Showing posts with label Buddhadeb Guha. Show all posts
Showing posts with label Buddhadeb Guha. Show all posts
Posted By:
boibd
হলুদ বসন্ত - বুদ্ধদেব গুহ Halud Basanta by Buddhadeb Guha
উপন্যাস - হলুদ বসন্ত
লেখক - বুদ্ধদেব গুহ
প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১১১
রিভিউ লিখেছেন - শুভজিৎ বিশ্বাস
ঋজুদা আর নয়নার এক অনবদ্য প্রেম কাহিনী নিয়ে এই উপন্যাস। নয়না আসলে ঋজুর বন্ধু সুজয়ের বোন।
এই ভালোবাসাহীন শহরে ঋজু'রা বারবারই ভালোবাসা পেতে চাই, স্বপ্ন দেখে নতুন ভোরের, তারা নয়না'দের অত্যন্ত একান্তভাবে পেতে চাই কোনো চায়ের টেবিলে বা সিনেমা হলে পাশাপাশি..... তারা পাতার পর পাতা লিখে চলে নিরুত্তর চিঠি, তাদের ক্লান্তি নেই, তাদের কষ্ট, অভিমান হলেও নয়না'দের মুখটি একবার দেখলে সব অভিমান, অপমান কষ্ট ভুলে যান।
লেখক বুদ্ধদেব গুহের 'হলুদ বসন্ত' এই প্রথমবার নয়, আগেও পড়েছি কিন্তু এ উপলব্ধি যেন আমার নিজের একান্ত নিজের...... প্রতিটি পাঠককে এই উপন্যাস যেন ক্যান্সারের মতো কুরে কুরে খায়।
বইটির প্রতিটি পরিচ্ছদে কি অসাধারণ বর্ণনা, মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়েছি আর প্রতিটি লাইনে নিজেকে খুঁজেছি। নিজের অজান্তেই কখন যেন নিজেকে ঋজু'দার জায়গায় বসিয়েছি।
একদিকে বাঙালির দূর্গাপূজা, অন্যদিকে দোল পূর্ণিমা আবার অন্যদিকে নিজের প্রিয় মানুষটির অন্যের সাথে দেখে নিজের ভেতরের হিংস্র পশুটির যে দূরন্ত দাপাদাপি তা যেন স্পষ্টতই চোখের সামনে ভেসে উঠেছে.......
হয়ত ভালোবাসার গল্পে ঋজু'দের জোর পূর্বক ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে সত্যিই রাজা হতে হয়, যারা জীবনের একটা সময় পরে নয়না'দের কাছে আর বিক্রি হতে চাই না। মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই।
তবে সমগ্র উপন্যাসটি পড়তে গিয়ে আপনি যে অনুভূতিটি উপলব্ধি করবেন তা সত্যিই কারোর সাথে শেয়ার করতে পারবেন না, আমি নিশ্চিত আমার মতো আপনিও মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলবেন।
ধন্যবাদ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
বনজোৎস্নায় সবুজ অন্ধকারে - বুদ্ধদেব গুহ Bon Josnai Sobuj Ondhokare by Buddhadeb Guha
‘বনজোৎস্নায় সবুজ অন্ধকারে’ ---- দুই খণ্ড
--- বুদ্ধদেব গুহ
প্রকাশক --- আনন্দ পাবলিশার্স
বুদ্ধদেব গুহ এক বর্ণময় ব্যক্তিত্ব! পেশাগতভাবে সফল প্রতিষ্ঠিত এক মানুষ এবং নেশাগতভাবে আরণ্যক জীবনের সঙ্গে যুক্ত মধুর গ্রন্থনের অভিজ্ঞতাজাত উপলব্ধিই তাঁকে করে তুলেছে বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট সাহিত্যিক। আলোচ্য নিবন্ধে তাঁর প্রৌঢ় জীবনের স্মৃতিচারণাময় গ্রন্থ ‘বনজোৎস্নায় সবুজ অন্ধকারে’র দুটি খণ্ড অবলম্বনে প্রকৃতির পাঠশালায় তাঁর হাত ধরে কিছুটা বনবিহারের সদিচ্ছা রইলো। শিকারী পরিচয় এবং বনচর সত্তার আপাতবিরোধিতা জীবনভর লেখকের মধ্যে ছিলো। প্রকৃতির মধ্যে চিরকাল তিনি মানুষকে, আরো স্পষ্ট করে বললে এক নারীকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। প্রকৃতি মানুষের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা ও সহযোগিতায় বেঁচে থাকার দৃশ্যগুলি অত্যন্ত সততার সঙ্গে তাঁর লেখায় বরাবর তিনি উপস্থিত করেছেন। প্রকৃতি যথার্থই বর্ণময় চরিত্র। এই বহমান জীবনের অন্তঃস্থলে রয়েছে যে প্রচন্ড শক্তি যা নিয়ত তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে পৃথিবীর জীবনধারাকে, সেই শক্তির উৎস প্রাকৃতিক বিশ্ব; এই উপলব্ধিই তিনি প্রকৃতির অন্দরমহলে বিচরণের কালে সংগ্রহ করেছেন। প্রকৃতি তাঁর কাছে খুব বড় শিক্ষকও বটে। নিছক বনচর হিসেবে আনন্দ ভ্রমণের পাশাপাশি শিকারি জীবনের অভিজ্ঞতাও তাঁকে পরিণত করেছে অনেক --- মানুষ হিসেবেই। লেখক বুদ্ধদেব আতীব্র ভালোবাসায় প্রকৃতির সঙ্গে আজীবন মাখামাখি হয়ে থাকতে চেয়েছেন। জীবনের স্বাদু উপলব্ধি তাঁর ঘটেছে প্রাকৃতিক সান্নিধ্যেই; মানুষ হিসেবে নীতিজ্ঞান থেকেই একজন শিকারীর মানবিক দায়িত্ববোধকেও তিনি কখনো ভুলে যাননি। ছোটো ছোটো শিকার জীবনের ঘটনা, বন-জঙ্গলের অভিজ্ঞতাকে বৈঠকী মেজাজে তিনি পরিবেশন করেন। সেই গল্পের অন্তরালে শুধু রোমাঞ্চ থাকে না, প্রকৃতির অন্তর্লীন রূপে মুগ্ধ কবি সত্তার জীবনদর্শনের কথা থাকে না, এক জীবনরসিক মানুষের পরিচয়ও পদে পদে পাওয়া যায়। আসলে শিকারকে তিনি জীবনের একটি অনিবার্য খেলা হিসেবে দেখেছেন; সম্পূর্ণ আত্মকথাতেই কোথাও শিকারী হিসেবে দক্ষতা প্রমাণে তিনি ব্যস্ত ছিলেন না, বরং অনেক বেশি এই উপলক্ষ্যে পারিপার্শ্বিক জীবনের সঙ্গে প্রাণের সংযোগের গল্পগুলো পাঠকের সঙ্গে বিনিময় করে নিতে তাঁর আগ্রহ ছিল অনেক বেশি। যে মানুষটি জীবনভর তাঁর প্রসাধিত নাগরিকতাকে আরণ্যক ভূমির সান্নিধ্যে অবিরাম পরিশুদ্ধ করে তোলার ব্রত নিয়েছিলেন, সেই মানুষটির সৃষ্টি কর্মের সঙ্গে পরিচিত হওয়া পাঠকেরাও যে তাঁরই মতো বনজ্যোৎস্নার সবুজ অন্ধকারে অন্তত কিছুটা মাখামাখি হয়ে যাবে তাতে আর সন্দেহ কি!
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
বাংরিপোসির দু'রাত্তির - বুদ্ধদেব গুহ Bangriposir Du'Rattir by Buddhadeb Guha
বাংরিপোসির দু'রাত্তির
বুদ্ধদেব গুহ
কিশা, তার বর পিকু, ছেলে টুবলু, পিকুর বন্ধু অরি, এই চারজনের বাংরিপোসি যাওয়া এবং সেখানে দু দিনের ঘটনা এবং দুর্ঘটনা নিয়ে এই গল্প। অরি একদম ক্লাসিক্যাল সিনেমার নায়ক, পেশাগতভাবে প্রচন্ড সফল, অবশ্যই ধনী এবং রুচিশীল একটি চরিত্র। পুরোনো প্রেমকে ভুলতে না পারা তার প্রধান অন্তরায় নতুন সম্পর্কে জড়ানোর ক্ষেত্রে। আশেপাশে কিশার জ্বাজ্যল্যমান উপস্থিতি বারবার তাকে আকর্ষণ করে, অথচ তারপরেই তার মনে পড়ে যায় যে কিশা বিবাহিতা। যত সে কিশার কথা ভাবে, তত বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটির ওপর, এবং শ্বেতকেতু মুনির আরোপ করা বৈবাহিক বিধিনিষেধ (Dos and Don’ts) এর ওপর অরির বিতৃষ্ণা জন্মাতে থাকে।
অন্যদিকে পিকুর চরিত্রটি যেন কালি লেপে আঁকা, সে খল, কুটিল বুদ্ধি। মানবচরিত্রের যাবতীয় সুকুমার প্রবৃত্তি তার মধ্যে আশ্চর্য রকম অনুপস্থিত। অমন সুন্দর প্রকৃতির মধ্যে কিশার সাথে খানিক রোমান্টিক কথোপকথন তো দুরের কথা, স্ত্রীর প্রাপ্য সম্মানটাও পিকু দেয়না।
এই দুজন বিপ্রতীপ পুরুষের মাঝে কিশা একজন দোলাচলে ভোগা মানুষ। পিকুর সাথে ঘর করতে করতে তার নিজস্ব ভালোখারাপ লাগা, আত্মসম্মানের নটেগাছটি মুড়িয়ে এসেছে প্রায়। অরির অনুচ্চারিত আবেগের সারজল পেয়ে মাঝেসাঝে আবার সেইসব অনুভূতি জেগে ওঠে। কিন্তু পরক্ষণেই তার মনে পড়ে যায় সে কেবল পিকুর বৌ নয়, টুবলুর মা ও বটে।
এসব নিয়েই গল্প। তা পড়তে পড়তে কলেজের এক সিনিয়রের কথা মনে পড়ে গেল। সে ছিল ধুরন্ধর কিপ্টে। আমাদের গ্যাঙ তখন প্রায় শুঁয়োপোকার মতন, সামনে যাই পায় চিবিয়ে ছিবড়ে করে দেয়, তারা অব্দি কোনোদিন সেই সিনিয়রের কাছ থেকে একটি আধুলি অব্দি খসাতে পারিনি। তো সেই দাদা পড়ল প্রেমে। একদিন দুজনকে ক্যান্টিনে দেখে আমরা কজন সদাক্ষুধার্ত বালক চুপিচুপি গিয়ে খাওয়ানোর আবদার করলাম। সবাইকে অবাক করে দাদা সেদিন চাউমিন খাইয়ে দিলো। তারপর মাঝেসাঝে এদিক ওদিক দেখা হলে কখনো কুলফি, কখনো বা বাদামভাজা ইত্যাদি ইত্যাদি। মাসকয়েক পর হঠাৎ দাদা আবার যে কে সেই, ঝালমুড়ি খাওয়ানোর আবদারে সেই আগেকার মত পকেট উল্টে দেখিয়ে দিলো। তৎকালীন বৌদি আমাদের হয়ে কিছু একটা বলতে গিয়ে দাবড়ানি খেয়ে গেলো।
এখন এল এইচ এস ইজ ইক্যুয়াল টু আর এইচ এস করে যদি দেখি, মনে হয় খুব চড়া সাদা আর কুচকুচে কালো রঙে আঁকা অরি আর পিকু, দুটোই আমাদের মধ্যেরই লোক নয় কি? হয়তো আমরা আসলে পিকু, কাউকে ইমপ্রেস করতে চাইলে, বা কিছু পাওয়ার থাকলে কিছুক্ষণের জন্য অরি হয়ে যাই। আবার কাজ হাসিল হলে অরির টাই কোট ছেড়ে পিকুর গেঞ্জি বারমুডা গলিয়ে ফেলি।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Subscribe to:
Posts (Atom)


