নিয়ে হেরম্যান ও সুদীপ্ত কীভাবে মাদাগাস্কারের রাক্ষুসে গাছের রহস্য উদঘাটন করবে?
নেকড়ে খামার: সিকিমের তুষারাবৃত অঞ্চলে তুষার নেকড়েদের পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলেছেন জার্মান প্রাণীবিজ্ঞানী ভাইমার। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা এই নেকড়ে খামারটি তুলে দিতে চায় কারন তাদের ধারণা এই নেকড়েগুলো আসলে যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রেতাত্মা অর্থাৎ "ওয়ারউলফ"। সরকারের অনুরোধে মিঃ অনীশ যান এই সমস্যার সমাধান করতে। কি অভিজ্ঞতা হল তার নেকড়ে খামারে?
দুটো উপন্যাসই গা ছমছমে। লেখক প্রকৃতির সৌন্দর্য অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আর দুটো উপন্যাসের শেষে টুইস্ট টা দারুন।
একবার পড়ে দেখুন " রাক্ষুসে নেকড়ে"
রিভিউটি লিখেছেনঃ Srijita
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Subscribe to:
Posts (Atom)
























