Latest Updates
Posted By:
boibd
পার্পেচুয়াল আতঙ্ক - মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম Perpetual Atongko by Mahammad Saiful Islam
পার্পেচুয়াল আতঙ্ক
মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রচ্ছদঃ বাপ্পী খান
প্রথম প্রকাশঃ অমর একুশে বইমেলা ২০২৩
পৃষ্ঠা : ২২৫
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৬০৳
ব্যাক্তিগত রেটিং : ৯/১০
লেখকের বড্ড প্রেমে পড়ে গেলাম আবার। আবার কেন? কারণ ঐ যে 'লোলার জগৎ'। লোলার জগৎ পড়ার পর এবছর বই কেনার তালিকায় সবার আগে স্থান পেয়েছিল এই 'পার্পেচুয়াল আতঙ্ক' । প্রচুর কল্পবিজ্ঞান পড়া হলেও অভিনব প্লট খুব কমই থাকে তার মধ্যে। কিন্তু সাইফূল ইসলাম ভাই, রীতিমত কাপিয়ে দিয়েছেন তার এই অভিনব, মৌলিক মনোমুগ্ধকর প্লট স্থাপন করে। অভিনব হলেও মজার ব্যপার তিনি কিন্তু প্রচলিত বিজ্ঞানের ব্যাত্বয় ঘটাননি এখানে। আর বিজ্ঞানটাকে তিনি এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন এটা ডালভাত। বিজ্ঞান না জানলেও তরতরিয়ে পড়ে ফেলতে পারবেন আপনি।
এবার আসি গল্প নিয়ে। বইটিতে গল্পের দুটো টাইমলাইন আছে। যেটা এক পরিচ্ছেদ পরপর সমান তালে এগিয়ে গেছে। চলুন সেই দুটো টাইমলাইনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।
আকাশছোঁয়া এক দেয়ালের ভেতর শত শত বছর ধরে বন্দী হয়ে আছে একটি জনপদ। এই দেয়ালটিকে তারা মনে করে তাদের ঈশ্বর। তারা মনে করে এই দেওয়ালের অপর পাশে আছে দৈত্য, দানো। তারা বিশ্বাস করে এই দেওয়াল-ঈশ্বর তাদেরকে নিরাপদ রাখে এবং রাখছে। তাই দেওয়ালকে রীতিমত পুজো করে তারা। দেওয়ালের ওপাশে যাওয়ার চিন্তা মানেই ঈশ্বরের বিরোধীতা করা, শয়তানকেই অনুসরণ করা। পুরোহিতরাও তাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে প্রটেক্ট করে যাতে এই জনগোষ্ঠীর কেউ ওই দেওয়াল পার হয়ে যেতে না পারে। কিন্তু এক তরুণ ছেলে 'রুমি', সে পুরোহিতদের এসব গালগপ্প একদম বিশ্বাস করে না। সে জানতে চায় দেওয়ালের ওপাশে কি আছে! সে মনে করে তাদেরকে একটা দেওয়ালের ভেতর বন্দী করে রাখা হয়েছে। এবং এটা নিশ্চয়ই কারো একজনের পূর্বপরিকল্পিত।
অপর টাইমলাইনে পাবেন আমাদের মহান বিজ্ঞানী প্যানহাল কোহেন কে। তিনি তার যুগের চেয়েও এগিয়ে থাকা জ্ঞান আর বিজ্ঞানশক্তি দিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন আজীবনের আকাঙ্ক্ষিত 'পার্পেচুয়াল ইঞ্জিন'। যা দিয়ে আমরা পেতে পারি জ্বালানিবিহীন নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ শক্তি। যার মাধ্যমে নিমেষেই সমাধান হয়ে যায় সভ্যতার জটিল সব সমস্যার। পরিবেশ দূষণ থাকবে না, দৈহিক পরিশ্রম কমে আসবে অনেকাংশে, অসুস্থ প্রতিযোগিতা থাকবে না ফলে মানুষ সৃজনশীল সব কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন। কিন্তু প্রশ্ন একটা থেকেই যায় সবার মনে। তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রানুসারে শক্তির বিনাস কিংবা সৃষ্টি নেই, শক্তি কেবল একরূপ থেকে আরেক রূপ ধারণ করে মাত্র। তাহলে কিভাবে তিনি এটি সম্ভব করলেন? অথচ তিনি কিন্তু থার্মোডাইনামিক্সের সূত্রের ব্যত্যয় না ঘটিয়েই সভ্যতার এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি করে ফেলেছেন। এবং তৈরির কৌশল রেখেছেন সবার অগোচরে। কিন্তু তিনি এর সাইড এফেক্ট সম্পর্কেও অবগত ছিলেন।
তার মতে ঠিক চার পাচশ বছর পর এই ইঞ্জিনগুলো ধ্বংস করে দিতে হবে। নাহলে পৃথিবী পতিত হবে নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে। আর এই ইঞ্জিনগুলো ধ্বংস করার সম্পূর্ণ নীল নকশাও তিনি তৈরি করেন। কেননা সাধারণ কোন কৌশলে এটা ধ্বংস করা যাবে না। ধ্বংস করলে চেইন রিয়াকশনের মাধ্যমে পৃথিবী সেই ধ্বংসের মূখেই পতিত হবে। আর এজন্য ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ তিনজন ব্যক্তির জন্যও তিনটা গোপন বার্তাও রেখে যান।
এটা মাত্র গল্পের শুরু। এরপর একদিকে চলতে থাকে ডানপিটে বিজ্ঞানমনষ্ক রুমির গোপন পরিকল্পনা, কিভাবে দেওয়াল টপকানো যায়। অপরদিকে দেখতে পাওয়া যায় পার্পেচুয়াল ইঞ্জিনের সুফল ও কুফল দিকগুলো। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হতে থাকে একের পর এক রহস্য। আসতে থাকে নতুন নতুন সব চরিত্র। বিশেষ করে শ্যাপা আর বহ্নি দুই বিপরীত মেরুর দুইজন চরিত্রকেও ভালোবেসে ফেলতে পারেন।
সব মিলিয়ে আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে বইটা। বই সম্পর্কে আরো গভীরে যাওয়া মানেই স্পয়লার দেওয়া। সেটা আমার একদম পছন্দ না।
এখন প্রশ্ন বইটির কমতি কি ছিল? আমার কাছে সেটার পরিমাণ খুব কম। শেষ অংশটা রোলারকোস্টারের মতো মারাত্মক দ্রুত এগিয়েছে। আরেকটু রহে সহে হলে বেশি উপভোগ্য হতো। এই তাড়াহুড়োইটুকুই যা কমতি। টাইমলাইনের সময়কালটা উল্লেখ করলে পাঠকদের একটু বুঝতে সুবিধা হতো। তবে আমার কাছে এটা খানিকটা টুইস্টের মতোই লেগেছে। আর দু একটা বানান ভুল আমি কখনোই ধর্তব্যের মধ্যেই নি না। কেননা ওটা সম্পাদনার অংশ। গল্পে এফেক্ট পড়ে না।
আপনাদের জন্য নিচে কিছু ছবি সংযুক্ত করলাম। যেগুলো মিডজার্নি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে তৈরি করা। তৈরি করেছেন সাজ্জাদ হোসেন ভাই। সামান্য স্পয়লার যুক্ত হলেও গল্পে আপনার আগ্রহ বাড়বে। আমার ভীষণ পছন্দ হয়ছে ছবিগুলো।
সবিশেষ, প্রিয় পাঠকগন। আপনাদেরকে যদি বইটির প্রতি কৌতুহল জাগাতে পারি তবেই আমার এই রিভিউ সার্থক। কেমন লাগলো জানাবেন।।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Aishu Rehman
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে || কিশোর পাশা ইমন Amra Tomar Shantipriyo Shanta Chele by Kishor pasha Emon
আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে
কিশোর পাশা ইমন
নালন্দা প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
পৃষ্ঠাঃ ৩৯০
মুদ্রিত মুল্যঃ ৮৫০ টাকা
প্রচ্ছদঃ সজল চৌধুরী
কলকাতায় পরিবেশকঃ বইবাংলা, কলেজ স্ট্রিট
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০*
ক্রয় করার পূর্বে জল্পনা কল্পনাঃ
জীবনে অনেক বই কিনে ঠকেছি। ভবিষ্যতে আরো হয়তো ঠকবো। কিন্তু কখনো ঠকিনি যাদের বই কিনে তাদের মধ্যে অন্যতম কেপি ইমন। তার প্রত্যেকটা বই নিয়ে থাকে অনেক জল্পনা কল্পনা। তাই প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই নিজের কপিটা সোজা বোগলদাবা করে ফেলি। তার বইয়ের প্রতি যে অমোঘ আকর্ষণ এটা কিন্তু একদিনে তৈরি হয় নি। 'যে হীরকখন্ডে ঘুমিয়ে কুকুরদল', 'মৃগতৃষা', 'জাদুঘর সিরিজ', 'ছারপোকা দ্য ব্যাটেল অব মাহেন্দ্রপুর' , 'ডিসটোপিয়া' এরকম বেশ কটি দুর্দান্ত লেখায় এই আকর্ষণের মুল ভিত্তি।
বইটির প্রতি একটু বেশিই আগ্রহীঃ
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কম বই পড়িনি জীবনে। বাজারে আছে ভুরি ভুরি। কিন্তু তার অধিকাংশই অতিরঞ্জিত কিংবা অতিনাটকিয়তায় মোড়া। কেপির প্রতি আলাদা আস্থা থেকে আঁচ করছিলাম, এবার হয়তো মোক্ষম কিছু পেতে যাচ্ছি। বিশেষ করে স্রেফ সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ আর ক্র্যাক প্লাটুনকে নিয়ে আস্ত একটা নন-ফিকশন এই বৈশিষ্ট্যটুকুই বইপ্রেমীকে আকৃষ্ট করতে বাধ্য।
সম্পূর্ণ বইটির সাথে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাঃ
বইটির প্রথমেই লেখকের মুখবন্ধ পাবেন। যেখানে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, 'তিনি প্রত্যেক বীরশ্রেষ্ঠকে মানবীয় রুপেই চিনিয়েছেন। অতিরঞ্জিত কিংবা অতি ভক্তির স্থান শুন্য। দেখিয়েছেন মানবরুপে' । শুধুমাত্র দায়িত্ববোধ থেকে, দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে, বৃহত্তর স্বার্থে দলের জন্যে যেটুকু করেছেন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, সেটুকুই ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীর নিখুঁত তুলিতে।
পড়ার সময় মনে হচ্ছিল, আমি এসব সূর্যসন্তানদের সাথে সাথেই হাঁটছি। তাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ অবলোকন করছি। তাদের বুদ্ধি, চিন্তাভাবনা, সাহস আর নির্ভীকতার সাক্ষী থাকছি। কখনো অবাক হচ্ছি। যেন শিরদাড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে যাচ্ছে। কখনো বিষাদের কালো ছায়ায় নিমজ্জিত হচ্ছি। চোখের কোণে জমা হচ্ছে বিন্দু বিন্দু বাষ্প। এটা হবে আমি জানতাম, কেননা এই ৭১ জিনিসটা আমার কাছে চিরকালের আবেগের বস্তু। আর এই আবেগটাকে আরো শতগুন বাড়িয়ে দিয়েছে লেখকের লেখার মুন্সিয়ানা।
বইটির ঘটনাপ্রবাহ মুক্তিযুদ্ধের টাইমলাইন ধরেই এগিয়েছে। ন্যারেটিভ স্টাইলে। তাই বোরিং হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ এবং ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যদের পেছনের গল্প, যুদ্ধের মোটিভেশন, যুদ্ধকালীন ট্রমা এসব থেকে একজন অকুতোভয় সাহসী যোদ্ধা হয়ে উঠার গল্প সবকিছুই ছিল মারাত্মক রকমের সুন্দর ও নিখুঁত। লেখক তার সবকিছুই ঢেলে দিয়েছেন বলতে গেলে। যুদ্ধের প্রতিটা লোকেশনের ডিটেইলিং, অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং যুদ্ধবিমানের খুঁটিনাটিসহ ছোট খাট সবকিছুই আপনাকে পড়ার সুখটা বাড়িয়ে দেবে বহুগুন।
বীরশ্রেষ্ঠ আর ক্রাক প্লাটুনের প্রত্যেকটা সদস্য নিয়েই একটা করে অনুচ্ছেদ লেখা যায়। কিন্তু আমি সেদিকে যাব না। আমরা প্রত্যেকেই জানি তাদের জীবনে কি ঘটেছিল। কিন্তু কিভাবে ঘটেছিল তার নিখুঁত বিবরণটুকু জানতে হলেও আপনাকে হাতে তুলে নিতে হবে এই বইটি।
আমন্ত্রণঃ
সাত বীরশ্রেষ্ঠকে খুব কাছ থেকে দেখার, বোঝার ও অনুভব করার এমন সুযোগ বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এর আগে কখনো আসেনি। কিশোর রিক্রুট হামিদুর রহমানের উত্থান আপনি যদি তাঁর পায়ে হেঁটে দেখতে চান, অনুভব করতে চান হাসিখুশি তরুণ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বদলে যাওয়া এক পাষাণ হৃদয় যোদ্ধায়, কিংবা একই ককপিটে বসে দেখতে চান ধীর-স্থির মতিউর রহমানের চারশো নট গতিতে উড়ে যাওয়া তাহলে -- এই বইটি একান্তই আপনার জন্য।
মোট কথাঃ
লেখক সফল। মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা এই অসামান্য বইটি লেখককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ও হ্যাঁ, বইটির শেষ আপনাকে চরমভাবে আঘাত করতে পারে, কিছু তিক্ত সত্যতার মুখোমুখির মাধ্যমে।
স্বাধীনতার মাসে এমন একটা বই পড়তে পারা সৌভাগ্যের ব্যাপার বইকি। আজ স্বাধীনতা দিবস। আপাতত রিভিউ দিলাম। ভবিষ্যতে আস্ত বইটা নিয়েই হাজির হব এখানে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Aishu Rehman
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
উধোতকাণি চিত্তাণি- সুতপা বসু Udhotkani Chittani - Sutapa Basu
বই- উধোতকাণি চিত্তাণি
লেখিকা– সুতপা বসু
প্রকাশক– আনন্দ পাবলিশার্স
প্রথম প্রকাশ– ডিসেম্বর ২০২২
প্রচ্ছদ শিল্পী- সুব্রত চৌধুরী
পৃষ্ঠা– ২০৮
মুদ্রিত মূল্য– ₹ ৫৫০/-
উধোতকাণি চিত্তাণি অর্থাৎ আলোকপ্রাপ্ত মন
এ গদ্যের সময়কাল ১৯৩২ থেকে ১৯৪৬। সুদূর তিব্বতের কোনও এক রাজার রাজ্য। বয়স্ক রাজার ক্ষমতাশালিনী দ্বিতীয় স্ত্রী যিনি বর্তমানে রাজ্যের হাল ধরে আছেন, রাজার সাথে এক সদ্য কৈশোর উত্তীর্ণ কন্যাসমা সামতেনের বিয়ে দিতে উদ্যত। যে বিবাহ প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতা বজায় রাখার এক চাল ভিন্ন অন্য কিছুই নয়। রাজার প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর একমাত্র অবহেলিত কন্যা ইয়োনতেন আজ উচ্ছৃঙ্খল, উদ্ধত, নেশায় আশক্ত, উদ্দাম যৌনতায় মত্ত এক যুবতী রাজকুমারী । রাজ্যের দুই প্রান্তে দুই বৌদ্ধ সংঘ। যারা রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে আভ্যন্তরীণভাবে যুক্ত। তাঁদের গতিবিধির উপর রাজার ক্ষমতা – অক্ষমতা নির্ভরশীল।
রাজ্যের উত্তর ও পশ্চিমপ্রান্তের দুই মঠের দুই ক্ষমতাশালী সন্ন্যাসী - লোবসাং ও ইয়েশে। যাদের জীবন কাহিনীর বৈপরীত্য তাঁদের স্বভাবগতভাবেও বিপরীত মতির করে তুলেছিল, তাঁরা নিজ নিজ মতানুযায়ী রাজ্য তথা মঠের মঙ্গলকামনার্থে ক্ষমতাশালী হওয়ার অভিপ্রায়ে সন্ন্যাসীর সর্বত্যাগী আচার ভুলে কূটনৈতিক খেলা খেলতে বাধ্য হন। এবং জড়িয়ে পড়েন রাজনৈতিক দুর্বিপাকে।
রাজ্যের এক দরিদ্র কামার জিনপা। বিধবা মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে স্বল্প আয় সম্বল করে জীবনের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় রাজকুমারীর অন্দরমহলে তাকে হাজির করানো হয়। বিস্ময়ে হতবাক কামার যখন রাজকুমারীর অভূতপূর্ব রূপ ও বিলাস ব্যাসনে হতবাক, তখন রাজকুমারী এক অদ্ভুত আদেশ করেন। গড়ে দিতে হবে গয়না। কিন্তু কামার কেন গয়না গড়বে সুবর্ণকার থাকা সত্ত্বেও? কারণ গয়নার মোড়কে গড়তে হবে ধারালো গোপন অস্ত্র। কিন্তু কেন এমন গয়নারূপী অস্ত্র প্রয়োজন রাজকুমারীর? গয়না গড়ার সময়কালে রাজকুমারীর প্রেমজনিত ছেলেখেলার পাত্রে পরিণত সুদর্শন কামার ভুলে যায় নিজের সামাজিক অবস্থান। সমর্পণ করে নিজেকে। জড়িয়ে পড়ে রাজপ্রাসাদের এক গোপন গভীর ষড়যন্ত্রে। শেষ অবধি কি হয় জিনপার?
এক ছোট্ট শিশু দাচেন। যাকে প্রধান বৌদ্ধ মঠের পক্ষ থেকে উত্তরাধিকারী রূপে নির্বাচিত করা হয়েছে, মায়ের থেকে দুরে সরিয়ে মঠে রেখে কঠোর বৌদ্ধ ধর্মীয় সন্ন্যাস জীবনে অভ্যস্ত করানো হচ্ছে, সে পালিয়ে যেতে চায় মঠ থেকে। অথচ ক্ষমতা লোভীরা তার ক্ষণস্থায়ী সময়কালেই তাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করে বারংবার। কি ভাবে কার দয়ায় কিংবা কার দুরদরশিতায় সে বেঁচে যায়? কিই বা হয় তার পরবর্তী জীবনরেখা।
এই সমস্ত চরিত্রর তৈরি করা গোলকধাঁধায় জটিল পঙ্কের ন্যায় জড়িয়ে যায় রাজপ্রাসাদের অলিন্দের ক্ষমতার লালসা, চিনা সৈন্যবাহিনী, বৌদ্ধ মঠ, রাজ্যের যৌথ কমিশন এবং জিনপার স্ত্রী পেমা, রানি সামতেন, দুটি গর্ভস্থ শিশু এবং আরও অনেকে। সমগ্র কাহিনী জুড়ে লোভ, লালসা, যৌন ঈর্ষা, প্রেম, মমতা, ত্যাগ সহ ভিন্ন ভিন্ন মানব অনুভূতির সমাহারে কাহিনী নিজ সমাপ্তি খুঁজে নেয়। কিংবা হয়ত সমাপ্তির পথে অগ্রসর হয়।
লেখিকা সুতপা বসুর লেখা এর আগে পড়ার সুযোগ হয়নি। ২০২২ সালে দেশ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে এই আখ্যানটি প্রকাশিত হয়েছিল। রোমাঞ্চ ঘরানার বই রূপেই এর আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০২৩ -এ। লেখার গতি সাবলীল। প্রায় নব্বই বছর পূর্বের ঘটনাকাল বজায় রাখার তাগিদে অযথা জটিল ভাষা ব্যবহৃত হয়নি বলে পড়তে বা বুঝতে অসুবিধা হয় না। আনন্দ প্রকাশনীর বইয়ের গুণগত মান নিয়ে আঙুল তোলার দুঃসাহস নির্বোধও করবেন না। যদিও নতুন বই পড়তে শুরু করে জানতে পারি অন্তত ১৫ টি পৃষ্ঠা ছেঁড়া ও মোড়ানো। কিন্তু তখন আর পাল্টানোর উপায় নেই। ফলত দুঃখের সাথেই বই পড়া শুরু।
এক বিন্দুও দ্বিধা না রেখে বলতে পারি ২০০ পৃষ্ঠা বইয়ে প্রকৃত কাহিনী খুব বেশি হলে ৭০ পৃষ্ঠার হবে। বাকি শুধুই প্রাকৃতিক বিবরণ, লেখিকার নিজস্ব দার্শনিক মতামত, চরিত্রদের দৃষ্টিকোণ দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আনুষঙ্গিকে তাঁদের দার্শনিক চিন্তা ভাবনার প্রকাশ। সাথে জুড়ে যায় বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুশাসনের বিভিন্ন কার্যকলাপ, মঠের নিয়ম নীতির বিস্তারিত বিবরণ। শুরুর দিকে এই ধরণের বর্ণনা পড়তে ভালো লাগলেও ধীরে ধীরে তা একঘেয়েমি ও শেষে বিরক্তি উৎপাদন করে। ফলে পড়ার গতিও রোধ হয়।
২০০ পৃষ্ঠার বই পড়তে আমার মত সাধারণ পাঠকের দুই থেকে তিনদিন লাগে। এই বইটি আমি প্রায় ১০ দিন ধরে শেষ করলাম। শুধুমাত্র বেশ মোটা অঙ্কের কষ্টার্জিত অর্থ খরচ করে বইটি কিনেছি বলেই শেষ করতে বাধ্য হলাম খানিকটা। নাহলে হয়ত মাঝ পথেই থেমে যেতাম।
উপরন্তু সমগ্র কাহিনী পড়ার পর বোঝা যায় বেশ কিছু প্রসঙ্গের উত্থাপন অকারণেই করা হয়েছিল। যার সাথে মূল কাহিনীর যোগাযোগ অত্যন্ত ক্ষীণ, কিছু ক্ষেত্রে প্রায় নেই বললেই হয়।
বইয়ে এত বিবরণের পর যখন সমাপ্তি আসে, তখন শেষের ৫-৭ পৃষ্ঠায় যেন লেখনী হঠাৎ উদভ্রান্ত হয়ে শীঘ্র শেষের দিকে ধাবিত হয়। ফলে ওর ছেলেকে নিয়ে গেল, তার মেয়েকে হারিয়ে ফেলল, ও চলে গেল, সে ভাবতে লাগল গোছের একাধিক ঘটনা অতি দ্রুত ঘটে যায়। এবং শেষাবধি ধর তক্তা মার পেরেক দশায় পরিণত হয়। যা সম্পূর্ণ উপন্যাসের লয় ও তাল ভঙ্গ করে।
উপন্যাসের শেষে বেশ কিছু ঘটনা অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। হয়ত ওপেন এন্ড রেখে পরবর্তী খণ্ডের প্রত্যাশা তৈরি করাই উদ্দেশ্য। কিন্তু তাতে পাঠক কতটুকু আগ্রহ বোধ করবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়ে যায়।
কাহিনীর ট্যাগ লাইন রূপে ব্যবহৃত রাজকুমারী ও কামারের আশ্চর্যজনক সাক্ষাৎকারকালে গহনারূপী অস্ত্র তৈরির যে রোমাঞ্চকর আদেশ দিয়ে কাহিনীর শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে বিবরণের বিপুলতায় খেই হারিয়ে ছোট্ট একটি দুর্ঘটনা মাত্র হয়েই রয়ে যায়। তবে এই সাক্ষাৎকারের ফলাফল গল্পের এক বিশেষ স্থান অধিকার করে।
বইটি ভূমিকাহীন। এজন্য লেখিকা বা গল্পের উৎপত্তি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া যায়না। বইয়ের শেষে লেখিকার সম্পর্কে যা জানানো হয়েছে তাও বড়ই ভাসা ভাসা। লেখিকা লিখিত অন্য কোনও বইয়ের নামও উল্লেখ করা হয়নি।
নামকরণের বিষয়ে কোথাও পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়নি। অনেক খুঁজে পেলাম এর অর্থ আলোকপ্রাপ্ত মন। বইয়ের উৎসর্গে লেখা আছে - “শুভেচ্ছাসহ, সকল আলোর পথযাত্রীকে”। গল্পের শেষে চরিত্রদের আত্মার পরিশুদ্ধিকরণকেই আলোকপ্রাপ্তির সাথে তুলনা করা হয়েছে বলে ধরা যেতে পারে। সেই ক্ষেত্রে নামকরণ সুন্দর অর্থবহন করে। পাঠকও বিভিন্ন ভাবে সেই আলোককে স্পর্শ করে মুগ্ধ হন।
বইয়ের প্রচ্ছদ শিল্পী সুব্রত মাঝি। প্রচ্ছদ বেশ মনোরম। দেখে আকর্ষণ তৈরি করতে বাধ্য। দেশ পত্রিকায় প্রকাশকালে গল্পের সাথে কিছু অলংকরণও থাকত। যা অত্যন্ত সুন্দর ও প্রাসঙ্গিক। বিশেষ করে প্রাচীনকালের গল্পের ক্ষেত্রে আঁকা অলংকরণ বইয়ে আলাদা মাত্রা যোগ করে। কিন্তু বইয়ে একটিও অলংকরণ রাখা হয়নি। কারণ বুঝলাম না। রাখলে সত্যিই খুব সুন্দর হত বইপাঠ।
কিন্তু তবুও এই বই অন্তত একবার পড়তে হয়। কারণ লেখিকার লেখনীর গুণ। যদি এই উপন্যাস কেউ শুধুমাত্র গল্প কাহিনী না ভেবে পড়েন তাহলে নিরাশ হবেন না। সুন্দর, বাঙময়তা ফুটে উঠেছে লেখার মাধ্যমে। কিছু কিছু বর্ণনা এত সুন্দর যে পাঠক যেন সত্যিই সেই পরিস্থিতি পরিবেশকে অনুভব করতে পারবেন। কোনও কোনও সময় যেন মনে হবে সেই বরফ ঘেরা রহস্যময় পাহাড় বেষ্টিত উপত্যকায় দাঁড়িয়ে আছি। তথাগত বুদ্ধের আদর্শে অনুপ্রাণিত মঠের থেকে ধীর ও গম্ভীর লয়ে প্রার্থনা মন্ত্র ভেসে আসছে। শুদ্ধ করে দিচ্ছে শরীর ও আত্মা। এখানেই এই উপন্যাসের সফলতা। শুধুমাত্র লেখনীর গুণেই লেখিকা যেন তুলি বুলিয়ে এঁকে দিয়েছেন এক অজানা অচেনা জগতকে। যা অনুভব করা যায় আত্মার অন্তঃস্থল দিয়ে।
শুভেচ্ছা রইল সকলের জন্য।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Sanjhbati
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
অসচরাচর - মাশুদুল হক Osochorachor - Mashudul Haque
অসচরাচর - মাশুদুল হক Osochorachor : Mashudul Haque
বই- অসচরাচর
লেখক- মাশুদুল হক
জনরা- থ্রিলার, অতিপ্রাকৃত
প্রচ্ছদ- আদিব রেজা রঙ্গন
প্রকাশনী- চিরকুট
প্রথম প্রকাশ- ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১১২
মুদ্রিত মূল্য- ২৪০ /-
রেটিং - ৪/৫
"অসচরাচর নাজুক মানসিক অবস্থার একজন তরুণ ডাক্তারের গল্প, রোগী দেখতে গিয়ে যিনি কিছু বিচিত্র বিপজ্জনক আর অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান, যেসবের হয়তো কোন ব্যাখ্যা নেই বা সেসব ব্যাখ্যার জন্য আমরা প্রস্তুত নই।"
অসচরাচর ৫ টি আধিভৌতিক বা ব্যাখ্যাতীত মেডিক্যাল কেসের সমন্বয়ে তৈরি একটি গল্পগ্রন্থ। প্রতিটি গল্প একজন ডাক্তারের 'অসচরাচর' কিছু কেস স্টাডি নিয়ে। মাশুদুল হকের লেখনী প্রশংসার দাবিদার। প্রতিটি গল্পই ভয়ঙ্কর ভয়ানক না হলেও অস্বস্তিকর অনুভূতির উদ্রেক ঘটাতে সক্ষম।
ব্যক্তিগত ভাবে শেষ গল্প "আন্না" ব্যতীত প্রতিটি গল্পই বেশ চমকপ্রদ লেগেছে আমার কাছে। ৫ টি গল্পের ভিতর আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'হোস্ট' এবং 'ইয়ানোমামিয়ান'। তবে ইয়ানোমামিয়ান এর শেষ মোচড় সবাই হজম করতে নাও পারে। লেখকের কাছে আশা থাকবে আরো কিছু অসচরাচর গল্পের। এককথায় বইটি আমার কাছে ভয়ঙ্কর সুন্দর লেগেছে। মেডিক্যাল হরর বা গল্পগ্রন্থের পাঠকদের জন্য অবশ্য পাঠ্য।
প্রচ্ছদের জন্য আদিব রেজা রঙ্গন সত্যিই আলাদা ভাবে প্রশংসার দাবি রাখেন।
রিভিউটি লিখেছেনঃ শাদমান সৌমিক।
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
হাজার টাকার বউ - অদিতি সরকার Hajar Takar Bou by Aditi Sarkar
উপন্যাসের নাম- হাজার টাকার বউ
লেখিকা- অদিতি সরকার
রেটিং-৮/১০
এক বঙ্গালন মোলকি দুলহন লীলার জীবন নিয়ে উপন্যাসটি লেখা হয়েছে। মোলকি দুলহন কথাটির মানে হল মোল অর্থাৎ মূল্য দিয়ে কিনে আনা বৌ। এদেরকে 'পারো' বলেও ডাকে।ভারতবর্ষের পশ্চিম প্রদেশগুলোতে এই ঘৃণ্য প্রথাটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হলেও এখনো চালু আছে। বাড়িতে প্রচুর পণ সাথে করে আনা বউ থাকা সত্ত্বেও অথবা বিয়ের জন্য সামর্থ না থাকলেও অথবা বাচ্চা পয়দা করার জন্যে আর সাথে অসীম জৈবিক চাহিদা আর ঘরের সব কাজ আর হাতের সুখ মেটানোর জন্য এদেরকে দশ-বিশ হাজার দিয়ে কিনে আনা হয়। বাংলা, ওড়িশা, বিহার বা উত্তরের রাজ্যগুলো থেকে কেনা হয় এদের।
মিথ্যে প্রেমের টোপে পড়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার হেঁতালবেড়িয়া গ্রাম থেকে সুদূর হরিয়ানা হয়ে রাজস্থানে বারবার বিক্রি হতে থাকে এই গল্পটির মূল চরিত্র লীলা। সারাদিন ঘরের কাজ সাথে তপ্ত বালি পেরিয়ে মাথায় কলসি করে জল আনা আর রাত্রে তার আদমির আর মাঝেমাঝে ইয়ারদোস্তদের ভুখ মেটানো, এই হল হতভাগী লীলার জীবন। গল্পে আরো অনেক অভাগী মোলকিদের কাহিনী জানতে পারা যায়। কেউ তার সামান্য খাওয়াপরার দাবীর জন্য মালিকের ছেলেদের হাতে পুড়ে মরে। আরও একটা ঘৃণ্য প্রথা 'কড়েয়া'-র কথা জানতে পারা যায়।
গল্পের মাঝে হঠাৎ লীলার মালিক সুখবীর দূর্ঘটনায় মারা যায়। তারপর কি হবে? লীলা কি আবার নরকে বিক্রি হয়ে যাবে নাকি তার জীবনে আলাদা কিছু মিরাকেল ঘটবে সেটা জানতে হলে এই গল্পটি পুরো পড়তে হবে।
গল্পটি পড়তে পড়তে শিউরে উঠেছি অনেকবার। এত নৃশংসতা! জঙ্গলের পশুরাও বুঝি এইসব মানুষদের থেকে অনেক ভালো!
এবার বলি আমার কিন্তু গল্পটি বেশ ভালো লেগেছে। কিন্তু একটাই অভিযোগ, "শেষ হয়েও হল না" এরকম গল্প পড়লে খুব কষ্ট পাই। আরও জানতে ইচ্ছে করে যে এরপর কী হল! যদিও সেটা সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছে। এখানে লেখিকার কোনো দোষ নেই। মাঝে মাঝে রাজস্থানী ভাষার ব্যবহার বেশ উপভোগ্য। তাই আমি এই গল্পটি পড়ার অনুরোধ জানাই সবাইকে। পড়ে দেখুন ভালো লাগবে। বানান ভুল চোখে পড়েনি।
সমাপ্ত।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
হলুদ বসন্ত - বুদ্ধদেব গুহ Halud Basanta by Buddhadeb Guha
উপন্যাস - হলুদ বসন্ত
লেখক - বুদ্ধদেব গুহ
প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১১১
রিভিউ লিখেছেন - শুভজিৎ বিশ্বাস
ঋজুদা আর নয়নার এক অনবদ্য প্রেম কাহিনী নিয়ে এই উপন্যাস। নয়না আসলে ঋজুর বন্ধু সুজয়ের বোন।
এই ভালোবাসাহীন শহরে ঋজু'রা বারবারই ভালোবাসা পেতে চাই, স্বপ্ন দেখে নতুন ভোরের, তারা নয়না'দের অত্যন্ত একান্তভাবে পেতে চাই কোনো চায়ের টেবিলে বা সিনেমা হলে পাশাপাশি..... তারা পাতার পর পাতা লিখে চলে নিরুত্তর চিঠি, তাদের ক্লান্তি নেই, তাদের কষ্ট, অভিমান হলেও নয়না'দের মুখটি একবার দেখলে সব অভিমান, অপমান কষ্ট ভুলে যান।
লেখক বুদ্ধদেব গুহের 'হলুদ বসন্ত' এই প্রথমবার নয়, আগেও পড়েছি কিন্তু এ উপলব্ধি যেন আমার নিজের একান্ত নিজের...... প্রতিটি পাঠককে এই উপন্যাস যেন ক্যান্সারের মতো কুরে কুরে খায়।
বইটির প্রতিটি পরিচ্ছদে কি অসাধারণ বর্ণনা, মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়েছি আর প্রতিটি লাইনে নিজেকে খুঁজেছি। নিজের অজান্তেই কখন যেন নিজেকে ঋজু'দার জায়গায় বসিয়েছি।
একদিকে বাঙালির দূর্গাপূজা, অন্যদিকে দোল পূর্ণিমা আবার অন্যদিকে নিজের প্রিয় মানুষটির অন্যের সাথে দেখে নিজের ভেতরের হিংস্র পশুটির যে দূরন্ত দাপাদাপি তা যেন স্পষ্টতই চোখের সামনে ভেসে উঠেছে.......
হয়ত ভালোবাসার গল্পে ঋজু'দের জোর পূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সত্যিই রাজা হতে হয়, যারা জীবনের একটা সময় পরে নয়না'দের কাছে আর বিক্রি হতে চাই না। মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই।
তবে সমগ্র উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে আপনি যে অনুভূতিটি উপলব্ধি করবেন তা সত্যিই কারোর সাথে শেয়ার করতে পারবেন না, আমি নিশ্চিত আমার মতো আপনিও মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলবেন।
ধন্যবাদ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
সোনালী জিশুর মূর্তি - সুযোগ বন্দোপাধ্যায় Sonali Jisur Murty by Sujog Bandyopadhyay
সোনালী জিশুর মূর্তি
কাহিনী ও ছবি : সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়
এই গ্রুপে সাধারণত গল্প উপন্যাস এবং সিনেমা সিরিজেরই রিভিউ দেওয়া হয় বলে দেখে এসেছি। আজকে কমিকসের রিভিউ লেখার চেষ্টা করলাম।
প্লট : রাপ্পা তার বন্ধু টনি কে নিয়ে যায় এক পুরাতন শিল্প সংগ্রাহকের বাড়ি সাক্ষাৎকার নিতে। সেখানে গিয়ে শুনে সেই ব্যক্তি একটু আগেই বেরিয়ে গেছে। একটু পরেই আমরা দেখতে পাই তাকে একটি ইচ্ছাকৃত গাড়ি দুর্ঘটনার মধ্যে ফেলা হয়েছে। তারপরে তিনি চলে যান কোমায়। তাকে কে এক্সিডেন্ট করালো, এই ঘটনার পিছনে কি একজন নাকি অনেক জন আছে তাদের উদ্দেশ্যই বা কি এইগুলো জানতে হলে আপনাকে কমিকস টি পড়তে হবে।
সাধারণত রাপ্পা রাওর কমিকস গুলোতে প্রচন্ড হাসির সাথে সাথে কিছু কিছু কারেন্ট socio পলিটিক্স জিনিসও বুড়ি ছোঁয়া হয়ে যায়। এখানে তার বেশ খানিকটা অভাব রয়েছে। হাসির এলিমেন্ট আছে তবে তা অন্যান্য বারের তুলনায় অনেকটাই কম। আর কমিকসের দৈর্ঘ্য যথেষ্ট ছোট। সুযোগ বাবুর ইলাস্ট্রেশন এর কাজ আমার বরাবরই ভালো লাগে। এবারেও ঠিকঠাক।
এখনো পর্যন্ত পূজা বার্ষিকী আনন্দমেলায় পড়া রাপ্পা রায়ের বেস্ট কমিক্স আমার কাছে হলো ' রাপ্পা@ফুল স্টপ ডট কম'। এখনো মনে আছে যখন পড়েছিলাম হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গিয়েছিল। মাঝে মাঝেই সেই কমিক্স রিভিজিট করি।
সোনার হরিণ র পর বেস্ট লাগে ' দার্জিলিঙে রপ্পা রায় '
রিভিউটি লিখেছেনঃ Zombiedeep
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
নাইনটিন নাইনটি আ লাভ স্টোরি - কল্লোল লাহিড়ী Nineteen Ninety A Love Story by Kallol Lahiri
📕নাইনটিন নাইনটি আ লাভ স্টোরি
(নয়ের দশকের স্মৃতি ও একটি সমকামী ভালবাসার পরিণতি)
✍কল্লোল লাহিড়ী
সম্প্রতি শেষ করলাম সদ্য প্রকাশিত হওয়া সুপ্রকাশ প্রকাশনা র আমার অন্যতম প্রিয় লেখক কল্লোল লাহিড়ী বাবুর উপন্যাস নাইনটিন নাইনটি আ লাভ স্টোরি ।সীমাহীন মুগ্ধ হয়েছি আলোচ্য উপন্যাসটি পড়ে ।লেখককে কুর্নিশ জানাই এরকম একটি মনোগ্রাহী লেখা পাঠকদের উপহার দেবার জন্য ।কল্লোল লাহিড়ী মানেই একটু ব্যতিক্রমী লেখা ।চেনা ছন্দের বাইরে গিয়ে একটু অন্যরকম প্রেক্ষাপট, একটু অন্য রকম বিষয়, চরিত্রায়ন সবকিছুতেই চেনা ছকের বাইরে থাকে এক অভিনবত্ব এবং নতুনত্বের ছোঁয়া ।আলোচ্য উপন্যাসটিও লেখক তুলে ধরেছেন এক নিত্যনবরূপ মাধুরী দিয়ে ।যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে ।
নব্বই দশকের প্রজন্ম নিয়ে অনেক কথা অনেক গল্প আজও চায়ের আড্ডায় প্রজন্ম প্রতিনিধিদের নস্টালজিক করে তোলে ।তবে নব্বই দশকের প্রজন্মকে সংজ্ঞায়িত করার সুনির্দিষ্ট কোন রেখা মনে হয় কোনও আলোচনাতে নেই ।নব্বই দশকের প্রজন্ম বলতে আমরা কাদের বুঝি ?? নব্বইয়ের দশকে জন্ম নেয়া না আশির দশকে জন্ম ?? নাকি নব্বইয়ের দশকে বেড়ে ওঠা প্রজন্মকে ?? তবে মোটামুটিভাবে বলা যায় বর্তমান সময়ে যাদের বয়স তিরিশের কোটায় তারাই মূলত নব্বই এর দশকের ।নব্বই দশকের প্রজন্মই সম্ভবত প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা সর্বশেষ প্রজন্ম ।জীবনের সর্বস্তরে প্রযুক্তির প্রসারের সবচেয়ে বড় সাক্ষী এই প্রজন্ম ।মাটির কাছাকাছি এবং মাঠ মাটি আর জলের স্পর্শে কাটানো দুরন্ত সেই সময়গুলো কোনও ফ্রেমে আবদ্ধ করা হয়নি ঠিকই কিন্তু মনের ফ্রেমে সেই সময়গুলো আজও এখনো অম্লান ।তখন গুঁটি কয়েক বাড়িতে টেলিভিশন কিন্তু পাড়ার সমবয়সী অসমবয়সীদের মধ্যে যে আবেগ এবং গভীরতা এবং একাত্মভাব দেখা যেত তা আজ আর হাজার চেষ্টা করেও পুনরায় পাওয়া সম্ভব না ।সেই সময়েই তৈরী হওয়া একেক মনের একেক টানাপোড়েন, একেক জটিলতা, প্রেম অপ্রেম, বন্ধুত্ব কিংবা বন্ধুত্বের মধ্যেও পেতে চাওয়া এক নিষিদ্ধ ভালোলাগা এবং ভালোবাসার অবয়ব, ব্রণ মুখে জর্জরিত হলেও আয়নায় নিজেকে শাহরুখ খান ভাবা, মহালয়ার ভোরে সকলে মিলে দূরদর্শনে সংযুক্তা ব্যানার্জিকে দুর্গা রূপে দেখে তাঁকেই প্রণাম করা, ইংরেজি নতুন বর্ষে গ্রিটিংস কার্ড দেবার মধ্যে দিয়েই চলে যেত দিন গুলো ।
কিন্তু দুটো ছেলের মধ্যে বন্ধুত্ব, বন্ধুত্বের আরও এক ধাপ এগিয়ে দুটো ঠোঁটে নিষিদ্ধ ভালোবাসার এক পূর্ণ আশ্রয় খোঁজা, একটি পুরুষও আকৃষ্ট হয়ে ওঠে তাঁরই এক সহপাঠী পুরুষ বন্ধুটির প্রতি, তবুও মাঝে মাঝে পড়ার ব্যাচে অন্য কোনও মেয়ের প্রতিও সমান ভালোলাগা, সবই দেখেছে নব্বইয়ের দশক ।আর এইসব আখ্যান দিয়েই সাজানো কল্লোল বাবুর আলোচ্য উপন্যাসটি ।
এই উপন্যাসের মূল চরিত্র ফেলে আসা নব্বই দশকের এক টুকরো সময় ।যে সময়েই স্বপ্নে আন্দোলিত হয়েছে তরুণ যুবা যুবতীরা, নিজেকে কখনো কেউ মাধুরী দীক্ষিত তো কেউ কাজল ভেবেছে ।অপর দিকে কেউ ভেবেছে নিজেদের কে সলমান খান । ঘটনার ঘনঘটায় আলোচ্য উপন্যাসের প্রকৃত একটি চরিত্রই হয়ে উঠেছে সেই সময় ।যেখানে কিংশুক, দিপালী, পচা, বিশু, হুলো আর মন্টু এবং আরও অন্য অনেকে মিলে একটা পাড়া, একটা স্কুল, একটা ভাঙা নদীর ঘাট, একটা ধুঁকতে থাকা সিনেমা হল, একটা লাস্ট বেঞ্চ। তার সাথে এক দঙ্গল ছেলেমেয়ের ভাবভালোবাসা, প্রেম, বন্ধুত্ব, নিষিদ্ধ প্রেম, গোপন ভালোলাগা, আর একটা সময়, দুই শালিখ, নিঃসঙ্গ লেনিন, হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা, চোখের জল,আর একটাই কালপুরুষ এই নিয়েই সাজানো 'নাইনটিন নাইনটি আ লাভ স্টোরি' উপন্যাসটি ।
ব্যাকরণের লিঙ্গ অনুযায়ী কার শরীর মন্টুকে বেশি প্রলুব্ধ করতো তা নিয়ে বিশেষ মাথাব্যথা ছিল তার সেই বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই । স্ত্রী লিঙ্গ তাকে টানতো না ।সে কি তবে সমকামী হয়ে উঠেছিল ??
কেনই বা তাকে জীবনের একটা সময়ে এসে খুন হতে হলো ??
সুইমিং পুলে রক্তে ভেসে যাওয়া শরীরেও তার চোখ দুটি আকাশের দিকে ছিল ।তবে কি সে তখনও কালপুরুষটিকে খুঁজে ছিল ।
অপরদিকে কিংশুক যার উত্তম পুরুষের বক্তব্যেই এই উপন্যাসটি শুরু এবং শেষ তাকে যেভাবে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর কলমের মুন্সিয়ানায় তা সত্যিই স্বার্থক হয়ে উঠেছে ।আসলে সময় এবং অপরিণত বয়স এই দুটি দিকই উপন্যাসটির দুটি স্তম্ভ ।প্রতিনিয়ত মনের মধ্যেকার ওঠাপড়া, নানান উত্তেজনা, শরীরে মননে মস্তিষ্কে নানান রকম দোলাচলে এগিয়ে যাওয়া তো কখনো পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে তৈরী হওয়া নানান উচাটন নানান দ্বিধা নিয়েই এই উপন্যাসের কাহিনী এগিয়ে চলে আপন ধারায় ।সেই সাথে তৎকালীন রাজনৈতিক বিভিন্ন ঘটনা, রাষ্ট্র তথা আন্তর্জাতিক স্তরে নানান রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ কিভাবে এখানকার মানুষকেও প্রভাবিত করেছিল সেই কাহিনীই ব্যক্ত করে জীবনের আলোছায়া মেশানো এই উপন্যাসটিপরিশেষে সকল বইপ্রেমী মানুষদের আলোচ্য উপন্যাসটি পড়ার অনুরোধ জানিয়ে এবং লেখককে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া এখানেই শেষ করছি ।
প্রেম শব্দটি গভীর
এক গভীর থেকে গভীরতর এক পরশ
নারী পুরুষে ,নারীতে নারীতে
পুরুষে পুরুষে
যুগে যুগে সেই ভালোবাসা আশ্রয় খোঁজে ।
পরিধি বিস্তার করে।
বলতে চায় ভালোবাসাটাই আসল ।প্রেম সমপ্রেম বিষমপ্রেম
যাই আসুক
আশ্রয় পাওয়াটাই বড় কথা ।
লিঙ্গ তো বিধিনিষেধের কেবল
মন তো তা নয় ।
সেখানে শরীর, লিঙ্গ তুচ্ছ হয়ে
ফুটে ওঠে কেবল দুটি মনের
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা......
চুম্বন সেখানে প্রথম
আলোক সম্পাত...
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
থ্রিলার সপ্তক - সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ Thriller Soptok by Syed Mustafa Siraj
বই- থ্রিলার সপ্তক
লেখক- সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ
লেখকের নাম চেনা হলে বইটা হাতে নেওয়ার সময়ই একটা প্রত্যাশা তৈরী হয়ে যায়। "থ্রিলার সপ্তক" হাতে নেওয়ার সময় আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। সাতটি উপন্যাস রয়েছে বইটিতে, এক এক করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।
১. তদন্ত- নাম শুনে কেন জানি না মনে হয়েছিল পুলিশ কাহিনী হবে, হয়ত ইন্সপেক্টর ব্রহ্মকেও পেলে পেতে পারি। তারপর শুরুর কয়েক পাতা পড়েই বুঝলাম, আর যাই হোক এটা পুলিশ কাহিনী নয়। কিন্তু রহস্যের মধ্য দিয়ে গল্প বেশ তরতর করে এগোচ্ছিল, আমিও মাথা খাটাচ্ছিলাম- কে হতে পারে আসল অপরাধী! তারপর দুম করে হঠাৎ দেখলাম গল্পটা শেষ হয়ে গেছে। আজ্ঞে হ্যাঁ, গল্প শেষ। ক্লাইম্যাক্সের নামে বিচ্ছিরি রকমের ব্যর্থ একটা টুইস্ট আনার চেষ্টা করা হয়েছে যদিও কিন্তু ওই জায়গাতেই গল্পটা পুরো খেলো হয়ে গিয়েছে। ওই টুইস্টকে মেনে নিলে সমগ্র গল্পটির মধ্যে অজস্র খুঁত খুঁজে পাওয়া যাবে। শেষ দেখে বলতেই হয় একদম বাজে গল্প।
রেটিং- ০৩/১০ (শুধুমাত্র থ্রিল আর ভাষাগত উপস্থাপনার জন্য)
২. নৃশংস - আগের গল্পের চরম হতাশা থেকে পড়তে শুরু করলাম। খুঁজছি, থ্রিল কোথায়!!! ... থ্রিল কোথায়!!! গল্পটা শেষ হয়ে গেল। এত বড় উপন্যাস আমি মাত্র এক ঘন্টায় শেষ করে ফেললাম, তবুও জিজ্ঞেস করছি থ্রিল কোথায়! অনুভব করলাম রোমাঞ্চ শব্দটাকে আমি বড় সংকীর্ণ অর্থে দেখি। রোমাঞ্চ মানে তো শুধুমাত্র রহস্যের মোড়কে আসা রোমাঞ্চ নয়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের রোজনামচার মধ্যেও তো আমরা রোমাঞ্চ অনুভব করতে পারি। উপন্যাসটি শেষ করার পর উপলব্ধি করলাম এতক্ষণ ধরে কী পড়েছি। কী মারাত্মক একটা লেখা পড়লাম। একটা নৃশংস বর্বর খুনিকেও যে ভালোবেসে ফেলা যায় তা এই উপন্যাসটা না পড়লে বোধ করি অনুভব করতে পারতাম না। কিছুদিন আগে অজেয় রায়ের "ডাক্তার কুঠি" পড়েছি, সেখানে বলা রয়েছে- একটা মানুষ নিজে নিজে অপরাধী হয় না, তার অপরাধী হওয়ার পেছনে তার জিন এবং পরিবেশ কাজ করে। এই কথাটাই "নৃশংস"- এর মূল উপজীব্য। সাধুর জীবনের মধ্যে দিয়ে লেখক দেখিয়েছেন একটা ছেলের অপরাধী হয়ে ওঠার গল্প। সাধু অত্যন্ত নৃশংস, বাস্তব জীবনে এমন লোককে পেলে ফাঁসিতে চড়াতে ইচ্ছে করবে। কিন্তু উপন্যাসে সাধু যখন চিৎকার করে জিজ্ঞেস করবে - "আমার ফাঁসি হবে না?" বুকটা তখন মোচড় দিয়ে উঠবে, বলতে ইচ্ছে করবে- সাধু তুই পালা...
শেষ লাইনে এসে সাধুর কাতর আবেদন, "ঝুমুরকে বলবেন সাধু কথা রেখেছিল।" মাথার ভেতরটা ঝিমঝিম করে তুলবে, চোখে জল আসবে না কিন্তু বুকের ভেতর একটা হাহাকার হবে- শেষমেশ সাধুর তবে আর সাধু জীবনযাপন করা হল না!
জানি না, রিভিউ লিখতে গিয়ে স্পয়লার দিচ্ছি কিনা। কিন্তু বিশ্বাস করুন, স্পয়লার কেন, কাহিনীখানাও সংক্ষেপে যদি বলে দিই তবুও কিচ্ছু যাবে আসবে না কারণ "নৃশংস" শোনার গল্প নয়, অনুভব করার গল্প। পড়ার পর দুই দিন আর অন্য লেখা পড়তে পারিনি। মাথার মধ্যে শুধু সাধুর কথাই ঘুরেছে।
আমার কাছে এই গল্প ১০/১০।
৩. না- নিষাদ - থ্রিলার খুঁজছিলাম। পেলাম থ্রিলার। রহস্য, পুলিশের তাড়া, রোমাঞ্চ- সব মিলিয়ে থ্রিলার যেমন হয় আরকি। কিন্তু থ্রিলারের নাম "না- নিষাদ"? একটু কেমন কেমন লাগছে না? লাগছে কারণ এই থ্রিলার তো শুধু থ্রিলার নয়। পুলিশ নায়ক আর মানুষ নায়ক এখানে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে। নায়কের মনের অলিগলি- দ্বিধাদ্বন্দ্ব, আবেগসহ- সবকিছু লেখক উন্মুক্ত করে দিয়েছেন আমাদের সামনে। নায়কের সঙ্গে তাই আমরা কখনও কর্তব্যবোধের তাড়নায় ছুটে যাই, কখনও আবার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ভুগি। "সাইকো" না থেকেও যে "সাইকোলজিক্যাল" থ্রিলার হতে পারে, এই গল্পটি তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। শেষের টুইস্টখানা খানিক অপ্রত্যাশিত ছিল, তাই বুকে মোচড় দিয়ে গেল।
রেটিং- ০৮/১০
৪. ওয়াগন ব্রেকার - এই উপন্যাসটা পড়ে নিশ্চিত হয়ে গেলাম লেখক এই বইতে থ্রিলারের চিরাচরিত ধারণাকে ভেঙে ফেলার পণ করেছিলেন। তিনটি চরিত্রকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া সামাজিক গল্প, তবুও রোমাঞ্চ অনুভূত হয়, বারবার মনে হয় শেষমেশ কী হবে তাহলে! রোমাঞ্চের পাশাপাশি লেখক মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দিকটিও তুলে ধরেছেন গল্পে। ভীরু হওয়ার অনুশোচনা, বেকারত্বের জ্বালা, বয়স বেড়ে যাওয়ার সত্ত্বেও সঙ্গীহীনতার নিঃশব্দ হাহাকার... সব কিছু মিলিয়ে ওয়াগন ব্রেকার এক সুন্দর উপন্যাস।
রেটিং- ৮/১০
৫. পেছনের আততায়ী- এটাও একটা মনস্তাত্ত্বিক গল্প। মানুষের মনের গহীনে যা ঘটে চলে সেই নিয়েই গল্প এগিয়েছে, রহস্যও ছিল একটা কিন্তু রোমাঞ্চ তেমনভাবে টের পেলাম না। তাছাড়া আগের গল্পগুলোতে যেমন চরিত্রগুলোর প্রতি ভালোবাসা তৈরী হয়, এখানে সেই জায়গা নেই। অনেক চরিত্র আর পারিপার্শ্বিকের বর্ণনাতে একেকটা চরিত্রের প্রতি টান তৈরী হওয়ার জায়গা রাখেননি লেখক। খারাপ বলব না কিন্তু হঠাৎ করেই যেন শেষ হয়ে গেল আর শেষ হওয়ার পরেও কোনো ছাপ পড়ল না। সব মিলিয়ে মোটামুটি লাগল।
রেটিং - ০৬/১০
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
অর্ক সমগ্র প্রথম খণ্ড - পল্লব হালদার Arka Samagra by Pallyab Haldar
অর্ক সমগ্র প্রথম খণ্ড
পল্লব হালদার
লেখক প্রসঙ্গ:- ডক্টর অর্ক সেনের সঙ্গে আমার পরিচয়টা একটু অন্যরকমভাবে হয়েছিল সানডে সাসপেন্সের দৌলতে। শোনার পর থেকেই আমার প্রিয় হয়ে ওঠে। পল্লব হালদারের লেখার অনুরাগী হয়ে উঠি। লেখক নাইজেরিয়ার লাগোস শহরের বাসিন্দা। কর্মসূত্রে আমিও লাগোস শহরের বাসিন্দা এবং বঙ্গীয় পরিষদের দাক্ষিনে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ওনাকে চিনি।
লেখককে অনেক ধন্যবাদ এরকম একটি চরিত্র আমাদের মধ্যে আনার জন্য এবং সেটিকে একটি পুরো নতুন প্রকাশনার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। আমি সাইকোলজিকাল বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা খুব পছন্দ করি । তাই যবে থেকে এই বইটা বেরোনোর কথা তখন থেকেই অপেক্ষা করছিলাম।
ডঃ অর্ক সেন। আশেপাশে দেখতে পাওয়া আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতই একজন তিনি। তবে তার আসল পরিচয়, লেগোসের (নাইজেরিয়া) নামজাদা এক মনোচিকিৎসক তিনি। কথার ছলেই পৌঁছে যান সামনে বসা মানুষের মনের মাঝে। বের করে আনেন আসলটাকে। আপাতদৃষ্টিতে অলৌকিক মনে হওয়া ঘটনার প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজে বের করেন। আর এসবে প্রায়শই তাঁর পাশে থাকেন বন্ধুসম তুহিন, যার কলমের আঁচড়ে লেখা হতে থাকে সে সব ঘটনা।
বইটিতে ছটি গল্প রয়েছে।
১. ভয়
২. ইল্যুশন
৩. মনোমোহিনী
৪. অভিশপ্ত ব্রেসলেট
৫. সমান্তরাল
৬. ওসানিন।
কোন গল্প আলোর কোন গল্প অন্ধকারের। গল্প গুলো অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরিয়ে আনার, কিংবা অন্ধকারের থেকে চিরমুক্তি সবই আছে। আলোছায়ার ক্রীড়াঙ্গন প্রতিটি গল্প।
বইটির প্রতিটি গল্পেই উপস্থিত কিছু না কিছু অলৌকিকতা। সবকটি গল্প অবশ্য সমান আকর্ষণীয় লাগেনি আমার। তবে কয়েকটি দারুন। সবচেয়ে ভালো লেগেছে প্রথম ও শেষ গল্পদুটি ('ভয়' ও 'ওসানিন')। 'সমান্তরাল' গল্পটি পড়তে পড়তে আবার এতটাই জটিলতার মধ্যে ঢুকে যেতে হল, আর একটু হলে একদফা ফিজাক্স বই পড়ে নেওয়ার দরকার পড়ছিল। তবে সব মিলিয়ে বেশ অন্যরকম একটি বই। বেশ একটা ভয় ভয় ব্যাপারও আছে, রহস্য উদঘাটনও আছে। আর সেটাই আবার মনের অতলে ডুবে সমাধানের খোঁজ নিয়ে আসার মাধ্যমে ঘটা।
বইটির প্রচ্ছদ দারুন, একথা বলব না। তবে বই জুড়ে দারুন কিছু অলংকরণ আছে।
ব্যাক্তিগত ভাবে লেখককে জানার সুবাদে এটা জানি যে ডাক্তার অর্ক র পরবর্তী সংকলন আগামী বইমেলায় প্রকাশ পাবে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
নয়টি রক্তাক্ত রবিবার - সায়ক আমান Noyti Raktakta Robibar by Sayak Aman
বই:- নয়টি রক্তাক্ত রবিবার
লেখক:- সায়ক আমান
ধরণ:- অলৌকিক গল্প সংকলন
প্রকাশনা:- বিভা পাবলিকেশন
মূল্য:- ২২২ টাকা
"বাংলা সাহিত্যের কিছু রোমাঞ্চকর গল্প দিয়ে সাজানো আমাদের এই বিশেষ নিবেদন সানডে সাসপেন্স..." এই সানডে সাসপেন্সে প্রকাশিত সায়ক আমানের আটটি গল্প ও একটি নভেলা নিয়ে এই সংকলন "নয়টি রক্তাক্ত রবিবার"।
আটটি গল্প যথাক্রমে―
১. রাত তিনটের পর
২. উইন্ডচাইম
৩. রাইম
৪. কুয়ো
৫. পঁচিশ বছর পরে
৬. কাঠের ঘোড়া
৭. শিশুরা অকারনেই কাঁদে
৮. সুর
এবং রয়েছে একটি অসাধারণ নভেলা " মায়াবৃক্ষ "
হরর, থ্রিলার, ফ্যান্টাসি, অলৌকিকতার মিশেলে তৈরী প্রতিটা গল্প, আর গল্পের শেষের "সায়ক আমানিয়ান" ম্যাজিক...এককথায় দুর্দান্ত। অসম্ভব সুন্দর একটি বই পড়লাম।
আমি বইটিকে ৯/১০ রেটিং দেব।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
হেরুক - সৌমিত্র বিশ্বাস Heruk - Soumitra Biswas
বই: হেরুক
লেখক : সৌমিত্র বিশ্বাস
প্রকাশক : আনন্দ পাবলিশার্স
বাংলায় তন্ত্রমন্ত্র আর তন্ত্রসাধনার উপর লেখা গল্পের পথিকৃৎ অবশ্যই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাঁর পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পূর্বেও কেউ থাকতে পারেন, তবে পাঠক মহলে সম্ভবতঃ ততটা জনপ্রিয় হয় নি। বিভূতিভূষণ-তারাদাসের পর এই ধারায় একটি উপন্যাস লেখেন সৌমিত্র বিশ্বাস, উনিশ কুড়ি পুজো সংখ্যা ২০০৯-তে। নবীন পাঠকমহলে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল এই থ্রিলারটি। বুদ্ধদেবের পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দুটো ভাগ হয়ে যায়, মহাযান ও হীনযান । এই মহাযান ধর্মাবলম্বীদের এক দেবতা হেরুক। পাহাড়ি শহর কালিম্পঙের পটভূমিকায় লেখা এক টান টান থ্রিলার, রহস্যময় দেবতা হেরুক-কে কেন্দ্র করে।
উনিশ কুড়ি পুজো সংখ্যাটি রেখে দিয়েছিলাম শুধুমাত্র এই উপন্যাসটির জন্য। পরে আনন্দ বই হিসাবে বার করে, কিন্তু অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই নিঃশেষ হয়ে যায়। পরে খোঁজ করেও বই আকারে আর পাই নি। আজকে পুরোনো বইয়ের এক স্টলে হঠাৎই বইটি পেয়ে গেলাম। সঙ্গের ছবিটি অবশ্য উনিশ কুড়ি পুজো সংখ্যা থেকে। মূল বইয়ে যথারীতি এই অলংকরণগুলো বাদ গেছে।বাংলায় তন্ত্রমন্ত্র আর তন্ত্রসাধনার উপর লেখা গল্পের পথিকৃৎ অবশ্যই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর তাঁর পুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পূর্বেও কেউ থাকতে পারেন, তবে পাঠক মহলে সম্ভবতঃ ততটা জনপ্রিয় হয় নি। বিভূতিভূষণ-তারাদাসের পর এই ধারায় একটি উপন্যাস লেখেন সৌমিত্র বিশ্বাস, উনিশ কুড়ি পুজো দে সংখ্যা ২০০৯-তে। নবীন পাঠকমহলে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিল এই থ্রিলারটি। বুদ্ধদেবের পর বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দুটো ভাগ হয়ে যায়, মহাযান ও হীনযান । এই মহাযান ধর্মাবলম্বীদের এক দেবতা হেরুক। পাহাড়ি শহর কালিম্পঙের পটভূমিকায় লেখা এক টান টান থ্রিলার, রহস্যময় দেবতা হেরুক-কে কেন্দ্র করে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় Manojder Adbhut Bari by Shirshendu Mukhopadhyay
বইয়ের নাম - মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি
লেখক - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
প্রকাশনা - আনন্দ
প্রথম প্রকাশ - ১৯৭৮
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ - দেবাশীষ দেব
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের 'অদ্ভুতুড়ে সিরিজ' কিশোর সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। এই সিরিজের প্রতিটি বই আমার অন্তরের খুব কাছের। ' মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি' বইটি সেরকমই একটি বই।
একটি ফটো - একটি বাংলো-বাড়ির বারান্দার সামনের সিঁড়িতে বসে একটা সুন্দর দেখতে ছেলে। পিছনে পর্দার আড়াল থেকে উঁকি মারা অস্পষ্ট মুখ। ছেলেটির পাশের গ্লাস থেকে বিড়ালের দুধ খাওয়া।
মনোজদের বাড়ি থাকা এই ফটোটা তাদের কারও না হলেও তাদের বাড়িতে আছে অনেক দিন।
হরিণগড়ের রাজা গোবিন্দনারয়ণ। খুবই কৃপণ। মন খারাপ হলে গুপ্ত কুঠুরিতে গিয়ে টাকা গোনে। রানি পুকুর পাড় থেকে শাক তোলে। রাজমাতা ঘুঁটে দেয়। রানি এক গোয়েন্দা নিয়োগ দিয়েছে তাদের হারানো ছেলের সন্ধানে।
একদল ডাকাত কালীপুজো করছে। আজ এক বড়ো ডাকাতি হবে। সব ডাকাতরা হইহল্লা করছে। এতো ডাকাতের মধ্যেও তাদের মেজো সর্দার আলাদা ভাবে নজর কাড়ে। ঠিক ডাকাত বলে মনে হয় না।
কী, একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন না? বইটির সমস্ত হাসির এলিমেন্ট সরিয়ে নিলে এক জমজমাট গোয়েন্দা গল্প হয় না?
এখানেই শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই গুলোর বিশেষত্ব। এই প্লটে ভরপুর হাসির উপকরণ দিয়ে বইটিকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেন লেখক।
একই গল্পে অনাবিল হাসি, রহস্য - রোমাঞ্চ, এমনকি পাঠকে দাঁড় করিয়ে দেয় রূঢ় বাস্তবের সামনে। এই বইতে দেখা যায় কিভাবে শহরের ছেলে গ্রামের ক্রিকেট কোচকে হেয় করে।
তবে এই বইয়ের আসল মজা প্রতি মুহূর্তে ঘটে চলা অসংখ্য হাসির ঘটনা, যা বলে শেষ হবে না। বিশেষ করে ভজবাবুর বাজার করা বা আদ্যাসুন্দরীদেবীর পুলিশকে লাঠি দিয়ে পিটানোর দৃশ্য উল্লেখযোগ্য।
দেবাশীষ দেবের প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ বইটি পড়ার সময় অনেক বেশি উপভোগ্য করে তুলেছে।
বইটিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা করেছি। যা একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত। যার সঙ্গে অন্যরা একমত নাও হতে পারেন।
রেটিং : ৪/৫
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
টুপি - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় Tupi by Shirshendu Mukhopadhyay
উপন্যাস - টুপি
লেখকের নাম - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
পেজ সংখ্যা - ২৫
জনরা - অদ্ভুতুড়ে সিরিজ
মূল্য - ২৬০ টাকা
এই বছর আনন্দমেলা পূজা বার্ষিকী ১৪৩০ এ যখন শুনলাম যে শীর্ষেন্দু বাবুর অদ্ভুতুড়ে সিরিজ এর উপন্যাস থাকবে না মন খারাপ হয়ে গেছিলো। পড়ে যখন জানতে পারলাম সেটা দেশ ১৪৩০ পূজা বার্ষিকী বার হচ্ছে শুনে মন খুশিতে ভরে গেছিলো।তাই দেশ পূজা বার্ষিকী হাতে পাওয়ার সাথে সাথে উপন্যাস টা পড়া শুরু করে দিলাম।আর পড়ার সাথে সাথে মন খুশিতে ভরে গেলো। হয়তো ওনার আগের লেখার সাথে তুলনা চলে না তবু মন ভালো আর খুশিতে ভরে গেলো।
আর তাই "টুপি" উপন্যাস টি পড়ার সাথে সাথে রিভিউ নিয়ে চলে আসলাম
যারা আমার মতো শীর্ষেন্দু বাবুর এই অদ্ভুতুড়ে সিরিজ এর ভক্ত তারা জানে এই উপন্যাস গুলো তে কিছু মজার চরিত্র আছে যে গুলো এক একটা কালজয়ী।
এই বার উপন্যাস টি নিয়ে একটু আলোচনা করি। উপন্যাস নাম "টুপি" কিন্তু আপনি যদি নাম দিয়ে এর বিষয়বস্তু আন্দাজ করেন তাহলে আমার মতো আপনাকেও পড়ে অবাক হতে হবে। উপন্যাস শুরুতে আমরা দেখতে পাই এক মজার চোর গনাকে। যে ভাগ্যের পাকে পড়ে মাসির বাড়ি থাকে।
মেসো বিজয় মল্লিক মস্ত বড়ো মহাজন। কিন্তু গণাকে দুই চোখে দেখতে পারে না।সেইখান আছে তার দুই মাসির ছেলে বাবলু আর গাবলু যাদের উদ্দেশ্য হলো একটা ভালো চোর হবার জন্য দাদাকে সাহায্য করা।এবং এর জন্য তারা ইন্টারনেট সাহায্য নেই।গনা জীবনে একটাই লক্ষ্য এক নামি চোর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।তার জন্য সে সব কিছু করতে পারে।সেই গনা চুরি করতে যায় এক ভুতুড়ে বাড়ি তে। সেই বাড়ির শেষ মৃত পুরুষ ১৫০ বছর আগে মারা গেছে। তবু সে একটা জিনিষ পাহারা দিচ্ছে ও সেই বাড়ির ত্রি সীমানা কেউ প্রবেশ না করুক সেটার জন্য সব রকম ব্যাবস্থা করে রেখেছে।
অপরদিকে ইগল একজন মানসিক রোগী।তাকে আমরা দেখতে পাই সে একটা মানসিক কেন্দ্রে ভর্তি। আর সেইখান থেকে সে পালিয়ে যায়। সে পাগল হওয়া না তবু তাকে পাগল সাজিয়ে রাখা হয়েছে।একমাত্র একজন তাকে বলেছে সে সম্পুর্ণ সুস্থ। তবু সরকারি নিয়ম এ তাকে ছাড়া সম্বভ না তিনি হলেন ইন্দুমতি।সেই খান থেকে পালিয়ে গিয়ে প্রথমে একটা মন্দির বা তারপর একটা ক্লাব এ আশ্রয় নেয়। সেখানে সে ইগল রায় বলে নিজেকে জানতে পারে। আর সেইখানে জানতে পারে তার নাম বুলু মজুমদার।
এই খান থেকে উপন্যাস রহস্য সূত্রপাত কে এই বুলু মজুমদার? কি আছে তার অতীত এ? কেনো তাকে পাগলা গারদে রেখে দেওয়া হয়েছে?তাকে মেরে ফেলার জন্য যে ষড়যন্ত্র চলছে সেটাই বা কি? রহস্য ময় টুপি টা কি? আর দ্বিতীয় জগৎ এর রহস্য বা কি?
গনা আর ইগল কি হলো? ইগল এর জন্য যে ষড়যন্ত্র সেটা কি গনা চোর পারবে তাকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবে? আর সর্বশেষ গনা কি এক নাম করা চোর হতে পারবে?
আর গনা শেষে কি করবে এই সব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে পড়তে হবে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা এই অসাধারণ অপূর্ব সুন্দর উপন্যাস "টুপি"
রেটিংঃ আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এইই লেখকের এই অদ্ভুতুড়ে সিরিজ আমার কি বয়সের ভালোবাসা তাই একটু খামতি থাকলেও ফ্যান হিসেবে তাই আমি ১০ এর মধ্যে ১০ দেবো।
রিভিউটি লিখেছেনঃ বাপনদা
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
দ্য থিফ - ফুমিনরি নাকামুরা ইরাজ উদ্দৌলা দিবাকর The Thief by Fuminori Nakamura
বই: দ্য থিফ
লেখক: ফুমিনরি নাকামুরা
অনুবাদক: ইরাজ উদ্দৌলা দিবাকর
জনরা: ফিলোসফিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার
আলো ঝলমলে এক শহর টোকিও। কিন্তু এই আলোর আশেপাশেই রয়েছে জমাট বদ্ধ অন্ধকার। আর এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে বিচরণ করে ভাগ্যের কাছে হেরে যাওয়া মানুষরা বা অন্যের ভাগ্য নিয়ে খেলা করা মহাজনরা। তেমনি একজন নিশিমুরা, ভাগ্যের কাছে বারংবার পরাজিত হওয়া এক দক্ষ পকেটমার। টোকিওর ব্যস্ত শহরে চোখের পলকেই উঠিয়ে নেয় অন্যের ম্যানিব্যাগ বা অন্যকিছু। অনেকসময় তো নিজেই বুঝে না কখন অন্যের জিনিস চলে আসে তার পকেটে! জীবনের প্রিয় দুজনকে হারিয়ে যখন জীবন-মৃত্যুর দোটানায় তখন হঠাৎ পরিচয় হয় অজ্ঞাত মা-ছেলের সাথে। ছোট ছেলেটার মধ্যে নিজের অতীত দেখতে পায় নিশিমুরা। বেঁচে থাকার ইচ্ছে যখন মনে আবার জেগে উঠে অতীতের ভয়াবহ স্মৃতি সামনে এসে দাড়ায়! করতে হবে কিছু গুপ্ত কাজ নয়তো মৃত্যু...
মাস্টারমাইন্ড, থ্রিল-টুইস্ট, সাসপেন্স, একশনে ভরপুর হবে ❝দ্য থিফ❞ প্রথমে এমনটাই ভেবেছিলাম। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো এমনটা অনুপস্থিত। আর দশটা সাধারণত পকেটমারের জীবন যেমন হয়ে থাকে নিশিমুরার জবানিতে তেমনটাই দেখানো হয়েছে। তবে লেখকের গল্পবলার ধরন বেশ সহজ। জন্মের পর থেকেই ভাগ্যের সাথে লড়াই করতে থাকে অনেকেই। বেঁচে থাকার সংগ্রামে কেউ বা পা দেয় অন্ধকার জগতে। আর সে অন্ধকার জগতের বাসিন্দাদের জীবন কেমন হয়; ফিলসফি, থ্রিল, ক্রাইম, মিস্ট্রির সংমিশ্রণে বইয়ে সেটাই দেখানো হয়েছে। আগেই বলে রাখি মেইন ফোকাস পেয়েছে বইয়ের সাইকোলজিক্যাল ফিলোসোফি।
অতীত স্মৃতিচারণের সাথে বইয়ের কাহিনী এগিয়ে যায়। বন্ধু ইশিকাওয়া ও প্রেমিকা সায়েকোর কথা ভেবে যখন সময় পার হচ্ছিল তখন মার্কেটে ছোট একটা ছেলের দক্ষতার সাথে জিনিস উঠিয়ে নেওয়া দেখে নিজের ফেলে আসা দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায় নিশিমুরার। ছেলেটা যেন তার মতো হয়ে না ওঠে সেদিকেও নজর দেয়। হঠাৎ করে বেঁচে থাকার ইচ্ছে জেগে উঠে সাথে আবির্ভাব হয় কিজাকির। নিশিমুরা মেইন ক্যারেক্টার হলেও বইয়ে বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে তারমধ্যে ছোট ছেলে আর কিজাকিও ফোকাসে দেখানো হয়েছে। কিজাকির বলা গল্পটা ইন্টারেস্টিং ছিল। গল্পটার জন্যই লাস্টটা প্রেডিক্টেবল। শেষ প্যারায় সমাপ্তি যেভাবে দেখানো হয়েছে, সেরা! তবে বক্সরহস্য রহস্য থেকে গেল।
অনুবাদ সহজ-সাবলীল।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
তারাভরা আকাশের নীচে - শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় Tara Bhora Akasher Niche by Srijat
গ্রন্থ- তারাভরা আকাশের নীচে
লেখক - শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
এই ছবিটি পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত ছবি, নিউইয়র্কে "আর্ট অফ মিউজিয়ামে" শোভা পাচ্ছে ছবিটি। শিল্পী ভ্যান গঘের আঁকা #The_Starry_Night , শিল্পের দিক দিয়ে এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ছবিটি ভীষণ মুল্যবান। দিনের পর দিন চিত্রশিল্প প্রেমী মানুষ যারা এই মিউজিয়ামে পৌঁছতে পারেন, তারা হতবাক হয়ে মুগ্ধ বিশ্ময়ে তাকিয়ে থাকেন। অথচ একদিন এমন ছিল, যখন শিল্পী হিসেবে ভ্যান গঘ প্রশংসা পাননি, তার ছবি কেউ কেনে না তখন। সেই হিসেবে ভ্যান গঘ ছিলেন চিরদুঃখী শিল্পী, যিনি জীবদ্দশায় তার কাজের স্বীকৃতি পাননি। শেষ পর্যন্ত হতাশায় ডুবে আত্মহত্যা করেছিলেন।
1853 সালের এক ডাচ অধ্যুষিত গ্রাম! পাদ্রী থিওডোর এবং তার স্ত্রী কর্নেলিয়ার জীবনে বড়ই দুঃখের সময় চলেছে। গতবছর 29 শে জুলাই তাদের এক পুত্র সন্তান হয়েছিল কিন্তু সে মৃত। আবার এই বছর তাদের সন্তান হতে চলেছে। যথারীতি সেই আগের বছরের একই দিনে অর্থাৎ 29 শে জুলাই, 1853 সালে আরো একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হল। গত বছরের মৃত পুত্রের নামেই তিনি এই পুত্রের নাম রাখলেন- ভিনসেন্ট উইলিয়াম ভ্যান গঘ। দাদার কবর ছিল বাড়ির কাছেই। সেই কবর দেখতে দেখতে বড়ো হতে থাকে শিশু ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ। এরপর আরো সন্তানের জন্ম হয় পাদ্রী থিওডোর এবং কর্নেলিয়ার। কিন্তু ভ্যান গঘ যেন একটু আলাদা রকমের! ছোট ভাই থিও এবং তিন বোনের সঙ্গে খেলাধূলায় তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। এদিক ওদিক ঘুরতে থাকে আর অবাক চোখে লক্ষ্য করতে থাকে প্রকৃতির দিকে। কেউ সেদিন জানত না, যে এই শিশুটিই একদিন পৃথিবী বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হবেন।
বারো তেরো বছর বয়সে ছবি আঁকা শুরু তার। ষোল বছর বয়সে স্কুল জীবন শেষ হল। এরপরের দিকে তার কাকা তাকে একটি চাকরি দেন। তাকে চলে যেতে হল লন্ডনে। কিন্তু এমন সময় সমস্যা দেখা দিল। লন্ডনে যে বাড়িতে তিনি থাকতেন, সেই বাড়ির মালিকের মেয়ের প্রেমে পড়লেন তিনি। কিন্তু সেটা ব্যর্থ হল। ফলে তীব্র মানসিক আঘাত পেলেন। কাজকর্মে আর তার মন বসল না। ফলে তার চাকরি চলে গেল। শুরু হল তার কঠিন দুঃখময় জীবন। পরের দিকে আবার একটা চাকরি পেলেন। লন্ডনের দরিদ্র ছাত্রদের কাছে বকেয়া আদায়ের ভার পড়ল তার উপর। কিন্তু সেই দুস্থ ছাত্রদের অবস্থা দেখে তিনি নিজেও এতটা দুঃখ পেলেন যে বকেয়া আদায় তার পক্ষে সম্ভব হল না। আবার চাকরি খোয়ালেন তিনি। এরপর তিনি পাদ্রী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। পঁচিশ বছর বয়সে একটি কয়লা খনিতে এলেন পাদ্রী হিসেবে। এখানেও তিনি খনি শ্রমিকদের প্রচন্ড দারিদ্র দেখতে পেলেন। ছবি আঁকতে থাকলেন সেই দারিদ্র্যের। আর নিজের জামাকাপড় পর্যন্ত দান করতে থাকলেন শ্রমিকদের। কিন্তু পাদ্রী গঘের এই আচরণে ক্ষুব্ধ হলেন কর্তৃপক্ষ। তাই আবার কাজ হারালেন গঘ। এবার বাড়ি ফিরে এলেন তিনি। এরপর একদিন এক ঘটনা ঘটল। নিজের বাবার সঙ্গে প্রচন্ড তর্কে জড়িয়ে পড়লেন গঘ। বাবার সঙ্গে ঝগড়া করে ক্রিসমাসের দিন বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন। কিন্তু তার হাতে টাকা নেই। সাহায্য চাইলেন ভাই থিওর কাছে। সারাজীবন এই একজনের কাছ থেকেই সহানুভূতি ও সাহায্য পেয়েছিলেন গঘ। তিনি চলে এলেন হাগ শহরে। মন দিয়ে ছবি আঁকবেন ভেবে এখানে এলেন। এখানে এক পতিতার সঙ্গে বাস করতে শুরু করলেন এবং সেই প্রেম এত গভীর হল যে সেই পতিতাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চাইলেন। কিন্তু আপত্তি জানালেন ভাই থিও। শেষ পর্যন্ত বিয়ে হলো না। 1884 সালে আবার দেশে ফিরে এলেন। এখানে এক ছবি আঁকলেন-- এক দরিদ্র কৃষক পরিবার আলু দিয়ে রাতের খাবার খাচ্ছে। এই ছবিটা পরের দিকে বিখ্যাত হয়েছিল। এবার তার বাবা মারা গেলেন। এবার একেবারে শেষ বারের মত বাড়ি ছাড়লেন। জীবনে আর কখনও তিনি বাড়ি ফেরেননি। ভর্তি হলেন বেলজিয়ামের এক আর্ট একাডেমিতে। কিন্তু বাঁধাধরা জীবন আর ছবি আঁকা তার পছন্দ হলো না। চলে গেলেন প্যারিসে। অনেক শিল্পীর বাস এই শহরে। ছবি আঁকতে থাকলেন সেখানে। কিন্তু অন্যান্য শিল্পীর চক্ষুশূল হয়ে গেলেন। বিভিন্ন মানসিক চাপে জর্জরিত হয়ে অতিরিক্ত মদ খাওয়া শুরু করলেন। দু'বছর পর প্যারিস ছাড়লেন। এলেন আর্লেসে। ততদিনে জাপানী চিত্র শিল্পে তার আগ্রহ বেড়ে গেল। আর্লেসে তখন শীতকাল। এক বরফ ঢাকা সময়ে এলেন আর্লেসে। এক হলুদ রঙের বাড়িতে থাকতে শুরু করলেন। ভীষন পছন্দ হলো এই বাড়িটি। জাপানিদের কাছে হলুদ রঙ বন্ধুত্বের নির্দেশ করেন। এবার বসন্ত এলো আর্লেসে। বহু ছবি আঁকলেন। স্বপ্ন দেখলেন এক নতুন জীবনের। ভাবলেন এমন এক বাসস্থান তৈরি করবেন যেখানে অনেক শিল্পী একসাথে থাকবেন, ছবি আঁকবেন। এক নতুন কলোনি তৈরি হবে, যেটা স্বপ্নের মত সুন্দর! আমন্ত্রণ জানালেন আর এক বিখ্যাত শিল্পী গগ্যাঁ কে। কিন্তু গগ্যাঁ আসতে রাজি হয়নি। শেষে ভাই থিও অর্থ সাহায্য করায় গগ্যাঁ এলেন আর্লেসে। কিন্তু হিতে বিপরীত হলো। গগ্যাঁ পছন্দ করলেন না আর্লেস শহর। পছন্দ হলো না গঘের এই ছন্ন ছাড়া জীবন। এমনিতেই শহরের অনেকেই গঘ কে পছন্দ করতেন না। ধীরে
ধীরে গগ্যাঁর সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়তে থাকে। গঘের এক পতিতা মডেল কে পছন্দ করলেন গগ্যাঁ। সেই মডেলও তাকে প্রশ্রয় দিতে থাকল। গঘ তখন তীব্র মানসিক আঘাতে জর্জরিত, রেগে গেলে একেবারে উন্মাদ হয়ে যেতেন। এক ক্রিসমাসের রাতে গগ্যাঁর দিকে মদের গ্লাস ছুঁড়ে মারলেন। গ্লাসটি লাগলো না গগ্যাঁর গায়ে। এতেও থামলেন না গঘ। ক্ষুর নিয়ে তেড়ে গেলেন গগ্যাঁর দিকে। পালিয়ে গেলেন গগ্যাঁ। কিন্তু তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে গঘ রাগের চোটে নিজের একটি কান কেটে ফেললেন। কিন্তু এর ফলে প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়লেন। হসপিটালে ভর্তি হতে হলো তাকে। কিন্তু শহরের বিশিষ্ট অনেক ব্যক্তি তাকে আর সহ্য করতে পারলেন না। দাবি করলেন এই পাগলকে তারা শহরে থাকতে দেবেন না। যে শহরকে গঘ এত ভালো বেসেছেন সেই শহর তাকে ছাড়তে বাধ্য করা হলো। তিনি আর সহ্য করতে পারলেন না। মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো তাকে। কখনও তিনি সুস্থ, তখন ছাড়া পেতেন। আবার অসুস্থ হলেই ভর্তি হতে হতো। এখানে একদিন এক খুশির খবর পেলেন। তার একটা ছবি বিক্রি হয়েছে। খুব খুশি হয়েছিলেন তিনি। সারা জীবনে তার এই একটি ছবিই বিক্রি হয়েছিল তার। অভঁরো শহরে এবার এলেন। কিন্তু বিকৃত মস্তিষ্কের কারনেও ছবি আঁকা তার বন্ধ হলো না। অজস্র ছবি আঁকলেন। কিন্তু তীব্র হতাশায় ডুবে গেলেন। 1890 সালের 27 শে জুলাই একদিন মেঠো পথ ধরে ঘুরে বেড়ালেন। তারপর রাতে বিছানায় শুয়ে নিজের বুকে রিভলবার ঠেকিয়ে গুলি চালালেন গঘ। শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করলেন। মাত্র সাঁইত্রিশ বছর বয়সে শেষ হয়ে গেল তার জীবন।
একশো আঠাশ বছর পরেও আজ তার ছবি জগৎ বিখ্যাত। এই শিল্পী জীবিত থাকাকালীন কোন সম্মান বা অর্থ কিছু পাননি। কিন্তু আজ তিনি বহু শিল্পীর প্রেরনা।
আনন্দবাজার শারদীয়া সংখ্যা ১৪২৪ পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়েছিল শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস #তারাভরা_আকাশের_নীচে । এই উপন্যাস রচিত হয় ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের জীবনের অংশ এবং কলকাতার এক যুবক ঋত্বিক এই দুই চরিত্রের জীবন নিয়ে। শ্রীজাত বন্দোপাধ্যায়ের কবিতার ভক্ত আমি, কিন্তু তার লেখা উপন্যাসের সঙ্গে পরিচয় হলো "তারাভরা আকাশের নীচে" র মাধ্যমে। দেখলাম, তার কবিতার মতো উপন্যাসও ভীষণ সুন্দর, সাবলীল। মুগ্ধ হয়ে গেলাম এই উপন্যাস পড়ে। সাধারণত একজন সাধারণ মানের পাঠক হিসেবে দেখেছি, উপন্যাসে কখনো একটি মাত্র চরিত্র সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়, কখনো বহু চরিত্র ঘিরে গোটা একটা বড় উপন্যাস তৈরি হয়, বিভিন্ন চরিত্রের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য থাকে। কিন্তু এমন ধরনের উপন্যাস কয়টি আছে, যেখানে দুই চরিত্র বাস করছে পৃথিবীর দুই প্রান্তে, বাসস্থানের দিক দিয়ে তারা একে অপরের থেকে বহুদূরে বাস করে এবং একটি চরিত্রের সঙ্গে অন্য চরিত্রের বাস্তবে কোনদিন দেখা হয়নি; অথচ উপন্যাসে তারা দুজনেই সমান গুরুত্বপূর্ণ! আমার অল্প মানের পড়াশোনার মধ্যে যে সকল উপন্যাস আমি পড়েছি, তার কোনটির মধ্যেই আমি এই বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাইনি, যা দেখালেন শ্রীজাত বাবু। এই উপন্যাসে এক পর্বে এসেছেন ভ্যান গঘ, তারপর পরের পর্বে এসেছে "ঋত্বিক" নামের চরিত্রটি। এইভাবে এক পর্ব এক পর্ব ছেড়ে ছেড়ে ক্রমানুসারে দুই চরিত্রের জীবনের ঘটনা নিয়ে সমান্তরাল ভাবে এগিয়েছে গল্প । এইরকম সমান্তরাল ভাবে একটা উপন্যাস এগিয়ে নিয়ে যাবার স্টাইল, এটাও আমি আগে কখনো দেখিনি।
উপন্যাসটি শুরু হয়েছে, ভ্যান গঘ বসবাস করছেন আর্লসে, এবং তার আমন্ত্রণ পেয়ে গঁগ্যাঁ চলে এলেন আর্লসে, শীতের রাতে ট্রেন থেকে নামলেন গঁগ্যাঁ..... এখান থেকে শুরু ।
অন্যদিকে ঋত্বিক কলকাতার এক যুবক । সে বর্তমানে এক মানসিক রোগে আক্রান্ত, চোখের সামনে তার ভেসে উঠছে অলীক জগত। চিরপরিচিত মানুষজন হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে পরিবর্তে দৃশ্যমান হচ্ছে অন্য এক শহর, অন্য মানুষজন, অলীক এক জগত। এই হ্যালুসিনেশনের মধ্যে বারবার সে নিজেকে আবিস্কার করে ওই "দ্য স্টারি নাইট" ছবিটির মধ্যে। সে যেন ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই ছবির সাইপ্রাস গাছের তলদেশে, বাড়িঘর সংলগ্ন এলাকায় বা গির্জায়।
ঋত্বিক চাকরি করে ভালো কিন্তু সে স্বপ্ন দেখেছিল চিত্রশিল্পী হবার। বাবার আপত্তি সত্ত্বেও ভর্তিও হয়েছিল আর্ট কলেজে, কিন্তু পরের দিকে সেই কোর্স সে ছেড়ে দেয়। তারপর অন্য কোর্স কমপ্লিট করে পরবর্তীকালে একটা ভালো চাকরিও পায়, কিন্তু তাকে বিষন্নতা গ্রাস করে, যার ফলেই তার হ্যালুসিনেশন হতে থাকে। বিষন্ন হবার মতো তিনটি কারণ এখানে খুঁজে পেলাম----
১) তার ছবি আঁকার দিকে অতিরিক্ত আগ্রহ তার বাবা মেনে নেননি। তার মা কিছুটা তাকে সমর্থন করতেন। তাদের পাড়ায় থাকতেন "নলিনী বাবু" নামে একজন মানুষ যিনি ছিলেন একটি আর্ট কলেজের গোল্ড মেডেলিস্ট, পাড়ার সবার কাছে তিনি পরিচিত "ছবি কাকু" নামে। আর্থিকভাবে তিনি ছিলেন অস্বচ্ছল, কয়েকটি ছেলেকে আঁকা শিখিয়ে যেটুকু রোজগার করতেন, তা দিয়েই দিন চালাতেন এই অবিবাহিত মানুষটি। পৈতৃক বাড়িতে ছাদে একটি
মাত্র রুম ছিল তার । কিন্তু তাতে তার কোন ক্ষোভ ছিল না কারো প্রতি। ঋত্বিককে তিনি আঁকতে উৎসাহ দিতেন। আঁকার বই থেকে বিখ্যাত শিল্পীদের আঁকা ছবি দেখাতেন । সেই বই দেখেই ভ্যান গঘের এই ছবিটির প্রতি আকৃষ্ট হয় ঋত্বিক । নলিনী বাবু তাকে শোনান, ভ্যান গঘের নিদারুণ জীবন কাহিনী । "দ্য স্টারি নাইট" দেখিয়ে বলেন, আমি নিজে এই ছবিটি বাস্তবে দেখার সুযোগ পাইনি। তুই বাস্তবে গিয়ে দেখিস, তুই দেখলেই আমার দেখা হবে। কিন্তু একদিন নলিনী বাবু বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। এরপর ঋত্বিকের মনের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।
২) একটি মেয়ের প্রেমেও পড়ে ঋত্বিক, কিন্তু মেয়েটি জানায় সে ইতিমধ্যেই অন্য একজনকে পছন্দ করে । হঠাৎ একদিন ঋত্বিক আবিস্কার করে যে তার নিজের ভাই ওই মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আছে। একদিন বাইরে এক প্রাচীরের গায়ে ওদের দুজন কে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ঋত্বিক ।
৩)ঋত্বিক তার এক বন্ধুর বাড়িতে দুজনে একসাথে ছবি আঁকত। সেই বন্ধু তার ছবি চুরি করে নিজের নামে এক কম্পিটিশনে পাঠায় এবং ছবিটি পুরস্কার লাভ করে ।
তারপর বহু দিন পর অন্য এক মেয়ের সাথে ঋত্বিকের বিয়ে হয়। এই স্ত্রী তাকে ভীষণ ভালোবাসে। এই মানসিক সমস্যার সময় তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করে, তাকে ফের ছবি আঁকতে বলে। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে তাকে নিয়ে যায় নিউইয়র্কের ওই মিউজিয়ামে, তার স্বপ্নের ছবি "স্টারি নাইট" দেখানোর জন্য । ছবিটির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ঋত্বিক নিজের আবেগের ভারসাম্য হারিয়ে মেঝেতে পড়ে যায়।
নিউইয়র্কে এক হোটেলে একাকি অবস্থায় থাকার সময় ভ্যান গঘ আসেন তার সাথে দেখা করতে। অবশ্যই এটা বাস্তব নয়, তার মনের কল্পনা। তাদের দুজনের মধ্যে বেশ কিছু কথাবার্তা হয়।
এরপরের দিকে দেখতে পাই, তার স্ত্রীর অবর্তমানে সে উঁচু ওই ব্যালকনি থেকে নীচে ঝাঁপ দেয়। তখনো সে দেখতে পায় "দ্য স্টারি নাইট" ছবিটাকে, সে যেন চলে যাচ্ছে ওই ছবিটার ভিতর দিয়ে। এখানেই উপন্যাসটি শেষ।
উপন্যাসের এই শেষ পর্বটুকু ব্যক্তিগতভাবে একজন পাঠক হিসেবে আমার ভালো লাগেনি। ভ্যান গঘ জীবনে আত্মহত্যা করেছিলেন, এই ঋত্বিকও সেটাই করল। এইভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা না ঘটলেই ভালো হত, বলেই আমার মনে হয়। যদি দেখানো যেত, ঋত্বিক সুস্থ হয়েছে, আবার ছবি আঁকছে, তাহলেই আমি বেশি খুশি হতাম। উপন্যাসের প্রতিটি পর্ব অসাধারন লাগার পর একদম শেষ পর্বটা আমাকে স্থির করে দিল। যাইহোক, এটা আমার ব্যক্তিগত ভালোলাগা, খারাপলাগা; এর সাথে বইটিকে তুলনা করছি না। কিন্তু উপন্যাসটি অসাধারন ।
ভ্যান গঘের জীবনকাহিনী লেখক যা বলেছেন, তাতে আমার জানা তথ্যের সাথে সামান্য একটু আধটু ভিন্নতা পেয়েছি। আমি সাধারণ মানের পাঠক, ভ্যান গঘকে নিয়ে পড়াশোনা বিশেষ বেশি কিছু করিনি, হয়ত আমার জানায় অসংগতি থেকে গেছে, যাইহোক উপন্যাস তো "ইতিহাসের বই" নয়, এতে দু একটা বিষয় দ্বিমত থাকলেও কিছু সমস্যা নেই। এত চুলচেরা ইতিহাসের বিচার উপন্যাসে না করলেও চলে।
একটি ঐতিহাসিক চরিত্র এবং একটি বাস্তবচরিত্র সমান্তরাল ভাবে উপস্থাপন করে, এই অসম্ভবের মধ্যেও সম্ভবতার সাযুজ্য স্থাপন করে লেখক যে উপন্যাস লিখলেন তা অসাধারন এবং আমি মনে করি যে সকল উপন্যাস আমার মনে গভীর রেখাপাত করেছে, "তারাভরা আকাশের নীচে" সেগুলোর মধ্যে একটি। লেখক শ্রীজাত বাবুকে অশেষ ধন্যবাদ এবং শ্রদ্ধা জানাই।
রিভিউটি লিখেছেনঃ ✍ সৌমেশ পাল
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
পাপ - সৌরভ চক্রবর্তী Paap by Sourov Chocroborti
বই - পাপ
লেখক - সৌরভ চক্রবর্তী
প্রকাশনা - বেঙ্গল ট্রয়কা পাবলিকেশন
মুদ্রিত মূল্য - ২৯৯
বইটিতে ৮টি গল্প আছে। প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী। প্রতিটা গল্পের শেষেই টুইস্ট রয়েছে। প্রথম গল্পটা 'পাপ ও পয়স্বিনী'। পুরোই বড়দের উপযোগী। অন্ধকার এক অপরাধের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে গল্পে।
দ্বিতীয় গল্প 'মামলার শেষে'। পুরো গল্প শেষে টুইস্টটা সত্যিই অবাক করেছে। এক উকিল মামলা লড়ে। কিন্তু শেষে মনে হয় সে নিজেই পাপ করেছে।।
তৃতীয় গল্প 'খেলনাওয়ালা'। এটা ভুডু বা ব্ল্যাক ম্যাজিক নিয়ে।
চতূর্থ গল্প 'শৌখিন রাত'। সিরিয়াল কিলারের গল্প। যদিও গল্প শেষ করার পূর্বে পুলিশ কর্মকর্তাকেই অপরাধী মনে হচ্ছিল।
পঞ্চম গল্প 'রোস্টোড চিকেন'। রোবটের ভুল শোনা ও নির্দেশনার কারণে মুরগীর পরিবর্তে মালকিনের একটি বাচ্চাকেই রোস্ট করে ফেলার কাহিনী।
ষষ্ঠ গল্প 'আস্তিক'। কিছুটা পৌরাণিক ও রহস্য গল্প।
সপ্তম গল্প 'লাস্যময়ী'। বিশ্বযুদ্ধে গুপ্তচর বৃত্তির পটভূমির উপর লেখা৷ এটাতেও শেষে টুইস্ট আছে।
অষ্টম গল্প 'সুইসাইড টাওয়ার'। এটা খুব একটা ভাল লাগে নাই। সব মিলিয়ে মোটামোটি লেগেছে বইটি।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Najmush Shakeer
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
মানসাই - প্রতিভা সরকার Mansai by Pratibha Sarkar
বই - মানসাই
লেখক - প্রতিভা সরকার
প্রকাশনা - ছাপাখানা
মুদ্রিত মূল্য - ৩০০/-
"বিপ্লবের নাম অমুক-তসুক"-এর ভাবালুতা বা মতবাদের প্রতি মোহ নয়, যেভাবে নিস্পৃহ দৃষ্টিতে দেখা উচিত ১৯৭০-৭৫ সনের যুগসন্ধিক্ষণটিকে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই উপন্যাস। পৌরাণিক কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষে মৃত যোদ্ধাদের শবের স্তূপের মধ্যে, রক্তনদীর ধারায় নিমজ্জিত শশ্মানে জননী-জায়াদের অন্বেষণের সঙ্গে একসূত্রে মিলে যায় তথাকথিত মুক্তিসূর্যের শাসনামলে হৃত অগণিত প্রাণের রক্তাক্ত শেষ পরিণতি । সবকিছু জেনেও ঘুরে দাঁড়ানো অগণিত মায়েদের আখ্যান। পূর্ববঙ্গের লাল মৌলানা থেকে এই বাংলার 'আলো বৈদ্য', ভাস্কর চক্রবর্তী থেকে হামিদ চৌধুরী - ঐতিহাসিক হোক অনৈতিহাসিক, প্রখর বাস্তবের রুক্ষ জমিনে পা রাখা চরিত্রগুলির সমন্বয়ে এবং একান্ত মানবিক আবেদনে তৎকালীন রাজনীতি,সমাজ এবং সময়কালকে ধারণ করে রাখা মানসাই নদীর মতোই খরস্রোতা কিন্তু প্রাণপ্রদায়িনী এই উপন্যাসে লেখক কোনো আইডিওলজিকে গ্লোরিফাই করার মধ্যে যাননি। যা আদতে ঘটেছিল তেমনটাই লিখেছেন। একমাত্র অনুযোগ উপন্যাসের নিয়মানুযায়ী অন্তিম অংশটিতে পার্শ্বচরিত্রগুলির পরিণতি হয়তো সামান্য দীর্ঘায়িত করা যেতো।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
বিশ্বাসঘাতক - নারায়ণ সান্যাল Biswasghatak by Narayan Sanyal
বই - বিশ্বাসঘাতক
লেখক - নারায়ণ সান্যাল
পাঠপ্রতিক্রিয়া - রাহুল
ব্যাক্তিগত রেটিং - 8.5/10
"নভঃস্পৃশং দীপ্তমনেকবর্ণং
ব্যাত্তাননং দীপ্তবিশালনেত্রম্।
দৃষ্ট্বা হি ত্বাং প্রব্যথিতান্তরাত্মা
ধৃতিং ন বিন্দামি শমং চ বিষ্ণো।" -
ঠিক এই শ্লোকটিই নাকি আওড়ে ছিলেন পরমানু বিজ্ঞানের জনক ওপেনহাইমার। সিনেমাটা এসে বইটা পড়তে বাধ্য করলো। সিনেমাটা আসার আগেও আমি বহুবার বহুপাঠকের কাছে শুনেছি, যে নারয়ণ সান্যালের বিশ্বাসঘাতকটা পড়ুন। হাইলি রেকমেন্ড একটি বই ছিলো। অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম পড়ব পড়ব অবশেষে এই শেষ তিনদিনে নানান অবসর সময়ে বইটা শেষ করলাম।
এক কথাও অসাধারণ বই। পরমানু বলতে সাধারণভাবে ওই ইলেকট্রন প্রোটন আর নিউট্রন এটুকু মাত্র জ্ঞান নিয়ে ভয় হচ্ছিল যে এ বই আদৌ বুঝতে পারব কিনা, কিন্ত সে সংশয় লেখক দূর করেছেন, অত্যন্ত সহজ সাবলীল ভাষায় (কোথাও ছবির সাহায্যে) সমস্ত দূর্বোধ্য বিষয়কে তরলীকরণ করেছেন তিনি। কি এই পরমাণু বিষ্ফোরণ, কীভাবে বিজ্ঞানের মাথায় এলো এই বোমের ধারণা এই সকল প্রশ্ন নিয়েই এই বইয়ের শুরু। লেখক পরমানু বোমার জন্মলগ্ন থেকে আমাদের পরমানু বিষ্ফোরণ পর্যন্ত একটি জার্নি করিয়েছেন। প্রতিটি ধাপে হাত ধরে বুঝিয়েছেন - দেখো, এভাবে রাদ্যার্ফোর্ড পরমানুর বিভাজন ঘটালেন, এভাবে ইলেকট্রন আবিষ্কার হলো, এভাবে নিউট্রন। আমি এতো সুন্দর বাংলায় বিজ্ঞান মূলক লেখা পড়িনি। আমি লেখকের লেখনীকে স্যালুট করছি। তবে এ বই শুধু মাত্র পরমানু বোমার ইতিহাসকাহিনী নয়। তার থেকেও অনেক বেশি কিছু পেয়েছি এই বইয়ে। এই বইয়ের চরিত্ররা, প্রায় ২৪জন নোবেল প্রাপক বিজ্ঞানী উপস্থিত এই বইয়ে। তাদের জীবনের কিছু অংশ তুলে ধরেেছন লেখক। জার্মিনি গেটিজেন ইউনির্ভার্সিটির কথা আমি অদ্ভূত ভাবে গিলেছি যেন। কল্পনা করতে পারছিলাম যে এত মহৎ মানুষরা সকলে মিলে একসাথে কাজ করেছেন। একসাথে আলোচনা করেছেন, একে অপরের সাথে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন সেই যুগেও।
রাজনীতির যাঁতাকলে পড়ে বিজ্ঞানীরা দেশ ত্যাগ সহ্য করেছেন কিন্ত বিজ্ঞানকে ছাড়েননি।
প্রথম পরমানু বোমা বানায় আমেরিকা, তাদের প্রকল্পের নাম ছিলো ম্যানহাটন প্রকল্প এই প্রকল্পের শুরুটা বেশ অদ্ভূত। কেন বোমা বানাতে হবে, কারণ তারা ভাবছে যে হিটলার বুঝি জার্মান বিজ্ঞানীদের সাহায্য নিয়ে আগেই বোমা বানিয়ে ফেলবে। কিন্ত হিটলার যে কতটা মূর্খ ছিলো তা জানা যায় আরোও পরে। তাই জার্মানিকে কাগুজে বাঘ বলে তুলনা করেছেন তিনি। এই কাগুজে বাঘের ভয়েই কিন্ত তৈরী হয়েছিলো পারমানবিক বোমা। তা কে করল এই কাজ জানেন, বিশ্ববরেন্য সকল বিজ্ঞানীরা। আমেরিকা প্রথম পারমানবিক বোমা তৈরী করলেও তাতে যুক্ত ছিলেন হাত গোণা কয়েক জন মাত্র আমেরকিান বৈজ্ঞানিক। বেশিরভাগই ছিলেন জার্মান, ইতালিয়ন, বা ফরাসি, ইংল্যাণ্ডের বা বৈজ্ঞানিকরা। ভাবতে অদ্ভূত লাগে যে তারা নিজের দেশ থেকে বিতারিত হয়ে আমেরিকায় গিয়ে আমেরিকার জন্য় বোমা বানালেন। এবং পারমানবিক বোমা বানানোর শ্রেয় পেলেন ওপেনহাইমার (ওপি) তাকে ঘিরেই এই উন্মাদনা। এসবের মধ্যে বিশ্বাসঘাতক কোথায়, তাই না। আসলে বিশ্বাসঘাতকতাটা কি আদৌ বিশ্বাসঘাতকতা এই নিয়ে দ্বন্দ্ব আছে। ম্যানহাটন প্রকল্পের যে সাফল্যামৃত তা তুলে নিয়ে গিয়ে যদি কোনও ব্যাক্তিকে তৎকালীন রাশিয়ায় পাচার করে দেয়, তাহলে।
হ্যাঁ এটাই হয়েছিলো। এই কাহিনী সেই ঘটনাকে ঘিরেই। তার কাহিনী বলতে গিয়েই লেখক পরমানুবোমার জন্মবৃত্তান্ত থেকে পরিণতি পর্যন্ত দেখিয়েছেন। আর বলেছেন সেই বিশ্বাসঘাতকের কথায়।
তবে আমার মতে বিশ্বাসঘাতক তিনি ছিলেন না। তার বদন্য়তাতেই সেই সময় হয়তো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বিশ্ব। লেখক নিজে স্বীকার করেছেন যে বিশ্বাসঘাতকের সাহায্যেই রাশিয়া অন্তত দুবছর আগে বানাতে পেরেছে পারমানবিক বোমা। তাই তিনি বিশ্বাসঘাতক এ আমি মানি না।
এই বইয়ে আমরা তৎকালীন রাশিয়া জার্মানি ও আমেরিকার কথাও পাবো। আর সর্বশেষে পাবো এক করুণ প্রেমকাহিনী।
এ বই আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এবং সকলকে রেকমণ্ড করবো পড়ার জন্য।
রিভিউটি লিখেছেনঃ রাহুল
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Book name : বিশ্বাসঘাতক
Author name: নারায়ণ সান্যাল
বিষয়বস্তুর ব্যাপকতায় নারায়ণ সান্যাল বর্তমানে বাঙলা সাহিত্যে অদ্বিতীয়। মার্কিন সরকারের অতন্দ্র প্রহরা ভেদ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জনৈক বৈজ্ঞানিক একক প্রচেষ্টায় একটি গোপন তথ্য রাশিয়ায় পাচার করেন। মানব-সভ্যতার ইতিহাসে আর্থিক মূল্যমানের দিক থেকে
এটাই নাকি সবচেয়ে বড় জাতের বিশ্বাসঘাতকতা। ‘কী, কেন ; কীভাবে ও কে?’ সেটাই ‘বিশ্বাসঘাতক'-এর মূল | পারমাণবিক বোমা। কে না শুনেছে এই নাম! কিন্তু কি আছে এই বোমাতে? কেনই বা এটা এতটা বিধ্বংসী? যুক্তরাষ্ট্র এটার জন্য এতটা মরিয়া কেন, যুক্তরাষ্ট্র যদিও বা এই বিধ্বংসী বোমা বানাতে সক্ষম হলো কিন্তু রাশিয়া কিভাবে পেল এই বোমা; বোমা বানানোর ফর্মুলা? হু ইজ দ্য ট্রেইটর!? বিশ্বাসঘাতকটা কে?
পুরো বই জুড়েই ওই একটা প্রশ্ন। 'হু ইজ দ্য ট্রেইটর? বিশ্বাসঘাতকটা কে?' এবং ওই বিশ্বাসঘাতককে খুঁজতে, বিশ্বাসঘাতকের প্রকৃতি বুঝতে লেখক আমাদের পরিচয় করান বিশ্ববিশ্রুত সব বৈজ্ঞানিকদের। তাঁদের কর্মকাণ্ড, গবেষণার সাথে। পারমাণবিক বোমা কী? কিভাবে বানিয়েছে এটা। সূচনালগ্ন থেকে পরিণতি পর্যন্ত বিশদ বর্ণনা করেছেন সহজভাবে | তিনি একেবারে গোড়া থেকে শুরু করলেন পরমাণুর ইতিহাস। ওখানে স্থান পেয়েছে পরমাণু নিয়ে নানা সময়ে বিভিন্ন পদার্থবিদ, রসায়নবিদদের প্রস্তাবনা, ব্যাখ্যা, থিওরী। গল্পের খাতিরে রাদারফোর্ড তার পরমাণু মডেল নিয়ে এসেছেন, এসেছেন নীলস বোর, চ্যাডউইক, এনরিকো ফের্মি, ওপেনহাইমার, ৎজিলার্ড, কুরি দম্পতি, সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইনসহ আরো অনেক প্রথিতযশা বিজ্ঞানী। ধাপে ধাপে আমরা জানতে পেরেছি কে কিভাবে সজ্ঞানে-অজ্ঞানে জড়িয়ে গিয়েছে এই পারমানবিক বোমার সাথে। আমেরিকার ছলচাতুরী আর প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যানের আত্মঅহমিকার স্বরুপও দেখতে পেয়েছি আমরা। দেখতে পেয়েছি সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানী স্যার অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের প্রেসিডেন্টের প্রতি পারমানবিক বোমা নিয়ে গবেষণা করার অনুরোধের চিঠি। আবার সেই আইনস্টাইনকেই দেখেছি পারমানবিক বোমার ভয়াবহতা অনুধাবন করে সেই বোমা ব্যবহার না করার অনুরোধ নিয়ে প্রেসিডেন্টের কাছে প্রেরিত চিঠি। এই দলে ছিলো ৎজিলার্ডসহ আরো অনেক বিজ্ঞানী। কিন্তু যার পেছনে এত টাকা গেলো সেই পারমানবিক বোমার কাছে এই আইনস্টাইন, ৎজিলার্ড বড় তুচ্ছ। অন্তত তেমনটাই মনে হয়েছিলো হেনরি ট্রুম্যানের কাছে। আর তার ফলস্বরুপ হিরোশিমা আর নাগাসাকির ওপর যে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে এসেছিলো তা দেখতে পেলো সারা বিশ্ববাসী। এই বইতে একটা রুদ্ধশ্বাস এবং সেই সাথে অত্যন্ত করুণ একটা 'প্রেম-কাহিনী' ও পাবেন। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর জনপ্রিয় যেকোনো থ্রিলারকে হার মানিয়ে দিতে প্রস্তুত এই বই।
রিভিউটি লিখেছেনঃ অনন্য ভট্টাচায
Subscribe to:
Posts (Atom)














