Showing posts with label Himadrikishore Dasgupta. Show all posts
Showing posts with label Himadrikishore Dasgupta. Show all posts
Posted By:
boibd
আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে || কিশোর পাশা ইমন Amra Tomar Shantipriyo Shanta Chele by Kishor pasha Emon
আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে
কিশোর পাশা ইমন
নালন্দা প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩
পৃষ্ঠাঃ ৩৯০
মুদ্রিত মুল্যঃ ৮৫০ টাকা
প্রচ্ছদঃ সজল চৌধুরী
কলকাতায় পরিবেশকঃ বইবাংলা, কলেজ স্ট্রিট
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৯/১০*
ক্রয় করার পূর্বে জল্পনা কল্পনাঃ
জীবনে অনেক বই কিনে ঠকেছি। ভবিষ্যতে আরো হয়তো ঠকবো। কিন্তু কখনো ঠকিনি যাদের বই কিনে তাদের মধ্যে অন্যতম কেপি ইমন। তার প্রত্যেকটা বই নিয়ে থাকে অনেক জল্পনা কল্পনা। তাই প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই নিজের কপিটা সোজা বোগলদাবা করে ফেলি। তার বইয়ের প্রতি যে অমোঘ আকর্ষণ এটা কিন্তু একদিনে তৈরি হয় নি। 'যে হীরকখন্ডে ঘুমিয়ে কুকুরদল', 'মৃগতৃষা', 'জাদুঘর সিরিজ', 'ছারপোকা দ্য ব্যাটেল অব মাহেন্দ্রপুর' , 'ডিসটোপিয়া' এরকম বেশ কটি দুর্দান্ত লেখায় এই আকর্ষণের মুল ভিত্তি।
বইটির প্রতি একটু বেশিই আগ্রহীঃ
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কম বই পড়িনি জীবনে। বাজারে আছে ভুরি ভুরি। কিন্তু তার অধিকাংশই অতিরঞ্জিত কিংবা অতিনাটকিয়তায় মোড়া। কেপির প্রতি আলাদা আস্থা থেকে আঁচ করছিলাম, এবার হয়তো মোক্ষম কিছু পেতে যাচ্ছি। বিশেষ করে স্রেফ সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ আর ক্র্যাক প্লাটুনকে নিয়ে আস্ত একটা নন-ফিকশন এই বৈশিষ্ট্যটুকুই বইপ্রেমীকে আকৃষ্ট করতে বাধ্য।
সম্পূর্ণ বইটির সাথে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাঃ
বইটির প্রথমেই লেখকের মুখবন্ধ পাবেন। যেখানে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, 'তিনি প্রত্যেক বীরশ্রেষ্ঠকে মানবীয় রুপেই চিনিয়েছেন। অতিরঞ্জিত কিংবা অতি ভক্তির স্থান শুন্য। দেখিয়েছেন মানবরুপে' । শুধুমাত্র দায়িত্ববোধ থেকে, দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে, বৃহত্তর স্বার্থে দলের জন্যে যেটুকু করেছেন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, সেটুকুই ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পীর নিখুঁত তুলিতে।
পড়ার সময় মনে হচ্ছিল, আমি এসব সূর্যসন্তানদের সাথে সাথেই হাঁটছি। তাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপ অবলোকন করছি। তাদের বুদ্ধি, চিন্তাভাবনা, সাহস আর নির্ভীকতার সাক্ষী থাকছি। কখনো অবাক হচ্ছি। যেন শিরদাড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে যাচ্ছে। কখনো বিষাদের কালো ছায়ায় নিমজ্জিত হচ্ছি। চোখের কোণে জমা হচ্ছে বিন্দু বিন্দু বাষ্প। এটা হবে আমি জানতাম, কেননা এই ৭১ জিনিসটা আমার কাছে চিরকালের আবেগের বস্তু। আর এই আবেগটাকে আরো শতগুন বাড়িয়ে দিয়েছে লেখকের লেখার মুন্সিয়ানা।
বইটির ঘটনাপ্রবাহ মুক্তিযুদ্ধের টাইমলাইন ধরেই এগিয়েছে। ন্যারেটিভ স্টাইলে। তাই বোরিং হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ এবং ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্যদের পেছনের গল্প, যুদ্ধের মোটিভেশন, যুদ্ধকালীন ট্রমা এসব থেকে একজন অকুতোভয় সাহসী যোদ্ধা হয়ে উঠার গল্প সবকিছুই ছিল মারাত্মক রকমের সুন্দর ও নিখুঁত। লেখক তার সবকিছুই ঢেলে দিয়েছেন বলতে গেলে। যুদ্ধের প্রতিটা লোকেশনের ডিটেইলিং, অস্ত্র-গোলাবারুদ এবং যুদ্ধবিমানের খুঁটিনাটিসহ ছোট খাট সবকিছুই আপনাকে পড়ার সুখটা বাড়িয়ে দেবে বহুগুন।
বীরশ্রেষ্ঠ আর ক্রাক প্লাটুনের প্রত্যেকটা সদস্য নিয়েই একটা করে অনুচ্ছেদ লেখা যায়। কিন্তু আমি সেদিকে যাব না। আমরা প্রত্যেকেই জানি তাদের জীবনে কি ঘটেছিল। কিন্তু কিভাবে ঘটেছিল তার নিখুঁত বিবরণটুকু জানতে হলেও আপনাকে হাতে তুলে নিতে হবে এই বইটি।
আমন্ত্রণঃ
সাত বীরশ্রেষ্ঠকে খুব কাছ থেকে দেখার, বোঝার ও অনুভব করার এমন সুযোগ বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এর আগে কখনো আসেনি। কিশোর রিক্রুট হামিদুর রহমানের উত্থান আপনি যদি তাঁর পায়ে হেঁটে দেখতে চান, অনুভব করতে চান হাসিখুশি তরুণ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের বদলে যাওয়া এক পাষাণ হৃদয় যোদ্ধায়, কিংবা একই ককপিটে বসে দেখতে চান ধীর-স্থির মতিউর রহমানের চারশো নট গতিতে উড়ে যাওয়া তাহলে -- এই বইটি একান্তই আপনার জন্য।
মোট কথাঃ
লেখক সফল। মুক্তিযুদ্ধের উপর লেখা এই অসামান্য বইটি লেখককে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ও হ্যাঁ, বইটির শেষ আপনাকে চরমভাবে আঘাত করতে পারে, কিছু তিক্ত সত্যতার মুখোমুখির মাধ্যমে।
স্বাধীনতার মাসে এমন একটা বই পড়তে পারা সৌভাগ্যের ব্যাপার বইকি। আজ স্বাধীনতা দিবস। আপাতত রিভিউ দিলাম। ভবিষ্যতে আস্ত বইটা নিয়েই হাজির হব এখানে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Aishu Rehman
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
কত কক্ষে কাগজ পোড়ে - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Koto Kokkhe Kagaj Pore by Himadrikishore Dasgupta
কত কক্ষে কাগজ পোড়ে
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
অধুনা বাংলা সাহিত্যে ইতিহাস আশ্রয়ী লেখায় নিঃসন্দেহে হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তর নাম অগ্রগণ্য। লেখকের লেখনী গুনে চরিত্রগুলি যেমন পূর্ণতা পায়, তেমনি তথ্যাভারাক্রান্ত হয় না লেখা। ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস,যেখানে পরিণতি অনেকক্ষেত্রেই জানা, তাসত্ত্বেও গল্পের সাসপেন্স বজায় থাকে।
কত কক্ষে কাগজ পোড়ে, এক নাতিদীর্ঘ উপন্যাস। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, তুর্কি আক্রমণ, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা। গল্পের শুরু হয় নালন্দার এক শান্ত, স্নিগ্ধ, শীতল সকাল দিয়ে। যেখানে সূর্যের প্রথম আলো এসে পড়েছে তিন সুবিশাল গ্রন্থাগার এর গায়ে। রত্নদধি, রত্নরঞ্জক রত্নসাগর নালন্দার তিন রত্নভান্ডার। জ্ঞান সত্যই রত্ন। ধীরে ধীরে গল্পে আসে তুর্কি আনাগোনা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতিশোধ স্পৃহা। সাথে এই বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার রক্ষার এক অদম্য, অসম লড়াই। যার অন্যতম কান্ডারী হিসেবে থাকে রাহুলশ্রীভদ্র, শাক্যশ্রীভদ্র এবং কঙ্ক, এক বালক। ধীরে ধীরে এই বালক এর পরিচয় ও ক্রমশ প্রকাশ পেতে থাকে, উপসংহারে যে তার মূল ভূমিকা।
গল্পশেষের আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়তে থাকা তিন গ্রন্থাগার, কালো ধোঁয়ায় আবৃত আকাশ যেনো শুরুর স্নিগ্ধ নালন্দার সকালের এক অদ্ভুত contrast।
গল্পের একমুখিনতা লেখকের লেখার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য, কখনো খেই হারানোর ভয় থাকে না, একবার ধরলে শেষ করে উঠতে ইচ্ছে হয়। নিখুঁত লেখনী, নিখুঁত চরিত্র বিশ্লেষণ গল্প কে মনোগ্রাহী করে তোলে।
প্রসঙ্গত, কক্ষ শব্দের এক অন্য প্রয়োগ লেখক গল্পে দেখিয়েছেন, গল্পে কিভাবে কাজে লাগলো ঠিক বোঝা গেলো না, হয়তো কেবল তথ্য হিসেবেই দেখিয়েছেন লেখক।
গল্পের শেষে গভীর দুঃখে মনটা ভারী হয়ে যায়।
তবে, যে রক্তলোভী পাষণ্ড অমানুষটির ঘৃণ্য আগ্রাসনের ফল ওই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড, জ্ঞানসমুদ্রের চরম অবমাননা―সেই ব্যক্তির শেষজীবন চরম হতাশাব্যঞ্জক। বালখিল্যযথা নির্বুদ্ধিতায় নিজের প্রায় সমস্ত সৈন্যবাহিনীকে জলাঞ্জলি দিয়ে মৃত সৈনিকদের পরিবার কর্তৃক কটুক্তি, অভিশাপে জর্জরিত হয়ে দিশাহারা ক্লান্ত অসুস্থ বক্তিয়ার যখন নিদ্রিত তখন তার নিজের দলের লোকের হাতেই হয়েছিলো তার শিরশ্ছেদ।
কর্মফল একেই বলে!
রিভিউটি লিখেছেনঃ Sandip
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
কর্ণসুবর্নের কড়ি - হিমাদ্রিকিশর দাশগুপ্ত Karnasubarnar Kori by Himadri Kishore Dasgupta
কর্ণসুবর্নের কড়ি
লেখক : হিমাদ্রিকিশর দাশগুপ্ত
পত্রভারতী প্রকাশনী
৬ টি প্রপ্তমনস্ক ইতিহাসভিত্তিক কাহিনী
লেখকের অন্যান্য ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস র মত এটিও একটি মনোমুগ্ধকর উপন্যাস। যার মধ্যে রয়েছে ৬ টি পৌরাণিক প্রেক্ষাপটে রচিত কাহিনী যা কিছুটা সত্য আবার কিছুটা কল্পনা। আমরা যেসকল ঐতিহাসিক ঘটনা শুনে এসেছি তার সমান্তরাল চলা এমন অনেক ছোট ছোট অজানা অচেনা গল্পঃ কে তুলে ধরা হইছে। বস্তুত বলতে গেলে প্রধান কাহিনীর মহীরুহের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সেই ছোট ছোট গুল্ম ঘটনা কে সফলতার সঙ্গে নিজের লেখনীতে তুলে ধরেছেন লেখক।
বীর্যবান, রম্ভা, প্রস্তর ঘাতক, বিল্ববতি, মালিনী মঞ্জরী এবং কর্নসুবর্নের কড়ি এই ছয়টি কাহিনী নিয়ে রচিত এই পুস্তক।
বীর্যবান: এখানে বর্ণিত হইছে রাজা লক্ষণ সেনের তুর্কি আক্রমণে পালিয়ে যাবার পর তার প্রাসাদের শোভাবর্ধন কারিনী ইরাবতী, তার প্রেমিক চিত্রসেন এবং অভিমন্যুর কাহিনী যা দেখাবে প্রকৃত ভালোবাসা কি এবং তার জন্য মানুষ কি কি করতে পারে ।
রম্ভা : এখানে কথিত হইছে শ্রীনগর রাজ চক্র বর্মণের চূড়ান্ত লাম্পট্যের কাহিনী তার ফলে তার রাজ্যের অবনতির কথা আর কিভাবে তার দুষ্কর্মের শাস্তি দেন অন্য এক মহান রাজা যার স্ত্রী স্বয়ং দুশ্চরিত্র রাজার অত্যাচারের শিকার।
প্রস্তর ঘাতক : খাজুরাহর প্রেক্ষাপটে রচিত এই কাহিনী বর্তমান এবং অতীত এর মেলবন্ধন ঘটায়। পাঠকদের সামনে তুলে ধরে শতাব্দীর পর শতাব্দী অপেক্ষারত এক কর্তব্যপরাওনা নারীর প্রতীক্ষার অবসানের কাহিনী।
বিলববতি: এই কাহিনী আমাদের পৌঁছে দেবে একেবারে মেবার রানা উদয় সিংয়ের কুম্ভ গড়ের অন্দরে। মোঘল সম্রাট আকবরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে দুই মহীয়সী নারীর লড়াইয়ের ঘটনা এবং তাদের চরম পরিণতির কথা তুলে ধরা হইছে এখানে।
মালিনী মঞ্জরী: এক অসমাপ্ত প্রেমের করুন কাহিনী , রাজ প্রাসাদের সামান্য দাসী আর কর্মকারের এক অপূর্ণ ভালোবাসার ইতিহাস।
কর্ণসুবর্নর কড়ি: জুয়া খেলা কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই কাহিনী তিনজন মানুষের জীবনের ওঠা পড়া আর অন্তিমে লোভ, কাম, মহ, মাৎসর্যে ডুবে গিয়ে তাদের অন্তিম পরিণতির কথা বর্ণনা করে।
কাহিনী খুবই সুন্দর যাহ পাঠক মন জয় করতে বাধ্য। তবু কোথায় মনে হইছে লেখকের আগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত কাহিনী গুলির তুলনায় কিছুটা নিষ্প্রভ (সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত)। বানান ভুল বা লেখনীর ভুল থাকলে তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
#review
বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক, অনুবাদক রবিন জামান খানের লেখনির সাথে প্রথম পরিচয় হয় ওনার অনূদিত রেমন্ড খাওরির লেখা "দ্যা লাস্ট টেম্পেলার" বইটির মাধ্যমে,বেশ সহজবোধ্য ঝড়ঝড়ে অনুবাদ ছিলো। একটানা পড়ে গেছিলাম তখন। তারপর এখন পড়লাম ওনার লেখা প্রথম মৌলিক থ্রিলার "২৫ শে মার্চ"। এই বইটি ওনার প্রথম মৌলিক থ্রিলার,কিন্তু পড়লে তা মনে হয়না,মনে হয় বেশ প্রফেশনাল। লেখক বেশ সিদ্ধ হস্তে এই থ্রিলারটি লিখেছেন। "দ্যা লাস্ট টেম্পেলার" কিংবা ড্যান ব্রাউনের রবার্ট ল্যাংডন সিরিজের প্যাটার্নের সাথে এই বইয়ের প্যাটার্নের বেশ মিল আছে। হয়তো প্রত্যেক ঐতিহাসিক কাহিনী নির্ভর থ্রিলারের কাহিনী বিন্যাসের প্যাটার্ন এক রকমই হয়।
পারফেক্ট থ্রিলার বলতে আমরা যা বুঝি "২৫ শে মার্চ" একদম তা। কিছু কিছু বাড়তি অনর্থক বর্ননা এসেছে বটে কিন্তু তাতে থ্রিলার রস আস্বাদনের কোন ব্যাঘাত ঘটেনি। একটা পারফেক্ট থ্রিলারে যে জিনিস গুলো থাকা প্রয়োজন তা বেশ পরিমিত পরিমাণেই ছিলো এই বইয়ে। বই এর প্যাটার্নটা এমন ভাবে তৈরী যে পাঠককে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখবে বইয়ের ভিতর। পাঠক চরিত্রগুলোর সাথে সাথে ঢাকার অলিগলিতে ঘুরে বেড়াবে ক্লান্তিহীন ভাবে।
এক পা ভাঙা ঘোড়ার ছবি,এক অদ্ভুত দর্শন কয়েন,একটি ছেড়া ডায়েরি আর একটি বাক্য " ট্রুথ ইজ অলওয়েজ ইন ফ্রন্ট অফ ইউ" এই নিয়েই মূলত পুরো বইয়ের গল্প আবর্তিত হয়েছে।
তিনটি ভিন্ন সময়ের কাহিনী, ১৮৫৭ এর সিপাহী বিদ্রোহ, ১৯৭১ এর ২৫শে মার্চের গনহত্যা আর ২০১৪ এর একটি সময়। তিনটি বিচ্ছিন্ন সময় কিন্তু কাহিনী একই সূত্রে গাথা। ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ আর ২০১৪ এর সময়টি বইয়ে চলেছে পাশাপাশি সমান্তরাল ভাবে।
ভারতবর্ষের বুকে বিভিন্ন সময়েই নানা রকম গোপন সংঘের অস্তিত্ব ছিলো এবং অনেকের ধারনা মতে কিছু কিছু গোপন সংগঠন যাদেরকে কাল্ট বলা হয় তাদের অস্তিত্ব নাকি এখনো বিদ্যমান। এরকমই এক কাল্টকে নিয়েই এই বইয়ের মূল কাহিনী। কাল্টের সদস্য সংখ্যা থাকে সীমিত এবং এদের কার্যক্রমও খুব গোপনীয়তার সাথে করা হয়। বইয়ে বর্নিত কাল্টটি সিপাহী বিদ্রোহের সময় থেকে মোঘল সাম্রাজ্যের লুকিয়ে রাখা সম্পদের বিশাল একটা অংশের ঠিকানা খুব গোপনে ধারণ করে রাখে। কিন্তু ১৯৭১ এ এক বিশ্বাসঘাতক এই কাল্টের কথা বাইরে কিছু লোককে জানিয়ে দেয় এবং তখন থেকেই এই সম্পদ উদ্ধারের জন্য বারবার লোভীদের চোখ পড়ে এই কাল্টের উপর।
এই বইয়ে অতীত আর বর্তমান সময় এগিয়েছে পাশাপাশি সমান্তরাল ভাবে।ধাঁধা,গোপন কাল্ট,একটা সূত্র থেকে আরেকটা সূত্রে জাম্পিং, অরনি আর হাসানের পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে পুরনো ঢাকার অলিতে গলিতে সব সময় দৌড়ের উপর থাকা,ঢাকার টুকরো ইতিহাস, ২৫ শে মার্চ রাত্রের ভয়াল বর্ননা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনিরুজ্জামানের বীরত্ব এবং সবশেষে একটার পর একটা সূত্র মিলিয়ে রহস্যের সমাধান,কিন্তু রহস্যের সমাধানের পরও একটা আপসোস থেকে যায়,কেন থেকে যায় সেটা পড়লেই বুঝতে পারবেন।
যাইহোক এই বইটি সব মিলিয়ে একটা পারফেক্ট প্যাকেজ।
অনেক দ্রুত গতির একটা বই, বেশ কয়েকটা টুইস্ট সম্বলিত,বিশেষ করে শেষের ভিলেনের টুইস্টটি সত্যিই অপ্রত্যাশিত।
বইয়ের কাহিনিবিন্যাসের গতি বেশ ঝড়ঝড়ে,প্রতিটি পৃষ্ঠা ছিলো উত্তেজনাকর,পাঠকের একটুও ক্লান্ত লাগবে না। কেউ একবার এই বইটি পড়তে নিলে শেষ না করে উঠতে পারবেনা।
রেটিং: ৯/১০
রিভিউটি লিখেছেনঃ Abdullah Tahsin
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
নেকড়ে খামার - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Nekre Khamar by Himadrikishore Dasgupta
নেকড়ে খামার
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
ভারত-চীন সীমান্তবর্তী এক জনবিরল পার্বত্য এলাকায় ভাইমার সাহেব একটা পাহাড়ি নেকড়ের দেখাশোনা করার খামার করেছেন। আহত তুষারচিতাদের রক্ষণাবেক্ষণই তাঁর উদ্দেশ্য। প্রাথমিকভাবে গ্রামবাসী ও ভারতীয় আর্মি— উভয়ের সঙ্গেই তাঁর সুসম্পর্ক বজায় থাকলেও ধীরে ধীরে বৈরিতা তৈরি হয়। গ্রামবাসীরা বলেন নেকড়েগুলি আসলে ওয়্যারউলফ বা নেকড়েমানুষ। আর আর্মি সন্দিহান হয়ে ওঠে চীনা সেনাবাহিনীর সাথে ভাইমারের খামারের সম্পর্ক নিয়ে। কেন তিনি চীনা দলের কাছ থেকেই খাবার কেনেন? কোথায় গেল ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে নিহত পাঁচ চীনা সৈন্যের মৃতদেহ? কেন চারটি মুণ্ডহীন মৃতদেহ পাওয়া গেল বনভূমিতে যদিও নেকড়ে মানুষের মাথা খায় না? ঠাসবুননের রহস্যে ঘেরা এই বই। আর শেষ চমকটা অসাধারণ।
রেটিংঃ ব্যক্তিগতভাবে, আমি এই বইকে ১০ এ ৯.৫ দেবো। আমার পড়া সেরা হিমাদ্রিকিশোরের বই এইটি
রিভিউটি লিখেছেনঃ Arpita
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
ছোট্ট একটি কাঁটা - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Chotto Ekti Kata by Himadri Kishore Dasgupta
ছোট্ট একটি কাঁটা
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
প্রথম প্রকাশ শারদীয়া কিশোর ভারতী ১৪২৫
বিষয় — ইতিহাসভিত্তিক নভেলেট
অষ্টাদশ শতকের ভারতবর্ষ। বিভিন্ন ইউরোপীয় জাতি গোষ্ঠী বাণিজ্যের নামে লুন্ঠনের ক্ষেত্র এই সোনার দেশ এবং সোনার বাংলাও। এর কয়েক বছরের মধ্যে শুরু হবে ২০০ বছরের রাজনৈতিক পর্ব। প্রথমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পরিশেষে ইংল্যান্ডেশ্বরী শাসন করবেন । দীর্ঘ কালপর্বে একটা দেশের পরবর্তী রাজনৈতিক সামাজিক অর্থনৈতিক ইতিহাস আমূল বদলে যেতে শুরু করবে। কিন্তু প্রত্যেক সূচনারও একটি শুরু থাকে। ইংরেজ রাজত্বের সেই সূচনা হয়েছিল সম্রাট ফারুকশিয়ারের একটি ঐতিহাসিক ফরমানের জোরে। বাংলাদেশসহ ভারতবর্ষের মধ্যে বাণিজ্যের অধিকার দিয়েছিল সেই ফরমান এবং যার জোরে একটি বিশাল ভূখণ্ডের পরবর্তী ভাগ্যকে বদলে গিয়েছিল। এই কাহিনী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ফরমান পাওয়ার পূর্ববর্তী ঘটনা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চিকিৎসক কর্মচারী হ্যামিল্টন সাহেব যে ফরমান আদায় করেছিলেন এবং কিংবদন্তী এই যে, মরণাপন্ন সম্রাটের জীবন আধুনিক শল্য চিকিৎসা মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুরস্কার স্বরূপ তিনি অর্জন করেছেন এই মূল্যবান ফরমান। এ গল্পে আছে সেই ফরমান আদায়ের কাহিনী। ফরাসি ওলন্দাজ পর্তুগিজ প্রমুখ এর আগে আসা ইউরোপীয় বণিক গোষ্ঠীর সঙ্গে ইংরেজদের বাণিজ্যিক লড়াইতে প্রথম পর্যায়ে ইংরেজরা পিছিয়ে ছিল। কিন্তু সেখান থেকেই তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি শুরু হয়, ওই ফরমানের জোরে। বাকিটা ইতিহাস। সেই ইতিহাস রচনা হয়েছিল একটি ছোট্ট কাঁটার জোরে। মুঘল সম্রাটদের মধ্যে সিংহাসন নিয়ে যে ঐতিহাসিক বিবাদের পরিচিত ইতিহাস, ঔরঙ্গজেবের পর তা আরো কঠিন অনিশ্চিত আকার নেয়। আর সেই সময় সম্রাট ফারুকশিয়ারের সংকটজনক অবস্থা এবং সেই অসুস্থতাকে কিভাবে ভাগ্যের জোরে সারিয়ে তোলার দায়িত্ব পান ভ্যালেন্টাইন সাহেব এবং আন্তরিক ইচ্ছা শক্তি ও অনুকূল ভাগ্যের জোরে তিনি সাফল্য অর্জন করেন, লেখক সেই কাহিনী বিবৃত করেছেন। কিছুটা ইতিহাস, কিছুটা কিংবদন্তী এবং বাকিটা কল্পনার মিশ্রণ। আর প্রত্যেক গভীর প্রাপ্তির পেছনেই থাকে একটি কোনো না কোনোভাবে গভীর আত্মত্যাগের গল্প। এখানেও এই আত্মত্যাগ ঘটিয়েছেন স্বয়ং হ্যামিল্টন, বড় নিঃশব্দে; কোম্পানির জন্য, জাতির জন্য, দেশের জন্য।
সহজ বাচনিক ভঙ্গিতে লেখা এ কাহিনী। তাঁর অন্যান্য কাহিনীর মতোই ভারী আকর্ষণীয়। কিছুটা রহস্য কিছুটা ইতিহাস মিশে থাকা এই গল্প পাঠককে শেষ অব্দি টেনে রাখে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
রাক্ষুসে নেকড়ে - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Rakkhuse Nekre by Himadrikishore Dasgupta,
বইয়ের নাম - রাক্ষুসে নেকড়ে
বইয়ের লেখক - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
প্রকাশনীর নাম - পত্রভারতী
মূল্য - ২০০ টাকা
"রাক্ষুসে নেকড়ে" হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের লেখা দুটি উপন্যাসের সংকলন। উপন্যাস দুটি হল মাদাগাস্কারের রাক্ষুসে গাছ এবং নেকড়ে খামার। প্রচ্ছদ এঁকেছেন রঞ্জন দত্ত। বইটির মলাটে দুটি সাদা রঙের নেকড়েকে তাদের তীক্ষ্ণ দাঁত বের করে বরফের উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য দেখে গা ছমছম করতেই পারে। মাদাগাস্কারের রাক্ষুসে গাছ: ক্রিপ্টোজুলজিস্ট হেরম্যান ও সুদীপ্ত রওনা দেন মাদাগাস্কারের উদ্দেশ্যে। তাদের লক্ষ্য এমন একটি গাছের সন্ধান পাওয়া যেই গাছ মানুষখেকো। এই গবেষণায় তাদের সঙ্গী হন তরুনী ডক্টরেট আনা রবার্ট। এই মানুষখেকো গাছকে আবার সাক্ষাৎ দেবতা রূপে পূজা করে মকোডো উপজাতির মানুষ। নিজেদের প্রানের ঝুঁকি নিয়ে হেরম্যান ও সুদীপ্ত কীভাবে মাদাগাস্কারের রাক্ষুসে গাছের রহস্য উদঘাটন করবে?
নেকড়ে খামার: সিকিমের তুষারাবৃত অঞ্চলে তুষার নেকড়েদের পুনর্বাসন কেন্দ্র খুলেছেন জার্মান প্রাণীবিজ্ঞানী ভাইমার। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীরা এই নেকড়ে খামারটি তুলে দিতে চায় কারন তাদের ধারণা এই নেকড়েগুলো আসলে যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রেতাত্মা অর্থাৎ "ওয়ারউলফ"। সরকারের অনুরোধে মিঃ অনীশ যান এই সমস্যার সমাধান করতে। কি অভিজ্ঞতা হল তার নেকড়ে খামারে?
দুটো উপন্যাসই গা ছমছমে। লেখক প্রকৃতির সৌন্দর্য অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। আর দুটো উপন্যাসের শেষে টুইস্ট টা দারুন।
একবার পড়ে দেখুন " রাক্ষুসে নেকড়ে"
রিভিউটি লিখেছেনঃ Srijita
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
আঁধার রাতের বন্ধু - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Adhar Rater Bondhu by Himadri Kishore Dasgupta
বই - আঁধার রাতের বন্ধু
লেখক - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
বিষয় – ভৌতিক ছোটগল্পের সংকলন
প্রকাশক ও প্রথম প্রকাশ —শিশু সাহিত্য সংসদ , ২০১২
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত মানেই কৈশোরের মনোরম পাঠ। কখনো রোমাঞ্চকর অভিযান, কখনো ভূতের গল্প, কখনো বা কল্পবিজ্ঞানের গল্প। বিশেষ করে কিশোরদের জন্য লেখা হলেও পড়তে বসলে। বড়দেরও চমৎকার সময় কেটে যায়। আর নানা রকম কাজের ব্যস্ততার মধ্যে একটু মনোরম সময় কাটানোর জন্য, বেশ ভালো লাগার কিছু মুহূর্ত তৈরি করার জন্য হিমাদ্রিকিশোরের লেখা চমৎকার সঙ্গী হতে পারে।
আলোচ্য গল্পগ্রন্থটি সাতটি গল্পের সংকলন। প্রতিটিতে ভূত এসেছে নানাভাবে।
গল্পগ্রন্থের নাম শেষ গল্পটির নামে, আঁধার রাতের বন্ধু। এখানে ভূত একেবারে অপরিচিত লেখক। নিজের লেখা ভূতের গল্পটি সম্পাদক বন্ধুর কাছে যখন সে পাঠিয়েছে তখন অবশ্যই সে মানুষ ছিল। গল্পটি যথেষ্ট ভালো হওয়া সত্ত্বেও অপরিচিত কারোর লেখা বলে বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। গল্পের সম্পাদক বন্ধুর কাছে ওকালতি না হোক এক ধরনের শিক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যে মৃত মানুষটি এসেছেন যে নামী লেখকের গল্প সব সময় শ্রেষ্ঠ হয় না।
ধূর্জটিবাবুর প্ল্যানচেট গল্পে ভূত কিছুটা রহস্য গল্পের গোয়েন্দার মতো, যে নিজের দুর্ঘটনার জন্য দায়ী মানুষটিকে সরাসরি এসে চিহ্নিত করে গেছে। মৃত্যুযোগ গল্পটিতে ভন্ড জ্যোতিষাচার্যের কাছে তার এককালের উপেক্ষিত শিক্ষাগুরুর ফিরে আসা এবং সেই অনিবার্য সত্যটি জানিয়ে যাওয়া যে মানুষের জন্ম মৃত্যুর বিধান কোনো জ্যোতিষী বদলে দিতে পারে না। বিকেলের আলোয় গল্পটি ভারি মনোরম। দুই প্রৌঢ বন্ধু্র দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, মৃত্যুর পরে একই কবরস্থানে পাশাপাশি দুটি দেবদারু গাছের নিচে শুয়ে থাকা। দুই বন্ধু কি করে মৃত্যুর ওপারে এসে নিজেদের ইচ্ছে পূরণ করলে তাই নিয়েই একটি মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প।
সাত নম্বর খাদান এক দায়িত্ববোধসম্পন্ন ভূতের কথা বলে। কয়লাখনির ম্যানেজার যিনি খুনি দুর্ঘটনা কিছু শ্রমিকের মারা যাবার পরেও মৃত শ্রমিকদের প্রতি নিজের শেষ কর্তব্য করে যান। জগবন্ধুর হারমোনিয়াম গল্প এক দরিদ্র শিল্পী ও তার পরিবার জীবনের কাহিনী এবং অবশ্যই এক সৎ ভালোমানুষো গল্প। যে ভালোমানুষের কাছে সাহায্যর জন্য ভূতও সহজে আসতে পারে।
যে গল্পটি একটু শিহরণ জাগায় এবং অবশ্যই যথেষ্ট ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে সেটি শ্রাঙ্কেন হেড। মৃত মানুষের মাথা শুকিয়ে মুখোশ বানানো আদিবাসী বর্বরতার সঙ্গে এক হতভাগ্য মত পর্যটকের ভাগ্য জড়িয়ে যাওয়া এবং নিজের মৃত মাথাকে নিজেই ফিরে পেতে কুড়ি বছর ধরে অপেক্ষা করার গল্প। ছোটোদের জন্মদিন বা এই জাতীয় কোনো উৎসব উপলক্ষে এই বই উপহার দিয়ে দেখতে পারেন। আজকে বিশেষ করে বাংলা বই সম্পর্কে বিমুখ ছোটোদের নিজেদের ভাষা ও সাহিত্যমুখী করতে বইটি আগ্রহ জাগাবে নিশ্চয়ই।
রিভিউটি লিখেছেনঃ bubu
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
ময়নামতির নথ - হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্ত Moynamotir Noth by Himadrikishore Dasgupta
উপন্যাসের নাম- ময়নামতির নথ
লেখক- হিমাদ্রিকিশোর দাসগুপ্ত
কাহিনী সংক্ষেপ
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের উপন্যাস ময়নামতির নথ
ফরাস ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন ময়নাগড়ের বাহুবলেন্দ্র। নিজের গলা থেকে মুক্তমালাটা খুলে তিনি তা বাড়িয়ে দিলেন নর্তকির দিকে। মুক্তমালাটা গ্রহণ করে সেটা কপালে ঠেকিয়ে প্রণাম জানিয়ে বাহবলেন্দ্র কী আজ্ঞা করেন তা শোনার প্রত্যাশায় মাথা নিচু করে দাঁড়াল নর্তকি। না, বাহুবলেন্দ্র তাকে কোনো আজ্ঞা করলেন না। তিনি প্রথমে তার উদ্দেশে বললেন, 'তোমাকে কী নামে ডাকা যায় বলো তো? চম্পা তো বালেশ্বরের রাজার দেয়া নাম। আর দেবী রাজলক্ষ্মীর বিগ্রহ আছে ময়নাগড়ে। নিত্য পূজা পান তিনি। কাজেই এ দুই নামের কোনো নামেই ডাকা যাবে না তোমাকে।'
এ কথা বলার পর একটু ভেবে নিয়ে ময়নাগড়ের জমিদার রাধেশ্যামানন্দ বললেন, 'আমি তোমার নাম দিলাম ময়নামতি। তুমি যতদিন ময়নাগড়ে থাকবে ততদিন সবাই তোমাকে ময়নাবাই নামে ডাকবে।'
Review
এই লেখকের লেখা পড়তে কিন্তু আমার বেশ ভালো লাগে। ঝরঝরে লেখা একদম। এই উপন্যাসটিও বেশ ভালো লেগেছে।
ময়নাগড়ের বর্তমান ভূস্বামী রাধেশ্যামানন্দ বাহুবলেন্দ্র তার একমাত্র রানী আনন্দময়ীকে নিয়ে সুখে সংসার করছেন। ময়নাগড়ের চারিদিক ঘিরে আছে তিনটে সুগভীর কুমির দিয়ে সুরক্ষিত পরিখা। এই বাহুবলেন্দ্র বংশের একটি মূল নিয়ম হল যে, বাড়ির মেয়ে-বৌদের অন্দরমহল ব্যতীত মুক্ত বাতাস নেওয়ার অধিকার নেই। একটা ছোট্ট জাফরির জানলা দিয়েই বাইরের পরিবেশ দেখতে হয়। আর বিধবাদের অবস্থা আরও করুন। ইতিমধ্যে ময়নাগড়ে এসে উপস্থিত হয় বালেশ্বরের নামী সঙ্গীতশিল্পী রাজলক্ষ্মী বাই বা চম্পা বাই। ভূস্বামী তার গান শুনে তাকে নতুন নামে অর্থাৎ ময়নামতি বা ময়নাবাই নামে ভূষিত করেন এবং একটি যোগ্য উপহার দেওয়ার কথা বলে বসেন। এদিকে রানী আনন্দময়ীকেও একটি উপহার দেওয়ার কথা ছিল।
কে কি উপহার কিভাবে পেল তা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়।
রেটিং দেব ৯/১০। বানান ভুল সেভাবে খুঁজে পাইনি।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
দেবতার চাবি - হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত Debotar Chabi by Himadri Kishore Dasgupta
দেবতার চাবি
লেখকের নাম — হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
বিষয় — কল্পবিজ্ঞাননির্ভর ছোটগল্প
নুবিয়ান মরুভূমিতে এক ভূতাত্বিক মুথাইয়া শ্রীনিবাসনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক এই গল্প। মিশরীয় সভ্যতার উৎস লগ্নে এই অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল অনেকগুলি পিরামিড। আরো বহু প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে ছিল বনভূমি জল-জঙ্গল বহু প্রাণীর অবস্থান। তারপরে ভূতাত্বিক নিয়মে প্রকৃতির রূপ বদল ঘটেছে। হাজার হাজার বছরের এই পরিবর্তনের ফল আজ সেখানে রুক্ষ মরুপ্রান্তর আর কিছু কাঁটাঝোপ মাত্র। আর এরই মাঝখানে রয়েছে অনেকগুলি পিরামিড, যার জন্য এ অঞ্চলের স্থানীয় নাম মৃতের নগরী। এখানেই ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের চিহ্ন নিয়ে কাজ করতে নমুনা সংগ্রাহক শ্রীনিবাসনের আগমন। কিন্তু যে মৃত ভূমিতে আফ্রিকার কুসংস্কারাচ্ছন্ন স্থানীয় মানুষেরা সহজে আসতে চায় না সেখানে আগত মজুররা কয়েক দিন বাদে রাতারাতি কাজ ছেড়ে চলে যায়। এক রাতে উল্কাপাত এবং পর দিনে খননের সময় সামান্য দুর্ঘটনায় মজুররা ভয় পায়। স্থানীয় ওঝার কাছ থেকে অভিশাপ কাটানোর তাবিজ নিয়ে তারা ফিরে আসবে। ভূতাত্ত্বিককে অতএব একটি দিন মাইল মাইল বিস্তৃত মরুপ্রান্তরে একলা কাটাতে হয়। সেদিন তাঁর আলাপ হয় এমনই এক পিরামিডের কাছে ঘুরে বেড়ানো একলা দীর্ঘদেহী আলখাল্লা পরিহিত মানুষের সঙ্গে, যার নাম টি রেক্স। আলাপচারিতা জমে উঠতে শ্রীনিবাসন আবিষ্কার করেন মানুষটির মহাকাশ সম্পর্কে এমনকি পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতাগুলির সম্পর্কে বিপুল প্রাজ্ঞতা, বিশেষত সেই সভ্যতাগুলি যাদের প্রাচীন কালেই বিপুল উন্নতি আজও মানুষের কাছে বিস্ময়ের কারণ। সেখানেই একটি পিরামিড, যা দেবতার কবর নামে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত, যার ত্রিকোণ চূড়াটি আশ্চর্য স্বচ্ছ, তার রহস্য প্রকাশ পায়। সে মানুষটি খুঁজতে এসেছে একটি বিশেষ বস্তু। ঘটনাচক্রে সেটি পাওয়া যায় শ্রীনিবাসনের কাছে । সংগৃহীত প্রস্তরের মধ্যে অজানা এক পাথরে তৈরি খাঁজকাটা চাবিটি পাওয়ার সূত্রে আগন্তুকের সঙ্গী হয় শ্রীনিবাসন। এরপর সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়। অজানা পিরামিডের স্বচ্ছ চূড়ায় ৫ হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত গোপন বাক্সের সামনে তারা হাজির হয়। যে হিমায়িত বাক্স খোলা যায় ওই দেবতার চাবি দিয়ে। বাক্সের ডালা উন্মোচনের পর সমাধান হয় সেই আশ্চর্য সত্যের যে সত্যের মধ্যে নিহিত রয়েছে মিশরের পিরামিড, ইনকা সভ্যতার প্রযুক্তি, মেক্সিকোর মন্দির স্থাপত্য, মায়া সভ্যতার ক্যালেন্ডার, ভারতবর্ষের মরচে মুক্ত লৌহস্তম্ভের।
মানব সভ্যতার বিবর্তনের পথে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে প্রাচীন এবং উন্নত সভ্যতাগুলির অনেক সৃষ্টির আধুনিকতা আজও পৃথিবীর মানুষের কাছে রহস্যময়। আর সেই রহস্য নিয়ে গড়ে ওঠা কল্পবিজ্ঞান, যেখানে সোনালী ডানার পরীর মতো রূপকথাতুল্য কিছু মানুষ বা মনুষ্য আকৃতির চরিত্র, যারা এক প্রাচীন সভ্যতাকে যথার্থ রূপকথার পর্বে মাঝে মাঝে পৌঁছে দিতে চেয়েছে। সেই দেবতুল্য চরিত্রদের কি সাক্ষাৎ মিললো, শ্রীনিবাসনের সেই অভিজ্ঞতা, মানুষের অনেক প্রাচীন কীর্তিজাত বিস্ময় আর লেখকের কল্পনা এখানে মিলেমিশে একাকার।
এই গল্পের অন্তরালে যে বিশ্বাস অর্থাৎ পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতাগুলির মধ্যে বহির্জগতের অজানা সভ্য চরিত্রদের হস্তক্ষেপ আছে, সে বিশ্বাসেরই পুনরুচ্চারণ এখানে রয়েছে। গল্প বিষয় তাই অভিনব নয়। কিন্তু পাঠ্য হিসেবে চমৎকার। কারণ দুনিয়ার রহস্য নিয়ে রূপকথা গড়তে পাঠক পছন্দ করে। বাইরের পৃথিবীতে তাদের মতো সভ্য জগতের অস্তিত্ব নিয়ে পাঠকের সেই বিশ্বাসেরই প্রতিধ্বনি এখানে মেলে।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Nirmalya
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
শাহজাদির আশিক - হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত Shahjadir Ashik by Himadri Kishore Dasgupta
বই - শাহজাদির আশিক
লেখক - হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত
প্রকাশনা - দে'জ পাবলিশিং
মুল্য - ২৫০ টাকা
তিনটি ভিন্ন ঐতিহাসিক সময়ের নিরিখে রচিত তিনটি পৃথক উপন্যাস গ্রন্থিত হয়েছে এই বইটিতে।
১. পরমান্ন - চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য, তাঁর গুরু বিষ্ণুশর্মা বা কৌটিল্য চানক্য এবং মৌর্য পুত্র বিন্দুসার কে ঘিরে রচিত এই উপন্যাস। চন্দ্রগুপ্তের দ্বিতীয়া স্ত্রী দূর্ধরার পুত্র বিন্দুসারের নামকরণের কল্পনামিশ্রিত ঐতিহাসিক কাহিনী এটি।
২. রক্ত আরতি - দক্ষিণ ভারতের বিজয়নগরে রাজা বিরূপাক্ষ দেবের আমলে সেনাপতি মামুদ গাউসের নেতৃত্বে বাহমনি আক্রমণ, সেই আক্রমণের প্রতিরোধ ও রাজা নরসিংহ দেবের উত্থান কাহিনী সমৃদ্ধ এটি এই বইয়ের দ্বিতীয় উপন্যাস।
৩. শাহজাদির আশিক - মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের জেষ্ঠ্যা কন্যা জেব-উন-নিশা ও তার প্রেমিক লাহোরের শাসনকর্তা আকিল খান রেজা র প্রেম কাহিনী অনুসারে রচিত এই উপন্যাসটির নামেই বইটির নাম।
ব্যক্তিগত মতামত - অন্যতম পছন্দের সাহিত্যিকের ইতিহাস আশ্রয়ী উপন্যাস গুলি পড়তে ভালই লাগে। কিন্তু ইদানিং দেখছি সাহিত্যিকের কলমের নিব যেন একটু ভোঁতা হয়েছে। ব্যাপারটা কেমন জানেন? বিরিয়ানি খেতে গিয়ে যদি পোলাও খেয়ে সন্তুষ্ট হতে হয়, অনেকটা সেইরকম । এছাড়াও আমার মতো মূর্খ পাঠকের চোখেও অন্ততপক্ষে তিনটি ঐতিহাসিক তথ্য সম্পর্কিত ভূল চোখে পড়েছে যা হিমাদ্রি বাবুর মতো প্রথিতযশা সাহিত্যিকের থেকে আশা করা যায় না । কোথাও মনে হয়েছে গল্পটি জোর করে শেষ করে দেওয়া হল, কোথাও বা জোর করে বাড়ানো হয়েছে গল্পটিকে । আশা করবো মাননীয় সাহিত্যিক আবার স্বমহিমায় ফিরবেন এবং আরো অনেক সুন্দর সুন্দর উপন্যাস আমাদের উপহার দেবেন। ১০ এর মধ্যে বইটিকে ৬ দিলাম আমি।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Subscribe to:
Posts (Atom)








