AD (728x90)

Book Review

Book Review provides bangla boi reviews.

Comments

3-comments
Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.

LATEST

3-latest-65px
Sorry! The content you were looking for does not exist or changed its url.

Please check if the url is written correctly or try using our search form.

Archive

Featured Video

1-latest-800px-video

Hero Features

feat:Rajarshi Das Bhowmik,Sourov Chocroborti

Featured Courses

6-latest-600px-course

404Something Wrong!

The page you've requested can't be found. Why don't you browse around?

Take me back

Contact form

Developed by ❤️ - Blogger Templates at Piki Templates

About Us

Jobiki Template is Designed Theme for Giving Enhanced look Various Features are available Which is designed in User friendly to handle by Piki Developers. Simple and elegant themes for making it more comfortable

SEARCH

Responsive Ads Here
Get PDF go here PDF Books Contact Us
  • 2793 Pine St

    2793 Pine St

    Nulla facilisi. Cras blandit elit sit amet eros sodales, non accumsan neque mollis. Nullam tempor sapien tellus, sit amet posuere ante porta quis. Nunc semper leo diam, vitae imperdiet mauris suscipit et. Maecenas ut neque lectus. Duis et ipsum nec felis elementum pulvi...

  • 1100 Broderick St

    1100 Broderick St

    Nulla facilisi. Phasellus ac enim elit. Cras at lobortis dui. Nunc consequat erat lacus, a volutpat nisi sodales vitae. Phasellus pharetra at nulla in egestas. Vestibulum sit amet tortor sit amet diam placerat tincidunt sit amet eget lorem. Phasellus ...

  • 868 Turk St

    868 Turk St

    Nulla facilisi. Phasellus ac enim elit. Cras at lobortis dui. Nunc consequat erat lacus, a volutpat nisi sodales vitae. Phasellus pharetra at nulla in egestas. Vestibulum sit amet tortor sit amet diam placerat tincidunt sit amet eget lorem. Phasellus posuere posuere fel...

  • 420 Fell St

    420 Fell St

    Sed at vehicula magna, sed vulputate ipsum. Maecenas fringilla, leo et auctor consequat, lacus nulla iaculis eros, at ultrices erat libero quis ante. Praesent in neque est. Cras quis ultricies nisi, vitae laoreet nisi. Nunc a orci at velit sodales mollis ac ac ipsum. Na...

কৌন্ডিন‍্যের ধনুক - দেবজ‍্যোতি ভট্টাচার্য্য Koundinyer Dhonuk by Debjyoti Bhattacharyya

 কৌন্ডিন‍্যের ধনুক
লেখক - দেবজ‍্যোতি ভট্টাচার্য্য 

বিষবৈদ‍্য সিরিজের শেষ বই। আগের গুলো পড়েছি এটাও পড়লাম পড়ার শুরুতে কিছুটা এগোনোর পর ভেবেছিলাম বেশ জমজমাট একটা ব‍্যাপার হতে চলেছে গল্পের গতিপ্রকৃতিও সেরকমই এগোচ্ছিল কিন্তু মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে যাচ্ছিল গল্পের টানটান ব‍্যাপার টা কেটে যাচ্ছিল...এবং শেষটা অতি সাদামাটা লেগেছে আমার.... আরো কিছু টুইস্ট বা রোমহর্ষক একটা সমাপ্তি হবে ভেবেছিলাম যেটা হয় নি......।

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

আলোর মানুষ - ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় Alor Manush || Tridib Kumar Chattopadhyay

বইয়ের নাম - আলোর মানুষ
লেখক - ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়
মুদ্রিত মূল্য - ₹২৬০/-
প্রথম প্রকাশ - ডিসেম্বর, ২০২২
প্রকাশনী - পত্রভারতী
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৭৬

'নিমাই চৈতন্য' নামটি শুনলে প্রথম কি মনে আসে ! একটা রোগা, ফর্সা, পরণে একটা ধূতি, গলায় একটা উত্তরীয়। কপাল থেকে নাক পর্যন্ত তিলক। ন্যাড়া মাথা। দুটি হাত উপরে তুলে, চোখ অর্ধেক খোলা রেখে যেন সর্বদা 'কৃষ্ণ নাম' জপ করা একটা মানুষ। ছেলেবেলায় ইতিহাস বইতে অল্প একটু পড়েছিলাম চৈতন্য সম্পর্কে.... একটা ব্যক্তি হরি নাম, কৃষ্ণ নাম গাইতে গাইতে মানুষকে জাগ্রত করছেন বৈষ্ণব ধর্মে, যার কাছে সব ধর্ম সমান। না, এর বেশি আর কিছুই জানতাম না, মানুষটি সম্পর্কে....... 
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ , যেদিন দিদির সাথে বইমেলায় গিয়ে পত্রভারতীর স্টলে ঢুকলাম, তখন চারিদিকে শুধু নতুন বইয়ের সম্ভার। বইয়ের গন্ধে মো মো গোটা স্টল। কোনটি ছেড়ে কোন বই কিনব, সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না। মনে হচ্ছিল, সব বই কিনে নিয়ে যাই, কিন্তু সে সাধ্যি আছে কার ? 
অগত্যা লাল মলাটের উপরে দেখলাম 'আলোর মানুষ' লেখা একটা বই তার উপরে শ্রীচৈতন্যের সেই চিরাচরিত ছবি। পরের দু'পাতা উল্টিয়ে 'কৈফিয়ত' লেখাটা পড়লাম। তারপর নিজেকে আর সংবরণ করতে পারিনি, কিনেই ফেললাম, 'আলোর মানুষ'। পড়াশোনার চাপে একটু দেরি হলেও সম্প্রতি শেষ করলাম সমগ্র উপন্যাসটি, যেখানে প্রতিটি পাতায় লেখা হয়েছে, শচী মাতার ছোটো ছেলে, বৈঞ্চব বিরোধী নিমাই থেকে বৈঞ্চব ভক্ত, শ্রীকৃষ্ণ ভক্ত বিশ্ববিখ্যাত 'শ্রীচৈতন্য' হয়ে ওঠার গল্প। প্রেম, বিরহ, মোহ, মায়া ত্যাগ থেকে সংসার ত্যাগ করার গল্প...... এ যেন সাক্ষাৎ এক ঈশ্বর দর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়। 
প্রতিটি পাতা ত্রিদিব জ্যেঠু এতটা যত্ন সহকারে লিখেছেন যে শেষ না করা পর্যন্ত আপনি বইটি রাখতেই পারবেন না। অনিশ জ্যেঠুর মতোই এটা পড়ে আমারও মনে হচ্ছে , এ গ্রন্থ আবার ইতিহাস তৈরি করবে। 

তাহলে আর দেরি কিসের তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলুন, নিমাই থেকে শ্রীচৈতন্য হয়ে ওঠার গল্প ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়ের লেখা 'আলোর মানুষ'।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Mr. Agni
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

#review 
বইয়ের নাম _ "আলোর মানুষ"
লেখক_ ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় 
পাবলিকেশন _ পত্রভারতী
প্রথম প্রকাশ _ ডিসেম্বর ২০২২
মূল্য_২৭৫ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যা _১৭৬
জনরা_ সামাজিক জীবনধর্মী মূলক উপন্যাস

অনেকদিন পর একটা জীবনী ধর্মী লেখা পড়ে মন ছুঁয়ে গেলো। ত্রিদেব বাবুর আলোর মানুষ বইটা এক টানটান ঘটনা বহুল। বইটা নিমাই ( চৈতন্য মহাপ্রভু) জীবন আশ্রিত একটা উপন্যাস। বইটা দুইটি পর্বে বিভক্ত।
প্রথম আর দ্বিতীয় পর্ব।
দুই পর্বে বইটা নিমাই এর জন্ম মুহুর্ত থেকে মৃত্যু রহস্য অব্দি তুলে ধরা হয়েছে। বইটা বাড়তি কথা নেই।যতটা দরকার লেখক ঠিক ততটাই আলোচনা করেছেন।অহেতুক পৃষ্ঠা সংখ্যা আর বাড়তি কথা বলে পাঠক দের এক ঘেঁয়েমী তে পড়ার দিকে খেয়াল রেখেছেন।

এইবার গল্পের বিষয় বস্তু নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করছি। বইটা দুই পর্বে বিভক্ত। প্রথম পর্ব আমরা যখন পড়া শুরু করবো তখন নিমাই এর ছোটো বেলার জীবন যাত্রা জানতে পারবো। প্রথম জীবনে তার দুষ্টুমি তে অতিষ্ঠ হবার পাড়া প্রতিবেশীর নিদারুণ হাহাকার। মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও পড়াশোনা না করতে চাওয়া। চুরি করে ফল খাওয়া। বাবার কাছে তিরস্কৃত হয়ে মন খারাপ করে পুকুর পাড়ে বসে থাকা ও সেইখানে প্রথম লক্ষ্মীর সাথে পরিচয় হওয়া তাদের প্রেম। এবং বিয়ে করা । সাথে নিজেকে চিনতে পেরে শিক্ষা গ্রহণ করা।
ও জ্ঞানের আলোয় পুরো নবদ্বীপ জুড়ে আলোড়ন ফেলে দেওয়া।তার স্ত্রী লক্ষীর মৃত্যু আর সংসার ছেড়ে সন্ন্যাসী জীবন বেছে নেওয়া এটাই প্রথম পর্ব বিষয়বস্তু।

দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয় নিমাই এর স্বপ্নের মাধ্যেমে পুরির নীলাচল ঠাকুর এর ডাক। জগন্নাথ ঠাকুর এর ডাকে  সাড়া দিয়ে পায়ে হেঁটে তার যাত্রা পথের বিবরণ।পথের মধ্যে তার ভক্তদের নিয়ে পুরীর দিকে পথ চলা।
এবং সাথে সাথে তার জীবনের বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা আর লীলা লেখক খুব সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন। সুলতান হোসেন শাহ সাথে উড়িষ্যা রাজার দ্বন্দ্ব।রামচন্দ্র খান এর সাথে নৌকায় বসে দুই রাজার আলোচনা।নদীর যাত্রাপথে ভক্তদের নিমাই কে উন্মাদনা চোখে পড়ার মতো। উড়িষ্যা পৌঁছালে রাজার নিকট তার ভালোবাসা।রাজার তাকে আপন করে নেওয়া। রাজার এই আপন করে নেওয়া বিভিন্ন সার্থপর লোকদের নিমাই এর প্রতি শত্রু ভাবাপন্ন হওয়া। বৃন্দাবন থেকে কাশী হয়ে পুরো ভারত জুড়ে ধর্মীয় প্রচার বারাণসীতে।
এবং যেহেতু নিমাই এর মৃগী রোগ এর বিবরণ। আর মৃত্যুর পূর্বে জগন্নাথ দর্শন ও সুচলো ইট বাম পায় এর অগ্রভাগ পায়ে ডুকে গিয়ে বিষিয়ে যাওয়া।আর সর্বশেষ প্রধান শত্রু বিদ্যাধর এর ষড়যন্ত্র। আর সর্বশেষ এ নিমাই ( চৈতন্য মহাপ্রভু) অন্তধান বা মৃত্যু এটাই দ্বিতীয় পর্ব বিষয়বস্তু।

বইটা এক কথায় অপূর্ব সুন্দর। তাই সবার কাছে আমার অনুরোধ আপনারা অতি অবশ্যই ত্রিদেব কুমার চট্টোপাধ্যায় লেখা "আলোর মানুষ" পড়বেন।

রেটিং _ গল্পটির পাতায় পাতায় যে যে পরিমাণে রহস্য ইতিহাস ও চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন এর বিবরণ তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও তার মৃত্যুর ব্যাখাও তার জন্ম থেকে মৃত্যু পুরো জীবন লেখক লিখেছেন। বইটা পড়া শুরু করলে শেষ না করে কোনো উপায় নেই। তাই আমার রেটিং ১০ এর মধ্যে পারফেক্ট ১০

রিভিউটি লিখেছেনঃ Bapan Da
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

ত্রিভুজ - সাথী দাস Trivuj by Sathi Das

 ত্রিভুজ
সাথী দাস


আমার সারা জীবনের পড়া বাংলা ভাষায় শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। হ্যাঁ,সমস্ত ক্লাসিকস, সমসাময়িক সব উপন্যাস কে মিলিয়ে ই কথা টা বললাম। ৭৫৪ পাতা, বহু দিন ধরে একটু একটু করে পড়েছি, আজ তার চির পরিসমাপ্তি। আমার পাঠক সত্বা পরিপূর্ণ। 

ত্রিভুজ এর অন্তর্দহনে প্রতি দিন জ্বলেছি, আটকে রাখতে পারিনি আমি নিজেকে। দিন এর পর দিন একটি বিশেষ চরিত্র পুড়িয়ে দিয়েছে হৃদয় রোজ বার বার শত বার সহস্র বার। জীবনের নানা প্রান্তে অসংখ্য ত্রিভুজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, পড়তে পড়তে আমি ও উপন্যাস এর ত্রিভুজ এর অব্যক্ত অংশ হয়ে গেলাম। উপন্যাস তো শেষ হয়ে গেছে আমার টা ওরা কেউ জানতে পারবে না। আমার শরীর অবশ হয়ে গেছে। জানিনা আবার কবে এই কঠোর সত্য ভুলে স্বাভাবিক হবো, লেখিকার ৭৫৪ পাতায় আমি সাত লক্ষ বার নিজেকে সমর্পণ করে ফেলেছি এক চরিত্রে র কাছে। 

আমার কাছে আমার পড়া সকল চরিত্রে র মধ্যে শ্রেষ্ঠ চরিত্র হয়ে আজীবন আমার মধ্যে রয়ে যাবে ঋক ওরফে প্রান্তিক কুমার চৌধুরী, জানি না সত্যি কোথাও সে আছে নাকি, আজ থেকে রাতের আকাশে আমি তার জন্য নিশ্চয় চোখ ভিজিয়ে ফেলব বারবার, আর চাই প্রতি মুহূর্তে সে একবার পাশে থাকুক সারা জীবন। প্রচ্ছদ এর পাতার লাল রং, মূল তিন চরিত্র,একটা বাইক সারা জীবন অন্তর এ থাকবে। আর থাকবে জীবনের শেষ দিন অব দি সবচেয়ে বেশি পুড়তে থাকা অবিনশ্বর চরিত্র জীবন্ত দেবতা সম ঋক। আমি ঋক কে প্রণাম জানালাম। 

গলায় উঠে আসা ক্রমাগত দলাপাকানো কান্না গেলা সম্ভব হচ্ছে না কোনোভাবেই। নিজে চোখের সামনে সৃষ্টি, ধ্বংস লীলা দেখতে দেখতে আর একটি বার ঋক কে ছুয়ে দেখতে না পেয়ে আমার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত। 
এখানেই শেষ করলাম ত্রিভুজ এর এক শীর্ষ বিন্দু তে থাকা ঋক, এক বিন্দু তে শারদীয়া আর এক বিন্দু তে জ্বলতে থাকা আমি ।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Riya
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

ত্রিভুজ
সাথী দাস

যতদূর অন্যদের কাছে শুনেছি সাথী দাস এর প্রতিটা প্রেমের গল্প ই অসাধারণ তাই ত্রিভুজ টা পড়েই ফেললাম সত্যি বলতে কি এতটা আশা নিয়ে শুরু করিনি তবে পড়তে শুরু করার পর আর থামতেই পারিনি রিদ্ধি রিক আর শারদীয়া মূল গল্প চরিত্র এদের ত্রিকোণ প্রেমের গল্প নিয়েই মূল উপন্যাস। রিক আর রিদ্ধি দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রচন্ড ভালোবাসা। আর শারদীয়া সংক্ষেপে দিয়া রিদ্ধির ক্লাসমেট

ছোটবেলায় রিদ্ধি আর দিয়ার  ঝগড়ার কারণে রিক দিয়া আর রিদ্ধি তিনজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আর সেই জন্য দিয়ার মা নীলিমা আর রিক আর রিদ্ধির  মা রমার ও বন্ধুত্ব হয়। দিয়া আর রিদ্ধি দুজনেই বিচ্ছু হওয়ায় বেশকিছুবার রিককে তাদের মাঝখানে পড়ে ঝগড়া থামাতে হয় আর বড় হওয়ার সাথে এবং সব বুঝতে শেখার সাথে সাথে রিক দিয়ার প্রেমে পড়ে যায় যেহেতু ছোটবেলায় রমা অর্থাৎ রিক আর রিদ্ধির মা দিয়াকে নিজের বড় ছেলে রিকের জন্য বউ করে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে নীলিমা র কাছে প্রকাশ করেন। তাই রিক নিজের কল্পনায় দিয়াকে প্রেমিকা এবং কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গিনী হিসেবে মেনে নেয়।‌ আর রিক বরাবর ই পড়াশোনায় ভালো থাকার জন্য নীলিমা ও রীককে নিজের দিয়ার জন্য পারফেক্ট হিসেবে খুঁজে পায়
কিন্তু বড় হওয়ার পর সব ওলটপালট হয়ে যায় রিক দিয়া আর রিদ্ধির থেকে বড় হওয়ায় তার দিয়ার সাথে কথা বা সাক্ষাৎ খুব কম হতো কিন্তু রিকের প্রেমে একটুকুও ছেদ পড়েনি এর জন্য। সময় পেলেই সে তার হার্ড ডিস্কে ভরা শারদীয়ার ছোট বেলা থেকে সব ফটো বের করে দেখতে দেখতে সময় কাটিয়ে দেয় তাদের বাড়িতে শারদীয়া এলে একটিবার তার দেখা পাওয়ার জন্য আর তার গলা শোনার জন্য মরিয়া হয়ে যায়
অন্যদিকে রিদ্ধি ও দিয়ার প্রেমে পড়ে যায় ধীরে ধীরে এটা অবশ্য অস্বাভাবিক কিছু না তারা একই ক্লাস এর পড়ুয়া এবং দিয়া রিদ্ধি র বেস্ট ফ্রেন্ড।
আবার দিয়া তাদের স্কুল এ আসা নতুন একটি ছেলে ময়ূখ এর দিকে আকৃষ্ট হয় অন্যদিকে ময়ূখ ও দিয়াকে ভালবেসে ফেলে ময়ূখ এর খারাপ চরিত্র র ব্যাপার এ জেনে আর ফ্যামিলি ফানশন এ ময়ূখ এর স্পর্শ অস্বাভাবিক লাগায় দিয়া ময়ূখ এর থেকে দূরে সরে যায় আর ধীরে ধীরে রিদ্ধি কে ভালবেসে ফেলে।
দিয়া রিদ্ধি র জন্য কয়েক বছর অপেক্ষা করে যে কবে রিদ্ধি নিজের মুখে ভালোবাসার কথা বলবে অন্যদিকে রিদ্ধি তার ভালোবাসার কথা বোঝার জন্য কয়েক বছর সময় নেয় আর এই সুযোগ নিয়ে ময়ূখ বাববার দিয়াকে নিজের ভালোবাসার কথা বলে তাকে নিজের বানানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় অন্যদিকে রিক তো তার কাঙ্খিত জীবনসঙ্গিনী দিয়ার সাথে কল্পনায় নিজের সংসার সাজিয়ে বসে আছে। 

কি হবে এদের ভবিষ্যৎ?! 
জানতে হলে পড়ে ফেলুন সাথী দাশের ত্রিভুজ 

Sorry ami review khub i baje likhi 😑😑

Apnara boita pore dekhun osadharon just !!

রিভিউটি লিখেছেনঃ A Reader

আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

ব্লু ফ্লাওয়ার খন্ড - ১, ২, ৩, ৪ - অভীক দত্ত Blue Flower 1 2 3 4 by Abhik Dutta

বই - ব্লু ফ্লাওয়ার ; খন্ড - ১,২,৩ এবং ৪
লেখক - অভীক দত্ত
আমার রেটিং - ৮/১০

জেমস বন্ড পড়তে কি ভালো লাগে? স্পাই থ্রিলার ?? তাহলে এই সিরিজটা পড়তে পারেন। মোট ৪ টি খন্ড, ক্রমানুসারে পড়ুন। অতিরঞ্জিত বলিউড সিনেমার গল্প নয়, বরং অনেকটাই বাস্তব থেকে উঠে আসা গল্প। চরিত্রগুলিও আমাদের আশেপাশের লোকজন। কিভাবে একটি অতি সাধারণ ছেলে জড়িয়ে পড়ে এক বড় চক্রান্তে, নিজের অজান্তেই হয়ে যায় শক্তিশালী খেলোয়াড়দের হাতের পুতুল। কিভাবে সে ঢুকে পড়ে দেশের গোয়েন্দা বাহিনীতে, যে নাম দিয়ে শুরু করেছিল এই জগতে যাত্রা, সেই নামের আসল লোকের সাথেও মুখোমুখি হয় একদিন, কি হয় তারপর ?? ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে গল্প এগিয়ে চলে। পরিবারের সবথেকে শান্ত ব্যক্তিকে যদি হঠাৎ জানা যায় একটি জঙ্গী গোষ্ঠীর অন্যতম শীর্ষ নেতা, কি হয় তারপর সেই পরিবারের সদস্যদের। Raw এবং ISI এর সাপে নেউলের যুদ্ধ, শত্রুদের দেশে প্রাণ হাতে করে লুকিয়ে থেকে মাতৃভূমিতে বড় নাশকতা রোধ করা, আবার শত্রুদেশে মনের মানুষকে খুঁজে পাওয়া, না বলিউডের মতো দুজনই স্পাই, তেমন নয়। অত্যন্ত রুদ্ধশ্বাস এবং উপভোগ্য লেখা একদমে শেষ করে ফেললাম এই উইকএন্ডে।

লেখাটা পুরো সাবলীল বলতে পারলাম না একটা ছোট্ট বিষয়ের জন্য - কথোকথন এর সময় 
সায়ক বলল - 
বীরেন বলল -
সায়ক বলল -
এই বারবার "বলল", আর "বললেন" টা এড়িয়ে যাওয়া যেত, এত ভালো উপন্যাসটি এইজন্য প্রতিটি কথোকথনের সময় বিরক্তিকর লাগছিল।

এই অংশটা বাদ দিলে উপন্যাসটি সত্যিই সুখপাঠ্য।

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

ব‌ই: ব্লু ফ্লাওয়ার (১)
লেখক: অভীক দত্ত


Review একটু বড় হয়েছে
গল্পটি শুরু হয় বীরেন নামে একটি ছেলেকে দিয়ে যে ছেলেটি এটিএমে একটি ছেলেকে অবৈধভাবে অনেক কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলতে দেখে।
জিজ্ঞাসা করছি ছেলেটি পালিয়ে গেল বীরেন সমস্ত কার্ড জড়ো করে সায়ক বড়াল নামে একজনের ঠিকানা জেনে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা ভাবে।
কিন্তু যে ঠিকানায় সে কার্ডগুলো পৌঁছে দিতে যায় সেখানে তো শায়ক বড়ালের খোঁজই পাওয়া গেল না, সেখানে থাকেন জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য বলে এক বাঙালি। আদিতে পরিবারের সবাই জ্যোতির্ময় বাবুকে অবিবাহিত শিক্ষিত ব্যক্তি বলেই জানেন যার কাছে দিনে প্রচুর লোক আসে এবং যিনি দিনের ব্যক্তি বেশিরভাগ সময়টাই শেয়ার মার্কেটে ইনভেস্ট করে খরচ করেন। 
এখান থেকেই গল্পের সূচনা, আরেকটু এগুলো দেখা যাবে, এই জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য হচ্ছেন ধর্মান্তরিত মুসলিম , সন্ত্রাস কার্যকলাপে যুক্ত এবং কাশ্মীর হামলায় যার প্রত্যক্ষ হাত আছে। বীরেন দেখা করতে গেলে তিনি বীরেন কে তার পরিবারের ভয় দেখিয়ে শায়ক বড়াল নামে পরিচিতি দিয়ে তাকে বিভিন্ন বিস্ফোরণের এজেন্ট হিসেবে কাজ করাতে চান, এবং বীরেন অরাজি হলে তাকে তার পরিবারের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করেন। বাড়িতে বীরেন বলে সে ইন্টারভিউ এর ডাকে দুদিন বাইরে যাচ্ছে কিন্তু সে নিজেও জানে না সে কবে বাড়িতে বেঁচে ফিরতে পারবে।

হলো তো বীরেন বাধ্য হয়ে তার কথা মতো কখনো মুম্বাই কখনো কাশ্মীর কখনো দিল্লী ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় এজেন্টের কাজ করে, কোথায় কি হচ্ছে সে নিজেও বুঝতে পারে না এবং নিজের অজান্তেই সে দু একটা জায়গায় বোম ব্লাস্টিং করায় । সারাদেশে জ্যোতির্ময় এর বিভিন্ন রকম দেশবিরোধী এজেন্ট ঠিক করা আছে। 
 
গল্পের মাঝে জ্যোতির্ময়ের ভাইজি মিলি তার ঘর থেকে আরবি ভাষায় লেখা একটা লিফলেট নিয়ে সন্দেহ করে এবং তার বান্ধবীর মাধ্যমে জানতে পারে এই লিফলেটটা হচ্ছে ভারত বিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে কার্যকলাপ, তখন থেকেই মিলির মনে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। মিলি বাড়িতে জানাই যে তার জেঠুর আচরণ কিছুদিন ধরেই তার ঠিকঠাক চেনো এবং পরবর্তীতে আবিষ্কৃত হয় জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ছিল হাসান মাকসুদ তার স্ত্রী এর নাম ইয়াসমিন এবং তাদের একটি ছেলেও আছে সাহিল নামে। 
এদিকে জ্যোতির্ময়ের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে আফসানা স‌ইদ নামে পাকিস্তানের এক স্বনামধন্য লেখিকা যার স্বামী ওমর শেখকে ভারত সরকার বন্দী করে রেখেছে।

এই কার্যকলাপ দমন করতে ভারত সরকারের কয়েকজন অফিসার যেমন তুষার রঙ্গনাথন, মাথুর, রেহান খান এরা বদ্ধপরিকর।

এরপর কী হলো ? জ্যোতির্ময় কি বেঁচে থাকবে বীরেন কি বাড়িতে বেঁচে ফিরতে পারবে ? কী হলো আফসানা স‌ইদের ? তা জানতে আপনারা গল্পটি পড়ুন।

তবে গল্পের শেষদিকে সুমন, মির্জা,আফসানা স‌ইদের সংলাপকে দীর্ঘায়িত না করলেই ভালো হতো। 
ঠিক তেমনি অনেক পুলিশ অফিসারদের নাম এবং তাদের ভূমিকা মনে রাখতে পাঠককে বেশ বেগ পেতে হয়।

আশাকরি পাঠকের বেশ ভালই লাগবে।

রেটিং: ৩.৯/৫

( ব্যক্তিগত মতামত)

দরিয়া-ই-নুর - মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন Doria-E-Nur by Mohammad Nazim Uddin

বই: দরিয়া-ই-নুর
লেখক: মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
জনরা: থ্রিলার
প্রচ্ছদ: ডিলান
প্রকাশনী: বাতিঘর প্রকাশনী
প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২
মুদ্রিত মূল্য: ২০০/-


❝লোভ এমনই এক ঘোড়া, ছুটতে থাকবে, ছুটতে থাকবে... একটুও থামবে না! পথের শেষ হয়ে গেলেও ছোটার শেষ হবে না, নতুন পথ তৈরি করে নেবে সেই পাগলা ঘোড়া!❞

দীর্ঘ পনেরোটা বছর পর জেল খেটে বের হয়েছে মীর্জা আশেক। এর মাঝে বদলে গেছে অনেক কিছুই। কেমন আছে রোজী? তার গুরুরই বা কী খবর? সবথেকে বড় কথা, জেল থেকে বের হয়েই আবার কেন নতুন একটা দাঁও মারতে নেমে গেলো আশেক?

ছোট করেও যে উৎকৃষ্ট থ্রিলার লিখা যায়, তার প্রমাণ এই নভেলাটি। অল্প কলেবর এই নভেলায় চরিত্রায়ন, কাহিনী বুনোট সবকিছুই যথাযথভাবে ফুটে উঠেছে।

যদিও ঘটনা প্রবাহ কোনদিকে যাবে,বা কিভাবে হবে সমাপ্তি, তা যেকোনো থ্রিলারপ্রেমীই কিছুটা হলেও অনুমান করতে পারবেন,তাও লিখনশৈলীর জাদুতে পুরোটা শেষ করতে চাইবেন।

এর বেশি কিছু বলতে নিলে অনেকখানি স্পয়লার হয়ে যাবে।

ব্যস্ততার মাঝে কম সময়ে কোনো থ্রিলার পড়ে শেষ করতে চাইলে এই নভেলাটি পড়া যেতে পারে।।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Uchchash
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

সন্ধ্যা নামার পর - নির্মাণ রায় Sandha Namar Por by Nirban Ray

 সন্ধ্যা নামার পর
নির্মাণ রায়


৭টি ছোটো গল্প, ৪টি বড় গল্প ও একটি  উপন্যাস এর সমাহারে বনবিবি পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত এই বইটি পড়ার পর মনে হলো একটু লিখি।গল্প গুলি চিরকালীন বাংলার মাটির সোঁদা গন্ধ আর গা ছম ছম অনুভূতি।যদিও জম্বি,নেকড়ে মানুষ আমাদের গল্পের base নয় বলে ভূমিকায় উল্লেখ করলেও নেক্রফেলিয়া গল্পে উনি সেই চিরাচরিত পথেই হেঁটেছেন। তবে গল্পের কথনের সরলীকরণ ভালোই লাগে। তবে বাঁধুনি আরো একটু মজবুত হলে ভালো লাগতো। তবে নিজের খুঁজে বেড়ানো অভিজ্ঞতা ভালোই কল্পনার মিশেলে উপস্থাপন করেছেন, পড়তে পারেন

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

সুলেমানি গুপ্তধন - সুদীপ্ত কাহালি Sulemni Guptadhan by Sudipta Kahali

সুলেমানি গুপ্তধন
লেখক- সুদীপ্ত কাহালি

বরাবরই আমার ট্রেসার হান্ট এর উপর লেখা বই পড়তে বেশ ভালো লাগে। গল্পটির  শুরু হয় ইন্দ্রনীল নামে এক ব্যক্তির ডায়রি লেখা থেকে। বিদেশে সে ঘুরতে গিয়ে একটি বোতল মেইল খুঁজে পায়। একটি গুপ্তধন এর নকশা রয়েছে তার মধ্যে। এর পরেই তার জীবনের আমুল পরিবর্তন ঘটে। একের পর এক ঘটনা ঘটতে থাকে তার সাথে। গল্পটিতে যেমন এডভেঞ্চার আছে তেমন সুপারন্যাচড়াল দিক ও রয়েছে। সব মিলিয়ে বেশ দারুন একটি উপভোগ্য বই। আমার বেশ ভালো লেগেছে।
আমার তরফ থেকে বইটিকে 5/4 রেটিং দিলাম।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Asima Pramanik
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

সেই ডাইরিটা - অর্পিতা সরকার Sei Diaryta || Arpita Sarkar

 সেই ডাইরি টা
অর্পিতা সরকার


অনেকদিন পর এমন একটি রহস্য উপন্যাস পড়লাম যা বেশ কিছুদিন মনে দাগ কেটে থাকবে।
   গল্পরের শুরুতে কলেজের ইতিহাসের অধ্যাপক খুন হন মাথায় আঘাত লাগে এবং শ্বাসরোধ করে।এই কেস এর দায়িত্ব পান ইন্সপেক্টর লাগঞ্জিতা।এর কিছু পরে ই খুন হন অধ্যাপকের অনুগত মন্টু।
 অধ্যাপক এর স্ত্রী সরলা, ছেলে, রাহুল, বন্ধু মৃন্ময় এবং তার মেয়ে চন্দ্রাজা এরা হলেন মূল অভিযুক্ত ।এদের মধ্যে যে কেউ খুনি হতেই পারেন।
   ইন্সপেক্টর খুনিকে খুঁজে পেতে শান্তিনিকেতন পৌঁছেজান বন্ধু কৌশিকের সঙ্গে। সেখানে সরলাদেবীর বোন যে প্রায় তারই মতো দেখতে এবং সন্ধান পান একটি মিশরীয় লিপিতে লেখা একটি ডাইরির।এখানে আরো এক পুলিস খুন হন।গল্প আবার মোড় নেয়।
    আবার প্রশ্ন ওঠে তবে কি খুনি আবার অন্য কেউ এতক্ষন তো পাঠক প্রায় ভেবেই ফেলেছিল খুনি আসলে সরলা ।আসল খুনি কি ব্রাজমহনের প্রাতভ্রমনের সঙ্গীদের কেউ, নাকি আর কেউ। এর থেকে বেশি বলা যাবে না।
   আবার বলি বহুদিন পর একটা টানটান উপন্যাস পড়লাম ।আমার ব‍্যক্তিগত রেটিং 8.5/10.

রিভিউটি লিখেছেনঃ ঝড়ের পাখি
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

#review
উপন্যাস - সেই ডাইরি'টা
লেখিকা - অর্পিতা সরকার
প্রকাশন - দীপ প্রকাশন
পৃষ্ঠাসংখ্যা - ২০০
রিভিউ লিখেছেন - শুভজিৎ বিশ্বাস

অর্পিতা সরকারের অমর সৃষ্টি সাব ইন্সপেক্টর লগ্নজিতা ভট্টাচার্যকে চেনেন !! আরে মশাই, চিনতে পারছেন না, অর্পিতা সরকারের 'ট্রাফিক সিগন্যালের কেসটা যিনি হ্যান্ডেল করেছিলেন, তিনিই !! এতক্ষণে মনে পড়েছে নিশ্চয় । 
অর্পিতা সরকারের নতুন কেস 'সেই ডাইরি'টা'। এই কেসের দায়িত্ব পড়েছে আবারও সেই সাব ইন্সপেক্টর, সরি ইন্সপেক্টর  লগ্নজিতা ভট্টাচার্যের উপর। চলুন একটু কেসটা নিয়ে বিস্তারিত বলি, 
ভোর চারটে নাগাদ মাথায় আঘাত লেগে শ্বাসরোধ হয়ে নিজের পড়ার ঘরেই খুন হন কলেজের ইতিহাসের প্রফেসর ব্রজমোহন চক্রবর্তী। তার থেকে বছর দশ বারোর ছোটো স্ত্রী সরলাদেবী একজন মানসিক রোগী। ব্রজমোহন চক্রবর্তী'র ছেলে রাহুল চক্রবর্তী একজন চাকুরীজীবি। রাহুলের প্রেমিকা ব্রজমোহন চক্রবর্তী'র বন্ধু মৃন্ময়- এর মেয়ে চন্দ্রজা। ব্রজমোহন চক্রবর্তী পড়াশোনা নিয়েই বেশিরভাগ সময় থাকতেন। তার একটাই দোষ তিনি কোনো কিছু চাপা রাখতে পারেন না। আবেগ আর বিশ্বাসের বশে সব গোপন কথা বলে দেন নিজের বন্ধু ও কলিগ সহ সব্বাইকে, এমনকি নিজেদের পরিবারের গুপ্তধনের কথাও। ব্রজমোহন চক্রবর্তীর একটাই অহংকার তার পূর্বপুরুষ এবং বংশ মর্যাদা নিয়ে। এদিকে নাটকের অভিনেত্রী সরলাদেবী বিয়ের আগে থেকেই একতরফা ভালোবাসেন মৃন্ময়বাবু'কে। খুনের দিন খুব ভোরে সরলাদেবী মৃন্ময়বাবু'কে ব্রজধামে ঢুকতে দেখেন তাই সরলাদেবী'র মনে হয় খুনী মৃন্ময়। এদিকে মানসিক রোগী সরলাদেবী নিজের মেয়ের মৃত্যুর পর ছেলেদের সহ্য করতে পারেন না। এমনকি নিজের ছেলেকেও না। দু'বার গলা টিপে শ্বাসরোধ করে ব্রজমোহনকে খুন করার চেষ্টা করেছিল। সুতরাং সরলাদেবী আর মৃন্ময় বাবু তো আছেনই লগ্নজিতার সন্দেহের তালিকায়, এছাড়াও রয়েছেন ব্রজমোহন চক্রবর্তীর মর্নিং ওয়ার্কের কিছু সঙ্গী এবং সঙ্গীনি। বাদ পড়েনি সরলাদেবীর মানসিক রোগীর ডাক্তার মেঘমালা বন্দ্যোপাধ্যায়ও.......  । কিন্তু আসল খুনি কে  ? কেন সে একটা নয়, তিন তিনটে খুন করলো  ? আর দু'জন কারা, জানার জন্য আপনাকে পড়তেই হবে অর্পিতা সরকারের নতুন উপন্যাস 'সেই ডাইরি'টা'। 

খুব সুন্দরভাবে প্রতিটি গিঁট ছাড়ানোর সাথে সাথে আপনিও সাক্ষী থাকতে পারবেন ডাক্তারের সাথে ইন্সপেক্টরের প্রেমের মুহুর্তগুলোর। ভালোবাসায় হাংলা ডাক্তার কৌশিককে আপনিও নিঃসন্দেহে লগ্নজিতার মতো নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলবেন। তাই আর দেরি কেন, তাড়াতাড়ি পড়ে ফেলুন আর লগ্নজিতার সাথে শনাক্ত করুন ব্রজমোহন চক্রবর্তী'র খুনি'কে আর তার মোটিফ কি ? 

ধন্যবাদ

রিভিউটি লিখেছেনঃ শুভজিৎ বিশ্বাস
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

দেবতার দেহ - মনীষ মুখোপাধ্যায় Debotar Deho by Manish Mukhopadhyay

📖 দেবতার দেহ
✍️ মনীষ মুখোপাধ্যায় 
📚 বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন
💲135 /-


◻️ চাকরি হারিয়ে ইন্সুরেন্সের দালালির কাজ পেলো সমর। হঠাৎ সমর পেলো এক পয়সাওয়ালা পার্টি।লোকটির নাম রামরতন রক্ষিত।তাঁর বাড়িতে পলিসি তুলতে গিয়ে অবাক হলো সমর। দেওয়াল জুড়ে অমন দেবতাদের কাটা মাথার মুখোশ সাজানো কেন?রামরতন তাঁকে গল্প শোনালেন এক দেবীর। যাঁর মাথাটা সাপের আর শরীরটা মেয়ে মানুষের।তিনি সর্পদেবী রন্নুৎ।ধীরে ধীরে সমরও জড়িয়ে গেল মিশরীয় এই সর্পদেবীর জালে। তারপর কি হলো?

◻️ সম্প্রতি শেষ করলাম বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন থেকে প্রকাশিত পেন্টাগ্রাম সিরিজের অন্যতম বই মনীষ মুখোপাধ্যায়- এর লেখা 'দেবতার দেহ '। পৃষ্ঠা সংখ্যা মাত্র ৬৪ , তাই একবারেই শেষ করে ফেলেছিলাম।

◻️ তন্ত্র মন্ত্র জাতীয় ভয়াল রসের বই আজ কাল অনেকই বের হলেও মনীষ বাবুর লেখা তাদের মধ্যে অন্যতম হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ,  প্রথমত ভাষার ব্যবহার চমৎকার। দ্বিতীয়ত, গল্পের গতিবেগ খুব ভালো, শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা বজায় থাকে। এই বইয়ের ক্ষেত্রেও শুরুর দিক থেকেই লেখকের প্রশংসনীয় লেখনীতে গল্পটি বেশ গতিময় হয়ে ওঠে। মানুষের তৃতীয় রিপু মানুষ কে ক্রমাগত নিচের দিকে টানতে থাকে, এক সময় তার মধ্যে আর মনুষ্যত্ব অবশিষ্ট থাকে না, বেছে থাকে শুধু জান্তব চাহিদা। খুব কম লোকই পারে সেই লোভ কে জয় করতে। নিপুণভাবেই লেখক এই বিষয়ের বিন্যাস রচনা করেছেন।তবে বাধ সাধে গল্প যত ক্লাইম্যাক্সের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। 

◻️গল্পের মধ্যে ভয় , টানটান উত্তেজনা সবই রয়েছে তবে আমার শুধু মনে হলো যেন খুব তাড়াতাড়ি সমাপ্তি ঘটলো সবকিছুর ।শেষটা আরো ভালো হতে পারত, লেখক যদি সামান্য বাক্য ব্যয় করে লেখনীটি শেষ করতেন। আরেকটি বিষয়, লেখক দেবী রন্নুতের যে দৈহিক বিবরণ প্রদান করেছেন সেটাকে কখনোই দেবী মনসা বলে ভুল করার কথা না। আবার সেই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের হঠাৎ করে একদিন মনে হল যে "এটা তো দেবী মনসা না, কিসের দেবী একটু অনুসন্ধান করে দেখা হোক।"

◻️আমার বিশেষ প্রিয় বিষয় গল্পের একদম শেষের চমক - আরেক কাহিনীর সাথে সম্পর্কটি। আসলে লেখকের আগের বই সমস্ত পড়তে পড়তে এমন একটা এক্সপেকটেশন তৈরি হয়েছে , তাই হয়তো প্রত্যাশার পরিমাণ একটু পাহাড় প্রমান, এই বইয়ের প্রতিও সেই খিদেটা ছিলো প্রথম থেকেই। আরো টানটান উত্তেজনাপূর্ণ গল্প পড়ার আশা রেখে এবং লেখকের লেখনীকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়ে আমার পাঠপ্রতিক্রিয়া এখানেই শেষ করলাম।

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

অনুভবে তুমি - অর্পিতা সরকার Anuvobe Tumi by Arpita Sarkar

review
বই - অনুভবে তুমি
লেখিকা - অর্পিতা সরকার 


ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের লেকচারার নৈঋতকে ধূতি-পাঞ্জাবি পরে বরবেশে একাকী স্টেশনে দেখে প্রথমেই অবাক হতে হয়। না সে পালিয়ে বিয়ে করছে না, আবার সে বিয়ে থেকে পালাছেও না৷ তাকে তার বিয়ে থেকে পালিয়ে যাবার কাতর অনুরোধ পালন করছে মাত্র। 
ওদিকে বিয়েবাড়িতে বর নৈঋত পালিয়ে যাওয়াই প্রথমে বরের বাড়ির লোককে অপমানিত হতে হচ্ছে, তারপর দেখা যায় কণে অহনাও নেয়। 
পরে খবর পাওয়া যাচ্ছে বর-কণে (নৈঋত ও অহনা) একসঙ্গে রয়েছে। মানে পুরো ঘেটে যাওয়া অবস্থা আর কি। 

তবে আসলে ঘাটবেন না। 

শান্ত-সৃষ্ঠ স্বভাবের লেকচারার নৈঋত আর অকুতোভয় রাজনৈতিক খবর করা টিভি সাংবাদিক অহনার চরিত্র যে এক হবে না সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যেখানে বৈপরীত্য সেখানে যদি ভালোবাসা থাকে তাহলে তা সত্যিই বড়ো মধুর লাগে। এই গল্পে আপনি সেই ভালোলাগা যথেষ্ট পাবেন। আর তাছাড়া আমারা যেভাবে চলি, মানে জীবন-যাপন করি, খুশি থাকার ভান করি আমাদের মন হয়তো অন্যকিছুই  চায়। মায়ের দেখা মেয়েকে বিয়ে করতে গিয়ে সেই মেয়ের নির্দেশেই বাড়িছাড়া হয়ে তারই সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে প্রেমে পরা।
ঘটনার অগ্রগতিতে সাক্ষাৎ হবে আরও একাধিক প্রেম কাহিনীর। প্রতিটা কাহিনীই নিজের চরিত্রে অনন্য। অফিসকলিগের সঙ্গে প্রেম; সাংবাদিক-ছাত্রীর প্রেম; বাবার ছাত্র ও মেয়ের প্রেম; অসম আর্থিক পরিস্থিতির দুই কলেজ ছাত্র-ছাত্রীর প্রেম। প্রতিটি ঘটনায় একসূত্রে সুন্দর ভাবে বেঁধেছেন। পাবেন একাধিক পরিবার যাদের অবস্থা ভিন্ন, সমস্যা ভিন্ন কিন্তু ঘটনায় এক হয়ে ওঠা। মা-বাবার ভালোবাসা, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা সহ মান অভিমান।  
আর পাবেন এক অসৎ, বদমাশ রঙমিস্ত্রী...শয়তান স্বামী, নিষ্ঠুর বাবাকে। যার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এক অসহায় স্ত্রী তথা মা। 
কাহিনী একটা হলেও অনেক ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ পাঠাক পাবে। 

কোন এক সত্য অনুসন্ধানে অহনার বিয়ে ছেরে পালানো কি সার্থক হল??? কি সেই সত্য?? 
যে মেয়ে বিয়ে না করে পালাতে বলে তার প্রতি প্রেম কি পরিণতি পাবে???
এক অমানুষের সঙ্গে লড়াই করে দীপা কি পারলো তার মেয়েকে একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ দিতে???
প্রীয়াঙ্কা-অনীক কি পারবে পারিবারিক বৈপরীত্য সত্বেও এক হতে???
আর বিজুকাকা যে বাবার কথামত পণের টাকা না পাওয়ায় বিয়ে ছেরে চলে এসেছিল তারই বা কি হল???
সেই লগ্নভ্রষ্টা গরীব বাবার মেয়ে দীপার কি হল???
জানুন... পড়ুন... 

(নিজের কথা- বইটা কিনেছিলাম এক বন্ধুর বিয়েতে উপহার দেবো বলে, দেবার আগে একটু পড়তে গিয়ে এতগুলো প্রেম কাহিনীর মধ্যে নিজেও গল্পটার প্রেমে পরে যায়। খুব দ্রুত শেষ করে শেষমুহূর্তে প্যাকিং করে বিয়েবাড়ি। 
আর নির্বাচনী ব্যাস্ততায় গ্রুপের নিয়ম রক্ষার্থে রিভিও দিলাম তাড়াহুড়ো করে_ভালো সমাপতন)
                  _মনোজিৎ

রিভিউটি লিখেছেনঃ Monogit Das

আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

review
বই :অনুভবে তুমি 
লেখিকা : অর্পিতা সরকার 

একটি মেয়ে তার বিয়ের বাসর থেকে পালিয়ে যায় হটাৎ করে নিজের অতীত সম্পর্কে কিছু জানতে পেরে, কোন একটা ফোন কল থেকে। সাথ নেয় হবু বড়,সেও জানতে চায় কেন মেয়েটি তার সাথে এইরকম করলো। বেশ ভালো একটা প্লট তৈরী হল,পড়তে বেশ ভালো লাগছিলো। কিন্তু গল্প শেষ হবার পরে সবটা কেমন যেন বোকা বোকা লাগলো, মেয়েটি শুধুমাত্র যে হিন্ট পেয়ে এতবড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেটা বাস্তবে কেউ নেবে না।ভিলেন লোকটা শেষে মেয়েটিকে রেপ করার যে প্ল্যান করেছিলো সেটারো কোন লজিক নেই, এত বুদ্ধিমান ভিলেন অথচ ওইভাবে রেপ বা মার্ডার করলে ধরা পরতেই হবে সেটা বোঝার মতো বুদ্ধি নেই। টোটাল গল্পটাকে লজিক দিয়ে না ভেবে পড়লে পড়তে  ভালোই লাগবে।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Pallab

আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

বনজোৎস্নায় সবুজ অন্ধকারে - বুদ্ধদেব গুহ Bon Josnai Sobuj Ondhokare by Buddhadeb Guha

‘বনজোৎস্নায় সবুজ অন্ধকারে’  ---- দুই খণ্ড   
--- বুদ্ধদেব গুহ  
প্রকাশক --- আনন্দ পাবলিশার্স 


বুদ্ধদেব গুহ এক বর্ণময় ব্যক্তিত্ব! পেশাগতভাবে সফল প্রতিষ্ঠিত এক মানুষ এবং নেশাগতভাবে আরণ্যক জীবনের সঙ্গে যুক্ত মধুর গ্রন্থনের অভিজ্ঞতাজাত উপলব্ধিই তাঁকে করে তুলেছে বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট সাহিত্যিক। আলোচ্য নিবন্ধে তাঁর প্রৌঢ় জীবনের স্মৃতিচারণাময় গ্রন্থ ‘বনজোৎস্নায় সবুজ অন্ধকারে’র দুটি খণ্ড অবলম্বনে প্রকৃতির পাঠশালায় তাঁর হাত ধরে কিছুটা বনবিহারের সদিচ্ছা রইলো।    শিকারী পরিচয় এবং বনচর সত্তার আপাতবিরোধিতা জীবনভর লেখকের মধ্যে ছিলো। প্রকৃতির মধ্যে চিরকাল তিনি মানুষকে, আরো স্পষ্ট করে বললে এক নারীকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। প্রকৃতি মানুষের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতায় বেঁচে থাকার দৃশ্যগুলি অত্যন্ত সততার সঙ্গে তাঁর লেখায় বরাবর তিনি উপস্থিত করেছেন। প্রকৃতি যথার্থই বর্ণময় চরিত্র। এই বহমান জীবনের অন্তঃস্থলে রয়েছে যে প্রচন্ড শক্তি যা নিয়ত তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে পৃথিবীর জীবনধারাকে, সেই শক্তির উৎস প্রাকৃতিক বিশ্ব; এই উপলব্ধিই তিনি প্রকৃতির অন্দরমহলে বিচরণের কালে সংগ্রহ করেছেন। প্রকৃতি তাঁর কাছে খুব বড় শিক্ষকও বটে। নিছক বনচর হিসেবে আনন্দ ভ্রমণের পাশাপাশি শিকারি জীবনের অভিজ্ঞতাও তাঁকে পরিণত করেছে অনেক --- মানুষ হিসেবেই। লেখক বুদ্ধদেব আতীব্র ভালোবাসায় প্রকৃতির সঙ্গে আজীবন মাখামাখি হয়ে থাকতে চেয়েছেন। জীবনের স্বাদু উপলব্ধি তাঁর ঘটেছে প্রাকৃতিক সান্নিধ্যেই; মানুষ হিসেবে নীতিজ্ঞান থেকেই একজন শিকারীর মানবিক দায়িত্ববোধকেও তিনি কখনো ভুলে যাননি। ছোটো ছোটো শিকার জীবনের ঘটনা, বন-জঙ্গলের অভিজ্ঞতাকে বৈঠকী মেজাজে তিনি পরিবেশন করেন। সেই গল্পের অন্তরালে শুধু রোমাঞ্চ থাকে না, প্রকৃতির অন্তর্লীন রূপে মুগ্ধ কবি সত্তার জীবনদর্শনের কথা থাকে না, এক জীবনরসিক মানুষের পরিচয়ও পদে পদে পাওয়া যায়। আসলে শিকারকে তিনি জীবনের একটি অনিবার্য খেলা হিসেবে দেখেছেন; সম্পূর্ণ আত্মকথাতেই কোথাও শিকারী হিসেবে দক্ষতা প্রমাণে তিনি ব্যস্ত ছিলেন না, বরং অনেক বেশি এই উপলক্ষ্যে পারিপার্শ্বিক জীবনের সঙ্গে প্রাণের সংযোগের গল্পগুলো পাঠকের সঙ্গে বিনিময় করে নিতে তাঁর আগ্রহ ছিল অনেক বেশি। যে মানুষটি জীবনভর তাঁর প্রসাধিত নাগরিকতাকে আরণ্যক ভূমির সান্নিধ্যে অবিরাম পরিশুদ্ধ করে তোলার ব্রত নিয়েছিলেন, সেই মানুষটির সৃষ্টি কর্মের সঙ্গে পরিচিত হওয়া পাঠকেরাও যে তাঁরই মতো বনজ্যোৎস্নার সবুজ অন্ধকারে অন্তত কিছুটা মাখামাখি হয়ে যাবে তাতে আর সন্দেহ কি! 

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

সোনাপদ্মা - দিনেশচন্দ্র রায় Sonapadma by Dineshchandra Roy

সোনাপদ্মা
দিনেশচন্দ্র রায়
উপন্যাস
 

দিনেশচন্দ্র রায়ের এই উপন্যাসে বিশশতকের তিন থেকে চার দশকের প্রাক-স্বাধীন পর্বের কয়েকটি বছরের ইতিহাস ধরা আছে। প্রেক্ষাপট অবিভক্ত ভারতের পূর্ববঙ্গ, পাবনাসহ নিকটবর্তী গ্রাম সোনাপদ্মা। একটি সমৃদ্ধ হিন্দু- মুসলিম অধ্যুষিত বর্ধিষ্ণু গ্রাম। শান্তিপূর্ণ নিস্তরঙ্গ ছন্দে বয়ে চলা জীবনে ধীরে ধীরে প্রবেশ করে বিশ্বযুদ্ধ, ব্রিটিশ দমননীতি, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, মুসলিম লীগের উত্থানে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আঁচ। ক্রমশ গ্রামীণ শান্তি ব্যাহত হয়। ব্যক্তিজীবন পরিবারজীবন থেকে সামাজিক জীবনেও তার প্রভাব পড়ে। লেখক দেখান কিভাবে এই অশান্তির পরিসরে বিচিত্র মানসিকতার মানুষ পরস্পরবিরোধী স্বার্থ নিয়ে সময়ের আধারে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এই উপন্যাসের মধ্যে দিয়ে অসুস্থ সময়কে লেখক ধরেছেন এবং তারই মধ্যে সাধারণ জনজীবনের দিশেহারা অবস্থার পরিচয় দিয়েছেন। উপন্যাস শুরু হয়েছে নদী ভাঙ্গনে তিনপুরুষের বাড়ি ছেড়ে চলে আসার খবর দিয়ে।   
অতঃপর সোনাপদ্মা গ্রামের অধিবাসী মানুষগুলিরও নতুন করে কয়েক বছরের মধ্যেই চলে যাওয়ার ডাক আসে। গ্রামের বর্ধিষ্ণু পরিবারগুলি পাঁচ পুরুষের ভিটে ছেড়ে চলে যায় --- পুরনো জমিদারেরা একে একে বিদায় নিতে থাকেন; এভাবেই নিরবধি কাল ধরে কখনো ভাঙে নদী, কখনো দ্বিখন্ডিত হয় দেশ, কখনো মানুষের মন। লেখক দেখান, এর কোন কিছুই আকস্মিক নয়; জাতির অন্তঃস্থলে এই ভাঙ্গনের জন্য অগোচরে প্রাক-প্রস্তুতি শুরু হয়; আত্মরতি সম্পন্ন দায়িত্বজ্ঞানহীন জাতির চেতনায় ধীরে ধীরে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে, সে অন্ধকারে বাসা বাঁধে অজস্র ঘুণপোকা, একদিন সেখান থেকে তার পারিপার্শ্বিক যাপন পরিচয় সংস্কৃতিতে ধস নামে। একটি বড় ভাঙ্গনের গল্পের অন্তরালে তাই লুকিয়ে থাকে অনেক ছোট ছোট ভাঙ্গনের ইশারা। সঙ্কটকালের পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ সব সময়েই ঘোলা জলে মাছ ধরতে উদ্যোগী হয়; পদে পদে সাধারণ জীবনের ওপর বিঘ্ন নেমে আসে; এই বিঘ্ন থেকে উত্তরণের জন্য মানুষের ভেতরে ভেতরে ব্যাকুলতা ক্রমেই বিস্তার পায়।
মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না, তাই বারবার বিপর্যয় নেমে আসে। এই বিপর্যয়  জীবনকে ধ্বংস করে দেয়। তার কারণ এবং তা থেকে উত্তরণের প্রয়াস কিভাবে এক শতাব্দী আগের সময়ের সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়কে মিলিয়ে দেয়, উপন্যাসটির পাঠ তার উদাহরণ হতে পারে। 

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

আদিপর্ব - কৌস্তভ ভট্টাচার্য Adi Porbo-Koustav Bhattacharya

📖আদিপর্ব
✍️কৌস্তভ ভট্টাচার্য 
📚 দ্য কাফে টেবল
💲২৫০/-


◻️২৪০৩ খ্রিস্টাব্দ। শেষ বিশ্বযুদ্ধের পর তিনশো বছর কেটে গেছে। কিন্তু এক সময়ের সুন্দর নীলগ্রহটা বরাবরের মতো ক্ষতিগ্রস্ত। পৃথিবীর বেশিরভাগটাই এখন মানুষের অগম্য---- শেষ বিশ্বযুদ্ধে যথেচ্ছ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার হলাহলে অভিশপ্ত। এককালের দর্পিত মানবসভ্যতা এখন ম্রিয়মাণ। পৃথিবীর ক্রমহ্রাসমান শক্তিভাণ্ডার, ধর্মীয় বিভেদ আর পারস্পরিক অবিশ্বাস মানুষকে বেঁধে ফেলেছে ছোট ছোট গোষ্ঠীতে।
ডিস্টোপিয়ার পাঠকের কাছে এই ভবিষ্যতের ছবি নতুন কিছু নয়। সেই কবে অল্ডাস হাক্সলি থেকে জর্জ অরওয়েল, রে ব্র‍্যাডবেরি থেকে প্রেমেন্দ্র মিত্র---- ডিস্টোপিয়ার দিকনির্দেশ এঁকেছিলেন এই ভাবে। তারপর থেকে অজস্রবার আমরা পৌঁছেছি post apocalyptic বা মহাপ্রলয় পরবর্তী চিরঅন্ধকারের এই ভাবীকালে যেখানে বিজ্ঞান মানুষকে গ্রহান্তরে পৌঁছে দেয়নি কিংবা বিকল্প শক্তির উৎসও এনে দেয়নি, বরং নিজের চিরকালীন স্বভাববশত যুযুধান এবং হিংস্র মানুষ বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে চলেছে ক্রমাগত।
কিন্তু কেমন হয় যদি এই ডিস্টোপিয়ার কেন্দ্রে থাকে একটা অতি চেনা শহর, যার গল্প ভারতবর্ষের প্রজন্মের পর প্রজন্ম শুনে আসছে কত সহস্রাব্দ ধরে! ভারতের প্রায় প্রত্যেক শিশুর কানে সেই শহরটার গল্প পৌঁছে যায় কোনো না কোনোভাবে!
শহরটার নাম? হস্তিনাপুর।
'আদিপর্ব'--- মহাভারতের প্রথম পর্বের এই রকমই এক ডিস্টোপিয়ান পাঠ। শান্তনু থেকে সত্যবতী, পরাশর থেকে ভীষ্ম সব অতি চেনা চরিত্ররাই সেখানে উপস্থিত, ভবিষ্যৎ পৃথিবীর এক অচেনা রূপকল্পে।
মহাকাব্য আর কল্পবিজ্ঞান---- সাহিত্যের দুই সমান্তরাল ধারা এখানে হাত ধরেছে একে অন্যের।

◻️ গতবছর কলেজ স্ট্রিট যেয়ে বইটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বিষয়টা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল বলে কিনে এনেছিলাম। তারপর আজ পড়বো কাল পড়বো করে এই বইটা Delay-হয়েই চলেছিল, শেষমেশ গত মাসে বইটা শুরু করি এবং 4 পাতা, জাস্ট 4 পাতা পড়েই মনে হয় কেনো বোকার মতো এতোদিন Delay করছিলাম।

◻️দুটো বিষয়কে একসঙ্গে মাখানো হয়েছে এই বইতে - ডিসটোপিয়া আর মহাভারত। ভবিষ্যতের পারমাণবিক যুদ্ধ এবং একটা বিপর্যস্ত পৃথিবী। এ গল্প ঠিক চেনা মহাভারতের গল্প নয়, বরং যুদ্ধক্লান্ত ভারতের গল্প। সেই ভারতে হস্তিনাপুর আছে, পাঞ্চাল আছে, কাশী-গান্ধার-মদ্রও আছে, প্রতীপ,শান্তনু, জাহ্নবী, সত্যবতী, দাশরাজ, পরাশর, জমদগ্নি, দেবব্রত ও বেদব্যাসও রয়েছেন। 

◻️ একটা দারুণ ডিসটোপিয়ান লেখা বোধ হয় সেটাই, যেটা মনের মধ্যে ধাক্কা দেয়, ভাবতে বাধ্য করে। যেভাবে সায়েন্স ফিকশনের উপাদানগুলোর  মহাভারতের আখ্যানের সাথে, অতীতের সম্পর্কগুলোর ভবিষ্যতের মোড়কের সাথে মিশেল ঘটিয়েছেন লেখক সেগুলো পড়ে তার কল্পনাশক্তির তারিফ করতেই হয়। মহাভারতে অনেকের জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে যে ধোঁয়াশা তার একটা বৈজ্ঞানিক রূপ, Human, Humanoid ও  Clone-এর যে সমাজগত পার্থক্য তা লেখক সাবলীল ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন। 

◻️আসল মহাভারতে যেমন রাজনীতির ভূমিকা প্রায় পুরোটাই, এখানেও কল্পবিজ্ঞান ছাড়া একটি রাজনৈতিক সাবটেক্সটও রেখেছেন লেখক যা এক কথায় দুর্দান্ত। বিধর্মীদের একঘরে করে দেওয়া, সমাজে স্মীকৃতি না দেওয়া,‌গণবিচ্ছিন্ন গণতন্ত্র,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিক্ষোভ, ছাত্র-শিক্ষক একত্রে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু বরণের ঘটনা......এই গল্প বিশ্বযুদ্ধের তেজস্ক্রিয়তায় শুকিয়ে যাওয়া এক বিশ্বের। এই গল্প ভবিষ্যত মহাভারতের। 

◻️ এবার আসি যে কয়েকটা বিষয় আমার দুর্বল লেগেছে -
১. জাহ্নবীর পরিণতি। আদি মহাভারতের জাহ্নবী তথা গঙ্গা এমনিতেই আমার খুব পছন্দের চরিত্র এবং এখানে লেখক জাহ্নবীকে যেভাবে রচনা করেছেন নিঃসন্দেহে 'আদিপর্ব'-তে সে আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় চরিত্র বলাই যায়। কিন্তু মনে হলো তার ওরকম পরিণতি যেন চরিত্রটিকে দুর্বল করে দিলো।
২. পরাশর, পরশুরাম, দেবব্রত ও বেদব্যাসের চরিত্রগঠন দুর্বল মনে হয়েছে, আরো Strong Storyline থাকতেই পারতো। যদিও শেষ তিনজনের আরো চারিত্রিক উন্নতি পরবর্তী পর্বে দেখতে পাওয়ার আশা করাই যায়।

◻️বইটা নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই যেটা বলব, সেটা হল লেখার সাবলীলতা। রাজনৈতিক সাবটেক্সট হোক বা আদি মহাভারতের রেফারেন্স, কল্পবিজ্ঞানের উপাদান‌ হোক বা চরিত্রদের মধ্যের সম্পর্ক....প্রতি পদে‌ চমক উপস্থিত। পাঠ প্রতিক্রিয়া শেষ করি লেখকের প্রতি একটি প্রশ্ন দিয়েই - "বলছি পরবর্তী পর্ব কবে আসছে?? বেশী অপেক্ষা করালে কিন্তু ভালো হবেনা।"

রিভিউটি লিখেছেনঃ Monolina Sengupta
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

দ্য রুম ইন দ্য রোফ - রাস্ককিন বন্ড The Room On The Roof by Ruskin Bond

দ্য রুম ইন দ্য রোফ
চিলেকোঠার ঘর
 রাস্ককিন বন্ড 

প্রথমেই বলে রাখি এটা পাঠ_প্রতিক্রিয়া নয়, এটা পাঠানুভূতি, কারণ এই উপন্যাসের পাঠ প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই।

সে এক স্বপ্নের উপন্যাস। এক ব্যথাদীর্ণ কিশোরের লেখা আবেগ-আখ্যান। ১৯৫০ এর দেরাদুন, আর সদ্য কিশোর রাস্কিন বন্ড। এই উপন্যাসের পোশাক বিষণ্ণতা, এক পথভ্রষ্ট রাজকুমার যেন তাঁর জাদু কলমে এই উপন্যাস লিখেছে।

এই উপন্যাস আমি প্রথম পড়ি কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে, বাড়িতেই ছিল বইটা। এই পাতলা বইটা আমি প্রথম শুরু করি এক বর্ষণ-মুখর দুপুরে, দ্বিপ্রাহরিক আহারের পর, এবং কখন যে দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যা হয় খেয়াল নেই। সেই শুরু, তারপর থেকে আজ অব্দি বহু বার ফিরে গেছি এই বইয়ের কাছে, এর অমোঘ আকর্ষণ আমাকে অসহায় আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছে এবং সাম্প্রতিকতম আত্মসমর্পণটি ঘটেছে গত কাল।

এই উপন্যাসের কাহিনীটি খুব সহজ, সরল। অনাথ রাস্টি, জন হ্যারিসন নামক একজন অভিভাবকের অধীনে বাস করে, কিন্তু অভিভাবক অত্যাচারী এবং বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে দেখা যায় যে রাস্টি সেই বাড়ী ছেড়ে দেয় এবং সোমি, রণবীর ও আরো নানান বর্ণিল চরিত্রের সাথে রাস্টির মোলাকাত হয়। রাস্টির জীবনের স্বপ্ন হলো বিখ্যাত লেখক হওয়ার, নিজেকে সে লেখা শেখাচ্ছে এই উপন্যাস জুড়ে।
এক বন্ধুর কাছে আশ্রয় নেয় রাস্টি এবং গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য কিষেন নামের একটি ছেলেকে পড়াতে শুরু করে, গৃহশিক্ষক হিসাবে, আর তার সাথে চলে লেখক হওয়ার প্রচেষ্টা এবং এখানেই ছাত্রের মায়ের প্রতি রাস্টি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, জীবনের প্রথম প্রেম, কৈশোরের চিরাচরিত আকর্ষণ পূর্ণ যৌবনা নারীর প্রতি এবং তারপর........ নাহ, তারপর বললে আর পড়ার মজা পাবেন না তাই আপাতত গল্পটা এখানেই থামালাম।

এই উপন্যাসটির আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো যে সাধারণত আমরা দেখি লেখক তাঁর পরিণত বয়েসে গিয়ে কিশোর চরিত্রদের নিয়ে উপন্যাস লেখেন অথবা নিজের কৈশোর কে ফিরে দেখেন; সেই ফিরে দেখার মধ্যে অনেকটা বাৎসল্য লুকিয়ে থাকে এবং নস্টালজিয়া থাকে অনেকখানি। কিন্তু এই উপন্যাসের নায়ক ও লেখক দুজনেই সমবয়সী, অর্থাৎ রাস্কিন বন্ড নিজের প্রথম উপন্যাস লিখেছেন ১৭ বছর বয়েসে এবং সেই জন্য এর মধ্যে কোনো "ফিরে দেখা" নেই, যা আছে তা হলো প্রায় দিনলিপির মতো টাটকা আবেগ এবং অনুভূতি। সেই অনুভূতি এবং আবেগ আজও আমাদের সমান ভাবে নাড়া দেয় কারণ অনুভূতি গুলো চেনা, আর দুঃখ গুলো জানা।

এই উপন্যাসের জন্য রাস্কিন বন্ড ১৯৫৭ সালে John Llewellyn Rhys Memorial Prize পান এবং প্রসঙ্গত উল্লেখ্য পরবর্তী কালে এই পুরস্কার জেতেন আরেক বিখ্যাত লেখক ভি এস নাইপল।

এই উপন্যাসের মূল ঐশ্বর্য্য হলো এর ভাষা। এরকম চিত্রময়, হিরণ্ময় গদ্য আমি অন্তত খুব বেশী পড়ি নি।
ভারতীয় মার্গ সংগীতে বলা হয় যে গলা গরম হওয়ার আগে তানের কেরামতি দু একজন ক্ষণজন্মা শিল্পী ছাড়া কেউ পারেন না, একই কথা সাহিত্যর ক্ষেত্রেও সত্যি; কোনো লেখককে তাঁর নিজস্ব ভাষা, বাচনভঙ্গী খুঁজে পেতেও অন্তত কয়েকটা উপন্যাস অপেক্ষা করতে হয়, কিন্তু এখানেই রাস্কিন বন্ড ব্যতিক্রম, তাঁর প্রথম উপন্যাসের সর্বপ্রথম বাক্যটিই নির্ভুল বন্ড-"the light spring rain rode on the wind, into the trees, down the road; it brought an exhilarating freshness to the air, a smell of earth, a scent of flowers; it brought a smile to the eyes of the boy on the road"

দেখুন প্রথম বাক্যটিই কেমন নিজস্বতায় উজ্জ্বল ; বিশেষত rode এই ক্রিয়াপদটির ব্যবহারটা খেয়াল করতে বলবো। Ride ক্রিয়াপদের অতীতকালে rode ব্যবহৃত হয়, ride মানে আরোহন, অথবা পিঠে চেপে আসা কোন কিছুর; এই খানে রাস্কিন বলছে হাওয়ার পিঠে চেপে বৃষ্টি আসছে, যাঁরা যাঁরা পাহাড়ের বৃষ্টি দেখেছেন তাঁরা হলফ করে বলতে পারবেন যে এর থেকে সঠিক বর্ণনা আর সম্ভব নয়।

আর আছে এই উপন্যাসে প্রায় ডিকেন্সীয় রসবোধ, একটা উদাহরণ দেওয়ার লোভ সামলাতে পারলাম না " when a large white butterfly settled on the missionary's wife's palatial bosom, she felt flattered, and allowed it to remain there. Her garden was beginning to burst into flower, giving her great pleasure-her husband gave her none-and such fellow-feeling as to make her tread gingerly among the caterpillars."

গোটা উপন্যাস জুড়ে প্রায় ঐশ্বরিক ভাবে ক্রিয়াপদের আর বিশেষণের ব্যবহার করেছেন ১৭ এর রাস্কিন।
আনমনা, একা রাস্টি যখন প্রথম বন্ধুর সাইকেলে চেপে পাহাড় বেয়ে নামছে তখন দেখুন কী ভাষা "they rode slowly, gliding round the low hills....."
আবার দেখুন gliding এই ক্রিয়াপদটির কী ব্যতিক্রমী কিন্তু মোক্ষম ব্যবহার।

এই উপন্যাসের মধ্যে, তার অনাথ কেন্দ্রীয় চরিত্র, বিভিন্ন স্থানের বর্ণনা, সূক্ষ হিউমার এগুলো বেশ কয়েক জায়গায় ডিকেন্সের কথা মনে করাবে কিন্তু সেটা শুধুমাত্রই ছায়া, কোনো ভাবেই নির্লজ্জ অনুকরণ নয়।

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

আমি রাসবিহারীকে দেখেছি - নারায়ণ সান্যাল Ami Rasbihari Ke Dekhechi by Narayan Sanyal

বই: আমি রাসবিহারীকে দেখেছি
লেখক: নারায়ণ সান্যাল

বইটি লেখকের মূল্যবান সাহিত্য সম্ভারের মধ্যে অন্যতম। লেখনী অনবদ্য। বই পাঠকালে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুকে প্রত্যক্ষ করা যায় এবং বিপ্লবী থেকে সাধারণ জীবন যাত্রার চিত্রপট প্রকাশ পেয়েছে। যে সাতজনের জবানবন্দি দিয়ে লেখা হয়েছে প্রত্যেকের সাথে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম মিল-অমিল প্রত্যক্ষ হয়। রাসবিহারী বসুর পদক্ষেপ, চিন্তন, কর্মদক্ষতা, পরিকল্পনা, সুদক্ষ সংগঠন ক্ষমতা প্রশংসাতিত। ছদ্মবেশ ধারণে সমান পারদর্শী তিনি। শ্রীশচন্দ্র, বসন্ত বিশ্বাস প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টি তে রাসবিহারী বসু অন্য মাত্রায় উন্নীত হয়েছেন।সর্বোপরি লেখকের চোখে বিপ্লবীর জীবনচর্যা পাঠ পাঠককে বিস্মিত, স্তম্ভিত করে। রাসবিহারী বসুর ভিতরের বৈপ্লবিক সত্তার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ তীক্ষ্ণ নিক্ষেপিত হয়। পাঠ শেষে লেখকের অভিব্যক্তি সত্য প্রমাণিত হয় যখন উপলব্ধি করেছি বই পাঠ আনন্দ নয় এক বিপ্লবীকে অন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচয় ঘটালো।

আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

Review
বই : আমি রাসবিহারীকে দেখেছি
লেখক : নারায়ণ সান্যাল

৭ জন প্রত্যক্ষ্যদর্শীর জবানবন্দি দিয়ে রচিত বইটি।  শ্রদ্ধেয় নারায়ণ সান্যাল মহাশয়ের অসাধারণ লেখনীতে প্রতিটি চরিত্র এতটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছে যে পাঠক নিজেই যেন প্রতিটি ঘটনার সামনে উপস্থিত ছিলেন এমনটা মনে হতে পারে। 
মহান বিপ্লবী শ্রী রাসবিহারী বসু – A Born Fighter - তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ , সুচিন্তিত মন্ত্রগুপ্তি,  কর্মদক্ষতা, অসাধারণ পরিকল্পনা, সংগঠন পদ্ধতি দলের অন্যান্য বিপ্লবীদের এক সূত্রে বেঁধে রাখার জন্য অনবদ্য।  সুচতুর ইংরেজ শোষণের উপযুক্ত জবাব কোন পরিস্থিতিতে কিভাবে দিয়েছেন তা বইটির প্রতিটি ছত্রে উল্লিখিত। ছদ্মবেশ ধারণে একজন মানুষ যে নিজেকে এতটা পারদর্শী করে তুলতে পারেন তা ভাবনার বাইরে।
জবানবন্দিগুলি পড়তে গিয়ে কখনো চোখের জল বাঁধ মানে নি, আবার কখনো রক্ত গরম হয়ে উঠেছে এই ভেবে যে কিভাবে নারী-পুরুষ, কিশোর-বৃদ্ধ নির্বিশেষে এক লহমায় নিজেদের জীবন দান করে গিয়েছেন, শুধুমাত্র দেশমাতৃকাকে শৃঙ্খলমুক্ত করার আদর্শে। শ্রীশচন্দ্র, বসন্ত বিশ্বাস, যমুনাবাই প্রভৃতি প্রতিটি চরিত্রের চোখে রাসবিহারী ধরা দিয়েছেন নানা রূপে, সর্বশেষে স্বয়ং লেখকের জবানবন্দি...... মহান বিপ্লবীর দেশত্যাগ।  যেন মনে হচ্ছিল কেন এখানেই শেষ হয়ে গেল, এ রেশ কাটুক তা সত্যি আমি চাই না।   লেখকের ভাষায়  "পাঠককে আনন্দ দেওয়াই যে এ- গ্রন্থ রচনার মূল উদ্দেশ্য নয়, " তা অবশ্য স্বীকার্য।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Joyeeta

উদ্ভব লিঙ্গ - সৌরভ চক্রবর্তী Udbhab linga: Sourov Chocroborti

উদ্ভব লিঙ্গ
লেখক:সৌরভ চক্রবর্তী
ঘরানা:তন্ত্র-মন্ত্র, ভৌতিক(অকাল্ট হরর)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৬
হার্ডকভার
প্রচ্ছদ: অনিকেত মিত্র
ছবি: কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল
প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩
.............................................................................
কিছু কিছু কাহিনিতে বোধহয় শয়তান জিতে যায়!


এই কাহিনির শুরু স্বাধীনতার পূর্ববর্তী অবিভক্ত বাংলায়। এই কাহিনির বিস্তার এক মর্গে। এই কাহিনি শেষ হচ্ছে এক তীর্থে। কাহিনিটিকে জুড়ে রেখেছে এক রোমহর্ক যাত্রা।

সাধক পবন কুমার এক অদ্ভুত চরিত্র। সে একাধারে সাধক ও চিত্রশিল্পী। আবার এই পবন কুমারই হাসপাতালের মর্গ রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে। হাসপাতালের মৃত লাশের সঙ্গে অদ্ভুত সম্পর্ক এই পবন কুমারের। কী করে সে হাসপাতালের লাশেদের সঙ্গে?

অন্যদিকে বর্তমান যুগের কর্পোরেট জগতের কিছু ছেলেমেয়ে বাংলার সেই গ্রামে উপস্থিত হয়ে জড়িয়ে পড়েছে এক অভিশপ্ত অধ্যায়ের সঙ্গে। অভিশপ্ত ইতিহাসের সঙ্গে পবন কুমারের সম্পর্কটা ঠিক কী? এই অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটানোর অদম্য ইচ্ছে নিয়ে তাদের উদ্ভব লিঙ্গ অভিযান। কী হয় উদ্ভব লিঙ্গে? কী এই উদ্ভব লিঙ্গ?

এক গর্ভবতীর তার সন্তানের জন্য লড়াইয়ের কাহিনি এই উদ্ভব লিঙ্গ, এক মনস্তাত্ত্বিকের অদ্ভুত উন্মাদ চিন্তাভাবনার কাহিনি এই উদ্ভব লিঙ্গ, বন্ধুত্বের কাহিনি এই উদ্ভব লিঙ্গ, নিশ্চিত পরাজয়ের সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করার কাহিনি উদ্ভব লিঙ্গ।

সর্বোপরি এক ঐন্দ্রজালিকের কাহিনি এই উদ্ভব লিঙ্গ। ইন্দ্রজাল বিদ্যার আঁতুড়ঘর এই গ্রন্থ। সমস্ত সটীক ইন্দ্রজাল বিদ্যার প্রয়োগের বর্ণনা রয়েছে এই গ্রন্থে।

গ্রন্থ শেষে পাঠকের মন দ্বিধান্বিত হয়ে পড়বে - ভয়ের জাগরণ হবে নাকি ভক্তির, সে উত্তর নটেগাছটি মুড়োলেই পাওয়া যাবে।
............................................................................
(কিছু #স্পয়লার আছে)
মূল কাহিনীর শুরু বন্ধুদের হ্যাঙআউট নিয়ে। সেখানে এক পবন কুমারের অসমাপ্ত কাহিনী শুনে এসে সবার অবস্থা তথৈবচ। এরপর বাকি কাহিনী শোনার অদম্য আকাঙ্খা। এরপরই প্রথম টুইস্ট, কাহিনীটা শুধু কোনো গল্প নয়, বরং কথকদ্বয়ের পূর্বপুরুষদের জীবনের ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং অভিশাপ। তখনই জানা যায়,কাহিনীর সূত্রপাত বহুকাল আগে। পরিণতি কী হবে,সেটা পুরোপুরি না অনুধাবন করতে পেরেই জড়িয়ে যায় সবাই। পারবে তো ফিরতে স্বাভাবিক জীবনে?স্বাভাবিক জীবন তো দূর,জীবন নিয়েই কি ফিরতে পারবে??

এই গল্পের একজনই নায়ক। পবন কুমার। সেই পুরো গল্প নিয়ন্ত্রণ করেছে, প্রতিটা খুঁটিনাটি তার জানা, অন্য চরিত্রদের সে একদম নিজের আঙুলে নাচিয়ে ছেড়েছে। এই মনে হচ্ছে, ওরা নিজের ইচ্ছেতে করছে, কিন্তু পরিশেষে দেখা যায়, ওরা তাই করে, পবন কুমার যা চায়। পবন কুমার চরিত্রটাকে ভয়ও লাগবে আবার তার জন্য সম্ভ্রমও বোধ হবে। এবসুলেট ব্ল্যাক বা এবসুলেট হোয়াইট, কোনোদিকেই তাকে ফেলা যায় না, সে একদম গ্রে পজিশনে নিজেকে বসিয়ে রেখেছে।

শেষের ষড়রিপুর সাথের যুদ্ধ বা পরীক্ষাই মনে হয় ওই বইয়ের সবথেকে ভয়ঙ্কর অধ্যায়। এইসময় নিজেকে নিয়েই প্রশ্ন জাগে, এই ভোগী জীবনে অভ্যস্ত আমিই কি পার হতে পারতাম সবগুলো স্তর?

পুরো গল্পটা শেষে আবার নতুন গল্পের জন্য জায়গা রেখে দেয়া। পুরোটা পড়ে এসে এই জায়গায় একটু খারাপ লেগেছে যে, এতক্ষণ ধরে শেষ বা আল্টিমেট ফিনিশ দেখার ইচ্ছে বা আকাঙ্খা, সেখানে বলতে গেলে কিছুই পূরণ হলো না। সব গল্পকেই কেন ধারাবাহিক বানাতে হবে,সিক্যুয়েল কেন বানাতে হবে? আজকাল কি ওয়ান-শট স্টোরির জনপ্রিয়তা কমে গেছে? সব কিছু নিয়েই ইউনিভার্স বানাতে হবে?

অনিকেত মিত্রের প্রচ্ছদ ছিলো দৃষ্টিনন্দন আর পাতায় পাতায় কৃষ্ণেন্দু মণ্ডলের আঁকা ছবিগুলো ছিলো চমৎকার।

পুরো বইয়ের মধ্যে সবথেকে ভালো লাগা লাইন।এই এক লাইন যেন পুরো পবন কুমারের চরিত্র ফুটিয়ে তোলে।
"যারা সাধনায় ঈশ্বর বা শয়তান কোনোটাই হয়না তারা শিল্পী হয়ে যায়!"

রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

হলদে পাখির পালক - লীলা মজুমদার Holde Pakhir Palok by Leela Majumdar

হলদে পাখির পালক
লীলা মজুমদার


লীলা মজুমদার বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ নাম। মূলত শিশু সাহিত্যিক হিসেবে তিনি বহুলাংশে পরিচিত। আমরা হয়তো অনেকেই জানি তাঁর সাথে বিখ্যাত শিশু সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর যোগ রয়েছে। লীলা মজুমদার নিজস্ব দক্ষতা ও রচনা শৈলীর গুনে এক অদ্ভুত কল্পনা জগতের সৃষ্টি করেন যেখানে শিশুর কল্পনা প্রবণ মন পায় এক অনাবিল স্বাধীনতা, পায় বিকশিত হওয়ার পরিসর। ছোটবেলায় লীলা মজুমদারের লেখা "সবভুতুড়ে" নামক একটি গল্প  সংকলন পড়েছিলাম। আর পাঁচটা ভূতের গল্প থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এক ভিন্ন স্বাদের গল্প সংকলন। তাঁর সাবলীল ভাষা ও নিপুন বর্ণনার পরতে পরতে রয়েছে এক অদ্ভুত মায়ার আবেশ যা জাগরিত করে হারিয়ে যাওয়া শৈশবের স্মৃতি। এরকমই এক রচনা হল হলদে পাখির পালক। গল্পে রয়েছে বোগি, রুমু, ঝগড়ু, নাথু, বোগি ও রুমুর দাদু ও দিদিমা। বোগি ও রুমু দুই ভাই বোন। বোগি বয়সে বড়,সে প্রায়ই কাজের লোক ঝগড়ুর বলা গল্পগুলিকে গুল বা গাঁজাখুরি গল্প বলে চিহ্নিত করে। যদিও তার ঝগড়ুর গল্প শোনার সাধ কোন অংশে কম নয়। রুমু বোগির ছোট বোন, সে পশু পাখি, মানুষের কষ্টে কেঁদে ওঠে। সে তুলনায় একটু বেশি সরল তাই সে ঝগড়ুর গল্প সহজ মনে বিশ্বাস করে নেয়। ঝগড়ু ওদের বাড়িতে কাজ করে। বাচ্চা দুটো তাদের প্রিয় পোষ্য ভুলুর দুঃখে যখনি মনমরা হয়ে পড়েছে সে তাদের দুমকার আশ্চর্য সব গল্প বলে মন ভুলিয়েছে। এরকমই এক গল্প হলদে পাখির গল্প। সে পাখি কেউ চোখে দেখেনি, তার পা নেই, শুধু আকাশে উড়ে উড়ে বেড়ায় ,ক্লান্ত হয়ে মাটিতে পড়লে কোনো কুকুর খেয়ে ফেললে সে পরের দিন মানুষ হয়ে যায়। এদিকে ভুলুকে ও পাওয়া যাচ্ছিল না, শেষে ফিরে এলো মুখের কোনে হলদে পালক নিয়ে। এই পাখির পালকের ঝাপটা যে খেয়েছে সে কোথাও তিষ্ঠতে পারে না। বোগি, রুমু ও ঝগড়ুর কথোপকথন ও দুমকার আশ্চর্য, আজগুবি গল্প বলার মাধ্যমে গল্পটি ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায়, ঠিক গল্পে বলা গুনমনি লতার মতো।এটি মূলত শিশুদের জন্য লেখা হলেও এতে রয়েছে দর্শন ও গভীর জীবনবোধ, যা  সময়ে সময়ে ভাবিয়ে তোলে। দু একটার উল্লেখ না করলেই নয়; " ও গাছ হল গিয়ে মানুষের মনের গুনের মত, কষ্ট না পেলে ফুটে ওঠে না", "সুখীরা পালায় না কে বলেছে, দিদি? সুখীরা পালায় ঐ সুখের কাছ থেকেই। দুঃখু পায় না বলে দুঃখকে খুঁজে বেড়ায়।'', "বুঝলে বোগিদাদা, লখনিয়া তোমাদের মতো ছিলো। কষ্ট পাবার ভয়ে কাউকে ভালবাসতো না, কোন মানুষকে না, কোন জিনিসকে না...
মানুষ চলে যায়, ভুলে যায়, মরে যায় আর জিনিস ভেঙে যায়, চুরি যায়, হারিয়ে যায়। কী হবে ভালবেসে?", " সত্যি যে কোথায় শেষ হয়, স্বপ্ন যে কোথায় শুরু হয় বলা মুশকিল।" সর্বোপরি লেখিকা এত সুন্দরভাবে কল্পনা জগতের উপস্থাপন করেছেন, ঝগড়ুর বলা শীতের বনে পাতা খসার শব্দ, দুমকার কাঁচ তৈরির গল্প, পক্ষীরাজ এর গল্প আমাদেরকে সেই জগতে টেনে নিয়ে যায়। নিছক আজগুবি গল্প মানস পটে জীবন্ত হয়ে ওঠে। শেষে ঝগড়ুর কথা দিয়ে শেষ করলাম..." দুনিয়াটাই  তো আশ্চর্য জিনিসে ঠাসা; তোমার বইওয়ালারা সেসব কথা না লিখলে আর আমি কি করবো?"

রিভিউটি লিখেছেনঃ ry
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

ঈশ্বরীর চোখে জল - মহুয়া ‌মল্লিক Iswarir Chokhe Jal by Mahua Mallick

বইয়ের নাম - ঈশ্বরীর চোখে জল
বইয়ের লেখক -- মহুয়া ‌মল্লিক
প্রকাশনীর নাম -- তুহিনা প্রকাশনী
মূল্য -- ১৪০ টাকা

ঈশ্বরীর চোখে জল মহুয়া ‌মল্লিক এর লেখা দুটি প্রাপ্তবয়স্ক কাহিনীর সংকলন। কাহিনী দুটি হল "ঈশ্বরীর চোখে জল" এবং "স্রোতস্বিনী নারী"। বইটির মলাটের একটি দুর্গাপ্রতিমা চোখের জল ও একটি রক্তমাংসের মানবীর চোখের জল এক সাথেই ঝরার ছবি ফুটে উঠেছে।
ঈশ্বরীর চোখে জল :::: ঈশ্বরীর চোখে জল কাহিনীর কেন্দ্রীয় ‌চরিত্র দোলনচাঁপা যে গ্রামের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা হয়ে যায় এবং একটি জমিদার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে একজন রক্তমাংসের মানবীর ঈশ্বরী হয়ে উঠার কাহিনী জানা যায় এই গল্পে।
স্রোতস্বিনী নারী :::: লেখিকা এই গল্পে অনেক চরিত্রের সমাবেশ ‌এনে বুঝিয়েছেন জীবন নদীর স্রোতের মতো বয়ে যায়। আর নদী যেমন সাগরে মিলিত হয় জীবন ও তেমনি তার গন্তব্যে পৌঁছে যায়।
দুটো কাহিনী নারীকেন্দ্রিক ‌এবং জীবনমুখী। দুটো গল্পেই লেখিকা কোন রক্তপাতের দৃশ্য না দেখিয়ে রহস্য জমাট বাঁধানোর চেষ্টা করেছেন। একবার পড়ে দেখতে পারেন "ঈশ্বরীর চোখে জল"।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Srijit Dey
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

ফ্লাইট্র্যাপ - অঙ্কিতা রায় Flytrap by Ankita roy

উপন্যাস- ফ্লাইট্র্যাপ 
লেখিকা- অঙ্কিতা রায় 
রেটিং- 3.5/10 

লিপিকা এবং তার স্বামী ইন্দ্র ঘর সাজানোর জন্য একটি সুদৃশ্য ফ্লাইট্র্যাপ গাছ কেনে। গাছটা স্বাভাবিকের তুলোনায় অনেক দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠছে। ওদিকে  লিপিকার পোষা বেড়াল মিনিকে কিসে যেন খুবলে খেয়ে গেছে। এদিকে ফ্লাইট্র্যাপ গাছের পাতায় কোন রহস্য হেতু রক্ত লেগে আছে?

এই হলো শারদীয় নভোরজ ১৪২৯ এ প্রকাশিত সায়েন্স ফিকশন উপন্যাস ফ্লাইট্র্যাপ এর বিষয় বস্তু।  এই গল্পটি পড়তে পড়তে সত্যজিৎ রায় লিখিত "সেপ্টোপাসের খিদে" গল্পটি মনে পড়ে যায়।

উপন্যাসটি মোটামুটি লেগেছে।  
যদিও কল্পবিজ্ঞান ভিত্তিক উপন্যাসে বাস্তবতার আশা করা যায় না তবুও একটি ব্যাপার অত্যন্ত অবাস্তব লেগেছে যেখানে কিনা একজন অন্ত্বঃসত্ত্বা মহিলাকে দেখানো হচ্ছে তিনি ব্যালকনির দেওয়াল টপকে নীচে নামার চেষ্টা করছেন। একজন গর্ভবতীর কাছে তার সন্তান এর সুরক্ষাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। 
যাই হোক মোটের ওপর উপন্যাসটি ভালোই।

রিভিউটি লিখেছেনঃ Debarati Singha
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

কেবিন নাম্বার ৩০৫ - রিয়াজুল আলম শাওন Cabin No 305 by Reazul Alam Shawon

কেবিন নাম্বার ৩০৫
লেখক:রিয়াজুল আলম শাওন
ঘরানা:হরর
প্রকাশনী: সেবা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি ১, ২০১৫

১)শিগব
তিশা রাতে একা ঘুমালেই "ও" আসে। ওই ব্যাপার নিয়ে বন্ধু আনোয়ারের দ্বারস্থ হলো তিশার প্রেমিক স্বপন। সব শুনে চমকে উঠলো আনোয়ার। তবে অতীতে একবার যে ভয়াবহ বিপদ মোকাবেলা করেছিলো, এবার কি সেই বিপদেই পড়তে যাচ্ছে তিশা আর স্বপন?

২)সন্দেহ
ফুটপাথ থেকে হুট করেই একটা সাদা রঙের শার্ট কিনলো সজল। এটা পরার পর থেকেই সবার মনের কথা বুঝতে পারছে সে। সত্যিই কি পারছে?

৩)লাল বৃত্তে বন্দী
নতুন বাসায় উঠেছে নাদিয়ারা। দোতলার বামদিকের একদম শেষ তালাবন্ধ ঘরটার ভেতর থেকে গোঙানির আওয়াজ আসে কেন?কেয়ারটেকারের কথা না শুনেই একদিন চুপিচুপি দেখতে গেলো নাদিয়া। এরপর....

৪)দূষিত রক্ত
খুলনা থেকে চট্টগ্রাম যাবার বাসে উঠেছে রূপন্তী। সহযাত্রী মায়াকাড়া চোখের অধিকারী এক লোক। কিন্তু....তিন ঘন্টায় লোকটি একবারও তাকালো না রূপন্তীর দিকে। ভেতর ভেতর জ্বলছে রূপন্তী। কিন্তু লোকটির হাতে হাতমোজা কেন?

৫)ওরা ভয়ঙ্কর
আনোয়ারকে চেপে ধরেছে সাংবাদিক রাজু। একটা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতেই হবে তার। অবশেষে না পেরে কুয়াকাটার অভিজ্ঞতার কথাই বললেন আনোয়ার। কুয়াকাটায় দেখা হয়েছিল যাদের সাথে।ওরা ভয়ঙ্কর।

৬)অন্য জগতের কেউ
মাঝে মাঝে মুখ ঢাকা এক বুড়ি গ্রামের যে কোনো ঘরে পানি চায়। কিন্তু মানুষ পানি নিয়ে বের হয়ে দেখে বুড়ি নাই, কিন্তু বুড়ি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো, সেখানে ছোপ ছোপ রক্ত। তখনই আতঙ্ক ছড়ায় পুরো গ্রামে। কারণ, আবার চলে এসেছে মানুষ নিখোঁজ হবার পালা।

৭)কেবিন নাম্বার ৩০৫
৩০৫ নাম্বার কেবিনে থাকা মানে মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখা। কিন্তু ঘটনাচক্রে ডা. সুমনের বাগদত্তা স্ত্রী রোদেলাকে রাখা হলো ৩০৫ নাম্বার কেবিনে। এরপর দেখা গেল রোদেলার অক্সিজেন মাস্কটা খোলা । পুরো শরীরে অসংখ্য আঁচড়ের চিহ্ন। গলার কাছ থেকে রক্ত ঝরছে । মনে হচ্ছে কোনও জন্তু যেন কামড় বসিয়েছে সেখানে। শরীরটা কেমন যেন কালচে হয়ে গেছে ওর...। সব জানতে পারল রহস্যপিপাসু আনোয়ার। সেধে বিপদ ডেকে আনল সে। থাকতে চাইল ৩০৫ নাম্বার কেবিনে। সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করল আনোয়ার।

.... .... .... ....
কেবিন নাম্বার ৩০৫ সংকলনের রক্ত হিম করা গল্পগুলো পড়লে সীমাহীন ভয়, তীব্র রোমাঞ্চ আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলবে। সর্বোপরি মৌলিক এবং ভিন্ন স্বাদের এই গল্পগুলো আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে। সাবধান! একবার এই ভয়ের জগতে প্রবেশ করলে আর বেরোতে পারবেন না।

গল্পগুলো মোটামুটি ভয়ঙ্কর। আশি-নব্বইয়ের দশকে মার্কিন সিনেমা আর সাহিত্যে যে বীভৎসরসাশ্রয়ী হররের বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তারই অনুসারী এই লেখাগুলো। লোমহর্ষক করার পর্যাপ্ত চেষ্টা ছিল, কিন্তু আসলে বর্তমান সময়ে খুব বেশি ভয়ানক না হলে ভয়ে শরীর কেঁপে ওঠে না।


রিভিউটি লিখেছেনঃ 
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

বিয়োগ পর্ব - দেবতোষ দাশ Biyog Parbo by Debotosh Das

বিয়োগ পর্ব
 দেবতোষ দাশ 
(পত্র ভারতী)

দেবতোষ দাশের লেখার সঙ্গে আমার পরিচয় বিষকন্যা (জলের প্রতিভা) এবং অবশ্যই বিন্দুবিসর্গ পড়ার সুবাদে। এবং তখন থেকেই তার লেখার আমি ভক্ত বলা যায়। সেই জায়গা থেকেই ২০২০ সালের বইমেলায় এই বইটি কিনে ফেলি।  উপন্যাসটি মূলত আবর্তিত হয়েছে ফেনীর মধুপুর গ্রামের তালুকদার এবং ব্যবসায়ী মুরলীধর দাস এবং তার পরিবারের ওপর, তাদের দৈনন্দিন জীবন, আশা আশঙ্কা, এক অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের কথা এবং কিভাবে চোখের সামনে নিজভূমে পরবাসী হয়ে তাদেরকে দেশ ছেড়ে চলে আসতে হয়। শুধু এই পরিবারটি নয়, আরও অনেক চরিত্র এখানে সময় সময় উপস্থিত হয়েছে যাদের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যালঘু মানুষদের যন্ত্রনা ফুটে উঠেছে। আর এর মধ্যে কোথাও গিয়ে যেন জাতপাতের সমীকরণটাও প্রবলভাবে স্পষ্ট। আপাত ধীরগতির উপন্যাসটি কোথাও গিয়ে একটা নস্টালজিয়ার কাজ করবে। আবার একটা অব্যক্ত যন্ত্রনাকেও জাগিয়ে তুলবে, বিশেষ করে বাবা মা মেয়েকে হারিয়ে পাগল হয়ে যাওয়া ডাক্তার সুধীন্দ্র কর যখন ফেনী স্টেশনে বলবেন, "ফেয়ার ইজ ফাউল, ফাউল ইজ ফেয়ার।"
মোটের ওপর বইটিকে ভালো বলা যায়, বর্তমানে দেশভাগের ওপর যত বই লেখা হয়েছে তার মধ্যে বইটি মোটামুটি ওপরের দিকেই থাকবে। চরিত্রগুলো নিয়ে আরো একটু খেলার জায়গা ছিল, কিন্তু এমনিতে যেটুকু আছে সেটাও মন্দ নয়। 
ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৭৮/৫

রিভিউটি লিখেছেনঃ R Kar
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

যোগীনি - সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় Jogini by Sangita Bandyopadhayay

 বইএর নাম - যোগীনি
লেখিকাঃ সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

এক নারীর কল্পনায় নিয়তি যখন পুরুষ ,যে কিনা সেই নারীর সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের পুরুষের সম্পর্কে তার  প্রেমের ইচ্ছায়,ভালবাসার ইচ্ছায়,সেই নারীকে নিস্পৃহ করে ফেলে এবং নিয়তি নিজেই প্রেমিক পুরুষ হিসেবে সেই নারীতে সম্পৃক্ত হয় এবং তাকে সন্তুষ্ট করে।এ নিয়েই এই গল্প।
পড়তে গিয়ে বার বার ভাবতে হচ্ছে আসলে কি পড়ছি।এ ধরনের জটিল মনস্তাত্ত্বিক গল্প পড়া খুব চাপের ব্যাপার।লেখিকা কি বোঝাতে চাইছেন আর আমি পাঠক হিসেবে কি বুঝলাম এর দুইয়ের মধ্যে দন্ধ বেঁধে যায়।
আমি যা বুঝলাম,এক নারী যে ভালবাসাহীন সম্পর্কের তিক্ততা স্বার্থপরতা দেখে বড় হয়েছে। সেই নারী যখনই নিজের জীবনে ভালবেসে কাউকে আপন করতে গেছে,কিছুদিনের মধ্যেই সেই সম্পর্কে নিস্পৃহ হয়ে সম্পর্ক থেকে বেড়িয়ে গেছে। এই ঘটনা বারে বারে হতে থাকে ফলে সে সেটাই তার নিয়তি ধরে নিয়ে সেই নিয়তিকেই তার একমাত্র ভালবাসা ধরে নেয় এবং ঘটনাচক্রে একসময় বেনারসে গিয়ে পরে এবং সেখানে নিয়তির হাতে নিজেকে সঁপে দেয় অর্থাৎ  আধ্যাত্ত্বিক  জীবনে প্রবেশ করে।
এই হল আমার মতে গল্পের মূলভাব।

রিভিউটি লিখেছেনঃ SD
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে

Feature (Side)

© 2013 Book Review. All rights resevered. Designed by Templateism