Showing posts with label Various. Show all posts
Showing posts with label Various. Show all posts
Posted By:
boibd
অসচরাচর - মাশুদুল হক Osochorachor - Mashudul Haque
অসচরাচর - মাশুদুল হক Osochorachor : Mashudul Haque
বই- অসচরাচর
লেখক- মাশুদুল হক
জনরা- থ্রিলার, অতিপ্রাকৃত
প্রচ্ছদ- আদিব রেজা রঙ্গন
প্রকাশনী- চিরকুট
প্রথম প্রকাশ- ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
পৃষ্ঠা সংখ্যা- ১১২
মুদ্রিত মূল্য- ২৪০ /-
রেটিং - ৪/৫
"অসচরাচর নাজুক মানসিক অবস্থার একজন তরুণ ডাক্তারের গল্প, রোগী দেখতে গিয়ে যিনি কিছু বিচিত্র বিপজ্জনক আর অতিপ্রাকৃত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান, যেসবের হয়তো কোন ব্যাখ্যা নেই বা সেসব ব্যাখ্যার জন্য আমরা প্রস্তুত নই।"
অসচরাচর ৫ টি আধিভৌতিক বা ব্যাখ্যাতীত মেডিক্যাল কেসের সমন্বয়ে তৈরি একটি গল্পগ্রন্থ। প্রতিটি গল্প একজন ডাক্তারের 'অসচরাচর' কিছু কেস স্টাডি নিয়ে। মাশুদুল হকের লেখনী প্রশংসার দাবিদার। প্রতিটি গল্পই ভয়ঙ্কর ভয়ানক না হলেও অস্বস্তিকর অনুভূতির উদ্রেক ঘটাতে সক্ষম।
ব্যক্তিগত ভাবে শেষ গল্প "আন্না" ব্যতীত প্রতিটি গল্পই বেশ চমকপ্রদ লেগেছে আমার কাছে। ৫ টি গল্পের ভিতর আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'হোস্ট' এবং 'ইয়ানোমামিয়ান'। তবে ইয়ানোমামিয়ান এর শেষ মোচড় সবাই হজম করতে নাও পারে। লেখকের কাছে আশা থাকবে আরো কিছু অসচরাচর গল্পের। এককথায় বইটি আমার কাছে ভয়ঙ্কর সুন্দর লেগেছে। মেডিক্যাল হরর বা গল্পগ্রন্থের পাঠকদের জন্য অবশ্য পাঠ্য।
প্রচ্ছদের জন্য আদিব রেজা রঙ্গন সত্যিই আলাদা ভাবে প্রশংসার দাবি রাখেন।
রিভিউটি লিখেছেনঃ শাদমান সৌমিক।
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
হাজার টাকার বউ - অদিতি সরকার Hajar Takar Bou by Aditi Sarkar
উপন্যাসের নাম- হাজার টাকার বউ
লেখিকা- অদিতি সরকার
রেটিং-৮/১০
এক বঙ্গালন মোলকি দুলহন লীলার জীবন নিয়ে উপন্যাসটি লেখা হয়েছে। মোলকি দুলহন কথাটির মানে হল মোল অর্থাৎ মূল্য দিয়ে কিনে আনা বৌ। এদেরকে 'পারো' বলেও ডাকে।ভারতবর্ষের পশ্চিম প্রদেশগুলোতে এই ঘৃণ্য প্রথাটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে হলেও এখনো চালু আছে। বাড়িতে প্রচুর পণ সাথে করে আনা বউ থাকা সত্ত্বেও অথবা বিয়ের জন্য সামর্থ না থাকলেও অথবা বাচ্চা পয়দা করার জন্যে আর সাথে অসীম জৈবিক চাহিদা আর ঘরের সব কাজ আর হাতের সুখ মেটানোর জন্য এদেরকে দশ-বিশ হাজার দিয়ে কিনে আনা হয়। বাংলা, ওড়িশা, বিহার বা উত্তরের রাজ্যগুলো থেকে কেনা হয় এদের।
মিথ্যে প্রেমের টোপে পড়ে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার হেঁতালবেড়িয়া গ্রাম থেকে সুদূর হরিয়ানা হয়ে রাজস্থানে বারবার বিক্রি হতে থাকে এই গল্পটির মূল চরিত্র লীলা। সারাদিন ঘরের কাজ সাথে তপ্ত বালি পেরিয়ে মাথায় কলসি করে জল আনা আর রাত্রে তার আদমির আর মাঝেমাঝে ইয়ারদোস্তদের ভুখ মেটানো, এই হল হতভাগী লীলার জীবন। গল্পে আরো অনেক অভাগী মোলকিদের কাহিনী জানতে পারা যায়। কেউ তার সামান্য খাওয়াপরার দাবীর জন্য মালিকের ছেলেদের হাতে পুড়ে মরে। আরও একটা ঘৃণ্য প্রথা 'কড়েয়া'-র কথা জানতে পারা যায়।
গল্পের মাঝে হঠাৎ লীলার মালিক সুখবীর দূর্ঘটনায় মারা যায়। তারপর কি হবে? লীলা কি আবার নরকে বিক্রি হয়ে যাবে নাকি তার জীবনে আলাদা কিছু মিরাকেল ঘটবে সেটা জানতে হলে এই গল্পটি পুরো পড়তে হবে।
গল্পটি পড়তে পড়তে শিউরে উঠেছি অনেকবার। এত নৃশংসতা! জঙ্গলের পশুরাও বুঝি এইসব মানুষদের থেকে অনেক ভালো!
এবার বলি আমার কিন্তু গল্পটি বেশ ভালো লেগেছে। কিন্তু একটাই অভিযোগ, "শেষ হয়েও হল না" এরকম গল্প পড়লে খুব কষ্ট পাই। আরও জানতে ইচ্ছে করে যে এরপর কী হল! যদিও সেটা সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছে। এখানে লেখিকার কোনো দোষ নেই। মাঝে মাঝে রাজস্থানী ভাষার ব্যবহার বেশ উপভোগ্য। তাই আমি এই গল্পটি পড়ার অনুরোধ জানাই সবাইকে। পড়ে দেখুন ভালো লাগবে। বানান ভুল চোখে পড়েনি।
সমাপ্ত।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
ত্রিভুজ - সাথী দাস Trivuj by Sathi Das
ত্রিভুজ
সাথী দাস
আমার সারা জীবনের পড়া বাংলা ভাষায় শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। হ্যাঁ,সমস্ত ক্লাসিকস, সমসাময়িক সব উপন্যাস কে মিলিয়ে ই কথা টা বললাম। ৭৫৪ পাতা, বহু দিন ধরে একটু একটু করে পড়েছি, আজ তার চির পরিসমাপ্তি। আমার পাঠক সত্বা পরিপূর্ণ।
ত্রিভুজ এর অন্তর্দহনে প্রতি দিন জ্বলেছি, আটকে রাখতে পারিনি আমি নিজেকে। দিন এর পর দিন একটি বিশেষ চরিত্র পুড়িয়ে দিয়েছে হৃদয় রোজ বার বার শত বার সহস্র বার। জীবনের নানা প্রান্তে অসংখ্য ত্রিভুজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, পড়তে পড়তে আমি ও উপন্যাস এর ত্রিভুজ এর অব্যক্ত অংশ হয়ে গেলাম। উপন্যাস তো শেষ হয়ে গেছে আমার টা ওরা কেউ জানতে পারবে না। আমার শরীর অবশ হয়ে গেছে। জানিনা আবার কবে এই কঠোর সত্য ভুলে স্বাভাবিক হবো, লেখিকার ৭৫৪ পাতায় আমি সাত লক্ষ বার নিজেকে সমর্পণ করে ফেলেছি এক চরিত্রে র কাছে।
আমার কাছে আমার পড়া সকল চরিত্রে র মধ্যে শ্রেষ্ঠ চরিত্র হয়ে আজীবন আমার মধ্যে রয়ে যাবে ঋক ওরফে প্রান্তিক কুমার চৌধুরী, জানি না সত্যি কোথাও সে আছে নাকি, আজ থেকে রাতের আকাশে আমি তার জন্য নিশ্চয় চোখ ভিজিয়ে ফেলব বারবার, আর চাই প্রতি মুহূর্তে সে একবার পাশে থাকুক সারা জীবন। প্রচ্ছদ এর পাতার লাল রং, মূল তিন চরিত্র,একটা বাইক সারা জীবন অন্তর এ থাকবে। আর থাকবে জীবনের শেষ দিন অব দি সবচেয়ে বেশি পুড়তে থাকা অবিনশ্বর চরিত্র জীবন্ত দেবতা সম ঋক। আমি ঋক কে প্রণাম জানালাম।
গলায় উঠে আসা ক্রমাগত দলাপাকানো কান্না গেলা সম্ভব হচ্ছে না কোনোভাবেই। নিজে চোখের সামনে সৃষ্টি, ধ্বংস লীলা দেখতে দেখতে আর একটি বার ঋক কে ছুয়ে দেখতে না পেয়ে আমার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত।
এখানেই শেষ করলাম ত্রিভুজ এর এক শীর্ষ বিন্দু তে থাকা ঋক, এক বিন্দু তে শারদীয়া আর এক বিন্দু তে জ্বলতে থাকা আমি ।
রিভিউটি লিখেছেনঃ Riya
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
ত্রিভুজ
সাথী দাস
যতদূর অন্যদের কাছে শুনেছি সাথী দাস এর প্রতিটা প্রেমের গল্প ই অসাধারণ তাই ত্রিভুজ টা পড়েই ফেললাম সত্যি বলতে কি এতটা আশা নিয়ে শুরু করিনি তবে পড়তে শুরু করার পর আর থামতেই পারিনি রিদ্ধি রিক আর শারদীয়া মূল গল্প চরিত্র এদের ত্রিকোণ প্রেমের গল্প নিয়েই মূল উপন্যাস। রিক আর রিদ্ধি দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রচন্ড ভালোবাসা। আর শারদীয়া সংক্ষেপে দিয়া রিদ্ধির ক্লাসমেট
ছোটবেলায় রিদ্ধি আর দিয়ার ঝগড়ার কারণে রিক দিয়া আর রিদ্ধি তিনজনের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আর সেই জন্য দিয়ার মা নীলিমা আর রিক আর রিদ্ধির মা রমার ও বন্ধুত্ব হয়। দিয়া আর রিদ্ধি দুজনেই বিচ্ছু হওয়ায় বেশকিছুবার রিককে তাদের মাঝখানে পড়ে ঝগড়া থামাতে হয় আর বড় হওয়ার সাথে এবং সব বুঝতে শেখার সাথে সাথে রিক দিয়ার প্রেমে পড়ে যায় যেহেতু ছোটবেলায় রমা অর্থাৎ রিক আর রিদ্ধির মা দিয়াকে নিজের বড় ছেলে রিকের জন্য বউ করে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে নীলিমা র কাছে প্রকাশ করেন। তাই রিক নিজের কল্পনায় দিয়াকে প্রেমিকা এবং কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গিনী হিসেবে মেনে নেয়। আর রিক বরাবর ই পড়াশোনায় ভালো থাকার জন্য নীলিমা ও রীককে নিজের দিয়ার জন্য পারফেক্ট হিসেবে খুঁজে পায়
কিন্তু বড় হওয়ার পর সব ওলটপালট হয়ে যায় রিক দিয়া আর রিদ্ধির থেকে বড় হওয়ায় তার দিয়ার সাথে কথা বা সাক্ষাৎ খুব কম হতো কিন্তু রিকের প্রেমে একটুকুও ছেদ পড়েনি এর জন্য। সময় পেলেই সে তার হার্ড ডিস্কে ভরা শারদীয়ার ছোট বেলা থেকে সব ফটো বের করে দেখতে দেখতে সময় কাটিয়ে দেয় তাদের বাড়িতে শারদীয়া এলে একটিবার তার দেখা পাওয়ার জন্য আর তার গলা শোনার জন্য মরিয়া হয়ে যায়
অন্যদিকে রিদ্ধি ও দিয়ার প্রেমে পড়ে যায় ধীরে ধীরে এটা অবশ্য অস্বাভাবিক কিছু না তারা একই ক্লাস এর পড়ুয়া এবং দিয়া রিদ্ধি র বেস্ট ফ্রেন্ড।
আবার দিয়া তাদের স্কুল এ আসা নতুন একটি ছেলে ময়ূখ এর দিকে আকৃষ্ট হয় অন্যদিকে ময়ূখ ও দিয়াকে ভালবেসে ফেলে ময়ূখ এর খারাপ চরিত্র র ব্যাপার এ জেনে আর ফ্যামিলি ফানশন এ ময়ূখ এর স্পর্শ অস্বাভাবিক লাগায় দিয়া ময়ূখ এর থেকে দূরে সরে যায় আর ধীরে ধীরে রিদ্ধি কে ভালবেসে ফেলে।
দিয়া রিদ্ধি র জন্য কয়েক বছর অপেক্ষা করে যে কবে রিদ্ধি নিজের মুখে ভালোবাসার কথা বলবে অন্যদিকে রিদ্ধি তার ভালোবাসার কথা বোঝার জন্য কয়েক বছর সময় নেয় আর এই সুযোগ নিয়ে ময়ূখ বাববার দিয়াকে নিজের ভালোবাসার কথা বলে তাকে নিজের বানানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় অন্যদিকে রিক তো তার কাঙ্খিত জীবনসঙ্গিনী দিয়ার সাথে কল্পনায় নিজের সংসার সাজিয়ে বসে আছে।
কি হবে এদের ভবিষ্যৎ?!
জানতে হলে পড়ে ফেলুন সাথী দাশের ত্রিভুজ
Sorry ami review khub i baje likhi 😑😑
Apnara boita pore dekhun osadharon just !!
Posted By:
boibd
আদিপর্ব - কৌস্তভ ভট্টাচার্য Adi Porbo-Koustav Bhattacharya
📖আদিপর্ব
✍️কৌস্তভ ভট্টাচার্য
📚 দ্য কাফে টেবল
💲২৫০/-
◻️২৪০৩ খ্রিস্টাব্দ। শেষ বিশ্বযুদ্ধের পর তিনশো বছর কেটে গেছে। কিন্তু এক সময়ের সুন্দর নীলগ্রহটা বরাবরের মতো ক্ষতিগ্রস্ত। পৃথিবীর বেশিরভাগটাই এখন মানুষের অগম্য---- শেষ বিশ্বযুদ্ধে যথেচ্ছ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে অতিরিক্ত তেজস্ক্রিয়তার হলাহলে অভিশপ্ত। এককালের দর্পিত মানবসভ্যতা এখন ম্রিয়মাণ। পৃথিবীর ক্রমহ্রাসমান শক্তিভাণ্ডার, ধর্মীয় বিভেদ আর পারস্পরিক অবিশ্বাস মানুষকে বেঁধে ফেলেছে ছোট ছোট গোষ্ঠীতে।
ডিস্টোপিয়ার পাঠকের কাছে এই ভবিষ্যতের ছবি নতুন কিছু নয়। সেই কবে অল্ডাস হাক্সলি থেকে জর্জ অরওয়েল, রে ব্র্যাডবেরি থেকে প্রেমেন্দ্র মিত্র---- ডিস্টোপিয়ার দিকনির্দেশ এঁকেছিলেন এই ভাবে। তারপর থেকে অজস্রবার আমরা পৌঁছেছি post apocalyptic বা মহাপ্রলয় পরবর্তী চিরঅন্ধকারের এই ভাবীকালে যেখানে বিজ্ঞান মানুষকে গ্রহান্তরে পৌঁছে দেয়নি কিংবা বিকল্প শক্তির উৎসও এনে দেয়নি, বরং নিজের চিরকালীন স্বভাববশত যুযুধান এবং হিংস্র মানুষ বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে চলেছে ক্রমাগত।
কিন্তু কেমন হয় যদি এই ডিস্টোপিয়ার কেন্দ্রে থাকে একটা অতি চেনা শহর, যার গল্প ভারতবর্ষের প্রজন্মের পর প্রজন্ম শুনে আসছে কত সহস্রাব্দ ধরে! ভারতের প্রায় প্রত্যেক শিশুর কানে সেই শহরটার গল্প পৌঁছে যায় কোনো না কোনোভাবে!
শহরটার নাম? হস্তিনাপুর।
'আদিপর্ব'--- মহাভারতের প্রথম পর্বের এই রকমই এক ডিস্টোপিয়ান পাঠ। শান্তনু থেকে সত্যবতী, পরাশর থেকে ভীষ্ম সব অতি চেনা চরিত্ররাই সেখানে উপস্থিত, ভবিষ্যৎ পৃথিবীর এক অচেনা রূপকল্পে।
মহাকাব্য আর কল্পবিজ্ঞান---- সাহিত্যের দুই সমান্তরাল ধারা এখানে হাত ধরেছে একে অন্যের।
◻️ গতবছর কলেজ স্ট্রিট যেয়ে বইটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বিষয়টা বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছিল বলে কিনে এনেছিলাম। তারপর আজ পড়বো কাল পড়বো করে এই বইটা Delay-হয়েই চলেছিল, শেষমেশ গত মাসে বইটা শুরু করি এবং 4 পাতা, জাস্ট 4 পাতা পড়েই মনে হয় কেনো বোকার মতো এতোদিন Delay করছিলাম।
◻️দুটো বিষয়কে একসঙ্গে মাখানো হয়েছে এই বইতে - ডিসটোপিয়া আর মহাভারত। ভবিষ্যতের পারমাণবিক যুদ্ধ এবং একটা বিপর্যস্ত পৃথিবী। এ গল্প ঠিক চেনা মহাভারতের গল্প নয়, বরং যুদ্ধক্লান্ত ভারতের গল্প। সেই ভারতে হস্তিনাপুর আছে, পাঞ্চাল আছে, কাশী-গান্ধার-মদ্রও আছে, প্রতীপ,শান্তনু, জাহ্নবী, সত্যবতী, দাশরাজ, পরাশর, জমদগ্নি, দেবব্রত ও বেদব্যাসও রয়েছেন।
◻️ একটা দারুণ ডিসটোপিয়ান লেখা বোধ হয় সেটাই, যেটা মনের মধ্যে ধাক্কা দেয়, ভাবতে বাধ্য করে। যেভাবে সায়েন্স ফিকশনের উপাদানগুলোর মহাভারতের আখ্যানের সাথে, অতীতের সম্পর্কগুলোর ভবিষ্যতের মোড়কের সাথে মিশেল ঘটিয়েছেন লেখক সেগুলো পড়ে তার কল্পনাশক্তির তারিফ করতেই হয়। মহাভারতে অনেকের জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে যে ধোঁয়াশা তার একটা বৈজ্ঞানিক রূপ, Human, Humanoid ও Clone-এর যে সমাজগত পার্থক্য তা লেখক সাবলীল ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন।
◻️আসল মহাভারতে যেমন রাজনীতির ভূমিকা প্রায় পুরোটাই, এখানেও কল্পবিজ্ঞান ছাড়া একটি রাজনৈতিক সাবটেক্সটও রেখেছেন লেখক যা এক কথায় দুর্দান্ত। বিধর্মীদের একঘরে করে দেওয়া, সমাজে স্মীকৃতি না দেওয়া,গণবিচ্ছিন্ন গণতন্ত্র,বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিক্ষোভ, ছাত্র-শিক্ষক একত্রে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু বরণের ঘটনা......এই গল্প বিশ্বযুদ্ধের তেজস্ক্রিয়তায় শুকিয়ে যাওয়া এক বিশ্বের। এই গল্প ভবিষ্যত মহাভারতের।
◻️ এবার আসি যে কয়েকটা বিষয় আমার দুর্বল লেগেছে -
১. জাহ্নবীর পরিণতি। আদি মহাভারতের জাহ্নবী তথা গঙ্গা এমনিতেই আমার খুব পছন্দের চরিত্র এবং এখানে লেখক জাহ্নবীকে যেভাবে রচনা করেছেন নিঃসন্দেহে 'আদিপর্ব'-তে সে আমার সর্বাপেক্ষা প্রিয় চরিত্র বলাই যায়। কিন্তু মনে হলো তার ওরকম পরিণতি যেন চরিত্রটিকে দুর্বল করে দিলো।
২. পরাশর, পরশুরাম, দেবব্রত ও বেদব্যাসের চরিত্রগঠন দুর্বল মনে হয়েছে, আরো Strong Storyline থাকতেই পারতো। যদিও শেষ তিনজনের আরো চারিত্রিক উন্নতি পরবর্তী পর্বে দেখতে পাওয়ার আশা করাই যায়।
◻️বইটা নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই যেটা বলব, সেটা হল লেখার সাবলীলতা। রাজনৈতিক সাবটেক্সট হোক বা আদি মহাভারতের রেফারেন্স, কল্পবিজ্ঞানের উপাদান হোক বা চরিত্রদের মধ্যের সম্পর্ক....প্রতি পদে চমক উপস্থিত। পাঠ প্রতিক্রিয়া শেষ করি লেখকের প্রতি একটি প্রশ্ন দিয়েই - "বলছি পরবর্তী পর্ব কবে আসছে?? বেশী অপেক্ষা করালে কিন্তু ভালো হবেনা।"
রিভিউটি লিখেছেনঃ Monolina Sengupta
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
কেবিন নাম্বার ৩০৫ - রিয়াজুল আলম শাওন Cabin No 305 by Reazul Alam Shawon
কেবিন নাম্বার ৩০৫
লেখক:রিয়াজুল আলম শাওন
ঘরানা:হরর
প্রকাশনী: সেবা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২০
প্রথম প্রকাশ: জানুয়ারি ১, ২০১৫
১)শিগব
তিশা রাতে একা ঘুমালেই "ও" আসে। ওই ব্যাপার নিয়ে বন্ধু আনোয়ারের দ্বারস্থ হলো তিশার প্রেমিক স্বপন। সব শুনে চমকে উঠলো আনোয়ার। তবে অতীতে একবার যে ভয়াবহ বিপদ মোকাবেলা করেছিলো, এবার কি সেই বিপদেই পড়তে যাচ্ছে তিশা আর স্বপন?
২)সন্দেহ
ফুটপাথ থেকে হুট করেই একটা সাদা রঙের শার্ট কিনলো সজল। এটা পরার পর থেকেই সবার মনের কথা বুঝতে পারছে সে। সত্যিই কি পারছে?
৩)লাল বৃত্তে বন্দী
নতুন বাসায় উঠেছে নাদিয়ারা। দোতলার বামদিকের একদম শেষ তালাবন্ধ ঘরটার ভেতর থেকে গোঙানির আওয়াজ আসে কেন?কেয়ারটেকারের কথা না শুনেই একদিন চুপিচুপি দেখতে গেলো নাদিয়া। এরপর....
৪)দূষিত রক্ত
খুলনা থেকে চট্টগ্রাম যাবার বাসে উঠেছে রূপন্তী। সহযাত্রী মায়াকাড়া চোখের অধিকারী এক লোক। কিন্তু....তিন ঘন্টায় লোকটি একবারও তাকালো না রূপন্তীর দিকে। ভেতর ভেতর জ্বলছে রূপন্তী। কিন্তু লোকটির হাতে হাতমোজা কেন?
৫)ওরা ভয়ঙ্কর
আনোয়ারকে চেপে ধরেছে সাংবাদিক রাজু। একটা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করতেই হবে তার। অবশেষে না পেরে কুয়াকাটার অভিজ্ঞতার কথাই বললেন আনোয়ার। কুয়াকাটায় দেখা হয়েছিল যাদের সাথে।ওরা ভয়ঙ্কর।
৬)অন্য জগতের কেউ
মাঝে মাঝে মুখ ঢাকা এক বুড়ি গ্রামের যে কোনো ঘরে পানি চায়। কিন্তু মানুষ পানি নিয়ে বের হয়ে দেখে বুড়ি নাই, কিন্তু বুড়ি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো, সেখানে ছোপ ছোপ রক্ত। তখনই আতঙ্ক ছড়ায় পুরো গ্রামে। কারণ, আবার চলে এসেছে মানুষ নিখোঁজ হবার পালা।
৭)কেবিন নাম্বার ৩০৫
৩০৫ নাম্বার কেবিনে থাকা মানে মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখা। কিন্তু ঘটনাচক্রে ডা. সুমনের বাগদত্তা স্ত্রী রোদেলাকে রাখা হলো ৩০৫ নাম্বার কেবিনে। এরপর দেখা গেল রোদেলার অক্সিজেন মাস্কটা খোলা । পুরো শরীরে অসংখ্য আঁচড়ের চিহ্ন। গলার কাছ থেকে রক্ত ঝরছে । মনে হচ্ছে কোনও জন্তু যেন কামড় বসিয়েছে সেখানে। শরীরটা কেমন যেন কালচে হয়ে গেছে ওর...। সব জানতে পারল রহস্যপিপাসু আনোয়ার। সেধে বিপদ ডেকে আনল সে। থাকতে চাইল ৩০৫ নাম্বার কেবিনে। সম্ভবত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করল আনোয়ার।
.... .... .... ....
কেবিন নাম্বার ৩০৫ সংকলনের রক্ত হিম করা গল্পগুলো পড়লে সীমাহীন ভয়, তীব্র রোমাঞ্চ আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলবে। সর্বোপরি মৌলিক এবং ভিন্ন স্বাদের এই গল্পগুলো আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে। সাবধান! একবার এই ভয়ের জগতে প্রবেশ করলে আর বেরোতে পারবেন না।
গল্পগুলো মোটামুটি ভয়ঙ্কর। আশি-নব্বইয়ের দশকে মার্কিন সিনেমা আর সাহিত্যে যে বীভৎসরসাশ্রয়ী হররের বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তারই অনুসারী এই লেখাগুলো। লোমহর্ষক করার পর্যাপ্ত চেষ্টা ছিল, কিন্তু আসলে বর্তমান সময়ে খুব বেশি ভয়ানক না হলে ভয়ে শরীর কেঁপে ওঠে না।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
২৪ নম্বর শ্যামানন্দ রোড - সবুজ মুখোপাধ্যায় 24 Number Shamananda Road by Sabuj Mukhopadhay
বই: ২৪ নম্বর শ্যামানন্দ রোড
লেখক: সবুজ মুখোপাধ্যায়
প্রকাশক: খোয়াবনামা
মূল্য: ₹২০০
বইটি শেষ করতে বড়জোর ঘন্টা দুয়েক লেগেছিল। কিন্তু এই দুই ঘন্টা এবং পরবর্তী বেশ কিছু সময় ধরে আশ্চর্য এক অনুভূতির স্রোত বয়ে গেল। সহস্র কোটি স্মৃতির এক বিষণ্ন স্রোত যেন। পরিবর্তনই প্রকৃতির নিয়ম বটে! তবে যারা গত শতকের শেষের দিকটায় নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত যৌথ বাঙালী পরিবারে জীবনযাপন করছে, তাদের মধ্যে বোধহয় পুরাতনকে রোমন্থন করার এক অভ্যাস থেকে যায়। এই বই হল সেই রোমন্থন। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের সাথে একাত্মতা বোধ হতে থাকে, যেন এটা তো আমারই ছোটবেলা, আমারই বাড়ির কথা। ঘটনাগুলি যেন প্রত্যেক পরিবারেরই - কেবল ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের সমাহার।
কমবেশী ১৫০ পাতার ঝকঝকে বইটি পাঠশেষে সেই চেনা বিষণ্নতা, সেই চেনা খুশি, সেই চেনা দুঃখ আর সেই চেনা আনন্দের যেন এক পাঁচমেশালী রেশ। দুটি বিষয় বিশেষ উল্লেখযোগ্য। বইয়ের শেষের দিকে পরিশিষ্ট এবং উৎসর্গ অংশখানি। শুধু ওইটুকুর জন্যই বইটি সংগ্রহে রাখা যায়।
রেটিং দেব না। বড্ড মনের মত হয়েছে লেখাগুলি।
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
রহস্যময় শিব - সুব্রত সান্যাল Rahassamoy Shib by Subrata Sanyal
বই: রহস্যময় শিব
লেখক: সুব্রত সান্যাল
প্রকাশক: নিউ ভারত সাহিত্য কুটির
পৃষ্ঠা: ১৭৪
কলেজ স্ট্রীটের লাইব্রেরিত আমার পছন্দের জনরা শুনে বুকশপের মালিক এই বইটি বের করে দিয়েছিলো। ২০ সেকেন্ডে চোখ বুলিয়েই বুঝেছিলাম এই বইটা গতানুগতিক ধারার বাইরের হতে পারে। ১৭৬ পৃষ্ঠার একটা বই ৪০০ রুপিজ শুনে একটু দমে গিয়েছিলাম। কিন্তু দোকানদার দাদা ভরসা দিয়েছিলেন যে সবকিছু দাম দিয়ে মাপা ঠিক না। ধন্যবাদ দাদা আপনার অসাধারন একটা সাজেশনের জন্য।
সাধারনত ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষজন আমরা খুবই আবেগপ্রবন। গল্পের গরু গাছে চরলে আমাদের তেমন সমস্যা নাই। কিন্তু সেখানে যদি দেব-দেবতা থাকে তাহলে গাছে কেনো আকাশে উড়লেও আমরা নমো নমো করে মাটিতে একটা ঢিপ দিয়ে দেই। সেখানে মহাদেব শিবকে একটা ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করার সহজসাধ্য ঘটনা নয়।
শিব যার নামের অর্থ সুন্দর। সে কখনো ভয়ংকর আবার পরক্ষণে সে সুন্দর। কখনো সে শ্মশানবাসী আবার সে স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঘরকন্না করছে। কখনো সে নৃত্যকলায় পারদর্শী আবার কখনো যুদ্ধবিদ্যা, ভেষজবিদ্যা, তন্ত্রবিদ্যা, বা চার বেদের স্রষ্টা। তাকে বুঝার সাধ্য আছে কার? যেখানে ব্রক্ষ্মা বিষ্ণু তার আদি-অন্ত পেতে ব্যার্থ সেখানে সাধারন মানুষের কি সামর্থ্য তাকে বুঝতে পারার। সে ধ্বংশের দেবতা কিন্তু সে শান্ত সোম্য আর ভক্তের পরম কাছের ভোলানাথ।
একজন দেবতার এত বৈচিত্র আর সনাতন সাহিত্যে পাওয়া যায়না। ধর্মীয় ভক্তিবাদের বাইরে থেকে যদি দেখা যায়, বেদ পুর্ববর্তী সময়ের এক যুদ্ধবাজ নেতা থেকে কখনোবা একজন আদিবাসী শ্যামনের ছায়ায় তাকে খুজে পাওয়া যায়। বৈদিক যুগের আর্যদের ধর্মে যেখানে দ্রাবিড়দের প্রবেশাধিকার ছিলোনা সেখানে একজন অবৈদিক ধীরে ধীরে রুদ্র রুপে বেদে প্রবেশ করে সেই ভয়ঙ্কর রুপের রুদ্রের থেকে ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন শান্ত শিষ্ট শিব। পৌরাণিক যুগে যখন বৈদিক দেবতাদের যখন ধীরে ধীরে অবলুপ্তি ঘটছে তখনো শিব আপন মহিমায় ব্রক্ষ্মা-বিষ্ণুর সমকক্ষ থেকে আরো উপরে উঠে মহাদেব হয়ে উঠলেন। কখনো দারুবনে, কখনো দক্ষযজ্ঞে, আবার কখনো হলাহল পানে, কখনোবা ভক্তের আর্তিতে নিরাকার থেকে আকার ধারন করে যমের সাথে সংঘাত করা বা কখনো গঙ্গা/নেত্রা নদী প্রবাহিত করা। কোথায় নেই তিনি? মনশা, চন্ডী, সতী, পার্বতী, গণেশ, কার্তিক, দুর্গা, কালী সবকিছুর সাথে জড়িত থেকেও তিনি নির্বিকার ধ্যানে বসা মহেশ্বর। তিনি সবকিছুতে আছেন আবার তিনি সবকিছুর বাইরে। এক ভীষণ রহস্যময় চরিত্র মহাদেব শিব।
শিব এক মহাপ্লাবন । দিনে দিনে সে যে পথে চলেছে সেই পথের অন্যান্য দেবতারা ধীরে ধীরে তার মাঝে বিলীন হয়ে গিয়েছে। কত শত লৌকিক দেবতা ধীরে ধীরে শিবনামে বা তার পুত্র/কন্যা হয়ে এখনো পূজা পাচ্ছে তার ইয়ত্তা নাই। কিন্তু শিব নির্বিকার, কখনো তিনি ভোলানাথ ব কখনো রুদ্র, কখনো তিনি ঈশান, সদ্যোজাত, বামদেব বা অঘোর আবার তিনিই নটরাজ। একই অঙ্গে কতো যে রুপ তার কোন শেষ নাই।
ভক্তের ভগবান তিনি যাকে সামান্য জল ফুলে সন্তুষ্ট করা যায়। যাবত ধর্মীয় জ্ঞান বেদ, তন্ত্র, আগম, নিগম, চিকিৎসাশাস্ত্র, নৃত্যকলা, কৃষিবিদ্যা, যোগ কোথায় নেই তিনি। সনাতন ধর্ম নিয়ে কথা বলতে গেলে শিব নাম ব্যাতীত কখনো শেষ করা যাবেনা। কত শত তত্ত্বের মাঝে কোথায় যে তিনি কীভাবে আছেন আমরা সাধারন মানুষ তার কতটুকুই বা বুঝতে সক্ষম?
রিভিউটি লিখেছেনঃ
আপনিও লিখতে পারেন রিভিউ। বিস্তারিত দেখুন এখানে।
Posted By:
boibd
প্রতিশব্দ - অভিজিৎ তরফদার Prati Shabdo by Aovijit Tarofder
Review
নাম _ প্রতিশব্দ
লেখক_ অভিজিৎ তরফদার
বিষয় _ রহস্য গল্প
প্রকাশ _ নবকল্লোল ১৪২৮
লেখক পরিচিতি
অভিজিৎ তরফদারের জন্ম ১২ মার্চ, ১৯৫৯। শিক্ষা বর্তমান মিউনিসি মেডিক্যাল কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এম ডি পাশ করে তিন বছর মী চিকিৎসক হিসাবে কাজ করার অভিজ্ঞতা। চণ্ডীগড়ের পোরেট ইনস্টিটিউট থেকে নেফ্রোলজিতে ডি এম বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার ফেলোশিপ নিয়ে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে উ শিক্ষাগ্রহণ। বর্তমানে কলকাতার এস এস কে এম (পিজি) হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসক অধ্যাপক। স্কুল-কলেজের ছাত্র অবস্থায় পর-পত্রিকায় লেখালেখি, পত্রিকা প্রকাশ। শরৎ শতবর্ষে প্রবন্ধ ছোটগল্পের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার। পরবর্তী প্রায় দশ বছর সাহিত্যচর্চায় পরা। ১৯৯৩-এ দেশ পত্রিকার প্রথম প্রকাশিত প্রতিভা। পরের বছর ছোটবড় পত্রপত্রিকার পাতা। ১৯ মৌলিক পূর্ণাঙ্গ নাটক রচনার জন্য 'সুন্দর' । মহতি প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস পেশা এবং লেখালেখির মধ্য থেকে যেটুকু সময় নিজের জন্য থাকে সেটুকু তোলা থাকে কাছের মানুষদের সঙ্গে কাটানোর জন্য।
Review
তিনজন বড়োলোক বাড়ির যুবক এক সাথে এক দিনে উধাও হয়ে যায় এক পার্ক থেকে। পুলিশি তদন্তে জানা যায় যে তিন জনই নেশা ভাঙ করা বড়োলোকের বখাটে ছেলে।একসাথে পার্কে নেশা করত। এছাড়া আর কোনও সূত্র নেই।তবে ওই পার্কে প্রতি দিন আসা দুই বুড়োর মধ্যে এখন শুধু একজনই আসে। তিন দিন পরেই ওই তিনজন পার্কে ফিরে আসে।পুলিশ তাঁদের বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসে।তবে একটা অবাক মিল ,তিনজনেরই কানের পর্দা ফেটে গেছে। অপরাধী বৃদ্ধ স্বীকারোক্তি দিলেও সৎ বিবেকবান পুলিশ অফিসার তার বিরুদ্ধে কোনও স্টেপ না নিয়ে প্রমাণের অভাবের জন্য তাঁকে মুক্তি দেন।
কিন্তু কেন ? তার জন্যই পড়তে হবে গল্পটা। অপরাধের পিছনে থাকা গল্প বলে এটাই হয়তো উচিত শাস্তি ছিল।
রিভিউটি লিখেছেনঃ অরুপ
Subscribe to:
Posts (Atom)






